📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 জান্নাতের স্তর

📄 জান্নাতের স্তর


মুয়াজ ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—
فِي الْجَنَّةِ مِائَةَ دَرَجَةٍ مَا بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَالْفِرْدَوْسُ أَعْلَى الْجَنَّةِ وَأَوْسَطُهَا وَفَوْقَ ذَلِكَ عَرْشُ الرَّحْمَنِ وَمِنْهَا تَفَجَّرُ أَنْهَارُ الْجَنَّةِ فَإِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ فَسَلُوهُ الْفِرْدَوْسَ.
জান্নাতে একশটি স্তর আছে। প্রত্যেক দুই স্তরের মাঝে আকাশ-জমিন সমান দূরত্ব থাকবে। জান্নাতুল ফিরদাউস উচ্চতায় জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে আছে এবং অবস্থানগতভাবে সমস্ত জান্নাতের মাঝামাঝি আছে। এর ওপরেই আল্লাহর আরশ। আরশ থেকেই জান্নাতের নহরগুলো প্রবাহিত হবে। অতএব, যখন তোমরা আল্লাহর কাছে চাও, তার কাছে ফিরদাউস চাও。
আবদুল্লাহ ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
'কারিককে বলা হবে, পড়ো, ওপরে ওঠো এবং তারতিলসহ পড়ো, যেভাবে দুনিয়ায় পড়তে। কারণ, যেখানে পড়া শেষ সেখানেই হবে তোমার ঠিকানা।’
নোট: উলামায়ে কিরাম বলেছেন, কুরআন কারিমের বাহক এবং পাঠকগণ হলেন তারা—যারা কুরআনুল কারিমের বিধান মতো চলেন, হালাল-হারাম বেছে চলেন এবং কুরআন কারিমে যা আছে তা পালন করেন।
সহীহুল বুখারিতে আছে, 'যে মুমিন কুরআন পড়ে এবং তদনুযায়ী আমলে করে—সে হলো লেবুর মতো; তার স্বাদও সুন্দর এবং ঘ্রাণও মনোমুগ্ধকর। আর যে মুমিন কুরআন পড়ে না, তবে কুরআন অনুপাতে আমল করে—সে হলো খেজুরের মতো; যার স্বাদ সুস্বাদু কিন্তু ঘ্রাণ নেই。

টিকাঃ
[১০৫] সুনানুত তিরমিজি, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৭১, হাদিস: ২৪৯৯। নোট: ইবনু তিবরিজি রাদিয়াল্লাহু বলেছেন—হজরত আতা ইবনু ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু হজরত মুয়াজ ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহুএর সাক্ষাৎ পাননি। আমি বলব—হাদিসটি ইমাম বুখারি রাদিয়াল্লাহু হজরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন সেই সনদটি মুত্তাসিল এবং সহীহ。
[১০৬] সুনানু আবি দাউদ, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ২৫০, হাদিস: ১৪৬৪。
[১০৭] সহীহুল বুখারী, হাদিস: ৫০৫৯。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 জান্নাতের কক্ষ এবং সেগুলোর অধিকারী

📄 জান্নাতের কক্ষ এবং সেগুলোর অধিকারী


আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—
لَكِنِ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ لَهُمْ غُرَفٌ مِّن فَوْقِهَا غُرَفٌ مَبْنِيَّةٌ
কিন্তু যারা তাদের রবকে ভয় করে, তাদের জন্য রয়েছে প্রাসাদের পর প্রাসাদ। [সুরা জু্মার, আয়াত: ২০]
আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন—
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًا خَالِدِينَ فِيهَا لَا يَبْغُونَ عَنْهَا حِوَلًا
যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তারা তাদের রবের বহুস্তর প্রতিদান পাবে এবং তারা সুউচ্চ প্রাসাদে নিরাপদে বসবাস করবে। [সুরা কাহাফ, আয়াত: ১০৭-১০৮]
আরও ইরশাদ হয়েছে—
أُوْلَئِكَ يُجْزَوْنَ الْغُرْفَةَ بِمَا صَبَرُوا
তাদেরকে তাদের সবরের প্রতিদানে জান্নাতে প্রাসাদ দেওয়া হবে। [সুরা ফুরকান, আয়াত: ৭৫]
সাহাল ইবনু সাআদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
إِنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ لَيَتَرَاءَوْنَ أَهْلَ الْغُرَفِ مِنْ فَوْقِهِمْ كَمَا تَتَرَاءَوْنَ الْكَوْكَبَ الدُّرِّيَّ الْغَابِرَ مِنَ الْأُفُقِ مِنَ الْمَشْرِقِ أَوِ الْمَغْرِبِ لِتَفَاضُلِ مَا بَيْنَهُمْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ تِلْكَ مَنَازِلُ الْأَنْبِيَاءِ لَا يَبْلُغُهَا غَيْرُهُمْ قَالَ بَلَى وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ رِجَالٌ آمَنُوا بِاللَّهِ وَصَدَّقُوا الْمُرْسَلِينَ.
জান্নাতিরা প্রাসাদবাসীদেরকে তাদের ওপরে দেখতে পাবে, যেভাবে তোমরা তোমরা পূর্ব ও পশ্চিমের উজ্জ্বল দিতিয়ে মুক্তার ন্যায় ঝলমলে তারকা দেখতে পাও। কারণ, উভয়ের মাঝে মর্যাদার অনেক ব্যবধান থাকবে। সাহাবায়ে কিরাম জানতে চাইলেন, হে আল্লাহর রাসূল, সেগুলো কি নবিগণের স্থান—যেখানে অন্যেরা পৌঁছাতে পারবে না? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অবশ্যই না! বরং এই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, তারা তো এমন মুমিন—যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং রাসূলগণকে সত্যায়ন করেছে。
আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন— 'জান্নাতে এমন অনেক প্রাসাদ আছে যেগুলোর ভেতর থেকে বাইরে এবং বাইরে থেকে ভেতরে দেখা যাবে। তখন জনৈক গ্রাম্য লোক দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এমন প্রাসাদ কারা পাবে? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে সুন্দরভাবে কথা বলে, অসহায়কে খানা খাওয়ায়, নিয়মিত রোজা রাখে এবং রাতে নামাজ পড়ে—যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে।’
নোট: জেনে রাখা ভালো যে, এই প্রাসাদগুলো উচ্চতা ও গুণাবলিতে জান্নাতিদের আমলের বেশকমের ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রকার হবে। একটির উচ্চতা ও অনন্যতা আরেকটির চেয়ে অনেক বেশি হবে।

