📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে 📄 নেককাজ হবে হুরে ঈনের মহর

📄 নেককাজ হবে হুরে ঈনের মহর


আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন—
وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ كُلَّمَا رُزِقُوا مِنْهَا مِنْ ثَمَرَةٍ رِزْقًا قَالُوا هَذَا الَّذِي رُزِقْنَا مِنْ قَبْلُ وَأُتُوا بِهِ مُتَشَابِهًا وَلَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُطَهَّرَةٌ وَهُمْ فِيهَا خَالِدُونَ.
‘আর হে নবি! যারা ইমান এনেছে এবং সৎকাজসমূহ করেছে, আপনি তাদেরকে এমন বেহেশতের সুসংবাদ দিন, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবহমান রয়েছে। যখনই তারা খাবার হিসেবে কোনো ফল প্রাপ্ত হবে, তখনই তারা বলবে, এ তো অবিকল সে ফলই—যা আমরা ইতিপূর্বে লাভ করেছিলাম। বস্তুত তাদেরকে একই রকমের ফল প্রদান করা হবে এবং সেখানে তাদের জন্য শুচিশালিনী রমণীকুল থাকবে। আর সেখানে তারা অবস্থান করবে অনন্তকাল। [সুরা বাকারা, আয়াত: ২৫]'
মিকদাম ইবনু মাআদি কারাবা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
‘আল্লাহর নিকট শহিদের জন্য ছয়টি বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তাকে প্রথম দফাতেই ক্ষমা করা হবে এবং জান্নাতে তার ঠিকানা দেখানো হবে, কবরের আজাব থেকে মুক্তি দেওয়া হবে, মহা আতঙ্ক থেকে নিরাপদ থাকবে, তার মাথায় সম্মানের মুকুট পরানো হবে, যার একটি ইয়াাকুত পাথর দুনিয়া এবং তার মাঝে অবস্থিত সমস্ত কিছুর চেয়ে উত্তম হবে, বাহাত্তর জন হুর হবে ঈশ্বরের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হবে এবং তার নিকটাত্মীয়দের মধ্যে থেকে সত্তরজনকে শাফায়াতের অধিকার প্রদান করা হবে。
আমি (ইমাম কুরতুবি) বলব, এই হাদিসটি ইতিপূর্বে বর্ণিত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর হাদিসের এই মর্মের সমর্থন করে যে—‘প্রত্যেকজন জান্নাতি দুনিয়ার নারীদের মধ্য হতে দুজন করে স্ত্রী পাবে; আর বাকি সত্তরজন হবে জান্নাতি হুর।’ আল্লাহই ভালো জানেন।
হজরত ইয়াহইয়া ইবনু মুআজ বলেছেন—
‘দুনিয়া পরিত্যাগ করা কঠিন, জান্নাত ছুটে যাওয়া মহা কঠিন এবং দুনিয়া পরিত্যাগ করা আখেরাতের আলআদা।’
হজরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন—
‘তোমরা অমুককে মেরে অমুককে অনেক সম্পদ দিয়ে বিয়ে করেছ, কিন্তু এক লোকমা খাবার বা একটি খেজুর অথবা তুচ্ছ বিষয়ের কারণে ঘুরিয়ে উনকে ত্যাগ করছ!’
হযরত ইবনু শুমাহিন্না রাহিমাহুল্লাহু বলেছেন, ‘মিশরের সাফিন নামক একজন লোক ছিল। তার মা ছিল অত্যন্ত ইবাদাতগুজার রমণী। রাতে যখন সে নামাজ পড়ত, তার মা তার পিছে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ত। যদি ঘুমের কারণে ইবাদতে বিঘ্নতা সৃষ্টি হতে চাইত, তাহলে তার মা তাকে ডেকে বলত—সাফিনা! জান্নাতকে ভীতি ব্যাধি ঘুমাতে পারে না। তারপর সুন্দর দমের আলোচনা করত। তখন ভয়ে সাফিন আবার নামাজ পড়তে আরম্ভ করত।’

টিকাঃ
[১৪১] সুন্নাতু তিরমিযি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২২১, হাদিস: ১৬৪৬। মূল গ্রন্থে শুধু ছয়ের সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি উল্লেখ আছে। উপকারী মনে করে সম্পূর্ণ হাদিসটাই অনুবাদসহ উল্লেখ করা হয়েছে। —অনুবাদক。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে 📄 জান্নাতে প্রকৃত অর্থেই পানাহার ও বিয়ে হবে

