📄 জান্নাতিদের পোশাক
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—
وَيَلْبَسُونَ ثِيَابًا خُضْرًا مِّن سُندُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ
তারা পাতলা ও মোটা রেশমের সবুজ কাপড় পরিধান করবে। [সূরা কাহাফ, আয়াত: ৩১]
আরও ইরশাদ হয়েছে—
وَيْلْبَسُهُمْ ثِيَابًا حُرِيرًا
জান্নাতে তাদের পোশাক হবে রেশম। [সূরা হজ, আয়াত: ২৩]
📄 জান্নাতের প্রতিটি গাছের কাণ্ড হবে স্বর্ণের
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
مَا فِي الْجَنَّةِ شَجَرَةٌ إِلَّا وَسَاقُهَا مِنْ ذَهَبٍ
জান্নাতের প্রতিটি গাছের কাণ্ড হবে স্বর্ণের。
টিকাঃ
[১৩১২] সুনানুত তিরমিজি, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৬৬, হাদিস: ২৪৪৯। ইমাম তিরমিজি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, হাদিসটি হাসান গরিব。
📄 জান্নাতে চাষাবাদ
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন কথা বলছিলেন, তখন তার কাছে জনৈক গ্রাম্য লোক ছিল। তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেন, জান্নাতে এক ব্যক্তি তার রবের কাছে চাষাবাদ করার অনুমতি চাইবে। আল্লাহ তাআলা তাকে বলবেন, তুমি যা চাও তা কি নেই? সে বলবে, হ্যাঁ, আচ্ছা! কিন্তু আমি চাষ করতে ভালোবাসি। সুতরাং সে বীজবপন করবে, তা থেকে ফসল উত্থিত হবে, তা বড় হবে এবং কাটার উপযুক্ত হবে! পাহাড়ের মতো স্তূপকৃত ফসল হবে। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, হে আদমসন্তান! ঠিক আছো কেননা, কোনো বস্তু তোমাকে তৃপ্ত করতে পারবে না। তখন গ্রাম্য লোকটি বলল, আল্লাহর কসম! সে হয়তো কোরেশি বা আনসারি হবে; কেননা, তারা চাষী, আমরা চাষী মানুষ নই। তার এমন কথায় নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে ফেললেন।’
টিকাঃ
[১৩১৩] সহিহুল বুখারি, খণ্ড: ৭, পৃষ্ঠা: ১৫৮, হাদিস: ২৪৭৭。
📄 জান্নাতের কোন দরজা কার জন্য?
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—
حَتَّى إِذَا جَاءُوهَا وَفُتِحَتْ أَبْوَابُهَا
এমনকি যখন তারা সেখানে আসবে এবং তার দরজাগুলো খোলা হবে। [সূরা জুমার, আয়াত: ৭১]
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ يَتَوَضَّأُ فَيُسْبِغُ الْوُضُوءَ ثُمَّ يَقُولُ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ إِلَّا فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ الثَّمَانِيَةُ يَدْخُلُ مِنْ أَيِّهَا شَاءَ
তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি যখন অজু করে এবং খুব ভালোভাবে অজু করে, তারপর কালিমাহ শাহাদাত পড়ে—আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহই একমাত্র ইলাহ এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাহলে সেই ব্যক্তির জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হয়, সে তার ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।’ হাদিসটি ইমাম মুসলিম রাহিমাহুল্লাহ হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন。
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ نُودِيَ فِي الْجَنَّةِ يَا عَبْدَ اللَّهِ هَذَا خَيْرٌ فَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّلَاةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّلَاةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجِهَادِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الْجِهَادِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّدَقَةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّدَقَةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصِّيَامِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الرَّيَّانِ قَالَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا عَلَى أَحَدٍ يُدْعَى مِنْ تِلْكَ الْأَبْوَابِ مِنْ ضَرُورَةٍ فَهَلْ يُدْعَى أَحَدٌ مِنْ تِلْكَ الْأَبْوَابِ كُلِّهَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ وَأَرْجُو أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ
