📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে 📄 শাফায়াতকারী এবং জাহান্নামিদের আলোচনা

📄 শাফায়াতকারী এবং জাহান্নামিদের আলোচনা


আবু সাইদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘একপর্যায়ে যখন মুমিনরা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে; ওই সত্তার শপথ যার হাতে আল্লাহর প্রাণ! কিয়ামতের দিন মুমিনদের মধ্য থেকে তোমরা প্রত্যেকেই জাহান্নামি ভাইদের হক আদায় করার জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে খুব বেশি প্রার্থনা করবে। তারা বলবে, হে আমাদের রব, তারা আমাদের সঙ্গে রোজা রাখত, আমাদের সঙ্গে নামাজ পড়ত এবং আমাদের সঙ্গে হজ করত। তখন তাদেরকে বলা হবে, যাদেরকে তোমরা চেনো—তাদেরকে বের করে নিয়ে এসো। সুতরাং তাদের চেহারাগুলোকে আগুনের জন্য হারাম করা হবে (আগুনে তাদেরকে জ্বালাতে পারবে না!)। অতপর, তারা অগণিত মানুষকে জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে আসবে, আগুন তাদের পায়ের নলা ও হাঁটু পর্যন্ত লেগেছিল। এরপর তারা বলবে, হে আমার রব, আপনি যাদেরকে বের করার নির্দেশ দিয়েছিলেন—তাদের সবাইকে বের করেছি, কেউ বাকি নেই। তারপর আল্লাহ বলবেন, আল্লাহ তাআলা বলবেন, আমার যাও, যাদের হৃদয়ে দীনার পরিমাণ ঈমান আছে—তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে এসো। এরপর তারা অনেক লোককে বের করে নিয়ে আসবে। তারপর বলবে, হে আমার রব, আপনি যাদেরকে বের করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তাদের সবাইকে বের করেছি, কেউ বাকি নেই। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, আবার যাও, যাদের হৃদয়ে অর্ধেকের দীনার পরিমাণ ঈমান আছে—তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে এসো। সুতরাং তারা অনেক লোককে বের করে নিয়ে আসবে। তারপর বলবে, হে আমার রব, আপনি যাদেরকে বের করার নির্দেশ দিয়েছিলেন—তাদের সবাইকে বের করেছি, কেউ বাকি নেই। তারপর আল্লাহ বলবেন, ফিরে যাও, যাদের হৃদয়ে অণু পরিমাণ কল্যাণ পাবে, তাদেরকেও বের করে নিয়ে এসো। সুতরাং তারা অনেক মানুষকে বের করে নিয়ে আসবে, তারপর বলবে, হে আমাদের রব, যাদের মাঝে কল্যাণ পেয়েছি—তাদের কাউকেও বাদ রাখিনি (সবাইকে বের করে নিয়ে এসেছি)।
আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যদি তোমরা আমাকে এই হাদিসের ব্যাপারে সত্যায়ন না করো, তাহলে তোমরা এই আয়াতটি পড়তে পারো—
إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ ۖ وَإِن تَكُ حَسَنَةً يُضَاعِفْهَا وَيُؤْتِ مِن لَّدُنْهُ أَجْرًا عَظِيمًا.
নিশ্চয়ই আল্লাহ অণু পরিমাণও জুলুম করেন না। আর যদি তা সৎকর্ম হয়, তবে তাকে দ্বিগুণ করে দেন এবং নিজের পক্ষ থেকে বিপুল প্রতিদান দেন। [সূরা নিসা, আয়াত: ৪০]
