📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 হত্যাকারী ও নিহত দুজনই যখন জাহান্নামি

📄 হত্যাকারী ও নিহত দুজনই যখন জাহান্নামি


আহনাফ ইবনু কাইস বলেন, আমি এই লোককে (হজরত আসিফ বিন দিফদুও করে) খুঁজতে বের হলাম। পথে আবু বাকরাহ সাথে সাক্ষাৎ হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আহনাফ! কোথায় যাচ্ছেন? বললাম, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচাতো ভাই আলিকে সাহায্য করতে চাই। তিনি আমাকে বললেন, আহনাফ ফিরে যাও! কারণ, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—
إِذَا تَوَاجَهَ الْمُسْلِمَانِ بِسَيْفَيْهِمَا فَالْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ.
যখন মুসলিম দুজন (দুনিয়ার স্বার্থে) তলোয়ার নিয়ে মুখোমুখি হবে, তখন হত্যাকারী এবং নিহত দুজনই জাহান্নামে যাবে。
আমি বললাম বা বলা হলো—হে আল্লাহর রাসূল, হত্যাকারীর বিষয়টি তো বুঝলাম, কিন্তু নিহত ব্যক্তির কী দোষ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন—
إِنَّهُ قَدْ أَرَادَ قَتْلَ صَاحِبِهِ.
সে তার সাথীকে হত্যার ইচ্ছা করেছে。
কোনো বর্ণনায় হাদিসের এই অংশটির শব্দ এরকম আছে—
إِنَّهُ كَانَ حَرِيصًا عَلَى قَتْلَ صَاحِبِهِ.
সে তার ভাইকে হত্যা করতে উদ্যোগী ছিল。
দ্রষ্টব্য: উলামায়ে কিরাম বলেছেন, উপরের হাদিসটি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিদের ব্যাপারে প্রযোজ্য নয়। প্রমাণ হিসাবে তারা এই আয়াতটি পেশ করেছেন—
وَ إِنْ طَاۤئِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوْا فَاَصْلِحُوْا بَيْنَهُمَا ۚ فَاِنْ بَغَتْ اِحْدٰهُمَا عَلَى الْاُخْرٰى فَقَاتِلُوا الَّتِيْ تَبْغِيْ حَتّٰى تَفِيْٓءَ اِلٰى اَمْرِ اللّٰهِ.
যদি মুমিনদের দুই দল যুদ্ধ লিপ্ত হয়ে পড়ে, তবে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেবে। তারপর যদি তাদের একদল অপর দলের ওপর চড়াও হয়, তবে তোমরা আক্রমণকারী দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে; যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। [সূরা হুজুরাত, আয়াত: ৯]
নোট: এই আয়াতে সীমালঙ্ঘনকারী দলের সঙ্গে যুদ্ধ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। যদি মুসলিমরা বিদ্রোহিদেরকে প্রতিরোধ করার যুদ্ধে শরিক না হয়, তাহলে আল্লাহ তায়ালার দেওয়া একটি ফরয অকেজো হয়ে পড়বে। যা প্রমাণ করে যে, হাদিসে বর্ণিত ‘হত্যাকারী এবং নিহত উভয়েই জাহান্নামি হবে’ বিধানটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবাদেরকে কোরাণের ব্যাপারে প্রযোজ্য নয়। কারণ, তাঁরা কোরআন কায়িমের ব্যাপারে আনুগত্যই যুদ্ধ করেছেন。
সুতরাং সাহাবায়ে কেরামের সম্মান করা, তাদের পদস্খলন নিয়ে সমালোচনা না করা, তাদের সৌন্দর্য প্রচার করা মুসলিমদের ওপর ওয়াজিব। কারণ, আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং তাঁর কিতাবে সাহাবায়ে কেরামের প্রশংসা করেছেন। ইরশাদ হয়েছে—
لَقَدْ رَضِيَ اللّٰهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ.
আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন যখন তারা বৃক্ষের নিচে আপনার কাছে শপথ করল। [সূরা ফাতাহ, আয়াত: ১৮]
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে—
مُّحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللّٰهِ ؕ وَ الَّذِيْنَ مَعَهٗ اَشِدَّاۤءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاۤءُ بَيْنَهُمْ تَرٰىهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَّبْتَغُوْنَ فَضْلًا مِّنَ اللّٰهِ وَ رِضْوَانًا ۫ سِيْمَاهُمْ فِيْ وُجُوْهِهِمْ مِّنْ اَثَرِ السُّجُوْدِ ؕ ذٰلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرٰىةِ ۫ وَ مَثَلُهُمْ فِي الْاِنْجِيْلِ ۫ كَزَرْعٍ اَخْرَجَ شَطْـَٔهٗ فَاٰزَرَهٗ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوٰى عَلٰى سُوْقِهٖ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيْظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ ؕ وَعَدَ اللّٰهُ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ مِنْهُمْ مَّغْفِرَةً وَّ اَجْرًا عَظِيْمًا.
আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ এবং তাঁর সহচরগণ কাফিরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে পরস্পর সহানুভূতিশীল। আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় আপনি তাদেরকে রুকু ও সিজদারত দেখবেন। তাদের অবয়বে রয়েছে সিজদার চিহ্ন। তাওরাতে এবং ইঞ্জিলে তাদের অবস্থার বিবরণ রয়েছে—যেমন একটি চারা গাছ, যা থেকে নির্গত হয় কঁচিপাতা, অতঃপর তা শক্ত ও মজবুত হয় এবং কাণ্ডের ওপর দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। আনন্দে অভিভূত করে, যাতে আল্লাহ তাদের দ্বারা কাফিরদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করেন। তাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। [সূরা ফাতাহ, আয়াত: ২৯]
আরও ইরশাদ হয়েছে—
لَا يَسْتَوِيْ مِنْكُمْ مَّنْ اَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَ قٰتَلَ ؕ اُولٰۤئِكَ اَعْظَمُ دَرَجَةً مِّنَ الَّذِيْنَ اَنْفَقُوْا مِنْ بَعْدُ وَ قٰتَلُوْا ؕ وَ كُلًّا وَّعَدَ اللّٰهُ الْحُسْنٰى.
তোমাদের মধ্যে যে মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে ও জিহাদ করেছে, সে সমান নয়; এরূপ লোকদের মর্যাদা তাদের চেয়ে অনেক বেশি—যারা পরে ব্যয় করেছে ও জিহাদ করেছে; তবে আল্লাহ উভয়কে কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। [সূরা হাদিদ, আয়াত: ১০]
তাদের মধ্যে যারা ফিতরা দিয়ে পোশন করেছেন—তারা ছিলেন মজুর ও অক্ষম। যদিও তাদের কেউ কেউ অন্য কাজও চেয়ে উত্তম অগ্রগামী।
কেউ কেউ বলেছেন, যেসব সাহাবায়ে কিরাম নবিজির আলোচিত হাদিসটিকে ব্যাপক অর্থে গ্রহণ করে যুদ্ধ থেকে বিরত থেকেছেন, তাদের অনেকেই পরবর্তী সময়ে জিহাদ ত্যাগ করার কারণে লজ্জিত হয়েছেন। যেমন হজরত আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা। তিনি হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুকে সাহায্য না করার কারণে লজ্জিত হয়েছেন। মুকাতিল ইবনু মালিহিন—কোনো বস্তুর কারণে আমি এত বেশি পরিতাপ করি না বিদ্রোহী দলের—হজরত মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শরিক না হওয়ার কারণে যতটা পরিতাপ করি। আর এটা বিশুদ্ধ কথা যে—যখন কোনো বিদ্রোহী দলের বিদ্রোহের বিষয়টি স্পষ্ট হবে, তখন তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে।

