📄 যারা অধিকাংশ জান্নাতি ও জাহান্নামি হবে
হয়েছে জাহান্নামের দরজায় দণ্ডায়মান দেখান—সেখানে প্রবেশকারী অধিকাকাংশই নারী。
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—‘আমার প্রতিটি উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে, তবে অস্বীকারকারীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞেস করলেন— অস্বীকারকারী কারা? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যারা আমার আনুগত্য করবে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে আর যারা আমার নাফরমানি করবে, তারাই হলো অস্বীকারকারী.’
সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে যাবে না
জুবাইর ইবনু মুতইম থেকে, তিনি নিজের পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعُ
আত্মীয়তা ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না。
উকবা ইবনু আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন—
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ صَاحِبُ مَكْسِ
কর আদায়কারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না。
উলামায়ে কিরাম বলেছেন, যারা কর এবং ঘুষের নাম করে ব্যবসায়িসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজনের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে; তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। পক্ষান্তরে যারা যাকাত, উশর এবং গরিবের হক উসুল করে, তাদের কথা ভিন্ন (তারা বরং অনেক সওয়াবের অধিকারী হবে)।
টিকাঃ
[১৩০] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১৩, পৃষ্ঠা: ২৬০, হাদিস: ৪৪১৯।
[১৩১] সহীহ বুখারী, খণ্ড: ২২, পৃষ্ঠা: ২১৮, হাদিস: ৬৭৩৭।
[১৩২] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১৯, পৃষ্ঠা: ৪০৮, হাদিস: ৪৬৩৮।
[১৩৩] মুসনাদু আবি দাউদ, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ১৬০, হাদিস: ২৪৪৯।
📄 সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে যাবে না
জুবাইর ইবনু মুতইম থেকে, তিনি নিজের পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعُ
আত্মীয়তা ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
উকবা ইবনু আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন—
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ صَاحِبُ مَكْسِ
কর আদায়কারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
উলামায়ে কিরাম বলেছেন, যারা কর এবং ঘুষের নাম করে ব্যবসায়িসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজনের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে; তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। পক্ষান্তরে যারা যাকাত, উশর এবং গরিবের হক উসুল করে, তাদের কথা ভিন্ন (তারা বরং অনেক সওয়াবের অধিকারী হবে)।
টিকাঃ
[১৩২] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১৯, পৃষ্ঠা: ৪০৮, হাদিস: ৪৬৩৮।
[১৩৩] মুসনাদু আবি দাউদ, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ১৬০, হাদিস: ২৪৪৯।
📄 যে ব্যক্তির মাধ্যমে জাহান্নামে প্রথম আগুন প্রজ্বলিত হবে
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন—
‘কিয়ামতের দিন প্রথম যে ব্যক্তির ফয়সালা করা হবে, সে হবে একজন শহীদ। তাকে (আল্লাহ তাআলার সামনে) উপস্থিত করা হবে, আল্লাহ তাআলা তার নিয়ামতগুলোকে চিনিয়ে দিলে সে চিনতে পারবে। তারপর তাকে বলবেন, তুমি এই নিয়ামতগুলোর জন্য কী আমল করেছ? সে বলবে, তোমার পথে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হয়েছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। তুমি তো এজন্য যুদ্ধ করেছ যে, তোমাকে বাহাদুর বলা হবে। সুতরাং তোমাকে বাহাদুর বলা হয়েছে। তারপর তাকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আরেকজন