এবার আল্লাহ তাআলা বলবেন, ফিরিশতারা শাফাআত করেছে, নবিরা শাফাআত করেছেন, মুমিনরা শাফাআত করেছে, বাদ আছে কেবল সর্বশ্রেষ্ঠ দয়াময় আল্লাহ তাআলা। সুতরাং তিনি জাহান্নামে একটি থাবা মেরে এমন জাতিকে বের করবেন, যারা কখনো কোনো নেককাজ করেনি। যারা কয়লা হয়ে গেছে। অতঃপর তাদেরকে জাহান্নামের মুখে নাহরুল হায়াত-জীবনের নদী নামক নদীতে নিক্ষেপ করবেন। তারা সেখান থেকে ঠিক প্লাবনের মাঝে ভাসমান খড়কুটোর বীজের মতো উদ্গত হবে, যেগুলোকে তোমরা পাথর বা গাছের ধারে দেখতে পাওনি, যেগুলো সূর্যের তলে হলুদ বা সবুজ হয়নি এবং ছায়ায় থেকে সাদাও হয়নি। সাহাবায়ে কিরাম বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল, মনে হচ্ছে আপনি উপত্যকায় বিচরণ করেছেন! নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সুতরাং তারা মুক্তোর মতো বের হবে, যাদের কাঁধে মোহরাঙ্কিত থাকবে। তাদেরকে দেখেই জান্নাতিরা চিনতে পারবে যে, এরা সেসমস্ত জাহান্নামমুক্ত মানুষ, যাদেরকে আল্লাহ তাদের কোনো আমল ছাড়া এবং পূর্ব প্রেরিত কোনো কল্যাণমূলক কাজ ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছেন। এরপর আল্লাহ তাদেরকে বলবেন, জান্নাতে প্রবেশ করো, যা দেখতে পাবে—সব তোমাদের। তারা বলবে, হে আল্লাহ, আমাদেরকে যা দিয়েছ তা তো সমগ্র জগতের আর কাউকেও দাওনি। জবাবে আল্লাহ তাআলা বলবেন, আমার কাছে তোমাদের জন্য এর চেয়েও উত্তম জিনিস আছে। তারা বলবে, হে আল্লাহ, এর চেয়েও উত্তম কী সেই জিনিস? আল্লাহ তাআলা বলবেন, আমার সন্তুষ্টি। এরপর থেকে আমি তোমাদের ওপর আর কখনো অসন্তুষ্ট হব না。
এই হাদিসে স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে, ঈমান (মান ও আনুগত্যগতভাবে, সংখ্যাগতভাবে নয়) বেশকম হয়। কেননা, আল্লাহ্র কথা—‘যার হৃদয়ে দীনার পরিমাণ ঈমান আছে, যার হৃদয়ে অর্ধ দীনার পরিমাণ ঈমান আছে এবং যার হৃদয়ে অণু পরিমাণ ঈমান আছে তাকে বের করে নিয়ে এসো, এ দাবির পক্ষে প্রমাণ বহন করে। হাদিসে বর্ণিত শব্দ ‘খাইর-কল্যাণ’ দ্বারা ঈমান উদ্দেশ্য।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
يَخْرُجُ قَوْمٌ مِّنَ النَّارِ بَعْدَ مَا مَسَّهُم مِّنْهَا سَفْعٌ فَيَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ فَيُسَمِّيهِمْ أَهْلَ الْجَنَّةِ الْجَهَنَّمِيِّينَ.
জাহান্নামের লালচে কালো দাগ লাগার পর একজন জাহান্নামি জাহান্নাম থেকে বের হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। জান্নাতিরা তাদেরকে বলবে, জাহান্নামিয়্যুন。
হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—‘আমার উম্মতের কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিরাও আমার শাফাআত পাবে।
আওফ ইবনু মালিক আল-আসজায়ি বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—‘তোমরা কি জানো, আজ রাতে আল্লাহ আমাকে কী স্বাধীনতা দিয়েছেন? আমরা বললাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন, হচ্ছে তোমাদের অর্ধেকের উম্মতি জাহান্নাম থেকে মুক্তি থাকবে, না হয় শাফাআতের অধিকার নেবে? জবাবে আমি শাফাআতের গ্রহণ করেছি। আমরা বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আল্লাহ্র কাছে দুআ করুন, যেন তিনি আপনাদের আপনার শাফাআতের অধিকারী বানায়। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, প্রতিটি মুসলিমই আমার শাফাআতের অধিকারী হবে。

