📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 জান্নাতের পাখি, ঘোড়া এবং উট

📄 জান্নাতের পাখি, ঘোড়া এবং উট


আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, কাউসার কী? তিনি বললেন, সেটি একটি নদী, যা আল্লাহ আমাকে জান্নাতে দান করেছেন। যার পানি হবে দুধের চেয়ে শুভ্র, মধুর চেয়ে মিঠা। সেখানে এমন পাখি থাকবে, যার গর্দানগুলো হবে উটের মতো।’
হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এটা তো অবশ্যই উটপাখি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এটা খাওয়া জান্নাতের অনেক সুন্দর নিয়ামত।’
আবু মাসউদ আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন—
‘জনৈক ব্যক্তি একটি লাগাম পরানো উটনী নিয়ে এলো, অতঃপর বলল, এটি আল্লাহর রাস্তায় দান করলাম। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি এর বিনিময়ে কিয়ামতের দিন সাতাশ উটনী পাবে, যার প্রত্যেকটি হবে লাগাম পরিহিত।’

টিকাঃ
[২০৪] সুনানুত তিরমিযি, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ১২৭, হাদিস: ২৪৮৫。
[২০৫] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৪৬৪, হাদিস: ৫০৩১。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 জান্নাতের শহরতলি

📄 জান্নাতের শহরতলি


ফুজালা ইবনু উবাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘আমি জানিদারদা। যে ব্যক্তি আমার প্রতি ইমান আনল, আত্মসমর্পণ করে হিজরত করল তার জন্য আমি এমন একটি ঘরের জামিন হলাম, যা জান্নাতের শহরতলিতে হবে, আরেকটু ঘরের যা জান্নাতের মধ্যখানে হবে। আর যে ব্যক্তি আমার ওপর ইমান আনল, আত্মসমর্পণ করল এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করল তার জন্য এমন একটি ঘরের জামিন হলাম, যা জান্নাতের শহরতলিতে হবে, আরেকটা ঘরের জামিন হলাম, যা জান্নাতের মধ্যভাগে হবে এবং এমন আরেকটি ঘরের, যা হবে জান্নাতের সর্বসম্মুখের উপরিভাগে। যে ব্যক্তি এই কাজগুলো করল, সে কল্যাণের সব উদ্দেশ্যই পূর্ণ করল এবং অকল্যাণ থেকে পালানোর সব পন্থাই অবলম্বন করল। অতএব, সে যেথায় ইচ্ছে মারা যেতে পারে (কোনো সমস্যা নেই)।’
আবদুল্লাহ ইবনু আ'মার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—
‘যে ব্যক্তি নিরাপত্তার চুক্তিতে আবদ্ধ কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করল, সে জান্নাতের সুঘ্রাণ পর্যন্ত পাবে না। অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ চল্লিশ বছরের দূরত্ব থেকেও পাওয়া যায়।’

টিকাঃ
[২০৬] সুনানুস নাসাঈ, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ১৬২, হাদিস: ৩০৯২。
[২০৭] সহীহ বুখারি, খণ্ড: ২০, পৃষ্ঠা: ৬২৩, হাদিস: ২৯৯৩。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 জান্নাতে শূন্য ময়দান থাকবে

📄 জান্নাতে শূন্য ময়দান থাকবে


আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
‘আমি মিরাজের রাতে হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমার পক্ষ থেকে তোমার উম্মতকে সালাম জানাও এবং তাদেরকে সংবাদ দাও যে, জান্নাতের মাটি পবিত্র, সেখানকার পানি সুস্বাদু, তবে তা শূন্য মদ্যান, যার গাছগুলো সুবহানাল্লাহ ওয়ালহামদুলিল্লাহ ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।’
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
‘যে ব্যক্তি বলবে “সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি” তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর গাছ রোপণ করা হয়।’

টিকাঃ
[২০৮] সুনানুত তিরমিযি, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ২০২, হাদিস: ৩৩৪৯。
[২০৯] সুনানুত তিরমিযি, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ২০৯, হাদিস: ৩৫০১। ইমাম তিরমিজি রাহিমাহুল্লাহু বলেছেন—হাদিসটি হাসান সহীহ গরিব।