📄 জান্নাতে প্রকৃত অর্থেই পানাহার ও বিয়ে হবে


জাবির ইবনু আবদুল্লাহু রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—
إِنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ يَأْكُلُونَ فِيهَا وَيَشْرَبُونَ وَلَا يَتْغَوَّطُونَ وَلَا يَبُولُونَ وَلَا يَمْتَخِطُونَ وَلَا يَتَفَلُّفُونَ قَالُوا فَمَا بَالُ الطَّعَامِ قَالَ جُشَاءٌ وَرَشْحٌ كَرَشْحِ الْمِسْكِ يُلْهَمُونَ التَّسْبِيحَ وَالتَّكْبِيرَ كَمَا يُلْهَمُونَ النَّفَسَ.
‘জান্নাতিরা সেখানে পানাহার করবে কিন্তু তারা থুতু ফেলবে না, পেশাব করবে না, পায়খানা করবে না এবং নাক হতে শ্লেষ্মাও ফেলবে না। সাহাবায়ে কিরাম বললেন, তাহলে খাদ্যগুলো কী হবে? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঢেঁকুর ও ঘাম হবে। যা হবে মিসকের সুঘ্রাণের মতো। তাদেরকে আল্লাহর তাসবিহ এবং তাহমিদ দান করা হবে, যেমন তোমাদেরকে শ্বাস-প্রশ্বাস প্রদান করা হয়।’
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
‘জান্নাতে মুমিনকে সঙ্গমের এমন এমন শক্তি প্রদান করা হবে। বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল, জান্নাতিরা কি এমন শক্তি পাবে? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, একশ পুরুষের শক্তি পাবে।’

টিকাঃ
[১৯৯] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১৩, পৃষ্ঠা: ৯৭২, হাদিস: ২৯০১。
[২০০] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১৩, পৃষ্ঠা: ৯৮২, হাদিস: ২৯০১。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে 📄 জান্নাতে সন্তানের প্রত্যাশা

📄 জান্নাতে সন্তানের প্রত্যাশা


আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
المُؤْمِنُ إِذَا اشْتَهَى الْوَلَدَ فِي الْجَنَّةِ كَانَ حَمْلُهُ وَوَضْعُهُ وَسِنُّهُ فِي سَاعَةِ وَاحِدَةٍ كَمَا يَشْتَهِي.
‘মুমিন ব্যক্তি জান্নাতে যখন সন্তান চাইবে, তখন তার চাওয়া মাফিক মুহূর্তেই গর্ভসঞ্চার হবে, সন্তান প্রসব হবে এবং বয়স্ক হবে।’

টিকাঃ
[২০১] সুনানুত তিরমিযি, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ১৪২, হাদিস: ২৪৮৭。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে 📄 জান্নাতি বস্তু পুরাতন হবে না

📄 জান্নাতি বস্তু পুরাতন হবে না


আবু সাঈদ খুদরি এবং আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
‘একজন আহ্বান করবে, তোমাদের জন্য সুস্বাস্থ্যের ফায়সালা করা হয়েছে, সুতরাং কখনো অসুস্থ হবে না। তোমাদের জন্য জীবনের ফায়সালা করা হয়েছে, সুতরাং কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। তোমাদের জন্য যৌবনের ফায়সালা করা হয়েছে, সুতরাং কখনো বৃদ্ধ হবে না। তোমাদের জন্য ধনাঢ্যতার ফায়সালা করা হয়েছে, সুতরাং কখনো দুঃখ হবে না। এটাই আল্লাহ তাআলার বলেছেন—
وَنُودُوا أَن تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ.
‘আরব আজ আসবে, এটি জানাতো। তোমরা এর উত্তরাধিকারী হয়েছ তোমাদের কর্মের প্রতিদানে।’ [সূরা আরাফ, আয়াত: ৪৩]
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ يَنْعَمُ لَا يَبْأَسُ لَا تَبْلَى ثِيَابُهُ وَلَا يَفْنَى شَبَابُهُ.
‘যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে, সে এমন ধনাঢ্যতা লাভ করবে, যারপর দরিদ্রতা নেই, এমন কাপড় পরিধান করবে, যা পুরাতন হবে না এবং এমন যৌবন পাবে, যা শেষ হবে না।’

টিকাঃ
[২০২] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১৩, পৃষ্ঠা: ৯৪৬, হাদিস: ৩০৮৭。

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية