📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 জালিমের আজাব দুনিয়াতেও হয়ে থাকে

📄 জালিমের আজাব দুনিয়াতেও হয়ে থাকে


হিশাম ইবনু হাকিম ইবনু হিজাম বর্ণনা করেছেন, তিনি সিরিয়ার আনবাতও তাপকে কিছু মানুষের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছেন, যাদেরকে রৌদ্রে দগ্ধ করিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কী সমস্যা তোমাদের? তারা বলল, কর বা না দেওয়ার কারণে তাদেরকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। তখন হিশাম বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—
إِنَّ اللَّهَ يُعَذِّبُ الَّذِينَ يُعَذِّبُونَ فِي الدُّنْيَا
যারা দুনিয়াতে মানুষকে কষ্ট দেবে, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে দুনিয়াতেই আজাব দেবেন。

টিকাঃ
[১৪৭] সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ৩৫, হাদিস: ৪৯০৩।

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 আমলহীন বক্তা এবং দাঈ

📄 আমলহীন বক্তা এবং দাঈ


উসামা ইবনু জায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—
يَا يُرْجَى يُخْلَى فِي النَّارِ فَيُطْرَحُ فِي النَّارِ فَيَقُولُنَ كَخَلْقِ الْحِمَارِ يَرْحَاةٌ فَيُقْبَلُ بِهِ أَهْلَ النَّارِ فَيَقُولُونَ أَيُّ فُلانَ أَنْتَ كُنْتَ تَأْمُرُ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ فَيَقُولُ إِنِّي كُنْتُ آمُرُ بِالْمَعْرُوفِ وَلَا أَفْعَلُهُ وَأَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ وَأَفْعَلُهُ.
একজন মানুষকে নিয়ে এসে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তারপর তাকে এমনভাবে পিষ্ট করা হবে, ঠিক যেভাবে গাধা দিয়ে মাড়াই করা হয়। তখন জাহান্নামিরা তার প্রতি দুয়ারোপশ্ন করে বলবে, হে অমুক, তুমি কি সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করতে না? সে বলবে, হ্যাঁ, আমি সৎকাজের আদেশ দিয়ে তা নিজে করতাম না এবং অসৎকাজ থেকে বারণ করে নিজেই তা থেকে বিরত থাকতাম না。
উসামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—
'একজন মানুষকে কিয়ামতের দিন এনে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। ফলে তার পেটের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে আসবে। সে এ-অবস্থায় চক্কির মতো ঘুরতে থাকবে। তখন জাহান্নামিরা তার কাছে সমবেত হয়ে বলবে, হে অমুক, তোমার কী হয়েছে? তুমি কি সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করতে না? সে বলবে, হ্যাঁ, আমি সৎকাজের আদেশ দিতাম ঠিকই, কিন্তু নিজে পালন করতাম না, অসৎকাজ থেকে বারণ করতাম ঠিকই, কিন্তু নিজে বিরত থাকতাম না。
ইবরাহিম নাখায়ি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, আমি তিনটি আয়াত বর্ণনা করতে খুব ভয় পাই। যার মাঝে দুটি হলো—
প্রথম আয়াত:
أَتَأْمُرُوْنَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنْسَوْنَ أَنْفُسَكُمْ.
তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দাও এবং নিজেদেরকে ভুলে যাও? [সূরা বাকারা, আয়াত: ৪৪]
দ্বিতীয় আয়াত:
تَقُوْلُوْنَ مَا لَا تَفْعَلُوْنَ مَا لَا تَفْعَلُونَ، كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ.
তোমরা যা করো না তা কেন বলো? তোমরা যা করো না তা বলা আল্লাহর কাছে খুবই অসন্তোষজনক। [সূরা সফ, আয়াত: ২-৩]
আমি (ইমাম কুরতুবি) বলব, কুরআন কারিমের এই আয়াতগুলো আমাদের আলোচিত হাদিসগুলোর অর্থের সঙ্গে পূর্ণ সঙ্গতিশীল। সেটি হলো—যে ব্যক্তি সৎকর্ম, সৎধর্ম এবং যাবতীয় করণীয় বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করে, কিন্তু করবে বা করবে সেগুলোকে বাস্তবায়ন করে না, এমন ব্যক্তির শাস্তি অন্য ব্যক্তির চেয়ে বেশি হবে। কারণ, বিজ্ঞ ব্যক্তি আল্লাহর বিধানগুলোকে তুচ্ছ ও হালকা মনে করেছে, সে তার জ্ঞান দ্বারা উপকৃত হয়নি। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
إِنَّ أَبْغَضَ النَّاسِ عِنْدَ اللَّهِ الْمُتَكَلِّمُ وَاللَّهُ يَعْلَمُهُ.
কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে ওই আলিমের—আল্লাহ যাকে তার ইলম দ্বারা উপকৃত করেননি。
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—'আমি আমার ইবনু আমেরি ইবনু লুহাই আল-খুজাঈকে জাহান্নামে তার নাড়িভুঁড়ি টানা-হেঁচড়া অবস্থায় দেখেছি। এই লোকটিই প্রথম উষ্টনীকে (গাইরুল্লাহর নামে) উৎসর্গ করেছিল।’

