📄 আল্লাহর কাছে জান্নাত প্রাপ্তি এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
مَنْ سَأَلَ اللَّهَ الْجَنَّةَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالَتِ الْجَنَّةُ اللَّهُمَّ أَدْخِلْهُ الْجَنَّةَ وَمَنْ اسْتَجَارَ مِنَ النَّارِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالَتِ النَّارُ اللَّهُمَّ أَجِرْهُ مِنَ النَّارِ ؕ
যে ব্যক্তি তিনবার আল্লাহর কাছে জান্নাত চায়, জান্নাত বলে—হে আল্লাহ! তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দাও। আর যে ব্যক্তি তিনবার জাহান্নাম থেকে মুক্তি চায়, জাহান্নام বলে—হে আল্লাহ! তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দাও。
কুরআন ও সুন্নাহ থেকে নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে—ইমান থাকার পর নেকআমল ও ইখলাস জান্নাতের নিকটবর্তী করে দেয় এবং জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। আপনার জন্য সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম গ্রন্থে হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে প্রমাণিত হাদিসে যথেষ্ট হবে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
'যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে একদিন রোজা রাখে, আল্লাহ তাআলা ওই দিনটির মাধ্যমে বান্দাকে জাহান্নাম থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে দেন।'
আদি ইবনু হাতিম রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—
'যার সক্ষমতা আছে সে যেন নিজেকে জাহান্নাম থেকে আড়াল করে নেয়, যদিও তা এক টুকরো খেজুরের মাধ্যমে হোক।'
টিকাঃ
[২৯০] সুনানুত তিরমিযি, খণ্ড : ৪, পৃষ্ঠা : ১০১, হাদিস : ২৫৪৮।
[২৯১] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ৩, পৃষ্ঠা : ১২, হাদিস : ১১৫৫; সহিহুল বুখারি, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ৩০৩, হাদিস : ২২০২।
[২৯২] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ৩, পৃষ্ঠা : ১১৯, হাদিস : ১০১৬।
📄 জাহান্নামের নির্ধারিত স্তর
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—
إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ ؕ
নিঃসন্দেহে মুনাফিকরা অবস্থান করবে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে। [সুরা নিসা, আয়াত : ১৪৫]
জাহান্নামের সাতটি স্তর রয়েছে। মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থান করবে, যেটির নাম হলো হাবিয়াহ। কারণ, মুনাফিকি আর কুফরি খুব বেশি নোংরা, তার বেদনা অত্যধিক এবং মুমিনদেরকে কষ্ট দেওয়ার সুযোগ থাকে স্বাভাবিকত। সালামুক্কথন: সালাফগণ বলেছেন, সবচেয়ে উঁচু স্তরের নাম হলো জাহান্নামা। যেটি উক্তিতে সুহায়বের বর্ণনার নাম। তো জাহান্নামের এই স্তরটি অর অবিশ্বাসীদের থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। যার কারণে তার দরজা দিয়ে প্রবল বেগে বাতাস বইবে। এর নিচের স্তর লাজা, তারপর হুতামা, তারপর সায়ির, তারপর সাকার, তারপর জাহিম এবং শেষ স্তরটি হলো হাবিয়াহ।
📄 জাহান্নামের দরজা সাতটি
আল্লাহ তাআলা তাঁর অর্থবহ গ্রন্থ কুরআন কারিমে ইরশাদ করেছেন—
لَهَا سَبْعَةُ أَبْوَابٍ ؕ
তার রয়েছে সাতটি দরজা। [সুরা হিজর, আয়াত : ৪৪]
আরও ইরশাদ হয়েছে—
حَتَّى إِذَا جَاءُوهَا فُتِحَتْ أَبْوَابُهَا ؕ
একপর্যায়ে যখন তারা সেখানে (জাহান্নামের কাছে) আসবে, তার দরজাগুলো খুলে দেওয়া হবে। [সুরা জুমার, আয়াত : ৭১]
📄 জাহান্নামের লাগামসমূহ
জাহান্নামের মাসমুদ আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
يُؤْتَى بِجَهَنَّمَ يَوْمَئِذٍ لَهَا سَبْعُونَ أَلْفَ زِمَامٍ مَعَ كُلِّ زِمَامٍ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ يَجُرُّونَهَا ؕ
সেদিন জাহান্নামকে হাজির করা হবে, তার সত্তরটি লাগাম থাকবে এবং প্রত্যেকটি লাগামের সঙ্গে সত্তর হাজার ফিরিশতা থাকবে, যারা জাহান্নামকে টেনে আনবে。
মোট: এই হাদিসটি আপনাদের জন্য আমাদের বক্তব্যকে পরিষ্কার করবে, জাহান্নাম সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে সমস্ত ডোজখের নাম। তো জাহান্নামকে হাজির করার মর্ম হলো— আল্লাহ তাআলা যখন জাহান্নামকে সৃষ্টি করে দেখেছিলেন, সেখান থেকে হাশরের মাঠে নিয়ে আসা হবে এবং তার দ্বারা হাশরের মাঠকে ঘিরে ফেলা হবে। যার কারণে পুলসিরাত ছাড়া জান্নাতে যাওয়ার কোনো পথ থাকবে না, যেমন পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে। আর লাগামের মর্ম হলো—যা দ্বারা কোনো বস্তুকে বেঁধে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তো জাহান্নামের গলায় লাগাম পরানোর উদ্দেশ্য হলো—সে যেন হাশরবাসীর ওপর হামলে পড়তে না পারে。
টিকাঃ
[২৯৩] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ১০, পৃষ্ঠা : ৪৮৭, হাদিস : ৫০৭৫।