📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 জাহান্নামের উত্তাপ এবং আজাবের তীব্রতা

📄 জাহান্নামের উত্তাপ এবং আজাবের তীব্রতা


আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
نَارُ بَنِي آدَمَ الَّتِي يُوقِدُونَ جُزْءٌ مِّن سَبْعِينَ جُزْءًا مِّن نَّارِ جَهَنَّمَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ كَانَتْ لَكَفَيْتُهَا قَالَ إِنَّهَا فُضِّلَتْ عَلَيْهَا بِتِسْعَةٍ وَسِتِّينَ جُزْءًا ؕ
দুনিয়ার যে আগুন প্রজ্জ্বলিত করে তা জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের এক ভাগ। সাহাবায়ে কিরাম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এটিই তো যথেষ্ট! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তাকে উনসত্তর গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।’
হযরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন, ‘তোমাদের এই আগুন জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের এক ভাগ। যদি জাহান্নামের আগুন দ্বারা সাগরে একবার আঘাত করা হয়, তাহলে সেখান থেকে কোনোভাবে উপকৃত হতে পারবে না।’
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
يُؤْتَى بِأَنعَمِ أَهْلِ الدُّنْيَا مِنْ أَهْلِ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُصْبَغُ فِي النَّارِ صَبْغَةً ثُمَّ يُقَالُ يَا ابْنَ آدَمَ هَلْ رَأَيْتَ خَيْراً قَطُّ هَلْ مَرَّ بِكَ نَعِيمٌ قَطُّ فَيَقُولُ لاَ وَاللَّهِ يَا رَبِّ وَيُؤْتَى بِأَشَدِ النَّاسِ بُؤْسًا فِي الدُّنْيَا مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَيُصْبَغُ صَبْغَةً فِي الْجَنَّةِ فَيُقَالُ لَهُ يَا ابْنَ آدَمَ هَلْ رَأَيْتَ بُؤْساً قَطُّ هَلْ مَرَّ بِكَ شِدَّةٌ قَطُّ فَيَقُولُ لاَ وَاللَّهِ يَا رَبِّ مَا مَرَّ بِي بُؤْسٌ قَطُّ وَلاَ رَأَيْتُ شِدَّةً قَطُّ
কিয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্যে থেকে দুনিয়ার নিয়ামতভোগী ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে। অতঃপর জাহান্নামের আগুনে একবার তাপ দেওয়া হবে, তারপর জিজ্ঞেস করা হবে, হে আদমসন্তান, দুনিয়ায় কি কোনো কল্যাণ তুমি দেখেছিলে? তুমি কি কখনো কোনো নিয়ামত ভোগ করেছ? জবাবে সে বলবে, হে আমার রব, আল্লাহর কসম, না। এভাবে জান্নাতের মধ্য থেকে এমন একজন ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে, যে দুনিয়াতে কঠিন দুঃখে বসবাস করেছে। অতঃপর জান্নাতের একটু ছোঁয়া তাকে দেওয়া হবে। তারপর জিজ্ঞেস করা হবে, হে আদমসন্তান, তুমি কি দুনিয়াতে কোনো দুঃখ ভোগ করেছ? পৃথিবীতে তোমার কি কোনো কষ্ট হয়েছে? সে বলবে, আল্লাহর কসম! হে আমার রব, না, আমার কোনো কষ্ট হয়নি, আমি কোনো দুঃখ দেখিনি কখনো!

টিকাঃ
[১৪০] মুয়াত্তা ইমাম মালেক, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ১৪৯, হাদিস: ১৫৭১.
[১৪১] সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ৪১১, হাদিস: ৫০৯১।

