📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 পৃথিবীতে আছে যেসব জান্নাতি বস্তু

📄 পৃথিবীতে আছে যেসব জান্নাতি বস্তু


আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—
مَثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ فِيهَا أَنْهَارٌ مِنْ مَاءٍ غَيْرِ آسِنٍ وَأَنْهَارٌ مِنْ لَبَنٍ لَمْ يَتَغَيَّرْ طَعْمُهُ وَأَنْهَارٌ مِنْ خَمْرٍ لَذَّةٍ لِلشَّارِبِينَ وَأَنْهَارٌ مِنْ عَسَلٍ مُصَفًّى.
পরহেজগারদেরকে যে জান্নাতের ওয়াদা দেওয়া হয়েছে, তার অবস্থা এমন যে, তাতে আছে পানির নহর, নির্মল দুধের নহর—যার স্বাদ অপরিবর্তনীয়, পানকারীদের জন্য রয়েছে সুস্বাদু শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধুর নহর। [সুরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ১৫]
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
سَيْحَانُ وَجَيْحَانُ وَالْفُرَاتُ وَالنِّيلُ كُلٌّ مِنْ أَنْهَارِ الْجَنَّةِ.
সাইহান, জাইহান, ফুরাত এবং নীল—সবগুলো জান্নাতের নহরগুলোর সামিল。
কা'ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন—‘দাজ্জালা জান্নাতের পানির নহর, ফুরাত জান্নাতের দুধের নহর, মিশরের নদী তাদের শরাবের নহর, সাইহান তাদের মধুর নহর এবং চারটি নহরই কাউসারের নহর।’
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু ইসরা-মিরাজের হাদিসে বর্ণনা করেছেন—একপর্যায়ে তিনি দুনিয়ার আকাশে প্রবেশমান দুটি নহরের কাছে পৌঁছুলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, জিবরীল এই নহর দুটি কিসের? হজরত জিবরীল বললেন, নীল এবং ফুরাত এই দুটি নহরের নির্ঝর। তারপর আকাশের দিকে গেলেন। একপর্যায়ে অন্য একটি নহরের কাছে পৌঁছুলেন—যা মুক্তা ও জওহরদানা পাথরের তৈরি। জিবরীল আলাইহিস সালাম হাত দ্বারা সেখানে আঘাত করলেন, সুতরাং প্রচণ্ড সুঘ্রাণ ছুটতে আরম্ভ করল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে চাইলেন— জিবরীল, কী এটা? তিনি বললেন, এটাই সেই নহর (কাউসার)—যা আপনার রব আপনার জন্য সৃষ্টি করেছেন。

টিকাঃ
[১৮০] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ৪৬২, হাদিস: ৫০৮০。
[১৮১] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ২৬, পৃষ্ঠা: ৩৯, হাদিস: ৬৯৩০。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 জান্নাতের নহরগুলোর উৎপত্তি

📄 জান্নাতের নহরগুলোর উৎপত্তি


আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
‘যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনে, নামাজ কায়েম করে, রমজান মাসে রোজা রাখে—তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর দায়িত্ব হয়ে যায়। সে আল্লাহর পথে জিহাদ করুক বা নিজের জন্মস্থানে বসে থাকুক। সাহাবায়ে কিরাম আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি মানুষকে সুসংবাদ প্রদান করব? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জান্নাতের অনেকগুলো শ্রেণি রয়েছে— যেগুলোকে আল্লাহ তাআলা তাঁর পথের মুজাহিদদের জন্য সৃষ্টি করেছেন। প্রত্যেক দুই শ্রেণির মাঝে আকাশ ও জামিনের দূরত্ব। অতএব, যখন তোমরা আল্লাহর কাছে চাও— তাঁর কাছে জান্নাতুল ফিরদাউস চাও। কেননা, এটা মধ্যস্থানে বা উঁচু জান্নাত। এর ওপরেই রয়েছে আল্লাহ তাআলার আরশ। এখান থেকে জান্নাতের নহরগুলো প্রবাহিত হয়。
আবু হাতিম আল-বুসতি বলেছেন, জান্নাতের মধ্যখানে হওয়ার মর্ম হলো—ফিরদাউস জান্নাতগতভাবে সমস্ত জান্নাতের মাঝখানে অবস্থিত এবং এর উচ্চতার দিক থেকে সমস্ত জান্নাতের ওপরে অবস্থিত।
কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, ফিরদাউস জান্নাতের টিলা, জান্নাতের মধ্যখান, জান্নাতের উঁচু স্থান, জান্নাতের উত্তম স্থান এবং জান্নাতের সর্বোৎকৃষ্ট স্থান।

