📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 জান্নাতে শূন্য ময়দান থাকবে

📄 জান্নাতে শূন্য ময়দান থাকবে


আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
‘আমি মিরাজের রাতে হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমার পক্ষ থেকে তোমার উম্মতকে সালাম জানাও এবং তাদেরকে সংবাদ দাও যে, জান্নাতের মাটি পবিত্র, সেখানকার পানি সুস্বাদু, তবে তা শূন্য মদ্যান, যার গাছগুলো সুবহানাল্লাহ ওয়ালহামদুলিল্লাহ ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।’
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
‘যে ব্যক্তি বলবে “সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি” তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর গাছ রোপণ করা হয়।’

টিকাঃ
[২০৮] সুনানুত তিরমিযি, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ২০২, হাদিস: ৩৩৪৯。
[২০৯] সুনানুত তিরমিযি, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ২০৯, হাদিস: ৩৫০১। ইমাম তিরমিজি রাহিমাহুল্লাহু বলেছেন—হাদিসটি হাসান সহীহ গরিব।

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 সর্বোচ্চ জান্নাতি ও সর্বনিম্ন জান্নাতি যা পাবে

📄 সর্বোচ্চ জান্নাতি ও সর্বনিম্ন জান্নাতি যা পাবে


মুসা ইবনু ত্বা‘ইফ রা’দিয়ালাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন—
‘মুসা আলাইহিস সালাম তার রবকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আমার রব! সর্বনিম্ন প্রবেশ জান্নাতি কে? আল্লাহ তাআলা বললেন, ওই ব্যক্তি, যে সকল জান্নাতির জান্নাতে প্রবেশ করার পর আসবে। তাকে বলা হবে জান্নাতে প্রবেশ করো। সে বলবে, কীভাবে যাব, সকলেই তো নিজ-নিজ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়েছে এবং তাদের বস্তুগুলো হস্তগত করে নিয়েছে। তখন তাকে বলা হবে, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট হবে যে, তোমাকে দুনিয়ার রাজাদের সমান একটি রাজ্য প্রদান করা হবে? সে বলবে, আমার রব, আমি রাজি। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন, তুমি তো এতবড় রাজ্যও পাবেই, সঙ্গে তার মতো আরেকটি, আরেকটি, আরেকটি এবং আরেকটি দেওয়া হলো। পঞ্চমবারে সে বলবে, হে আমার রব! আমি রাজি। তখন আবার আল্লাহ তাআলা বললেন, এগুলো তো তোমার জন্য রয়েছে, সঙ্গে তার দশগুণ তোমাকে প্রদান করা হলো। এমনকি তোমার মন যা কামনা করবে তাই পাবে এবং তোমার চোখ শীতল হয় এমন সবকিছুও দেওয়া হবে। তখন সে আবারও বলবে, হে আমার রব! আমি রাজি। এবার মুসা আলাইহিস সালাম জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে সর্বোচ্চ শ্রেণির জান্নাতি কী পাবে? আল্লাহ তাআলা বললেন, তারা এমন যে—তাদের সম্মানজনক বিষয়গুলো আমি নিজ হাতে রোপণ করে সেগুলোর ওপর মোহরাঙ্কিত করে দিয়েছি। সুতরাং কোনো চোখ তা দেখেনি, কোনো কান তা শোনেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয় তা কল্পনাও করেনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কুরআন কারিমে এর মর্ম বর্ণিত হয়েছে এভাবে—
فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّا أُخْفِيَ لَهُم مِّن قُرَّةِ أَعْيُنٍ.
‘কেউ জানে না তার জন্য কৃতকর্মের কী কী নয়ন-প্রীতিকর প্রতিদান লুকায়িত আছে।’ [সূরা সিজদাহ, আয়াত: ১৭]
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
إِنِّي أَعْرِفُ أَهْلَ الْجَنَّةِ دُخُولًا الْجَنَّةَ وَآخِرَ أَهْلِ النَّارِ خُرُوجًا مِنَ النَّارِ رَجُلٌ يَخْرُجُ حَبْوًا فَيَقُولُ لَهُ رَبُّهُ ادْخُلِ الْجَنَّةَ فَيَقُولُ رَبِّ الْجَنَّةَ مَلأَى فَيَقُولُ ذلِكَ مَرَاتِبُ فَضْلٍ ذَلِكَ يُعِيدُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ مَلْأَى فَيَقُولُ إِنْ لَكَ بِمِثْلِ الدُّنْيَا عَشَرَ مِرَارٍ
সর্বশেষ জান্নাতি প্রবিষ্ট এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে জান্নাতে গিয়ে বের হলো। তখন তার রব তাকে বলবেন, জান্নাতে প্রবেশ করো। সে বলবে, আমার রব, জান্নাত তো পরিপূর্ণ। কথাটি আল্লাহ তাআলা তিনবার বলবেন, সেও তিনবারই বলবে, আমার রব, জান্নাত তো পরিপূর্ণ। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, তোমার জন্য দুনিয়ার দশগুণ বড় জান্নাত রয়েছে。

টিকাঃ
[২১০] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৪০৭, হাদিস: ২৮৭。
[২৪১] সহিহুল বুখারি, খণ্ড: ২০, পৃষ্ঠা: ০৬, হাদিস: ৬৪৭১。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 জান্নাতিদের আল্লাহ্র সন্তুষ্টি

