📄 জান্নাতি হুর তার দুনিয়ার স্বামীকে দেখছে
মুআজ ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
‘কোনো নারী যখন তার স্বামীকে কষ্ট দেয়, তখন তার জান্নাতি স্ত্রী, আনতনয়না হুর বলে, আল্লাহ তোকে ধ্বংস করুন! তুই ওকে কষ্ট দিস না। কারণ, এখন সে তোর কাছে আছে অতিথি হিসেবে, অতিসত্বর সে তোকে ছেড়ে আমার কাছে আসবে।’
টিকাঃ
[২০৩] সুনানু ইবনু মাজাহ, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ১৩৭, হাদিস: ৩০৩৮। ইমাম তিরমিজি রাহিমাহুল্লাহু বলেছেন—হাদিসটি হাসান গরিব। হাদিসটি ইবনু মাজাহও বর্ণনা করেছেন。
📄 জান্নাতের পাখি, ঘোড়া এবং উট
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, কাউসার কী? তিনি বললেন, সেটি একটি নদী, যা আল্লাহ আমাকে জান্নাতে দান করেছেন। যার পানি হবে দুধের চেয়ে শুভ্র, মধুর চেয়ে মিঠা। সেখানে এমন পাখি থাকবে, যার গর্দানগুলো হবে উটের মতো।’
হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এটা তো অবশ্যই উটপাখি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এটা খাওয়া জান্নাতের অনেক সুন্দর নিয়ামত।’
আবু মাসউদ আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন—
‘জনৈক ব্যক্তি একটি লাগাম পরানো উটনী নিয়ে এলো, অতঃপর বলল, এটি আল্লাহর রাস্তায় দান করলাম। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি এর বিনিময়ে কিয়ামতের দিন সাতাশ উটনী পাবে, যার প্রত্যেকটি হবে লাগাম পরিহিত।’
টিকাঃ
[২০৪] সুনানুত তিরমিযি, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ১২৭, হাদিস: ২৪৮৫。
[২০৫] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৪৬৪, হাদিস: ৫০৩১。
📄 জান্নাতের শহরতলি
ফুজালা ইবনু উবাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘আমি জানিদারদা। যে ব্যক্তি আমার প্রতি ইমান আনল, আত্মসমর্পণ করে হিজরত করল তার জন্য আমি এমন একটি ঘরের জামিন হলাম, যা জান্নাতের শহরতলিতে হবে, আরেকটু ঘরের যা জান্নাতের মধ্যখানে হবে। আর যে ব্যক্তি আমার ওপর ইমান আনল, আত্মসমর্পণ করল এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করল তার জন্য এমন একটি ঘরের জামিন হলাম, যা জান্নাতের শহরতলিতে হবে, আরেকটা ঘরের জামিন হলাম, যা জান্নাতের মধ্যভাগে হবে এবং এমন আরেকটি ঘরের, যা হবে জান্নাতের সর্বসম্মুখের উপরিভাগে। যে ব্যক্তি এই কাজগুলো করল, সে কল্যাণের সব উদ্দেশ্যই পূর্ণ করল এবং অকল্যাণ থেকে পালানোর সব পন্থাই অবলম্বন করল। অতএব, সে যেথায় ইচ্ছে মারা যেতে পারে (কোনো সমস্যা নেই)।’
আবদুল্লাহ ইবনু আ'মার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—
‘যে ব্যক্তি নিরাপত্তার চুক্তিতে আবদ্ধ কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করল, সে জান্নাতের সুঘ্রাণ পর্যন্ত পাবে না। অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ চল্লিশ বছরের দূরত্ব থেকেও পাওয়া যায়।’
টিকাঃ
[২০৬] সুনানুস নাসাঈ, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ১৬২, হাদিস: ৩০৯২。
[২০৭] সহীহ বুখারি, খণ্ড: ২০, পৃষ্ঠা: ৬২৩, হাদিস: ২৯৯৩。
📄 জান্নাতে শূন্য ময়দান থাকবে
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
‘আমি মিরাজের রাতে হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমার পক্ষ থেকে তোমার উম্মতকে সালাম জানাও এবং তাদেরকে সংবাদ দাও যে, জান্নাতের মাটি পবিত্র, সেখানকার পানি সুস্বাদু, তবে তা শূন্য মদ্যান, যার গাছগুলো সুবহানাল্লাহ ওয়ালহামদুলিল্লাহ ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।’
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
‘যে ব্যক্তি বলবে “সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি” তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর গাছ রোপণ করা হয়।’
টিকাঃ
[২০৮] সুনানুত তিরমিযি, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ২০২, হাদিস: ৩৩৪৯。
[২০৯] সুনানুত তিরমিযি, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ২০৯, হাদিস: ৩৫০১। ইমাম তিরমিজি রাহিমাহুল্লাহু বলেছেন—হাদিসটি হাসান সহীহ গরিব।