📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 জান্নাতিদের প্রথম আপ্যায়ন ও উপঢৌকন

📄 জান্নাতিদের প্রথম আপ্যায়ন ও উপঢৌকন


সাফওয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে উপস্থিত ছিলাম। ইতাবসরে জনৈক ইহুদি পাদরি তার কাছে এসে বলল, আসসালামু আলাইকা ইয়া মুহাম্মাদ! তৎক্ষণাৎ আমি তাকে এত জোরে ধাক্কা দিলাম যে, সে আছড়ে পড়ল। পাদরি আমাকে বলল, আমাকে ধাক্কা দিলে কেন? আমি বললাম, তুমি বলতে পারলে না—ইয়া রাসূলুল্লাহ? ইহুদি জবাব দিলো, আমি তাকে সেই নামেই ডেকেছি, তার পরিবারের লোকজন তাকে যে নামে ডাকে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—
إِنَّمَا شَيْخِي الَّذِي سَمَّانِي بِهِ أَهْلِي
নিশ্চয় আমার নাম মুহাম্মাদ। আমার পরিবার আমার এই নামই রেখেছে।
তখন ইহুদি বলল, আমি আপনার কাছে একটি বিষয় জিজ্ঞেস করতে এসেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—
أَنَّمَا تَمْتَمَائِي إِنْ حَدَّثْتُكَ
আমি তোমার সঙ্গে কথা বললে কি তোমার কোনো উপকার হবে?
পাদরি বলল, আমি মনোযোগসহ শুনব। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাতে থাকা একটি কাঠি দিয়ে আঁক দিলেন। তারপর বললেন, জিজ্ঞেস করো! এরপর প্রশ্নোত্তর আরম্ভ হলো—
ইহুদির: যেদিন আকাশ ও জমিনকে অন্য আকাশ ও জমিনের দ্বারা পরিবর্তন করা হবে, সেদিন মানুষ কোথায় অবস্থান করবে?
নবিজি: পুনরুত্থানের কাজে আঁধারের মধ্যে।
ইহুদির: সর্বাগ্রে কাদেরকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করা হবে?
নবিজি: গরিব মুহাজিরদেরকে।
ইহুদির: জান্নাতে প্রবেশ করার সময় তাদের উপঢৌকন কী হবে?
নবিজি: মাছের কলিজার ভুনা।
ইহুদির: এরপর তাদের খাবার কী হবে?
নবিজি: তাদের সৌজন্যে আশাহররত জান্নাতি গরুগুলো তাদের জন্য খাবার হবে।
ইহুদির: এগুলোর শুরূব-কওল কী হবে?
নবিজি: সালসাবিল নামক সেখানকার ঝরনার পানি।
ইহুদির: আপনি সত্য বলেছেন。

টিকাঃ
[২৪৮] সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৯০, হাদিস: ৪৭০১。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 জান্নাতের চাবি—লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ

📄 জান্নাতের চাবি—লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ


ওয়াহাব ইবনু মুনাব্বিহকে বলা হলো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু কি জান্নাতের চাবি নয়? তিনি বললেন, অবশ্যই, তবে প্রতিটি চাবির রয়েছে দাঁত। যদি দাঁতযুক্ত চাবি নিয়ে আসো, তাহলে তালা খুলবে, নতুবা (দাঁতহীন চাবি দিয়ে) খুলবে না。
আমি বলব, দাঁত হলো—আল্লাহর একত্ববাদ, তাঁর ইবাদত এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এককত্ববাদ (তাঁর রিসালতের সঙ্গে কোনো রাসূল শরিক নেই)। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—
وَ بِئْرُ الَّذِينَ امَنُوا وَ عَمِلُوا الصَّالِحَتِ أَن لَّهُمْ جَنْتٍ تَجْرِى مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَرُ.
আর হে নবি, যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজসমূহ করেছে, আপনি তাদেরকে এমন বেহেশতের সুসংবাদ দিন—যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবহমান। [সূরা বাকারা, আয়াত : ২৫]
আরও ইরশাদ হয়েছে—
إِنَّ الَّذِينَ امَنُوا وَ عَمِلُوا الصَّالِحَتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًا.
যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদের অভ্যর্থনার জন্যে আছে জান্নাতুল ফেরদাউস। [সূরা কাহাফ, আয়াত : ১০৭]
আবু যর প্রমুখ সাহাবায়ে কিরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
‘আমার উম্মতের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি মারা গেল এবং সে আল্লাহর সঙ্গে কোনো বস্তুকে শরিক করল না—সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, যদি ব্যভিচার বা চুরি করে থাকেও? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদিও ব্যভিচার করে, যদিও চুরি করে।’