📄 জান্নাতিদের আল্লাহ্র সন্তুষ্টি


আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
‘আল্লাহ তাআলা জান্নাতিদেরকে ডাকবেন, হে জান্নাতিরা! তারা বলবে, হে আমাদের রব! আমরা উপস্থিত। আল্লাহ বলবেন, তোমরা কি সন্তুষ্ট? তারা বলবে, তুমি আমাদেরকে এমন সব নিয়ম দান করেছ, যা তোমার অন্য কোনো সৃষ্টিকেই দাওনি, তাই সন্তুষ্ট না হওয়ার কী আছে?! তখন আল্লাহ বলবেন, আমি তোমাদেরকে এর চেয়েও উত্তম কিছু দেবো! তারা বলবে, হে আমাদের রব, এগুলোর চেয়ে উত্তম বস্তু কী আছে? তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, তোমাদের জন্য আমার সন্তুষ্টি প্রদান করব, সুতরাং আর কখনো অসন্তুষ্ট হব না।’

টিকাঃ
[২৪২] সহিহুল বুখারি, খণ্ড: ২০, পৃষ্ঠা: ২১৩, হাদিস: ৬৫৭১。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 জান্নাতিদের জন্য সবচেয়ে বড় নিয়ামত হবে ‘আল্লাহর দিদার’

📄 জান্নাতিদের জন্য সবচেয়ে বড় নিয়ামত হবে ‘আল্লাহর দিদার’


সুহাইব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন—
إِذَا دَخَلَ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ قَالَ يَقُولُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى تُرِيدُونَ شَيْئًا أَزِيدُكُمْ فَيَقُولُونَ أَلَمْ تُبَيِّضُ وُجُوهَنَا أَلَمْ تُدْخِلْنَا الْجَنَّةَ وَتُنَجِّنَا مِنَ النَّارِ قَالَ فَيُكْشَفُ الْحِجَابُ فَمَا أَعْطُوا شَيْئًا أَحَبَّ إِلَيْهِمْ مِنَ النَّظَرِ إِلَى رَبِّهِمْ عَزَّ وَجَلَّ
যখন জান্নাতিরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, আল্লাহ তাআলা বলবেন, তোমরা কিছু চাও—যা আমি বাড়িয়ে দেবো? তারা বলবে, আপনি কি আমাদের মুখাবয়ব শুভ্র করে দেননি? আমাদেরকে কি জান্নাতে প্রবেশ করাননি? জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেননি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, তোমার জন্য দিদার স্বরূপ বড় পর্দা দেবেন। (তখন তারা আল্লাহর দিদার লাভে ধন্য হবে।) জান্নাতিদেরকে আল্লাহর দিদারের চেয়ে প্রিয় কোনো বস্তু প্রদান করা হয়নি。
সুহাইব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াতটি পড়লেন—‘যারা সৎকর্ম করেছে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং তারচেয়েও বেশি’ [সূরা ইউনুস, আয়াত: ২৬] তারপর বললেন, যখন জান্নাতিরা জান্নাতে এবং জাহান্নামি জান্নামে প্রবেশ করবে, একজন ঘোষক ঘোষণা করবেন, হে জান্নাতিরা! আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের সঙ্গে একটি প্রতিশ্রুতি দেওয়া আছে, তিনি এখন সেই প্রতিশ্রুতিটি তোমাদের সঙ্গে পূর্ণ করতে চান। তারা বলবে, তিনি কি আমাদের মুখাবয়ব শুভ্র করেননি? আমাদের আমলনামা কি ভারি করে দেননি? আমাদেরকে তিনি কি জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেননি? ঘোষক বলবেন, তখন পর্দা সরিয়ে ফেলা হবে, সুতরাং জান্নাতিরা আল্লাহকে দেখবে। আল্লাহর কসম, তিনি জান্নাতিদেরকে তার দিদারের চেয়ে প্রিয় এবং তাদের চক্ষু শীতলকারী কোনো নিআমত দান করেননি।’
জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা এক পূর্ণিমার রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছেই ছিলাম, তিনি হঠাৎ চাঁদের দিকে তাকালেন— ‘তারপর বললেন, তোমরা যেভাবে চাঁদ দেখছ এবং দেখতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না, ঠিক এমনিভাবে তোমরা তোমাদের রবকে দেখতে পারবে। যদি তোমরা এই নিআমত থেকে বঞ্চিত না হতে চাও, তাহলে ফজর আর আসরের নামাজ পড়ো। তারপর এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন ‘এবং সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে আপনার পালনকর্তার প্রশংসা পবিত্রতা ঘোষণা করুন’ (ফজর ও আসরের নামাজ পড়ো)। [সূরা ক্বফ, আয়াত : ৩৯]

টিকাঃ
[২৪৩] সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৪২৭, হাদিস: ১৮১。
[২৪৪] সহিহুল মুসলিম, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২৬১, হাদিস: ১৮১。
[২৪৫] সহিহুল বুখারি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৩৯১, হাদিস: ৫২১; সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ০৩৬, হাদিস: ৬৩৩。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00