টিকাঃ
[১৭৮৯] সহিহুল বুখারি, খণ্ড: ২১, পৃষ্ঠা: ৪৪৬, হাদিস: ৬৯৬৯。
[১৭৯০] সহিহুল মুসলিম, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ২৯৯, হাদিস: ২৯৩৫。
[১৭৯১] জামেউল তিরমিজি, খণ্ড: ২১, পৃষ্ঠা: ৪৪৯, হাদিস: ২৯৭১。
[১৭৯২] সহিহুল বুখারি, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৪১৪, হাদিস: ৩০০২; সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৪৪৫, হাদিস: ২৯৩১।

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 জাহান্নামিদের পানাহার ও পোশাক

📄 জাহান্নামিদের পানাহার ও পোশাক


আল্লাহ তাআলা বলেছেন—
فَالَّذِينَ كَفَرُوا قُطِّعَتْ لَهُمْ ثِيَابٌ مِنْ نَارٍ
অতএব, যারা কুফরি করেছে তাদের জন্য আগুনের পোশাক তৈরি করা হয়েছে। [সূরা হজ, আয়াত: ১৯]
আরও ইরশাদ হয়েছে—
سَرَابِيلُهُم مِّن قَطِرَانٍ
তাদের জামা হবে দাহ্য আলকাতরার। [সূরা ইবরাহিম, আয়াত: ৫০]
ইরশাদ হয়েছে—
إِنَّ شَجَرَتَ الزَّقُّومِ ٥ طَعَامُ الْأَثِيمِ
নিশ্চয় জক্কুম বৃক্ষ। তা পাপীর খাদ্য হবে। [সূরা দুখান, আয়াত: ৪৩-৪৪]
আরও ইরশাদ হয়েছে—
لَا يَذُوقُونَ فِيهَا بَرْدًا وَلَا شَرَابًا إِلَّا حَمِيمًا وَغَسَّاقًا جَزَاءً وِفَاقًا.
তথায় তারা কোনো শীতল বস্তু এবং পানীয় আস্বাদন করবে না; কিন্তু ফুটন্ত পানি ও পূঁজ পাবে, পরিপূর্ণ প্রতিফল হিসেবে। [সূরা নাবা, আয়াত: ২৪-২৬]
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে—
وَمَنْ يَسْتَغِيثُوا يُغَاثُوا بِمَاءٍ كَالْمُهْلِ يَشْوِي الْوُجُوهَ ٥ بِئْسَ الشَّرَابُ ٥ وَ سَاءَتْ مُرْتَفَقًا.
যদি তারা পানীয় প্রার্থনা করে, তবে পূঁজের ন্যায় পানীয় দেওয়া হবে, যা তাদের মুখমণ্ডল দগ্ধ করবে। কত নিকৃষ্ট পানীয় এবং খুবই মন্দ আশ্রয়! [সূরা কাহফ, আয়াত: ২৯]
আরও ইরশাদ হয়েছে—
تُسْقَى مِنْ عَيْنٍ آنِيَةٍ ٥ لَيْسَ لَهُمْ طَعَامٌ إِلَّا مِنْ ضَرِيعٍ
তাদের ফুটন্ত নহর থেকে পান করানো হবে; কষ্টকরপূর্ণ খাদ্য ব্যতীত তাদের জন্য কোনো খাদ্য নেই। [সূরা গাশিয়াহ, আয়াত: ৫-৬]
আরও ইরশাদ হয়েছে—
لَيْسَ لَّهُمْ طَعَامٌ إِلَّا مِنْ غِسْلِينَ.
অতএব, আজকের দিনে এখানে তার কোনো সুহৃদ নেই এবং কোনো খাদ্য নেই ক্ষত-নিঃসৃত পূঁজ ব্যতীত। [সূরা হাক্কাহ, আয়াত: ৩৫-৩৬]
আমি বলবো—غِسْلِين এবং غَسَّاق দুটি শব্দের অর্থই পূঁজ। ইবনুল মুবারক রাহিমাহুল্লাহ উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন আমাকে সুফিয়ান মানসুর থেকে, তিনি ইবরাহিম ও আবূ রাজিহ থেকে নিচের আয়াতটির ব্যাপারে বলেছেন—
هَذَا فَلْيَذُوقُوهُ حَمِيمٌ وَغَسَّاقٌ.
এটা পানি ও পূঁজ; অতএব তারা একে আস্বাদন করুক। [সূরা সোয়াদ, আয়াত: ৫৭]
যা জাহান্নামিদের ক্ষত থেকে প্রবাহিত হয়। তবে কেউ কেউ বলেন, غَسَّاق—ঘন দুর্গন্ধযুক্ত পূঁজ।