যে ব্যক্তি এক জোড়া আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করল, তাকে জান্নাতে ডাকা হবে, হে আল্লাহর বান্দা, এটা কল্যাণকর। নামাজিকে বাবুল সালাত দিয়ে ডাকা হবে, মুজাহিদকে বাবুল জিহাদ দিয়ে ডাকা হবে, দানকারীকে বাবুল সাদাকার দিয়ে ডাকা হবে, রোজাদারকে বাবুর রাইয়ান দিয়ে ডাকা হবে। হজরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, (আপনার কথা থেকে বুঝতে পারলাম) এই দরজাগুলোর কোনো একটি দিয়ে ডাকা জরুরি নয়। তবে এমন কোনো ব্যক্তি কি আছে—যাকে প্রত্যেক দরজা থেকেই ডাকা হবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, আমি করব, তুমিও তাদের মধ্য গণ্য হবে。
খালিদ ইবনু উমাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, বুখারার আমির উবা ইবনু গাকওয়ান আমাদের উদ্দেশে দেখে দেন—আল্লাহর প্রশংসা করে তার স্তুতি গাইলেন, হাদিস বর্ণনা করলেন এবং হাদিসের একপর্যায়ে বললেন, 'জান্নাতের পিলারগুলির প্রতি দুই পিলারের মাঝে চল্লিশ বছরের দূরত্ব। তারপর এমন একদিন আসবে—যে দিনটি ভিড়ে পরিপূর্ণ হবে।’
ব্যাখ্যা: হাদিসের বাণী—'এক জোড়া দান করবে'—এর ব্যাখ্যায় হাসান বসরি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন—প্রতিটি বস্তুরই এক জোড়া। যেমন দুই দিনার, দুই দিরহাম, দুটি কাপড় এবং দুটি মোজা ইত্যাদি。
কেউ কেউ বলেছেন, দুই শ্রেণির একটি করে দুটি বস্তু। যেমন একটি দিনার ও একটি দিরহাম, একটি কাপড় ও একটি রোজা বা একটি লাগাম ইত্যাদি।
আল-বাত্তি বলেন, হতে পারে, এই বাক্যের মাধ্যমে আমলের কথা বোঝানো হয়েছে। যেমন দু রাকাত নামাজ বা দুুটি রোজা।
আমি (লেখক) বলব, প্রথম মতটি তাফসিরের দৃষ্টিকোণ থেকে উন্নত মানের। কারণ, এমনটিই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে। ইমাম আবুওবা হজরত আবু জার গিফারি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, 'যে ব্যক্তি তার সম্পদ থেকে এক জোড়া ব্যয় করল, জান্নাতের দারোয়ান তাকে স্বাগত জানাবে। আমরা বললাম, এক জোড়া কী? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সওয়ারি হলে দুটি সওয়ারি, ঘোড়া হলে দুটি ঘোড়া, উট হলে দুটি উট—এভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি সম্পদের কথাাই বলেছেন।’
আর জান্নাতের দরজার প্রশস্ততা নিয়ে যে কথাগুলো বর্ণিত হয়েছে তার প্রত্যেকটির প্রশস্ততা বিভিন্ন রকম। যেমন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তো সেগুলোর মাঝে কোনো বিবাদ নেই। ওয়াল হামদুলিল্লাহ।
টিকাঃ
[১৩১৪] সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৮, হাদিস: ৫২。
[১৩১৫] যেকোনো মূল্যবান বস্তু। হোক সেটা জীব বা জড় যেকোনো ধরনের। তবে উট ও ঘোড়ার প্রতি অধিক গুরুত্ব পাওা যায় – অনুবাদক。
[১৩১৬] সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৮, হাদিস: ২৪৩৭。
[১৩১৭] সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ২৯, হাদিস: ৫২৬৬。
[১৩১৮] সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ১৫, পৃষ্ঠা: ১৯, হাদিস: ৬২。
[১৩১৯] মুসনাদু আহমদ, খণ্ড: ৪০, পৃষ্ঠা: ৪১০, হাদিস: ২৪৪৪。