টিকাঃ
[১৬১] সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৩৫-৬, হাদিস: ৫৪৩৪。
[১৬২] সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ৬২, হাদিস: ৫১৩৯। হজরত আবু বাকরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু সাহাবারো কেতাবের এই খণ্ডকে পার্থিব স্বার্থে ভেবেছিলেন। বিনা প্রকৃতপক্ষে তাদের দ্বন্দ্ব ছিল দ্বীনের বিধান নিয়ে। তাই তাদের এই দ্বন্দ্বকে আলোচিত হাদিসের শামিল মনে করা যাবে না আর। বাকরার অবস্থান ছিল সতর্কতামূলক — অনুধাবক。
[১৬৩] সহিহ বুখারি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৫৭, হাদিস: ৩০。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের পরস্পরের মাঝে যুদ্ধের ফায়সালা করেছেন

📄 আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের পরস্পরের মাঝে যুদ্ধের ফায়সালা করেছেন


আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—
أَوْ يُلْبِسَكُمْ شِيَعًا وَيُذِيقَ بَعْضَكُمْ بَأْسَ بَعْضٍ
অথবা তোমাদেরকে দলে-উপদলে বিভক্ত করে সবাইকে মুখোমুখি করে দেবেন এবং একেক অন্যের ওপর আক্রমণের স্বাদ আস্বাদন করাবেন। [সূরা আনআম, আয়াত: ৬৫]
সাওয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
‘আল্লাহ তাআলা আমার সামনে গোটা জমিনকে সংকুচিত করে তুলে ধরলেন। সুতরাং আমি পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম পুরোটাই দেখতে পেলাম। আমার সামনে পৃথিবীর যতটুকু উপস্থাপন করা হয়েছে, আমার উম্মত সে পর্যন্ত পৌঁছাবে। আর আমাকে লাল ও সাদা দুটি খনি দান করা হয়েছে。
ইমাম ইবনু মাজাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, খনি দুটি হলো স্বর্ণের ও রূপার。
অন্য বর্ণনায় আছে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আর আমি আমার রবের কাছে আবেদন করেছি, তিনি যেন আমার উম্মতকে দুর্ভিক্ষ দিয়ে ধ্বংস না করেন এবং নিজেদের বাহিরে থেকে এমন কোনো শত্রুকে যেন তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া না হয়—যারা তাদের দল, রাজত্ব ও সম্মানকে ধ্বংস করে ফেলবে। আমার রব বলেছেন, হে মুহাম্মাদ! আমি এমন ফায়সালা করেছি, যা প্রত্যাহার করা যাবে না। আমি তোমার উম্মতকে দুটি বিষয় দান করলাম—তাদের দুর্ভিক্ষ দিয়ে ধ্বংস করব না, তাদের ওপর এমন শত্রুকে চাপিয়ে দেবো না—যারা তাদের দল, রাজত্ব এবং সম্মান সবকিছুর নাশ ঘটাবে, যদিও তারা মুসলিম উম্মাহর পরিধির অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে। তবে পরিশেষে মুসলিমরা পরস্পরকে ধ্বংস করবে এবং পরস্পরকে গালি দেবে。
সাআদ ইবনু আব ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আলিয়া অঞ্চল থেকে বা সাহাবারা কেরামের একটি দলের কাছ থেকে এলেন। একপর্যায়ে যখন তিনি হজরত মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক নির্মিত মসজিদ আজিম অতিক্রম করলেন, সেখানে প্রবেশ করে দু রাকাত নামাজ আদায় করলেন। আমরাও তাঁর সঙ্গে নামাজ আদায় করলাম। অতঃপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবের কাছে দীর্ঘ দুআ করলেন। তারপর আমাদের দিকে ফিরে বললেন,
‘আমার রবের কাছে আমি তিনটি বিষয় আবেদন করেছি, তিনি দুটি দান করেছেন এবং একটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। আমি আবেদন করেছি, আমার উম্মতকে যেন দুর্ভিক্ষে সমূহ ধ্বংস না করা হয়; তিনি আমাকে দান করেছেন। আমি আবেদন করেছি, আমার উম্মতকে যেন ডুবিয়ে ধ্বংস করা না হয়; তিনি আমাকে দান করেছেন। আমি আবেদন করেছি, আমার উম্মত যেন পরস্পরকে যুদ্ধ না করে; সুতরাং এটা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।’

টিকাঃ
[১৬৪] সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ৩৯, হাদিস: ৫১৪৪。
[১৬৫] সুনানু ইবনু মাজাহ, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৪৪, হাদিস: ৫১৪১。
[১৬৬] সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ৪২, হাদিস: ৫১৪৫。
[১৬৭] সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ৪৩, হাদিস: ৫১৪১。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 ফিতনা সম্পর্কে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী

📄 ফিতনা সম্পর্কে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী


হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে সব বিষয়ে বললেন। যার মনে রাখার সে মনে রেখেছে, যার ভুলে যাওয়ার সে ভুলে গেছে। আমার সেই সাথিরা বিষয়টি জেনেছে। সেগুলোর মধ্য থেকে সংঘাতপূর্ণ কিছু বিষয় আমি তুলেছি। ঠিক যেমন একজন মানুষ আজকের দিনের মুখোমুখি হলে চিনতে পারে, তারপর ভুলে যায়, আবার দেখলে চিনতে পারে।”
হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একটি মজলিসে ফিতনা সম্পর্কে আলোচনা করলেন—যেখানে আমিও উপস্থিত ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গুণে গুণে ইরশাদ করলেন—
مِّنْهُنَّ ثَلَاثٌ لَّا يَكَدْنَ يَدَعْنَ شَيْئًا وَمِنْهُنَّ فِتَنٌ كَرِيَاحِ الصَّيْفِ مِنْهَا صِغَارٌ وَمِنْهَا كِبَارٌ.
সেগুলোর মধ্য থেকে তিনটি কোনো বস্তুকে ছাড়বে না, যার মধ্য থেকে কিছু ফিতনা—গ্রীষ্মকালের বাতাসে মতো, যেগুলোর মধ্য থেকে কিছু ছোট ফিতনা এবং কিছু হবে বড় ফিতনা। হজরত হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি ছাড়া তারা সকলেই চলে গেল。