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 জাহান্নামিদের ক্রন্দন এবং তার চেয়ে কম আজাবের অধিকারী

📄 জাহান্নামিদের ক্রন্দন এবং তার চেয়ে কম আজাবের অধিকারী


নুমান ইবনু বাশির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—'জাহান্নামে সবচেয়ে কম আজাব হবে ওই ব্যক্তির—যার পায়ে আগুনের তৈরি জুতা পরানো হবে, ফলে মাথার মগজ টগবগ করে ফুটবে。
কুরআন কারিমে ইরশাদ হয়েছে—
فَلْيَضْحَكُوْا قَلِيلًا وَلْيَبْكُوْا كَثِيرًا ٥ جَزَاءً بِمَا كَانُوْا يَكْسِبُوْنَ
অতএব, তারা সামান্য হেসে নিক। কারণ, তারা তাদের কুকর্মের বদলায় অনেক বেশি কাঁদবে। [সূরা তাওবা, আয়াত: ৮২]
আবূ জার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
وَاللَّهِ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلًا وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا.
আল্লাহর কসম! আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে, তাহলে কম হাসতে এবং বেশি কাঁদতে。
যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে এবং তার আদেশে বেশি কাঁদবে, পরকালে সে বেশি বেশি হাসবে। আল্লাহ তাআলা জাহান্নামের ব্যাপারে সংবাদ দিয়েছেন—
إِنَّا كُنَّا قَبْلُ فِي أَهْلِنَا مُشْفِقِينَ
আমরা ইতিপূর্বে নিজেদের বাসগৃহে ভীত-কম্পিত ছিলাম। [সূরা তূর, আয়াত: ২৬]
আর জাহান্নামিদের ব্যাপারে সংবাদ দিয়েছেন—
إِذَا انْقَلَبُوا إِلَى أَهْلِهِمْ انْقَلَبُوْا فَكِهِينَ
তারা যখন তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরত, তখনো হাসাহাসি করে ফিরত। [সূরা মুতাফ্ফিফীন, আয়াত: ৩১]
আরও ইরশাদ হয়েছে—
وَكُنْتُمْ مِنْهُمْ تَضْحَكُونَ
তোমরা তাদেরকে (মুমিনদের) দেখে পরিহাস করতে। [সূরা মুমিনুন, আয়াত: ১১০]

টিকাঃ
[১৭৯৩] সহিহুল বুখারি, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৪৪১, হাদিস: ৫৫৩১。
[১৭৯৪] মুসতাদরাক হাকিম, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ২৪৮, হাদিস: ২৪০৪。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00