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 সর্বোচ্চ জান্নাতি ও সর্বনিম্ন জান্নাতি যা পাবে

📄 সর্বোচ্চ জান্নাতি ও সর্বনিম্ন জান্নাতি যা পাবে


মুসা ইবনু ত্বা‘ইফ রা’দিয়ালাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন—
‘মুসা আলাইহিস সালাম তার রবকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আমার রব! সর্বনিম্ন প্রবেশ জান্নাতি কে? আল্লাহ তাআলা বললেন, ওই ব্যক্তি, যে সকল জান্নাতির জান্নাতে প্রবেশ করার পর আসবে। তাকে বলা হবে জান্নাতে প্রবেশ করো। সে বলবে, কীভাবে যাব, সকলেই তো নিজ-নিজ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়েছে এবং তাদের বস্তুগুলো হস্তগত করে নিয়েছে। তখন তাকে বলা হবে, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট হবে যে, তোমাকে দুনিয়ার রাজাদের সমান একটি রাজ্য প্রদান করা হবে? সে বলবে, আমার রব, আমি রাজি। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন, তুমি তো এতবড় রাজ্যও পাবেই, সঙ্গে তার মতো আরেকটি, আরেকটি, আরেকটি এবং আরেকটি দেওয়া হলো। পঞ্চমবারে সে বলবে, হে আমার রব! আমি রাজি। তখন আবার আল্লাহ তাআলা বললেন, এগুলো তো তোমার জন্য রয়েছে, সঙ্গে তার দশগুণ তোমাকে প্রদান করা হলো। এমনকি তোমার মন যা কামনা করবে তাই পাবে এবং তোমার চোখ শীতল হয় এমন সবকিছুও দেওয়া হবে। তখন সে আবারও বলবে, হে আমার রব! আমি রাজি। এবার মুসা আলাইহিস সালাম জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে সর্বোচ্চ শ্রেণির জান্নাতি কী পাবে? আল্লাহ তাআলা বললেন, তারা এমন যে—তাদের সম্মানজনক বিষয়গুলো আমি নিজ হাতে রোপণ করে সেগুলোর ওপর মোহরাঙ্কিত করে দিয়েছি। সুতরাং কোনো চোখ তা দেখেনি, কোনো কান তা শোনেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয় তা কল্পনাও করেনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কুরআন কারিমে এর মর্ম বর্ণিত হয়েছে এভাবে—
فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّا أُخْفِيَ لَهُم مِّن قُرَّةِ أَعْيُنٍ.
‘কেউ জানে না তার জন্য কৃতকর্মের কী কী নয়ন-প্রীতিকর প্রতিদান লুকায়িত আছে।’ [সূরা সিজদাহ, আয়াত: ১৭]
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
إِنِّي أَعْرِفُ أَهْلَ الْجَنَّةِ دُخُولًا الْجَنَّةَ وَآخِرَ أَهْلِ النَّارِ خُرُوجًا مِنَ النَّارِ رَجُلٌ يَخْرُجُ حَبْوًا فَيَقُولُ لَهُ رَبُّهُ ادْخُلِ الْجَنَّةَ فَيَقُولُ رَبِّ الْجَنَّةَ مَلأَى فَيَقُولُ ذلِكَ مَرَاتِبُ فَضْلٍ ذَلِكَ يُعِيدُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ مَلْأَى فَيَقُولُ إِنْ لَكَ بِمِثْلِ الدُّنْيَا عَشَرَ مِرَارٍ
সর্বশেষ জান্নাতি প্রবিষ্ট এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে জান্নাতে গিয়ে বের হলো। তখন তার রব তাকে বলবেন, জান্নাতে প্রবেশ করো। সে বলবে, আমার রব, জান্নাত তো পরিপূর্ণ। কথাটি আল্লাহ তাআলা তিনবার বলবেন, সেও তিনবারই বলবে, আমার রব, জান্নাত তো পরিপূর্ণ। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, তোমার জন্য দুনিয়ার দশগুণ বড় জান্নাত রয়েছে。

টিকাঃ
[২১০] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৪০৭, হাদিস: ২৮৭。
[২৪১] সহিহুল বুখারি, খণ্ড: ২০, পৃষ্ঠা: ০৬, হাদিস: ৬৪৭১。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00