📄 জাহান্নামিদের পানাহার ও পোশাক
আল্লাহ তাআলা বলেছেন—
فَالَّذِينَ كَفَرُوا قُطِّعَتْ لَهُمْ ثِيَابٌ مِنْ نَارٍ
অতএব, যারা কুফরি করেছে তাদের জন্য আগুনের পোশাক তৈরি করা হয়েছে। [সূরা হজ, আয়াত: ১৯]
আরও ইরশাদ হয়েছে—
سَرَابِيلُهُم مِّن قَطِرَانٍ
তাদের জামা হবে দাহ্য আলকাতরার। [সূরা ইবরাহিম, আয়াত: ৫০]
ইরশাদ হয়েছে—
إِنَّ شَجَرَتَ الزَّقُّومِ ٥ طَعَامُ الْأَثِيمِ
নিশ্চয় জক্কুম বৃক্ষ। তা পাপীর খাদ্য হবে। [সূরা দুখান, আয়াত: ৪৩-৪৪]
আরও ইরশাদ হয়েছে—
لَا يَذُوقُونَ فِيهَا بَرْدًا وَلَا شَرَابًا إِلَّا حَمِيمًا وَغَسَّاقًا جَزَاءً وِفَاقًا.
তথায় তারা কোনো শীতল বস্তু এবং পানীয় আস্বাদন করবে না; কিন্তু ফুটন্ত পানি ও পূঁজ পাবে, পরিপূর্ণ প্রতিফল হিসেবে। [সূরা নাবা, আয়াত: ২৪-২৬]
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে—
وَمَنْ يَسْتَغِيثُوا يُغَاثُوا بِمَاءٍ كَالْمُهْلِ يَشْوِي الْوُجُوهَ ٥ بِئْسَ الشَّرَابُ ٥ وَ سَاءَتْ مُرْتَفَقًا.
যদি তারা পানীয় প্রার্থনা করে, তবে পূঁজের ন্যায় পানীয় দেওয়া হবে, যা তাদের মুখমণ্ডল দগ্ধ করবে। কত নিকৃষ্ট পানীয় এবং খুবই মন্দ আশ্রয়! [সূরা কাহফ, আয়াত: ২৯]
আরও ইরশাদ হয়েছে—
تُسْقَى مِنْ عَيْنٍ آنِيَةٍ ٥ لَيْسَ لَهُمْ طَعَامٌ إِلَّا مِنْ ضَرِيعٍ
তাদের ফুটন্ত নহর থেকে পান করানো হবে; কষ্টকরপূর্ণ খাদ্য ব্যতীত তাদের জন্য কোনো খাদ্য নেই। [সূরা গাশিয়াহ, আয়াত: ৫-৬]
আরও ইরশাদ হয়েছে—
لَيْسَ لَّهُمْ طَعَامٌ إِلَّا مِنْ غِسْلِينَ.
অতএব, আজকের দিনে এখানে তার কোনো সুহৃদ নেই এবং কোনো খাদ্য নেই ক্ষত-নিঃসৃত পূঁজ ব্যতীত। [সূরা হাক্কাহ, আয়াত: ৩৫-৩৬]
আমি বলবো—غِسْلِين এবং غَسَّاق দুটি শব্দের অর্থই পূঁজ। ইবনুল মুবারক রাহিমাহুল্লাহ উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন আমাকে সুফিয়ান মানসুর থেকে, তিনি ইবরাহিম ও আবূ রাজিহ থেকে নিচের আয়াতটির ব্যাপারে বলেছেন—
هَذَا فَلْيَذُوقُوهُ حَمِيمٌ وَغَسَّاقٌ.
এটা পানি ও পূঁজ; অতএব তারা একে আস্বাদন করুক। [সূরা সোয়াদ, আয়াত: ৫৭]
যা জাহান্নামিদের ক্ষত থেকে প্রবাহিত হয়। তবে কেউ কেউ বলেন, غَسَّاق—ঘন দুর্গন্ধযুক্ত পূঁজ।
📄 জাহান্নামিদের ক্রন্দন এবং তার চেয়ে কম আজাবের অধিকারী
নুমান ইবনু বাশির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—'জাহান্নামে সবচেয়ে কম আজাব হবে ওই ব্যক্তির—যার পায়ে আগুনের তৈরি জুতা পরানো হবে, ফলে মাথার মগজ টগবগ করে ফুটবে。
কুরআন কারিমে ইরশাদ হয়েছে—
فَلْيَضْحَكُوْا قَلِيلًا وَلْيَبْكُوْا كَثِيرًا ٥ جَزَاءً بِمَا كَانُوْا يَكْسِبُوْنَ
অতএব, তারা সামান্য হেসে নিক। কারণ, তারা তাদের কুকর্মের বদলায় অনেক বেশি কাঁদবে। [সূরা তাওবা, আয়াত: ৮২]
আবূ জার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
وَاللَّهِ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلًا وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا.