মানুষ ইলম অর্জন করেছে, অন্যকে শিখিয়েছে এবং কুরআন পড়েছে। তাকে হাজির করা হবে। আল্লাহ তাআলা তার নিয়ামতগুলোকে চিনিয়ে দিলে সে চিনতে পারবে। আল্লাহ বলবেন, তুমি এসবের বিনিময়ে কী আমল করেছ? সে বলবে, ইলম শিখেছি, অন্যকে শিক্ষা দিয়েছি এবং তোমার সন্তুষ্টির জন্য কুরআন পড়েছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। তুমি তো আলিম নামে প্রসিদ্ধ হওয়ার জন্য ইলম শিখেছ, কারি হিসেবে খ্যাত হওয়ার জন্য কুরআন পড়েছ। সুতরাং তোমাকে তা বলা হয়েছে। তারপর তাকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আরেকজন মানুষ—যাকে আল্লাহ ধনাতঢ়া দান করেছে। তাকে সদরক্বারার সম্পদ দিয়েছেন। তাকে উপস্থিত করা হবে। আল্লাহ তাআলা তার নিয়ামতগুলো চিনিয়ে দিলে সে চিনতে পারবে। আল্লাহ তাআলা জানতে চাইবেন—তুমি এগুলোর বিপরীতে কী আমল করেছ? সে বলবে, তোমার সন্তুষ্টির জন্য তোমার পছন্দনীয় প্রতিটি পথে দান করেছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। তুমি তো দান করেছ দানবীর হিসেবে বিখ্যাত হওয়ার জন্য। সুতরাং তোমাকে তা বলা হয়েছে। তারপর নির্দেশ দেওয়া হলে তাকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’
টিকাঃ
[১৩৪] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ২১৪, হাদিস: ৩৫৭১।
📄 যারা বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবে
ইমরান ইবনু হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي سَبْعُونَ أَلْفًا بِغَيْرِ حِسَابٍ قَالُوا مَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ هُمُ الَّذِينَ لَا يَسْتَرْقُونَ وَلَا يَتَطَيَّرُونَ وَلَا يَكْتَوُونَ وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ
সত্তর হাজার মানুষ বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। যারা জাদু, ঝাড়ফুঁক এবং আগুনের দাগ গ্রহণ করে না; তারাই জান্নাতে যাবে।
আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন—
আমার রব আমার সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আমার উম্মতের মধ্যে হতে সত্তর হাজার মানুষকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন—যাদের কোনো হিসাব হবে না এবং আজাবও দেওয়া হবে না। আর প্রতি হাজারের সঙ্গে থাকবে আরও সত্তর হাজার।
নোট: আপনি মনে করবেন না যে, যে ব্যক্তি ঝাড়ফুঁক করল এবং আগুনের দাগ দিয়ে চিকিৎসা করল—সে হিসাববিহীন জান্নাতে প্রবেশ করবে না। কেননা, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই ঝাড়ফুঁক করেছেন এবং ঝাড়ফুঁক গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এমনিভাবে সাহাবায়ে কিরামকে আগুন দিয়ে দাগ দিয়েছেন এবং রাসূল নিজেও দাগ দিয়েছেন। যার কারণে ইমাম তাবারানি রাহিমাহুল্লাহু বলেছেন, হাদিসে বর্ণিত নিষেধাজ্ঞা বিশেষ প্রকারের ঝাড়ফুঁকের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে। প্রমাণ হলো—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর ইবনু হাজিমের পরিবারকে বলেছেন—
اعْرِضُوا عَلَيَّ رُقَاكُمْ لَا بَأْسَ بِالرُّقَى مَا لَمْ يَكُنْ فِيهِ شِرْكُ
তোমাদের ঝাড়ফুঁক আমার কাছে পেশ করো, যদি তাতে শিরিক বিষয় না থাকে, তাহলে কোনো সমস্যা নেই।
নিরুপায় হয়ে লোহা গরম করে দাগ দেওয়ার বিধানটাও এমনা। যে ব্যক্তি প্রয়োজনে ক্ষেত্র বিশেষে শর্তসাপেক্ষে এ কাজ করবে, তার জন্য এটা মাকরুহও হবে না এবং তার সম্মানেরও হ্রাস ঘটবে না।
টিকাঃ
[১৩৫] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ২১৪, হাদিস: ৩৫৭১।
[১৩৬] মুসনাদু তিরমিজি, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ৪৭৩, হাদিস: ২০৬১। ইমাম তিরমিজি বলেছেন, হাদিসটি হাসান গরিব।
[১৩৭] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ২০২, হাদিস: ৪০৬৬।