📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 জাহান্নামিদের ক্রন্দন এবং তার চেয়ে কম আজাবের অধিকারী

📄 জাহান্নামিদের ক্রন্দন এবং তার চেয়ে কম আজাবের অধিকারী


নুমান ইবনু বাশির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—'জাহান্নামে সবচেয়ে কম আজাব হবে ওই ব্যক্তির—যার পায়ে আগুনের তৈরি জুতা পরানো হবে, ফলে মাথার মগজ টগবগ করে ফুটবে。
কুরআন কারিমে ইরশাদ হয়েছে—
فَلْيَضْحَكُوْا قَلِيلًا وَلْيَبْكُوْا كَثِيرًا ٥ جَزَاءً بِمَا كَانُوْا يَكْسِبُوْنَ
অতএব, তারা সামান্য হেসে নিক। কারণ, তারা তাদের কুকর্মের বদলায় অনেক বেশি কাঁদবে। [সূরা তাওবা, আয়াত: ৮২]
আবূ জার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
وَاللَّهِ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلًا وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا.
আল্লাহর কসম! আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে, তাহলে কম হাসতে এবং বেশি কাঁদতে。
যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে এবং তার আদেশে বেশি কাঁদবে, পরকালে সে বেশি বেশি হাসবে। আল্লাহ তাআলা জাহান্নামের ব্যাপারে সংবাদ দিয়েছেন—
إِنَّا كُنَّا قَبْلُ فِي أَهْلِنَا مُشْفِقِينَ
আমরা ইতিপূর্বে নিজেদের বাসগৃহে ভীত-কম্পিত ছিলাম। [সূরা তূর, আয়াত: ২৬]
আর জাহান্নামিদের ব্যাপারে সংবাদ দিয়েছেন—
إِذَا انْقَلَبُوا إِلَى أَهْلِهِمْ انْقَلَبُوْا فَكِهِينَ
তারা যখন তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরত, তখনো হাসাহাসি করে ফিরত। [সূরা মুতাফ্ফিফীন, আয়াত: ৩১]
আরও ইরশাদ হয়েছে—
وَكُنْتُمْ مِنْهُمْ تَضْحَكُونَ
তোমরা তাদেরকে (মুমিনদের) দেখে পরিহাস করতে। [সূরা মুমিনুন, আয়াত: ১১০]

টিকাঃ
[১৭৯৩] সহিহুল বুখারি, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৪৪১, হাদিস: ৫৫৩১。
[১৭৯৪] মুসতাদরাক হাকিম, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ২৪৮, হাদিস: ২৪০৪。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 কাফিরদের বিনিময়ে মুসলিমদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি

📄 কাফিরদের বিনিময়ে মুসলিমদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি


আবূ মুসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
إِذَا كَانَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ دَفَعَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلَى كُلِّ مُسْلِمٍ يَهُودِيًّا أَوْ نَصْرَانِيًّا فَيَقُولُ هَذَا فِدَاؤُكَ مِنَ النَّارِ.
কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা প্রতিটি মুসলিমের কাছে একজন করে ইহুদি বা খ্রিস্টানকে দেবেন এবং বলবেন, এ লোকটিই তোমার জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাধ্যম。
অন্য বর্ণনায় আছে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—'যখন কোনো মুসলিম মানুষ মারা যায়, আল্লাহ তাআলা তার স্থানে একজন ইহুদি বা খ্রিস্টানকে জাহান্নামে প্রবেশ করান।’
নোট: হাদিসের মর্ম হলো, আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মানুষের জন্য জান্নাত ও জাহান্নামে একটা স্থান নির্ধারণ করে রেখেছেন। মুমিন ব্যক্তি নেক-আমলের মাধ্যমে জান্নাতে চলে গেলে জাহান্নামে তার স্থানে একজন কাফিরকে নিয়ে আসেন। ইমাম নববি রাহিমাহুল্লাহ এ ব্যাপারে আরও ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

টিকাঃ
[১৭৯৫] সহিহুল মুসলিম, খণ্ড: ২০, পৃষ্ঠা: ৫৪০, হাদিস: ৬৮৬৯。
[১৭৯৬] সহিহুল মুসলিম, খণ্ড: ২০, পৃষ্ঠা: ৫৪১, হাদিস: ৪৪৩৬。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 জাহান্নাম বলবে, আরও আছে কি?