আল্লাহর কসম! আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে, তাহলে কম হাসতে এবং বেশি কাঁদতে。
যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে এবং তার আদেশে বেশি কাঁদবে, পরকালে সে বেশি বেশি হাসবে। আল্লাহ তাআলা জাহান্নামের ব্যাপারে সংবাদ দিয়েছেন—
إِنَّا كُنَّا قَبْلُ فِي أَهْلِنَا مُشْفِقِينَ
আমরা ইতিপূর্বে নিজেদের বাসগৃহে ভীত-কম্পিত ছিলাম। [সূরা তূর, আয়াত: ২৬]
আর জাহান্নামিদের ব্যাপারে সংবাদ দিয়েছেন—
إِذَا انْقَلَبُوا إِلَى أَهْلِهِمْ انْقَلَبُوْا فَكِهِينَ
তারা যখন তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরত, তখনো হাসাহাসি করে ফিরত। [সূরা মুতাফ্ফিফীন, আয়াত: ৩১]
আরও ইরশাদ হয়েছে—
وَكُنْتُمْ مِنْهُمْ تَضْحَكُونَ
তোমরা তাদেরকে (মুমিনদের) দেখে পরিহাস করতে। [সূরা মুমিনুন, আয়াত: ১১০]
টিকাঃ
[১৭৯৩] সহিহুল বুখারি, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৪৪১, হাদিস: ৫৫৩১。
[১৭৯৪] মুসতাদরাক হাকিম, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ২৪৮, হাদিস: ২৪০৪。
📄 কাফিরদের বিনিময়ে মুসলিমদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি
আবূ মুসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
إِذَا كَانَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ دَفَعَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلَى كُلِّ مُسْلِمٍ يَهُودِيًّا أَوْ نَصْرَانِيًّا فَيَقُولُ هَذَا فِدَاؤُكَ مِنَ النَّارِ.
কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা প্রতিটি মুসলিমের কাছে একজন করে ইহুদি বা খ্রিস্টানকে দেবেন এবং বলবেন, এ লোকটিই তোমার জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাধ্যম。
অন্য বর্ণনায় আছে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—'যখন কোনো মুসলিম মানুষ মারা যায়, আল্লাহ তাআলা তার স্থানে একজন ইহুদি বা খ্রিস্টানকে জাহান্নামে প্রবেশ করান।’
নোট: হাদিসের মর্ম হলো, আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মানুষের জন্য জান্নাত ও জাহান্নামে একটা স্থান নির্ধারণ করে রেখেছেন। মুমিন ব্যক্তি নেক-আমলের মাধ্যমে জান্নাতে চলে গেলে জাহান্নামে তার স্থানে একজন কাফিরকে নিয়ে আসেন। ইমাম নববি রাহিমাহুল্লাহ এ ব্যাপারে আরও ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
টিকাঃ
[১৭৯৫] সহিহুল মুসলিম, খণ্ড: ২০, পৃষ্ঠা: ৫৪০, হাদিস: ৬৮৬৯。
[১৭৯৬] সহিহুল মুসলিম, খণ্ড: ২০, পৃষ্ঠা: ৫৪১, হাদিস: ৪৪৩৬。
📄 জাহান্নাম বলবে, আরও আছে কি?
কুরআন কারিমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—
يَوْمَ نَقُولُ لِجَهَنَّمَ هَلِ امْتَلَأْتِ وَتَقُولُ هَلْ مِن مَّزِيدٍ
যেদিন আমি জাহান্নামকে বলব, তুই কি পূর্ণ? সে বলবে, আরও আছে কি? [সূরা ক্বাফ, আয়াত: ৩০]
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
لَا تَزَالُ جَهَنَّمُ يُلْقَى فِيهَا وَتَقُولُ هَلْ مِنْ مَّزِيدٍ حَتَّى يَضَعَ رَبُّ الْعِزَّةِ فِيهَا قَدَمَهُ فَيَنْزَوِي بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ وَتَقُولُ قَدْ قَدْ بِعِزَّتِكَ وَكَرَمِكَ وَلَا يَزَالُ فِي الْجَنَّةِ فَضْلٌ حَتَّى يُنْشِئَ اللَّهُ لَهَا خَلْقًا فَيُسْكِنَهُمُ فَضْلَ الْجَنَّةِ
জাহান্নাম (শান্তিপ্রদানস্বরূপকে) নিক্ষেপ করা হতে থাকবে, আর সে বলতেই থাকবে, আরও আছে কি? একপর্যায়ে আল্লাহ তাআলা জাহান্নামে নিজের পা রাখবেন। তখন জাহান্নামের এক অংশ অপর অংশের সাথে মিশে স্থির হতে থাকবে এবং বলবে, আপনার ইজ্জত ও মর্যাদার শপথ, হয়েছে! হয়েছে! আর জান্নাতের কিছু স্থান শূন্য থাকবে, এমনকি আল্লাহ তার জন্য অন্য মাখলুক সৃষ্টি করবেন এবং তাদেরকে জান্নাতের শূন্য অংশে বসবাস করাবেন。
আরেক বর্ণনায় আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে—
أَنَّ النَّارَ فَلَا تَمْتَلِئُ حَتَّى يَضَعَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى رِجْلَهُ فَتَقُولُ قَدْ قَدْ فَهُنَالِكَ تَمْتَلِئُ وَيُزْوَى بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ وَلَا يَظْلِمُ اللَّهُ مِنْ خَلْقِهِ أَحَدًا وَأَمَّا الْجَنَّةُ فَإِنَّ اللَّهَ يُنْشِئُ لَهَا خَلْقًا.
আল্লাহ তাআলার পা রাখার আগপর্যন্ত জাহান্নাম পূর্ণ হবে না। যখন আল্লাহ পা রাখবেন তখন বলবে, ঠিক আছে, ঠিক আছে, ঠিক আছে! তখন পূর্ণ হবে এবং একটির সঙ্গে আরেকটা মিলে যাবে। আল্লাহ তাআলা তার কোনো সৃষ্টির প্রতি জুলুম করবেন না। আর জান্নাতের জন্য আল্লাহ তা’আলা অন্য জাতি সৃষ্টি করবেন।
টিকাঃ
[১৪৩] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ৪১। হাদীস: ২০৬২。
[১৪৭] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ৪১৫, হাদীস: ২০৭৩。