টিকাঃ
[২৪৯] সহিহুল বুখারি, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৪২৬১。
[২৫০] সহিহ বুখারি, খণ্ড : ৪, পৃষ্ঠা : ৪৫০, হাদিস : ৩৩৩৪。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বললে হত্যা করা যাবে না

📄 লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বললে হত্যা করা যাবে না


আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
‘মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত এ-কথার সাক্ষ্য না দেবে যে —আল্লাহই একমাত্র উপাস্য, আমার প্রতি ঈমান না আনবে এবং আমার আনিত বিধানের ঈমান না আনবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি। যখনই তারা এ-কাজগুলো করবে, আমার হাত থেকে তাদের জানমাল নিরাপদ হয়ে যাবে। তবে অপরাধের শাস্তির বিধানটি ভিন্ন। তাদের হিসাব আল্লাহর দায়িত্বে বর্তাবে।’

টিকাঃ
[২৫১] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ১১৯, হাদিস : ৫১。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 মুমিনের যাবতীয় সম্পদ হারাম ও মর্যাদাপূর্ণ

📄 মুমিনের যাবতীয় সম্পদ হারাম ও মর্যাদাপূর্ণ


আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজের সময় ইরশাদ করেছেন—
أَلَا إِنَّ أَحْرَمَ الْأَيَّامِ يَوْمُكُمْ هَذَا أَلَا وَ إِنَّ أَحْرَمَ الشُّهُورِ شَهْرُكُمْ هَذَا أَلَا وَ إِنَّ أَحْرَمَ الْبَلَدِ بَلَدُكُمْ هَذَا أَلَا وَ إِنَّ دِمَاءَكُمْ وَ أَمْوَالَكُمْ عَلَيْكُمْ حَرَامٌ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا فِي شَهْرِكُمْ هَذَا فِي بَلَدِكُمْ هَذَا أَلَا هَلْ بَلَّغْتُ قَالُوا نَعَمْ قَالَ اللَّهُمَّ اشْهَدْ.
সাবধান! আজকের দিনটি সবচেয়ে বেশি সম্মানিত সাবধান! এই মাসটি সবচেয়ে বেশি সম্মানিত সাবধান! এই শহরটি সবচেয়ে বেশি সম্মানিত! সাবধান! তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ তোমাদের জন্য এমনই সম্মানিত, যেমন আজকের দিনটি, এই মাসটি, এই শহরটি তোমাদের জন্য সবচেয়ে বেশি সম্মানিত। (সম্মানের কারণে অপব্যবহার হারাম) সাবধান! আমি কি পৌঁছেছি? সাহাবায়ে কিরাম বললেন, হ্যাঁ! নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাকো。
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ دَمُهُ وَمَالُهُ وَعِرْضُهُ.
প্রত্যেক মুসলিমের রক্ত, সম্পদ এবং আত্মমর্যাদা অপর মুসলিমের জন্য হারাম。
বুরাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
قَتْلُ الْمُؤْمِنِ أَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ زَوَالِ الدُّنْيَا.
মু’মিনকে হত্যা করা আল্লাহর কাছে দুনিয়া ধ্বংস হওয়ার চেয়েও বড় অন্যায়。
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
যে ব্যক্তি কোনো ধারালো বস্তু দ্বারা তার ভাইয়ের দিকে ইঙ্গিত করল, ফেরিশতারা তার ওপর অভিশম্পাত করেন। ইমাম তিরমিজি রাহিমাহুল্লাহ হাদিসটিকে হাসান সহিহ এবং গরিব বলেছেন。

টিকাঃ
[২৫২] সুনানু ইবনু মাজাহ, খণ্ড : ১১, পৃষ্ঠা : ৪৯, হাদিস : ৩৯২১。
[২৫৩] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ১২, পৃষ্ঠা : ৪৯, হাদিস : ৪৫০২。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00