টিকাঃ
[১৮২] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১২, পৃষ্ঠা: ৪৬৩, হাদিস: ৬৭০৭。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 দুনিয়ার মদপানকারীরা জান্নাতের শরাব পাবে না

📄 দুনিয়ার মদপানকারীরা জান্নাতের শরাব পাবে না


আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
مَنْ لَبِسَ الْحَرِيرَ فِي الدُّنْيَا لَمْ يَلْبَسْهُ فِي الْآخِرَةِ، وَمَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ فِي الدُّنْيَا لَمْ يَشْرَبْهَا فِي الْآخِرَةِ، وَمَنْ شَرِبَ فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ فِي الدُّنْيَا لَمْ يَشْرَبْ بِهَا فِي الْآخِرَةِ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِبَاسُ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَشَرَابُ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَآنِيَةُ أَهْلِ الْجَنَّةِ.
যে ব্যক্তি দুনিয়াতে রেশম পরিধান করল, সে আর পরকালে পরিধান করতে পারবে না। যে দুনিয়াতে মদ পান করল, সে পরকালে শরাব পান করতে পারবে না, যে দুনিয়াতে স্বর্ণ ও রূপার পাত্রে পান করল, সে পরকালে এসব পাত্রে পান করতে পারবে না। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, এগুলো জান্নাতিদের পোশাক, জান্নাতিদের পানীয় এবং জান্নাতিদের পাত্র.'

টিকাঃ
[১৩০৯] সুনানুল কুবারা লিন-নাসায়ি, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ১৯৩, হাদিস: ৯৩৮৬।

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 দুনিয়ার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ জান্নাতের গাছ এবং ফল

📄 দুনিয়ার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ জান্নাতের গাছ এবং ফল


আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
'আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার নেককার বান্দাদের জন্য এমন নিয়ামত সৃষ্টি করেছি—যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং মানুষের হৃদয় তার কল্পনা করেনি। তবে আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে সেগুলো অবহিত করেননি। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিলাওয়াত করলেন, 'জানে না তার জন্যে কৃতকর্মের কি কি নয়নপ্রীতিকর প্রতিদান লুকায়িত আছে। তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান স্বরূপ।' [সূরা সিজদা, আয়াত: ১৭] জান্নাতে এমন বৃক্ষ আছে কোনো আরোহী একশ বছর ভ্রমণ করেও যার ছায়াকে শেষ করতে পারবে না। তোমরা চাইলে পড়তে পারো, 'এবং সুদীর্ঘ ছায়ায়।' [সূরা ওয়াকিয়া, আয়াত: ৩০] জান্নাতের এক চাবুক পরিমাণ জায়গা দুনিয়া এবং দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম। তোমরা চাইলে পড়তে পারো, 'তারপর যাকে দেখছ দেখছ রুমে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, তার কারুকার্য মিষ্টতা। আর পার্থিব জীবন ধোঁকা ছাড়া অন্য কোনো সম্পদ নয়।' [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৮৫]
আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সূর্যগ্রহণের নামাজের অধ্যায়ে হাদিস বর্ণনা করেছেন, সাহাবায়ে কিরাম বললেন, 'হে আল্লাহ রাসূল! আমরা আপনাকে আপনার স্থান থেকে কিছু ছুঁতে দেখলাম, তারপর দেখলাম সরে এলেন। এমন কেন করলেন? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—
إِنِّي رَأَيْتُ الْجَنَّةَ فَتَنَاوَلْتُ مِنْهَا عُنْقُودًا وَلَوْ أَخَذْتُهُ لَأَكَلْتُمْ مِنْهُ مَا بَقِيَتِ الدُّنْيَا
আমি জান্নাত দেখতে পেয়ে সেখান থেকে আঙুর নিতে চাইলাম। যদি আমি তা নিতাম, তবে যত দিন দুনিয়া থাকত ততদিন তোমরা তা থেকে খেতে পারতে।’

টিকাঃ
[১৩১০] মুনতাদা জিকরিমিমি, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ২০২, হাদিস: ৫২৩৪。
[১৩১১] গাইরুল মুসলিম, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৪৫৭, হাদিস: ১৪১২。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00