📄 জান্নাতে সন্তানের প্রত্যাশা
আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
المُؤْمِنُ إِذَا اشْتَهَى الْوَلَدَ فِي الْجَنَّةِ كَانَ حَمْلُهُ وَوَضْعُهُ وَسِنُّهُ فِي سَاعَةِ وَاحِدَةٍ كَمَا يَشْتَهِي.
‘মুমিন ব্যক্তি জান্নাতে যখন সন্তান চাইবে, তখন তার চাওয়া মাফিক মুহূর্তেই গর্ভসঞ্চার হবে, সন্তান প্রসব হবে এবং বয়স্ক হবে।’
টিকাঃ
[২০১] সুনানুত তিরমিযি, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ১৪২, হাদিস: ২৪৮৭。
📄 জান্নাতি বস্তু পুরাতন হবে না
আবু সাঈদ খুদরি এবং আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
‘একজন আহ্বান করবে, তোমাদের জন্য সুস্বাস্থ্যের ফায়সালা করা হয়েছে, সুতরাং কখনো অসুস্থ হবে না। তোমাদের জন্য জীবনের ফায়সালা করা হয়েছে, সুতরাং কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। তোমাদের জন্য যৌবনের ফায়সালা করা হয়েছে, সুতরাং কখনো বৃদ্ধ হবে না। তোমাদের জন্য ধনাঢ্যতার ফায়সালা করা হয়েছে, সুতরাং কখনো দুঃখ হবে না। এটাই আল্লাহ তাআলার বলেছেন—
وَنُودُوا أَن تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ.
‘আরব আজ আসবে, এটি জানাতো। তোমরা এর উত্তরাধিকারী হয়েছ তোমাদের কর্মের প্রতিদানে।’ [সূরা আরাফ, আয়াত: ৪৩]
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ يَنْعَمُ لَا يَبْأَسُ لَا تَبْلَى ثِيَابُهُ وَلَا يَفْنَى شَبَابُهُ.
‘যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে, সে এমন ধনাঢ্যতা লাভ করবে, যারপর দরিদ্রতা নেই, এমন কাপড় পরিধান করবে, যা পুরাতন হবে না এবং এমন যৌবন পাবে, যা শেষ হবে না।’
টিকাঃ
[২০২] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১৩, পৃষ্ঠা: ৯৪৬, হাদিস: ৩০৮৭。
📄 জান্নাতি হুর তার দুনিয়ার স্বামীকে দেখছে
মুআজ ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
‘কোনো নারী যখন তার স্বামীকে কষ্ট দেয়, তখন তার জান্নাতি স্ত্রী, আনতনয়না হুর বলে, আল্লাহ তোকে ধ্বংস করুন! তুই ওকে কষ্ট দিস না। কারণ, এখন সে তোর কাছে আছে অতিথি হিসেবে, অতিসত্বর সে তোকে ছেড়ে আমার কাছে আসবে।’
টিকাঃ
[২০৩] সুনানু ইবনু মাজাহ, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ১৩৭, হাদিস: ৩০৩৮। ইমাম তিরমিজি রাহিমাহুল্লাহু বলেছেন—হাদিসটি হাসান গরিব। হাদিসটি ইবনু মাজাহও বর্ণনা করেছেন。
📄 জান্নাতের পাখি, ঘোড়া এবং উট
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, কাউসার কী? তিনি বললেন, সেটি একটি নদী, যা আল্লাহ আমাকে জান্নাতে দান করেছেন। যার পানি হবে দুধের চেয়ে শুভ্র, মধুর চেয়ে মিঠা। সেখানে এমন পাখি থাকবে, যার গর্দানগুলো হবে উটের মতো।’
হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এটা তো অবশ্যই উটপাখি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এটা খাওয়া জান্নাতের অনেক সুন্দর নিয়ামত।’
আবু মাসউদ আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন—
‘জনৈক ব্যক্তি একটি লাগাম পরানো উটনী নিয়ে এলো, অতঃপর বলল, এটি আল্লাহর রাস্তায় দান করলাম। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি এর বিনিময়ে কিয়ামতের দিন সাতাশ উটনী পাবে, যার প্রত্যেকটি হবে লাগাম পরিহিত।’
টিকাঃ
[২০৪] সুনানুত তিরমিযি, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ১২৭, হাদিস: ২৪৮৫。
[২০৫] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৪৬৪, হাদিস: ৫০৩১。