📄 জান্নাতে নবিজির হাউজে কাউসার
আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
بَيْنَمَا أَنَا أَسِيرُ فِي الْجَنَّةِ إِذَا أَنَا بِنَهْرِ حَافَتَاهُ قِبَابُ الدُّرِّ الْمُجَوَّفِ قُلْتُ مَا هَذَا يَا جِبْرِيلُ قَالَ هَذَا الْكَوْثَرُ الَّذِي أَعْطَاكَ رَبُّكَ فَإِذَا طِينُهُ أَوْ طِيبُهُ مِسْكٌ أَذْفَرُ.
আমি জান্নাতের মধ্যে ভ্রমণ করতে করতে হঠাৎ একটি নদীর কাছে পৌঁছে গেলাম। যার কিনারে মুক্তার তৈরি পাত্র ছিল। আমি বললাম, জিবরিল এটা কী? তিনি বললেন, এটাই সেই কাউসার—আপনার রব আপনাকে যা দান করেছেন। এর মাটি বা সুঘ্রাণ হলো অজস্র মিশক。
আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
'কাউসার জান্নাতে অবস্থিত একটি নদী। তার কিনারাগুলো স্বর্ণের। এটি প্রবাহিত হবে মুক্তা ও ইয়াকুত পাথরের ওপর দিয়ে। তার মৃত্তিকা হবে মিশকের চেয়েও সুগন্ধিময়। তার পানি হবে মধুর চেয়েও মিষ্টি এবং বরফের চেয়ে সাদা।'
টিকাঃ
[১২৩] সহিহ বুখারি, খণ্ড : ২০, পৃষ্ঠা : ২৪৬, হাদিস : ৬২৭১。
[১২৪] সুনানুত তিরমিজি, খণ্ড : ১১, পৃষ্ঠা : ২০৪, হাদিস : ৩২৪৪। ইমাম তিরমিজি বলেন—হাদিসটি হাসান সহিহ。
📄 মিজানের মাধ্যমে আমল পরিমাপের পদ্ধতি
আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
إِنَّ اللَّهَ سَيُخَلِّصُ رَجُلًا مِنْ أُمَّتِي عَلَى رُءُوسِ الْخَلَائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَنْشُرُ عَلَيْهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ سِجِلَّا كُلُّ سِجِلٍّ مِثْلَ مَدِّ الْبَصَرِ ثُمَّ يَقُولُ أَتُنْكِرُ مِنْ هَذَا شَيْئًا أظَلَمَكَ كَتَبَتِي الْحَافِظُونَ فَيَقُولُ لَا يَا رَبِّ فَيَقُولُ أَفَلَكَ عُذْرٌ فَيَقُولُ لَا يَا رَبِّ فَيَقُولُ بَلَى إِنَّ لَكَ عِنْدَنَا حَسَنَةً فَإِنَّهُ لَا ظُلْمَ عَلَيْكَ الْيَوْمَ فَتُخْرَجُ بِطَاقَةٌ فِيهَا أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ فَيَقُولُ أَقْبِلْ حَسَنَتُكَ وَرَبِّ يَا مَا هَذِهِ الْبِطَاقَةُ مَعَ هَذِهِ السِّجِلَّاتِ فَقَالَ إِنَّكَ لَا تُظْلَمُ قَالَ فَتُوضَعُ السِّجِلَّاتُ فِي كِفَّةٍ وَالْبِطَاقَةُ فِي كِفَّةٍ فَطَاشَتِ السِّجِلَّاتُ وَثَقُلَتِ الْبِطَاقَةُ فَلَا يَثْقُلُ مَعَ اسْمِ اللَّهِ شَيْءٌ
আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন সবার সামনে আমার একজন উম্মতকে মুক্তি দেবেন। তার সামনে নিরানব্বইটি খাতা খুলবেন। প্রতিটি খাতা হবে দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত প্রসারিত। তারপর আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন—তুমি কি এগুলোর কোনোটি অস্বীকার করতে পারবে এবং বলতে পারবে যে, আমার পক্ষ থেকে নিযুক্ত লেখক তোমার প্রতি জুলুম করেছে? সে বলবে, হে আমার রব, না। আল্লাহ আবার জিজ্ঞেস করবেন—তোমার কি কোনো আপত্তি আছে? সে বলবে, হে আমার রব! না। এবার আল্লাহ তাআলা বলবেন—তবে আমার কাছে তোমার একটি নেকি আছে। আজকে তোমার ওপর জুলুম করা হবে না। তখন একটি কাগজের টুকরো বের হবে—যাতে লেখা আছে:
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহই একমাত্র উপাস্য এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসুল।