টিকাঃ
[১৩০] সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৪২১, হাদিস: ২৮১।
[১৩১] সহিহ বুখারি, খণ্ড: ২০, পৃষ্ঠা: ২২৫, হাদিস: ৬৩৮১।
[১৩২] সুনানুত তিরমিজি, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ৪৭০, হাদিস: ২১৬১।
[১৩৩] সুনানুত তিরমিজি, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ৩৭৯, হাদিস: ৪৩৪১।

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে 📄 শাফায়াত-প্রাপকের আলামত

📄 শাফায়াত-প্রাপকের আলামত


পূর্ব বর্ণিত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসে বলা হয়েছে, মুমিনরা বলবে—
رَبَّنَا إِخْوَانُنَا كَانُوا يُصَلُّونَ مَعَنَا وَيَصُومُونَ مَعَنَا وَيَحُجُّونَ مَعَنَا فَأَدْخَلْتَهُمُ النَّارَ فَيَقُولُ اذْهَبُوا فَأَخْرِجُوا مَنْ عَرَفْتُمْ مِنْهُمْ.
হে আমাদের রব, আমাদের ভাইয়েরা আমাদের সঙ্গে নামাজ পড়ত, আমাদের সঙ্গে রোজা রাখত এবং আমাদের সঙ্গে হজ করত; তুমি তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করিয়েছ। সুতরাং আল্লাহ তাআলা বলবেন—তাদের মধ্য থেকে যাদেরকে তোমরা চেনো তাদেরকে বের করে নিয়ে এসো。
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একপর্যায়ে আল্লাহ তাআলা যখন বান্দাদের মাঝে ফায়সালা থেকে অবসর হবেন এবং নিজের রহমতও ইচ্ছামতো জাহান্নামিদের মধ্য থেকে কাউকে পরিত্রাণ দিতে চাইবেন, তখন ফিরিশতাদেরকে নির্দেশ দেবেন। তারা যেন এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকেই জাহান্নাম থেকে বের করে, যার আল্লাহ্র সঙ্গে কাউকে অংশীদার স্থাপন করেনি। সেসকল মানুষের মধ্যে থেকে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ বলার কারণে তাদের প্রতি আল্লাহ তাআলা অনুগ্রহ করতে চাইবেন। সুতরাং ফিরিশতারা তাদেরকে সিজদার চিহ্ন দেখে চিনতে পারবে। জাহান্নামের আগুন বনি আদমের শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ খেয়ে ফেলবে, কিন্তু সিজদার অঙ্গ খাওয়াকে আল্লাহ্ও আগুনের ওপর হারাম করে দেবেন। অতএব, তাদের এমনকি অবস্থায় জাহান্নাম থেকে বের করা হবে যে, তারা আগুনে পুড়ে গেছে। সুতরাং তাদের ওপর হায়াতের পানি ঢালা হবে। ফলে তারা এমনভাবে উদ্গত হবে, যেভাবে প্লাবনের মাঝে শস্যবীজ উদ্গত হয়。
জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—‘এমন একজন মানুষকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে, যারা সেখানে আগুনে প্রজ্জ্বলিত হয়েছে। কিন্তু তাদের চেহারার চারদিক আগুনে প্রজ্জ্বলিত হবে না। একপর্যায়ে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে।

টিকাঃ
[১৩৫] সহিহ বুখারি, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ১১২, হাদিস: ৬২১।
[১৩৪] সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৪২৪, হাদিস: ২৮৭।
[১৩৭] সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৪৪২, হাদিস: ২৮১।

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে 📄 কিয়ামতের দিন আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত এবং ক্ষমার প্রত্যাশা

📄 কিয়ামতের দিন আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত এবং ক্ষমার প্রত্যাশা


সানাবিহি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি উবাদা ইবনু সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহুর দরবারে প্রবেশ করলাম। তখন তিনি মৃতুশয্যায় ছিলেন। যার কারণে আমি কেঁদে ফেললাম। তখন তিনি বললেন, শান্ত হও, কাঁদছ কেন? আল্লাহ্র কসম! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যে হাদিস শ্রবণ করেছি, সবগুলোতেই তোমাদের জন্য কল্যাণ নিহিত আছে। কিন্তু কল্যাণের একটি হাদিস—যেটা তোমাদের কাছে বর্ণনা করেছিলাম এবং আজকেও সেটি তোমাদের কাছে বর্ণনা করব, একদিকে আমার জীবন-প্রদীপ নিভু নিভু। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—
مَن شَهِدَ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُولُ اللَّهِ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ النَّارَ.
যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ্ই একমাত্র উপাস্য এবং মুহাম্মাদ আল্লাহ্র রাসূল, আল্লাহ তার ওপর জাহান্নামকে হারাম করে দেবেন。
সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন— ‘আল্লাহ তাআলা যেদিন আকাশ-জমিন সৃষ্টি করেছেন, সেদিন একশ রহমত ও সৃষ্টি করেছেন। প্রতিটি রহমত আকাশ-জমিন সমপরিমাণ। তার মধ্য থেকে একটি রহমত জমিনে প্রেরণ করেছেন। একটি রহমত রয়েছে কারণে যা সন্তানকে ভালোবাসে, পশু-পাখি পরস্পরকে ভালোবাসে। যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে তখন সেই ভালোবাসাকে এই রহমত দ্বারা পূর্ণ করবেন。