টিকাঃ
[১৬৮] সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ৪৭, হাদিস: ৫১৪২。
[১০০] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ৭১, হাদিস: ৫১৪৬。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 ফিতনার উত্তাল তরঙ্গ

📄 ফিতনার উত্তাল তরঙ্গ


হজরত হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু এর কাছে বসে ছিলাম। তিনি বললেন, ফিতনার বিষয়ে তোমাদের মধ্য থেকে কোন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস জানে? বললাম, আমি হজরত উমর বললেন, তুমি অবশ্যই দুঃসাহসী। তারপর হজরত হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—
يُفْتَنُ الرَّجُلُ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَوَلَدِهِ وَجَارِهِ فَتُكَفِّرُهُ الصَّلَاةُ وَالصَّدَقَةُ وَالْأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيُ عَنِ الْمُنْكَرِ
‘মানুষ ফিতনা তার পরিবার, সন্তান এবং প্রতিবেশীর মাঝে। নামাজ, রোজা, সাদাকা, সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজ থেকে বাধা প্রদান তার ক্ষতিপূরণস্বরূপ হবে।’
হজরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি এটা শুনতে চাচ্ছি না, আমি শুনতে চাচ্ছি উত্তাল তরঙ্গের মতো যেয়ে আসা ফিতনা সম্পর্কে। হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আমিরুল মুমিনিন, আপনি এই ব্যাপারটিতে উদগ্রীব কেন? আপনার মাঝে ও ফিতনার মাঝে তো অন্তরায় রয়েছে। তো সেই অন্তরায় কি খুলে দেওয়া হবে বা ভেঙে ফেলা হবে? তিনি বললেন, ভেঙে ফেলা হবে。
আর ভাঙাটা খোলার চেয়ে বেশি কঠিন। হজরত শফিক বলেন, আমি হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললাম, হজরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কি ফিতনার দরজা সম্পর্কে জানতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তিনি ঠিক এমনভাবে জানতেন—যেভাবে জানেন যে আগামীকালকের পর রাত আসবে। শফিক বলেন, আমি তাকে বিশুদ্ধ হাদিস বর্ণনা করেছি। আমরা হজরত হুযাইফাকে সে দরজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে মনস্থ করলাম। সুতরাং মাসরুককে বললাম, হজরত হুযাইফাকে জিজ্ঞেস করুন। জবাবে তিনি বললেন, হজরত উমর রাদিয়াল্লাহু সেই দরজা。
আমর ইবনু ইহইইয়া ইবনু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন আমার দাদা, তিনি বলেন, আমি হজরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে মসজিদে নববিতে বসে ছিলাম, আমার সঙ্গে মারওয়ানও ছিল। হজরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি সত্যবাদী এবং সত্যায়িত ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—
هَلَكَةُ أُمَّتِي عَلَى يَدَيْ غِلْمَةٍ مِنْ قُرَيْشٍ
আমার উম্মত ধ্বংস হবে কুরাইশের এক শিশুর হাতে।
মারওয়ান বললেন, তাদের ওপর আল্লাহর অভিসম্পাতও নাযিল হোক। হজরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আপনি চাইলে আমি বলতে পারব—সে অন্ধের দুই পুত্রও তো! তো আমি একদা দাদার সঙ্গে বনি মারওয়ানের দিকে যাচ্ছিলাম, যখন তারা সিরিয়া ওপরে রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল। যখন তাদেরকে দেখলেন, সেখানে একজন উদীইয়াম শিশুর প্রতি নজর পড়ল! দাদা আমাদেরকে বললেন, এই শিশুটি তাদের মধ্য থেকে (উম্মতকে ধ্বংসকারীদের মধ্য থেকে) হতে পারে। আমরা বললাম, আপনিই ভালো জানেন。

টিকাঃ
[১০১] তিনি হযরত ইবনু কালিমের হজরত উমরুই ফিতনা প্রকাশের মাঝে অন্যায় ও বাধার প্রাচীর। তার হওয়ার মাধ্যমে ফিতনার আমার সৃষ্টি হবে। –অনুবাদক。
[১০২] সুনানু আবি দাউদ, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৪৪৬, হাদিস: ৪২৪২。
[১০৩] সহীহ বুখারী, খণ্ড: ২২, পৃষ্ঠা: ৪৪৬, হাদিস: ৬৩১৪。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00