এবার আল্লাহ বলবেন—কাগজটকে তোমার ওজনের পাল্লায় রাখো। সে বলবে, এতগুলো খাতার সাথে এই কাগজের টুকরোর কী মূল্য আছে? আল্লাহ বলবেন, তোমার প্রতি জুলুম করা হবে না। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—তখন এক পাল্লায় খাতাগুলো রাখা হবে, আরেক পাল্লায় রাখা হবে কাগজের টুকরোটি। সাথে সাথে খাতাগুলো শূন্য উঠে যাবে এবং কাগজের টুকরোটি ভারী হবে। কারণ, আল্লাহর নামের সাথে অন্য কোনো বস্তু ভারী হতে পারে না。
জ্ঞাতব্য: উলামায়ে কিরাম বলেছেন, পরকালে মানুষ তিন শ্রেণিতে বিভক্ত হবে:
প্রথমত: মু’মিন, যাদের কোনো কবিরা গুনাহ নেই। দ্বিতীয়ত: মিশ্র শ্রেণির, যারা নির্লজ্জ এবং কবিরা গুনাহ করেছে; তবে ঈমানদার। তৃতীয়ত: কাফির।
মুআহিদগণের নেকগুলো জ্যোতির্ময় পাল্লায় রাখা হবে, যদি তাদের কোনো সগিরা গুনাহ থাকে, তাহলে অন্য পাল্লায় রাখা হবে। আল্লাহ তাআলা সেই সগিরা গুনাহগুলোর কোনো ওজন রাখবেন না। যার কারণে জ্যোতির্ময় পাল্লা ভারী হয়ে যাবে। এমনকি অন্ধকার পাল্লাটা হালকা হওয়ার কারণে ওপরের দিকে উঠে থাকবে।
মিশ্র শ্রেণির লোকেদের নেকগুলো জ্যোতির্ময় পাল্লায় রাখা হবে, আর পাপগুলো রাখা হবে অন্ধকার পাল্লায়। তাদের কবিরা গুনাহগুলোর ওজন থাকবে। যদি সামান্যতম তাদের নেকির পাল্লাটা ভারী হয়, তাহলে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যদি পাপের পাল্লাটাই সামান্যতমও ভারী হয়, তাহলে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তবে, আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দিলে কথা ভিন্ন। আর যদি উভয় পাল্লা বরাবর হয়, তাহলে আ’রাফে স্থান পাবে; যার আলোচনা সামনে আসবে। তবে এই বিচারটা হবে সেই ক্ষেত্রে, যখন কবিরা গুনাহের সম্পৃক্ততা থাকে আল্লাহ ও বান্দার মাঝে। পক্ষান্তরে যদি সাথে আর কোনো গুনাহও থাকে (যেগুলোর বান্দার হকের সাথে), ওদিকে তার অনেক নেকি থাকে, তাহলে পাপের বদলা হিসেবে তার নেকি কমে থাকবে। যদি বিনিময় শেষ করতে করতে তার নেকি শেষ হয়ে যায়, তাহলে তার ওপর গুনাহের বোঝা চাপানো হবে, তারপর শাস্তি প্রদান করা হবে। এ কথাগুলো আলোচিত ও আলোচিতব্য হাদিসগুলোর সারকথা।
সুফিয়ান সাওরি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন— তুমি যদি আল্লাহর সাথে এমন সত্তাটি গুনাহ নিয়ে সাক্ষাৎ করো—যার সম্পর্ক আল্লাহ এবং তোমার সাথে, তাহলে এটা তোমার জন্য অনেক হালকা; এমন একটি গুনাহ নিয়ে সাক্ষাৎ করার চেয়ে—যার সম্পর্ক তোমার ও অন্য বান্দার সাথে।
‘আমি (ইমাম কুরতুবি রাহিমাহুল্লাহ) বলব—কথাটি অবশ্যই সঠিক। কারণ, আল্লাহ তাআলা অনুগ্রহশীল, দয়াময়। আর যদি আদমদয় মিথ্যা, অসহায়। সেদিন প্রত্যেকে একটি নেকির দরুন হলে একটি গুনাহ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেবে, যেন মিজানে তার নেকির পাল্লাটা ভারী হয় এবং তার কল্যাণ ও নেকি বেশি হয়।
আরো কাফির! তার কুফরকে অন্ধকার পাল্লায় রাখা হবে, কিন্তু অন্য পাল্লায় রাখার মতো তার কোনো নেকি থাকবে না। যার কারণে তা শূন্য পড়ে থাকবে, কল্যাণ থেকে মুক্ত থাকবে। সুতরাং আল্লাহ তাআলা তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার নির্দেশ দেবেন এবং বদআমল ও গুনাহ অনুযায়ী তাদের আজাব দেওয়া হবে।
