📄 জাহান্নামের বিভিন্ন স্তর
আল্লাহ তাআলা বলেছেন—
كَلَّا إِنَّهَا لَظَى نَزَّاعَةً لِّلشَّوَى
কখনই নয়; নিশ্চয় এটা লেলিহান শিখা, যা (মাথার) চামড়া তুলে দেবে। [সুরা মাআরিজ, আয়াত: ১৫-১৬]
আরও ইরশাদ করেছেন—
وَمَا أَدْرَاكَ مَا سَقَرُ لَا تُبْقِي وَلَا تَذَرُ لَوَّاحَةٌ لِّلْبَشَرِ
আপনি কি জানেন অগ্নি কি? এটা অক্ষত রাখবে না এবং ছাড়বেও না, মানুষকে দগ্ধ করবে। [সুরা মুদ্দাসসির: ২৭-২৯]
অর্থাৎ চামড়াকে জ্বালিয়ে পাল্টে ফেলবে, যেমন সূর্য তাপ দিয়ে পাল্টে দেয়।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন—
وَمَا أَدْرَاكَ مَا هِيَهْ نَارٌ حَامِيَةٌ
তুমি কি জানো হাবিয়া কী? হাবিয়া হলো জ্বলন্ত আগুন। [সুরা কারিয়া, আয়াত : ১০-১১]
আরও ইরশাদ হয়েছে—
وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْحُطَمَةُ ؕ نَارُ اللَّهِ الْمُوْقَدَةُ ۙ الَّتِي تَطَّلِعُ عَلَى الْأَفْئِدَةِ ؕ
কখনো না, অবশ্যই হুতামায় নিক্ষেপ করবো। তুমি জানো হুতামা কী? আল্লাহর প্রজ্বলিত অগ্নি— যা কলিজাও পৌঁছে যাবে। [সুরা হামযা, আয়াত : ৪-৭]
আরও ইরশাদ হয়েছে—
وَإِذَا الْجَحِيمُ سُعِّرَتْ ؕ
এবং যখন জাহান্নামকে প্রজ্বলিত করা হবে। [সুরা তাকবির, আয়াত : ১২]
আরও ইরশাদ হয়েছে—
وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيرًا ؕ
তারা অতিসত্বর প্রজ্বলিত আগুনে পৌঁছে যাবে। [সুরা নিসা, আয়াত : ১০]
আরও ইরশাদ হয়েছে—
وَالَّذِينَ كَفَرُوا لَهُمْ نَارُ جَهَنَّمَ لَا يُقْضَى عَلَيْهِمْ فَيَمُوتُوا ؕ
আর যারা কাফির হয়েছে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। তাদেরকে মৃত্যুর আদেশও দেওয়া হবে না যে— তারা মরে যাবে। [সুরা ফাতির, আয়াত : ৩৬]
আরও ইরশাদ হয়েছে—
إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ ؕ
নিঃসন্দেহে মুনাফিকরা অবস্থান করবে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে। [সুরা নিসা, আয়াত : ১৪৫]
এই আয়াতগুলোর মাধ্যমে কাফিরদেরকে সতর্ক করা হয়েছে, সীমানালঙ্ঘনকারী সন্ত্রাসবাদীদেরকে ভয় দেখানো হয়েছে, একগুঁড়াবাদী পাপাচারীদেরকে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। যেন তারা আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়াবলি থেকে বিরত থাকে। যেমন আল্লাহ বলেছেন এবং সত্যিই বলেছেন—
فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ ۙ أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ ؕ
তাহলে জাহান্নামকে ভয় করো, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর, যা প্রস্তুত করা হয়েছে কাফিরদের জন্য। [সুরা বাকারা, আয়াত : ২৪]
আরও ইরশাদ হয়েছে—
إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْمًا إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَارًا ؕ وَ سَيَصْلَوْنَ سَعِيرًا ؕ
যারা এতিমদের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে খায়, তারা নিজেদের পেটে আগুনই ভর্তি করছে এবং শীঘ্রই তারা অগ্নিতে প্রবেশ করবে। [সুরা নিসা, আয়াত : ১০]
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে—
ذٰلِكَ يُخَوِّفُ اللَّهُ بِهِ عِبَادَهُ ؕ
এগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করেন। [সুরা জুমার, আয়াত : ১৬]
📄 আল্লাহর কাছে জান্নাত প্রাপ্তি এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
