📄 পুলসিরাতের ওপর মুমিনদের বৈশিষ্ট্য
তবে পুলসিরাতে মুমিনদের অবস্থা হবে অনেকটা ভিন্ন রকম। সহীহ মুসলিম গ্রন্থে বর্ণিত আছে—
وَنَبِيُّكُمْ قَائِمٌ عَلَى الصِّرَاطِ يَقُولُ رَبِّ سَلِّمْ سَلِّمْ
আর তোমাদের নবি পুলসিরাতের ওপর দাঁড়িয়ে বলবেন—হে আমার রব! নিরাপদ রাখো, নিরাপদ রাখো!
📄 কিয়ামতের ভয়াবহ তিনটি স্থান
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন— ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আবেদন করলাম, তিনি যেন কিয়ামতের দিন আমাদের জন্য শাফায়াত করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—আল্লাহ তাআলা চাইলে আমি শাফায়াত করব। আনাস বললেন, আমি আপনাকে কোথায় খুঁজব? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমাকে প্রথমে পুলসিরাতের ওপর খুঁজবে। আনাস বলেন, আমি বললাম, পুলসিরাতে যদি আপনাকে না পাইলে কোথায় খুঁজব? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—তাহলে আমাকে মিজানের কাছে খুঁজবে। আনাস বলেন, আমি আবারও বললাম, যদি আপনাকে মিজানের কাছে না পাই, তাহলে কোথায় খুঁজব? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—হাউজ কাউসারের কাছে খুঁজবে। কেননা, আমি এই তিন স্থানকে ভুলে যাব না।”
টিকাঃ
[১০০] সুনানুত তিরমিজি, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ৪৬৬, হাদিস : ২৫৫৭। ইমাম তিরমিজি রহ. বলেছেন, হাদিসটি হাসান।
📄 পুলসিরাতের সংখ্যা এবং জান্নাত-জাহান্নামের মাঝে অবস্থিত দ্বিতীয় পুলসিরাত
আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন। আপনার জেনে রাখা ভালো যে, পরকালে দুটি পুলসিরাত থাকবে—
প্রথম পুলসিরাত : ভারী ও পাতলা সকল খারাপবাসীকেই সেটা অতিক্রম করতে হবে; তবে যে ব্যক্তি হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করেছে অথবা জাহান্নামের গর্দান তাকে ধারা দিয়ে নিয়ে গেছে তাদের কথা ভিন্ন। তারপর যে ব্যক্তি আলোচিত এই বড় পুলসিরাত থেকে মুক্তি হবে—আর সেখানে কেবল মুমিনরাই মুক্তি পাবে, কিসাস (বিনিময় ও প্রতিশোধ) যাদের নেকগুলোকে ফুরিয়ে ফেলতে পারেনি। তারা বিশেষ আরেকটি পুলসিরাতে আটকা পড়বে, আল্লাহ চাইলে তাদের কেউ জাহান্নামে দিকে ফিরে যাবে না।
কেননা, তারা জাহান্নামের ওপর স্থাপিত সেই প্রথম পুলসিরাতকে পাড়ি দিয়ে এসেছে—গুনাহের কারণে যেখানে পড়ে গেলেই ধ্বংস হয়ে যেত। এবং কিসাস ও বিনিময়ের সেই স্তরেও উত্তীর্ণ হয়ে এসেছে—যেখানে অপরাধ ও গুনাহ তার নেকির চেয়ে বেশি হলে ধ্বংস হয়ে যেত।
আবু সাইদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
মুমিনরা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার পর জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে স্থাপিত একটি পুলের ওপর বন্দি হবে। তখন দুনিয়াতে সংঘটিত জুলুমের কারণে পরস্পরের কাছ থেকে বিনিময় ও প্রতিশোধ গ্রহণ করা হবে।
এভাবে যখন পরিমার্জিত করা হবে এবং পরিষ্কার করা হবে, তখন তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করার অনুমতি প্রদান করা হবে। ওই সত্তার শপথ যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! প্রত্যেকেই দুনিয়ায় থাকাকালীন তাদের মর্যাদার কারণে তাদের জান্নাতের মর্যাদা বুঝতে পারবে。
আমি বলব, মুমিনরা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে—এর অর্থ হলো, তারা জাহান্নামের ওপর স্থাপিত পুলসিরাত থেকে মুক্তি পাবে। যা প্রমাণ করে যে, পরকালে মুমিনদের অবস্থা বিভিন্ন রকম হবে।
টিকাঃ
[১০১] সহিহুল বুখারি, খণ্ড : ২০, পৃষ্ঠা : ২০০, হাদিস : ৭০৯৪。