আর মুরাক্বিবদের অবস্থা! কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকার কারণে তাদের সগিরা গুনাহগুলো মোচন করা হয় এবং তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর নির্দেশ প্রদান করা হয়। তাদের প্রত্যেকেরই তাদের নেকি ও ইবাদত সমপরিমাণ প্রতিদান প্রদান করা হয়। কুরআন কারিম এবং সুন্নাত সংক্রান্ত আয়াতগুলোতে এই দুই প্রকারের কথা বলা হয়েছে। কেননা, আল্লাহ তাআলা কুরআন কারিমে কেবল মিজানের পাল্লা ভারী ও হালকা হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তারপর পাল্লা ভারী হলে অকাট্যতা সফলতার এবং সুখী জীবনের ফায়সালা ঘোষণা করেন এবং আর পাল্লা হালকা হলে কুফরির গুণে গুণান্বিত করে চিরস্থায়ী জাহান্নামের ফায়সালা ঘোষণা করেন। বাকি থাকল—মিশ্রদের কথা। যাদের আমলনামায়ও নেকিও আছে, বদিকেও আছে। সেগুলোর ব্যাপারে আমরা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা আলোচনা করে এসেছি।
টিকাঃ
[১০১] সুন্নাতুল তিরমিযী, খণ্ড: ৯, পৃ: ২০২, হাদিস: ২৬৬১। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদিসটি হাসান গারিব।
📄 কিয়ামতের দিন প্রতিটি উম্মত তার উপাস্যের অনুগামী হবে
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, কিছু মানুষ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কি কিয়ামতের দিন আমাদের রবকে দেখতে পারব? জবাবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—
هَلْ تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ قَالُوا لَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ هَلْ تُضَارُّونَ فِي الشَّمْسِ لَيْسَ دُونَهَا سَحَابٌ قَالُوا لَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ فَإِنَّكُمْ تَرَوْنَهُ كَذَلِكَ يَجْمَعُ اللَّهُ النَّاسَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَقُولُ مَنْ كَانَ يَعْبُدُ شَيْئًا فَلْيَتْبَعْهُ فَمَنْ كَانَ يَعْبُدُ الشَّمْسَ فَلْيَتْبَعِ الشَّمْسَ وَيَتَّبِعُ مَنْ كَانَ يَعْبُدُ الْقَمَرَ الْقَمَرَ وَيَتَّبِعُ مَنْ كَانَ يَعْبُدُ الطَّوَاغِيتَ الطَّوَاغِيتَ وَتَبْقَى هَذِهِ الْأُمَّةُ فِيهَا مُنَافِقُوهَا فَيَأْتِيهِمُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى فِي صُورَةِ غَيْرَ صُورَتِهِ الَّتِي يَعْرِفُونَ فَيَقُولُ أَنَا رَبُّكُمْ فَيَقُولُونَ نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْكَ هَذَا مَكَانَنَا حَتَّى يَأْتِينَا رَبُّنَا فَإِذَا جَاءَنَا عَرَفْنَاهُ فَيَأْتِيهِمُ اللَّهُ تَعَالَى فِي صُورَتِهِ الَّتِي يَعْرِفُونَ فَيَقُولُ أَنَا رَبُّكُمْ فَيَقُولُونَ أَنْتَ رَبُّنَا فَيَمُرُّونَ وَيُضْرَبُ الصِّرَاطُ بَيْنَ ظَهْرَيْ جَهَنَّمَ فَأَكُونُ أَنَا وَأُمَّتِي أَوَّلَ مَنْ يُجِيزُ وَلَا يَتَكَلَّمُ يَوْمَئِذٍ إِلَّا الرُّسُلُ وَدَعْوَى الرُّسُلِ يَوْمَئِذٍ اللَّهُمَّ سَلَّمْ سَلَّمْ وَفِي جَهَنَّمَ كَلَالِيبُ مِثْلُ شَوْكِ السَّعْدَانِ هَلْ رَأَيْتُمُ السَّعْدَانَ قَالُوا نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ فَإِنَّهَا مِثْلُ شَوْكِ السَّعْدَانِ غَيْرَ أَنَّهُ لَا يَعْلَمُ مَا قَدْرَ عِظَمِهَا إِلَّا اللَّهُ تَخْطَفُ النَّاسَ بِأَعْمَالِهِمْ فَمِنْهُمُ الْمُؤْمِنُ بَقِيَ بِعَمَلِهِ وَمِنْهُمُ الْمُجَازَى حَتَّى يُنَجَّى.
পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখতে কি তোমাদের সমস্যা হয়? তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! সমস্যা হয় না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার বললেন, মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য দেখতে কি তোমাদের সমস্যা হয়? তারা বলল—হে আল্লাহর রাসূল, না। (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—) তোমরা এভাবেই আল্লাহকে দেখবে। তিনি কিয়ামতের দিন সকল মানুষকে জামায়েত করে বলবেন—যে যার ইবাদত করতে, সে তার অনুগামী হও! সুতরাং সূর্যপূজারিরা তার অনুগামী হবে, চন্দ্রপূজারিরা তার অনুগামী হবে, প্রতিমাপূজারিরা সেগুলোর অনুগামী হবে। বাকি থাকবে এই উম্মত এবং তার মুনাফিকরা। তখন আল্লাহ তাআলা তার পরিচিতরূপ ভিন্ন অন্যরূপে আসবেন এবং বলবেন—আমি তোমাদের রব। তখন তারা বলবে, তোমার থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। এটাই আমাদের অবস্থান—আমাদের রব আসা পর্যন্ত। অতঃপর যখন আমাদের রব আসবেন, আমরা তাকে চিনতে পারব। তখন আল্লাহ তাআলা পরিচিতরূপে আসবেন এবং বলবেন—আমি তোমাদের রব। তখন তারা বলবে, আপনি আমাদের রব, অতঃপর তার অনুগামী হবে। জাহান্নামের ওপর পুলসিরাত লাগানো হবে। তখন আমি এবং আমার উম্মত প্রথম তা অতিক্রম করব। সেদিন কেবল রাসূলগণই কথা বলতে পারবে। সেদিন রাসূলগণের দুআ হবে—হে আল্লাহ! নিরাপদ রাখো, হে আল্লাহ! নিরাপদ রাখো। জাহান্নামে কাঁটাযুক্ত গাছের মতো পেরেক থাকো। তোমরা কাঁটাযুক্ত গাছ দেখেছ? সাহাবায়ে কিরাম বললেন—হ্যাঁ! রাসূলুল্লাহ! হ্যাঁ, দেখেছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—জাহান্নামের পেরেকগুলো হবে কাঁটাযুক্ত গাছের মতো। তবে সেগুলোর ভয়াবহতা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। সেগুলো মানুষের আমলের কারণে তাদেরেক তুলে নেবে। তাদের মাঝে কেউ আমলের কারণে ধ্বংস হবে, এবং কেউ অতিক্রম করে মুক্তি পাবে。
হাদিসের মর্মার্থ হলো—জান্নাতিদেরকে আল্লাহ তাআলা নিজের দিদার—দর্শন দিয়ে ধন্য করবেন। তাদের সামনে নিজেকে প্রকাশ করবেন। আর তা এমনভাবে যে, দেখার সময় কেউ কারও সামনে অন্তরায় হবে না, দেখতে কষ্ট হবে না, ভীড় হবে না এবং স্বাভাবিকভাবে চাঁদ দেখার মতো স্বচ্ছতাও হবে না। বরং সূর্য দেখার মতো এবং পূর্ণিমার চাঁদ দেখার মতো সবাই একসাথে দেখতে পাবে।
টিকাঃ
[১০০] কাঁটাযুক্ত এই গাছটি উটের উৎকৃষ্ট খাবারের তালিকার কাঁটা কেউ কেউ কাঁটাযুক্ত খেজুর গাছ অর্থও করেছেন。
[১০০] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৪২০, হাদিস: ২৬৭。