مَنْ سَأَلَ اللَّهَ الْجَنَّةَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالَتِ الْجَنَّةُ اللَّهُمَّ أَدْخِلْهُ الْجَنَّةَ وَمَنْ اسْتَجَارَ مِنَ النَّارِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالَتِ النَّارُ اللَّهُمَّ أَجِرْهُ مِنَ النَّارِ ؕ
যে ব্যক্তি তিনবার আল্লাহর কাছে জান্নাত চায়, জান্নাত বলে—হে আল্লাহ! তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দাও। আর যে ব্যক্তি তিনবার জাহান্নাম থেকে মুক্তি চায়, জাহান্নام বলে—হে আল্লাহ! তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দাও。
কুরআন ও সুন্নাহ থেকে নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে—ইমান থাকার পর নেকআমল ও ইখলাস জান্নাতের নিকটবর্তী করে দেয় এবং জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। আপনার জন্য সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম গ্রন্থে হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে প্রমাণিত হাদিসে যথেষ্ট হবে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
'যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে একদিন রোজা রাখে, আল্লাহ তাআলা ওই দিনটির মাধ্যমে বান্দাকে জাহান্নাম থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে দেন।'
আদি ইবনু হাতিম রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—
'যার সক্ষমতা আছে সে যেন নিজেকে জাহান্নাম থেকে আড়াল করে নেয়, যদিও তা এক টুকরো খেজুরের মাধ্যমে হোক।'
টিকাঃ
[২৯০] সুনানুত তিরমিযি, খণ্ড : ৪, পৃষ্ঠা : ১০১, হাদিস : ২৫৪৮।
[২৯১] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ৩, পৃষ্ঠা : ১২, হাদিস : ১১৫৫; সহিহুল বুখারি, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ৩০৩, হাদিস : ২২০২।
[২৯২] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ৩, পৃষ্ঠা : ১১৯, হাদিস : ১০১৬।
📄 জাহান্নামের নির্ধারিত স্তর
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—
إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ ؕ
নিঃসন্দেহে মুনাফিকরা অবস্থান করবে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে। [সুরা নিসা, আয়াত : ১৪৫]
জাহান্নামের সাতটি স্তর রয়েছে। মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থান করবে, যেটির নাম হলো হাবিয়াহ। কারণ, মুনাফিকি আর কুফরি খুব বেশি নোংরা, তার বেদনা অত্যধিক এবং মুমিনদেরকে কষ্ট দেওয়ার সুযোগ থাকে স্বাভাবিকত। সালামুক্কথন: সালাফগণ বলেছেন, সবচেয়ে উঁচু স্তরের নাম হলো জাহান্নামা। যেটি উক্তিতে সুহায়বের বর্ণনার নাম। তো জাহান্নামের এই স্তরটি অর অবিশ্বাসীদের থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। যার কারণে তার দরজা দিয়ে প্রবল বেগে বাতাস বইবে। এর নিচের স্তর লাজা, তারপর হুতামা, তারপর সায়ির, তারপর সাকার, তারপর জাহিম এবং শেষ স্তরটি হলো হাবিয়াহ।
📄 জাহান্নামের দরজা সাতটি
আল্লাহ তাআলা তাঁর অর্থবহ গ্রন্থ কুরআন কারিমে ইরশাদ করেছেন—
لَهَا سَبْعَةُ أَبْوَابٍ ؕ
তার রয়েছে সাতটি দরজা। [সুরা হিজর, আয়াত : ৪৪]
আরও ইরশাদ হয়েছে—
حَتَّى إِذَا جَاءُوهَا فُتِحَتْ أَبْوَابُهَا ؕ
একপর্যায়ে যখন তারা সেখানে (জাহান্নামের কাছে) আসবে, তার দরজাগুলো খুলে দেওয়া হবে। [সুরা জুমার, আয়াত : ৭১]