টিকাঃ
[১৩৮] সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১২৯, হাদিস: ৪২।
[১৩৯] সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ৩১, হাদিস: ৬৪৯৯।

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে 📄 জান্নাতের ওপর কষ্টের এবং জাহান্নামের ওপর কামনার আবরণ

📄 জান্নাতের ওপর কষ্টের এবং জাহান্নামের ওপর কামনার আবরণ


আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
حُفَّتِ الْجَنَّةُ بِالْمَكَارِهِ وَحُفَّتِ النَّارُ بِالشَّهَوَاتِ
জান্নাত ঢেকে দেওয়া হয়েছে অপছন্দনীয় বস্ত্ত দ্বারা এবং জাহান্নাম আচ্ছাদিত কামনীয় বস্ত্ত দ্বারা。
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন— ‘আল্লাহ তাআলা যখন জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করলেন, তখন জিবরীলকে জান্নাতের দিকে প্রেরণ করে বললেন, জান্নাত দেখে এসো এবং জান্নাতিদের জন্য তাতে আমার তৈরি ব্যবস্থাপনাও দেখে এসো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সুতরাং তিনি জান্নাতে এলেন, জান্নাত এবং জান্নাতিদের জন্য তৈরি ব্যবস্থাপনাও দেখলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তারপর আল্লাহ তাআলার কাছে ফিরে এসে বললেন, আপনার ইজ্জতের কসম, যে ব্যক্তিই জান্নাতের কথা শুনবে—সেই তাতে প্রবেশ করবে। সুতরাং নির্দেশ দিয়ে জান্নাতকে অপছন্দনীয় বস্ত্তর মাধ্যমে আচ্ছাদিত করা হলো। তারপর হজরত জিবরীলকে বললেন, আবার দেখে এসো—আমি জান্নাতিদের জন্য কী প্রস্তুত করেছি! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হজরত জিবরীল আলাইহি সাল্লাম ফিরে আবার জান্নাতে গিয়ে দেখলেন—জান্নাত অপছন্দনীয় বস্ত্ত দ্বারা আবৃতা। এবার তিনি ফিরে গিয়ে আল্লাহকে বললেন, আপনার ইজ্জতের শপথ, আমি তো এখন ভয় করছি, কেউ হয়তো তাতে প্রবেশ করবে না। এবার আল্লাহ তাআলা বললেন, জাহান্নামে যাও, তা দেখো এবং জাহান্নামিদের জন্য প্রস্তুতকৃত বস্ত্তগুলোও দেখো। তিনি দেখলেন, একটি আরেকটির ওপর চড়া চেষ্টা করছে। সুতরাং তিনি আল্লাহ্র কাছে ফিরে গিয়ে বললেন, আপনার ইজ্জতের শপথ, জাহান্নামের কথা শুনলে কেউ তাতে প্রবেশ করবে না। অতঃপর নির্দেশ দেওয়া হলে জাহান্নামকে কামনীয় বস্ত্তর মাধ্যমে ঢেকে দেওয়া হলো। তারপর বললেন, জিবরীল, এবার গিয়ে জাহান্নাম দেখে এসো। জিবরীল আবার গেলেন। তারপর ফিরে এসে আল্লাহকে বললেন, আপনার ইজ্জতের কসম, আশঙ্কা করছি, হয়তো কেউ জাহান্নামে প্রবেশ করা থেকে বাঁচতে পারবে না。

টিকাঃ
[১৪৩] সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ৪৪৮, হাদিস: ২৮১৮১।
[১৪৪] সুনানুত তিরমিজি, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ১২০, হাদিস: ২৫৫৫১।

ফন্ট সাইজ
15px
17px