টিকাঃ
[১০৮] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ৪৬৬, হাদিস: ২৫৩。
[১০৯] সুনানুত তিরমিজি, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৭৩, হাদিস: ২৪৯৫。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 জান্নাতিদের বালাখানা, বাড়ি-ঘর

📄 জান্নাতিদের বালাখানা, বাড়ি-ঘর


বুরাইদা ইবনু হাসিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদা সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ডেকে বললেন—
'হে বিলাল, তুমি কোন আমলের কারণে আমার আগেই জান্নাতে প্রবেশ করেছো? আমি যেই জান্নাতেই প্রবেশ করেছি, সেখানেই আমার সামনে তোমার পদধ্বনি শুনছি। আমি স্বপ্নে জান্নাতে প্রবেশ করলাম, সেখানেও আমার সামনে তোমার পদধ্বনি শুনলাম। অতঃপর স্বপ্নের স্তরে পৌঁছার উঁচু এলাকায় এলাম, তারপর জিজ্ঞেস করলাম, এই বালখানায়টি কার? তারা বলল, অমুকের এক ব্যক্তির। আমি বললাম, আমি তো একজন আরব; সুতরাং এই বালখানাটি কার? তারা বলল, একজন কুরাইশি মানুষের। বললাম, আমি তো কুরাইশি। তারা, বলল, উম্মতে মুহাম্মাদীর একজন মানুষের। আমি বললাম, আমি মুহাম্মাদ? এই বালখানাটি কার? তারা বলল, উমর ইবনুল খাত্তাবের। হজরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি যখনই আজান দিয়েছি, তখনই দু রাকাত নামাজ পড়েছি। আমার অজু ছুটে গেলেই অজু করেছি এবং আল্লাহর জন্য দুই রাকাত নামাজ পড়েছি। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এজন্যই。

টিকাঃ
[১১০] সুনানুত তিরমিজি, খণ্ড: ১২, পৃষ্ঠা: ১৪৯, হাদিস: ৩৬৮২। হাদিসটি হাসান, সহীহ।

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 জান্নাতের তাঁবু ও বাজার

📄 জান্নাতের তাঁবু ও বাজার


আবু মুসা আশয়ারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
فِي الْجَنَّةِ خَيْمَةٌ مِّن لُّؤْلُؤَةٍ مُجَوَّفَةٍ عَرْضُهَا سِتُّونَ مِيلًا فِي كُلِّ زَاوِيَةٍ مِّنْهَا أَهْلٌ مَّا يَرَوْنَ الْآخَرِينَ يَطُوفُ عَلَيْهِمُ الْمُؤْمِنُ
জান্নাতে উজ্জ্বল মুক্তার তৈরি এমন তাঁবু থাকবে—যার প্রস্থ হবে ষাট মাইল, তার চারদিকে মুমিনের পরিবার থাকবে, যারা অন্যেদেরকে দেখতে পারবে না। মুমিন তাদের কাছ দিয়ে ঘুরে বেড়াবে。
আরেক বর্ণনায় আছে—
'তারু হবে মুক্তারা। ওপরেক দিকে যার উচ্চতা হবে ষাট মাইল। তার চারদিকে থাকবে মুমিনের পরিবার। তাদেরকে অন্যেরা দেখতে পারবে না।’
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
'জান্নাতে একটি বাজার রয়েছে। প্রত্যেক জুমাবার জান্নাতিরা সেখানে জমায়েত হবে। তখন প্রবল বেগে উত্তরবাযু প্রবাহিত হবে। এই বাতাস সকলের চেহারা ও পোশাকে লাগবে। যার কারণে তাদের সৌন্দর্য ও লাবণ্য বেড়ে যাবে। অতঃপর তারা এমন অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরে যাবে যে, তাদের সৌন্দর্য ও লাবণ্য থাকবে (পূর্বের চেয়ে) অনেকগুণ বেশি। যার কারণে তাদের পরিবারের তাদেরকে বলবে, আল্লাহর কসম! আমাদের কাছ থেকে যাওয়ার পর তোমাদের সৌন্দর্য ও লাবণ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তখন জান্নাতিরা বলবে, আল্লাহর কসম, আমাদের অবর্তমানে তোমাদের সৌন্দর্য ও লাবণ্য অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।’

টিকাঃ
[১১১] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ৪৭৯, হাদিস: ৩০৭১。
[১১২] সহীহুল বুখারী, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ২১, হাদিস: ৩০৭২; সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ৪৮০, হাদিস: ৩০৭২। তবে সহীহুল মুসলিম হাদিসে হাদিসের শেষে রয়েছে—'لَا يَرَاهُمُ الْأَخَرُونَ' তাদেরকে অন্যেরা দেখতে পারবে না'।
[১১৩] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ৪৪৫, হাদিস: ২৮৩৩。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00