📄 জাহান্নাম বলবে, আরও আছে কি?


কুরআন কারিমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—
يَوْمَ نَقُولُ لِجَهَنَّمَ هَلِ امْتَلَأْتِ وَتَقُولُ هَلْ مِن مَّزِيدٍ
যেদিন আমি জাহান্নামকে বলব, তুই কি পূর্ণ? সে বলবে, আরও আছে কি? [সূরা ক্বাফ, আয়াত: ৩০]
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
لَا تَزَالُ جَهَنَّمُ يُلْقَى فِيهَا وَتَقُولُ هَلْ مِنْ مَّزِيدٍ حَتَّى يَضَعَ رَبُّ الْعِزَّةِ فِيهَا قَدَمَهُ فَيَنْزَوِي بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ وَتَقُولُ قَدْ قَدْ بِعِزَّتِكَ وَكَرَمِكَ وَلَا يَزَالُ فِي الْجَنَّةِ فَضْلٌ حَتَّى يُنْشِئَ اللَّهُ لَهَا خَلْقًا فَيُسْكِنَهُمُ فَضْلَ الْجَنَّةِ
জাহান্নাম (শান্তিপ্রদানস্বরূপকে) নিক্ষেপ করা হতে থাকবে, আর সে বলতেই থাকবে, আরও আছে কি? একপর্যায়ে আল্লাহ তাআলা জাহান্নামে নিজের পা রাখবেন। তখন জাহান্নামের এক অংশ অপর অংশের সাথে মিশে স্থির হতে থাকবে এবং বলবে, আপনার ইজ্জত ও মর্যাদার শপথ, হয়েছে! হয়েছে! আর জান্নাতের কিছু স্থান শূন্য থাকবে, এমনকি আল্লাহ তার জন্য অন্য মাখলুক সৃষ্টি করবেন এবং তাদেরকে জান্নাতের শূন্য অংশে বসবাস করাবেন。
আরেক বর্ণনায় আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে—
أَنَّ النَّارَ فَلَا تَمْتَلِئُ حَتَّى يَضَعَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى رِجْلَهُ فَتَقُولُ قَدْ قَدْ فَهُنَالِكَ تَمْتَلِئُ وَيُزْوَى بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ وَلَا يَظْلِمُ اللَّهُ مِنْ خَلْقِهِ أَحَدًا وَأَمَّا الْجَنَّةُ فَإِنَّ اللَّهَ يُنْشِئُ لَهَا خَلْقًا.
আল্লাহ তাআলার পা রাখার আগপর্যন্ত জাহান্নাম পূর্ণ হবে না। যখন আল্লাহ পা রাখবেন তখন বলবে, ঠিক আছে, ঠিক আছে, ঠিক আছে! তখন পূর্ণ হবে এবং একটির সঙ্গে আরেকটা মিলে যাবে। আল্লাহ তাআলা তার কোনো সৃষ্টির প্রতি জুলুম করবেন না। আর জান্নাতের জন্য আল্লাহ তা’আলা অন্য জাতি সৃষ্টি করবেন।

টিকাঃ
[১৪৩] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ৪১। হাদীস: ২০৬২。
[১৪৭] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ৪১৫, হাদীস: ২০৭৩。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 সর্বশেষ জাহান্নাম থেকে মুক্ত ব্যক্তি

📄 সর্বশেষ জাহান্নাম থেকে মুক্ত ব্যক্তি


আবুবারযাহ ইসলামু মাওদুদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
لَأَعْلَمُ آخِرَ أَهْلِ النَّارِ خُرُوجًا مِنْهَا وَآخِرَ أَهْلِ الْجَنَّةِ دُخُولًا رَجُلٌ يَخْرُجُ مِنَ النَّارِ حَبْوًا فَيَقُولُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى لَهُ اذْهَبْ فَادْخُلِ الْجَنَّةَ فَيَأْتِيهَا فَيُخَيَّلُ إِلَيْهِ أَنَّهَا مَلْأَى فَيَرْجِعُ فَيَقُولُ يَا رَبِّ وَجَدْتُهَا مَلْأَى فَيَقُولُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى لَهُ اذْهَبْ فَادْخُلِ الْجَنَّةَ قَالَ فَيَأْتِيهَا فَيُخَيَّلُ إِلَيْهِ أَنَّهَا مَلْأَى فَيَرْجِعُ فَيَقُولُ يَا رَبِّ وَجَدْتُهَا مَلْأَى فَيَقُولُ اللَّهُ لَهُ اذْهَبْ فَادْخُلِ الْجَنَّةَ فَإِنَّ لَكَ مِثْلَ الدُّنْيَا وَعَشَرَةَ أَمْثَالِهَا أَوْ إِنَّ لَكَ عَشَرَةَ أَمْثَالِ الدُّنْيَا قَالَ فَيَقُولُ أَتَسْخَرُ بِي أَوْ أَتَضْحَكُ بِي وَأَنْتَ الْمَلِكُ قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَحِكَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ قَالَ فَكَانَ يُقَالُ ذَاكَ أَدْنَى أَهْلِ الْجَنَّةِ مَنْزِلَةً.
সর্বশেষ জাহান্নাম থেকে মুক্ত এবং জান্নাতে প্রবিষ্ট ব্যক্তি সম্পর্কে আমি খুব ভালোভাবে জানি। একজন মানুষ জাহান্নাম থেকে উড়ন্ত হয়ে বের হবে। তখন আল্লাহ বলবেন, জান্নাতে যাও! জান্নাতে প্রবেশ করে সে ভাববে, হয়তো তার সঙ্গে উপহাস করা হচ্ছে। এ কারণে সে ফিরে আল্লাহর কাছে এসে বলবে, ইয়া রব, আমার সঙ্গে উপহাস করা হচ্ছে! আল্লাহ বলবেন, যাও জান্নাতে প্রবেশ করো। সে জান্নাতে প্রবেশ করে আবার মনে করবে, তার সঙ্গে উপহাস করা হচ্ছে! সুতরাং সে আল্লাহর কাছে ফিরে এসে বলবে, ইয়া রব, আমার সঙ্গে উপহাস করা হচ্ছে! আল্লাহ বলবেন, যাও জান্নাতে প্রবেশ করো। কেননা, তোমার জন্য বরাদ্দ দুনিয়াসম এবং দুনিয়ার দশগুণ জান্নাত, অথবা তোমার জন্য বরাদ্দ দুনিয়ার দশগুণ জান্নাত। তখন সে আল্লাহকে বলবে, আপনি কি মালিক হয়েও আমার সঙ্গে ঠাট্টা করছেন?
বর্ণনাকারী বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমনভাবে হাসতে দেখেছি যে, তার মাড়ির দাঁত বের হয়ে গেছে! বর্ণনাকারী বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এটাই হবে সর্বনিম্ন জান্নাতীর মর্যাদা。
হজরত আবদুলাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—সর্বশেষে যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে (তার অবস্থা হবে এমন), একবার হাঁটবে, একবার পড়বে, আরেকবার আগুন তাকে ঝলসিয়ে দেবে। যখন সে জাহান্নাম পার হয়ে যাবে, তখন সেদিকে তাকিয়ে বলবে, সেই সত্তা কত বরকতময়—যিনি আমাকে তার থেকে মুক্ত করেছেন। তিনি আমাকে এমন কিছু দিয়েছেন, যা পূর্বাপর আর কাউকেই দেননি। তখন তার সামনে একটি বৃক্ষ উদ্গত হবে। (গাইছি দেখবে) সে বলবে, হে আমার রব, আমাকে এই গাছটির নিকটবর্তী করুন, যেন আমি তার ছায়া গ্রহণ করতে পারি এবং এর রস পান করতে পারি।