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 জাহান্নামের বিবিধ অবস্থা

📄 জাহান্নামের বিবিধ অবস্থা


আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
اشْتَكَتِ النَّارُ إِلَى رَبِّهَا فَقَالَتْ أَكَلَ بَعْضِي بَعْضًا فَجَعَلَ لَهَا نَفَسَيْنِ نَفَسًا فِي الشَّتَاءِ وَنَفَسًا فِي الصَّيْفِ فَأَمَّا نَفْسُهَا فِي الشَّتَاءِ فَزَمْهَرِيرٌ وَأَمَّا نَفْسُهَا فِي الصَّيْفِ فَسَمُومٌ
জাহান্নাম তার রবের কাছে অভিযোগ করল, আমার এক অংশ অন্য অংশকে খেয়ে ফেলছে। সুতরাং আল্লাহ তার জন্য দুটি নিশ্বাস তৈরি করলেন, একটি নিশ্বাস শীতকালীন এবং একটি নিশ্বাস গ্রীষ্মকালীন। তো শীতকালের নিশ্বাসটি হয় কঠিন শীতল এবং গ্রীষ্মকালের নিশ্বাসটি হয় প্রচণ্ড গরম。
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গেই ছিলাম, হঠাৎ তিনি বিকট একটি শব্দ শুনতে পেলেন। আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি জানো এটা কী? আমরা বললাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই ভালো জানেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা একটা পাথর, যেটিকে সত্তর বছর পূর্বে জাহান্নামের মধ্যে নিক্ষেপ করা হয়েছে। সেই পাথরটি এই মুহূর্তে জাহান্নামের তলায় পৌঁছেছে, তার গর্তের শেষ সীমানায় গিয়ে পড়েছে।’
ব্যাখ্যা: হাদিসে উল্লিখিত জাহান্নাম তার রবের কাছে অভিযোগ করল— ‘আমার এক অংশ অন্য অংশকে খেয়ে ফেলেছে’—কথাটি প্রকৃত অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে, রূপক অর্থে নয়। কারণ, এটা অসম্ভব নয়।

টিকাঃ
[১৪২] সহিহুল বুখারি, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ৩৯, হাদিস: ৩০২০; সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৩০৬, হাদিস: ৯৭৭; মুসনাদু আবি ইয়া'লা, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ১৯৫, হাদিস: ২৮৬৭।
[১৪৩] সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ৪৪১, হাদিস: ৫০৭৯।

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 জাহান্নামিদের হাতুড়ি, শিকল, বেড়ি এবং লাগাম

📄 জাহান্নামিদের হাতুড়ি, শিকল, বেড়ি এবং লাগাম


আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—
وَ لَهُمْ مَقَامِعُ مِنْ حَدِيدٍ
তাদের জন্য আছে লোহার হাতকড়ি। [সুরা হজ, আয়াত: ২১]
আরও ইরশাদ হয়েছে—
إِنَّ الْأَغْلَلَ فِي أَعْنَاقِهِمْ ﴾ وَ السِّلْسِلُ ﴾ يُسْحَبُونَ ﴾ ﴾ ثُمَّ فِي الْجَحِيمِ ﴾ يُسْجَرُونَ
যখন তাদের গলায় থাকবে বেড়ি আর শিকল, তাদের টেনে নিয়ে যাওয়া হবে ফুটন্ত পানিতে। অতঃপর তাদেরকে আগুনে দগ্ধ করা হবে। [সুরা গাফির, আয়াত: ৭১-৭২]
আরও ইরশাদ হয়েছে—
ثُمَّ فِي سِلْسِلَةٍ ذَرْعُهَا سَبْعُونَ ذِرَاعًا
অতঃপর তাকে শৃঙ্খলিত করো সত্তর গজ দীর্ঘ এক শিকলে। [সুরা হাক্কা, আয়াত: ৩২]
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে—
إِنَّ لَدَيْنَا أَنْكَالًا وَ جَحِيمًا
নিশ্চয় আমার কাছে আছে শিকল ও অগ্নিকুণ্ড। [সুরা মুজাম্মিল, আয়াত: ১২]

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 জাহান্নামের জ্বালানি

📄 জাহান্নামের জ্বালানি


আল্লাহ তাআলা কুরআন কারিমে ইরশাদ করেছেন—
وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ
তার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর। [সুরা বাকারা, আয়াত: ২৪]

টিকাঃ
[১৪৪] নোট: আয়াতে উল্লিখিত وَقُودُهَا শব্দের অর্থ—জ্বালানি, ইন্ধন, জ্বালানি। আর حِجَارَةٌ শব্দের অর্থ— শিলালয় (পাথর)। আল্লাহ তাআলা নিজের ইচ্ছা মতো যেটাকে খুশি বানিয়ে নেবেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে এভাবে বর্ণিত আছে। আবদুল্লাহ ইবনুল মোবারক রাহিমাহুল্লাহ হজরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এভাবে বর্ণনা করেছেন। বহু প্রকার পাথরের মাঝ থেকে এই শ্রেণির পাথরকে নির্বাচিত করার কারণ কী? কারণ হলো—অন্যান্য পাথরের চেয়ে এই পাথরের মাঝে পাঁচ দিক থেকে প্রাপ্তি বেশি হয়—দ্রুত জ্বালা, দীর্ঘস্থায়ী হয়, ধোঁয়া বেশি হয়, শরীরের সঙ্গে বেশি লেগে থাকে এবং আগুনে হলে তাপমাত্রাও অত্যধিক হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00