আল্লাহ তাআলা বলবেন, হে আদমসন্তান! যদি গাছটি আমি তোমাকে দিয়ে দিই, তাহলে আমার কাছে অন্যকিছু চাইবে? সে বলবে, হে আমার রব, আর কিছু চাইব না। সুতরাং সে আল্লাহর কাছে আর কিছু না চাওয়ার প্রতিজ্ঞা করবে। আল্লাহ তাআলা তাকে মাজুর সাব্যস্ত করবেন। কারণ, সে এমন কিছু দেখেছে—যার ওপর ধৈর্য ধারণ করা সম্ভব নয়। সুতরাং তাকে গাছটির নিকটবর্তী করে দেবেন। অতঃপর সে গাছের ছায়া গ্রহণ করবে এবং তার রস পান করবে। তারপর তার সামনে আরেকটি বৃক্ষ উদ্গত হবে। (গাইছি দেখবে) সে বলবে, হে আমার রব, আমাকে এই গাছটির নিকটবর্তী করুন, যেন আমি তার ছায়া গ্রহণ করতে পারি এবং তার রস পান করতে পারি। আল্লাহ তাআলা বলবেন, হে আদমসন্তান! যদি গাছটি আমি তোমাকে দিয়ে দিই, তাহলে আমার কাছে অন্যকিছু চাইবে? সে বলবে, হে আমার রব, আর কিছু চাইব না।
সুতরাং সে আল্লাহর কাছে আর কিছু না চাওয়ার প্রতিজ্ঞা করবে। এরপর সে নিজেকে মাজুর মনে করবে। কারণ, সে এমন কিছু দেখেছে-যার ওপর ধৈর্যধারণ করা সম্ভব নয়। সুতরাং তাকে গাছটির নিকটবর্তী করে দেবেন। ইঁতাং তখন জান্নাতের দরজার কাছে পূর্বের দুটির চেয়ে আরও বেশি সুন্দর বৃক্ষ উদ্গত হবে। গাইছি দেখে সে পূর্বেই মতোই বলবে। সুতরাং তাকে গাছটির নিকটবর্তী করা হবে। গাছের নিকট গিয়েই সে জান্নাতীদের আওয়াজ শুনতে পাবে। তখন বলবে, হে আমার রব, আমাকে জান্নাতের ভেতর প্রবেশ করিয়ে দিন। আল্লাহ বলবেন, হে আদমসন্তান! কোন্ বস্তু তোমাকে আমার পিছু ছড়াবে? আমি কি তোমাকে দুনিয়া এবং তার সমান আরেকটি পৃথিবী দিয়ে খুশি হবে? সে বলবে, হে আমার রব, আপনি সমগ্র জগতের প্রতিপালক হয়ে আমার সঙ্গে ঠাট্টা করবেন? ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হাসলেন। তারপর বললেন, তোমরা কি জিজ্ঞেস করবে না, আপনি কেন হাসলেন? তারা বললেন, আপনি কেন হাসলেন? ইবনু মাসউদ বললেন, এভাবেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসেছিলেন। সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কেন হেসেছিলেন? জবাবে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তাআলার হাসার কারণে। তখন আল্লাহ বলবেন, আমি তোমার সঙ্গে ঠাট্টা করছি না, বরং আমি যা চাই তাই করতে পারি。
উলামায়ে কিরাম এ ব্যাপারে একমত যে, (কাফির) জাহান্নামীরা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে, কখনো সেখান থেকে বের হতে পারবে না। যেমন ইবলিস, ফিরাউন, হামান, কারণ এবং প্রত্যেক অহংকারী কাফিরা কারণ, তারা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে, তারা সেখানে মরবেও না বাঁচবেও না। আল্লাহ তাআলা তাদের সঙ্গে যাতনাদায়ক শাস্তির প্রতিজ্ঞা করেছেন। ইরশাদ হয়েছে—
كُلَّمَا نَضِجَتْ جُلُودُهُمْ بَدَّلْنَاهُمْ جُلُودًا غَيْرَهَا لِيَذُوقُوا الْعَذَابَ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَزِيزًا حَكِيمًا.
তাদের চামড়াগুলো যখন জ্বলে-পুড়ে যাবে, তখন আবার আমি তা পাল্টে দেবো অন্য চামড়া দিয়ে, যাতে তারা আজাব আস্বাদন করতে থাকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, হিকমতের অধিকারী। [সূরা নিসা, আয়াত: ৫৬]
নোট: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত একথার ওপর একমত যে, কোনো মুমিন ব্যক্তি জাহান্নামে চিরকাল থাকবে না। কেবল আল্লাহর দ্বীনকে অস্বীকারকারী কাফিরাই চিরকাল জাহান্নামে থাকবে।

টিকাঃ
[১৪৯] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ৪১৫, হাদীস: ২৭১২。
[১৫০] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১৬, পৃষ্ঠা: ৪০৪, হাদীস: ২৭১৪。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00