📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 বান্দাকে জিজ্ঞাসিতব্য বিষয় এবং জিজ্ঞাসার পদ্ধতি

📄 বান্দাকে জিজ্ঞাসিতব্য বিষয় এবং জিজ্ঞাসার পদ্ধতি


আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—
إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا
নিশ্চয় কান, চক্ষু ও অন্তঃকরণ এদের প্রত্যেকটি জিজ্ঞাসিত হবে। [সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ৩৬]
আরও ইরশাদ হয়েছে—
ثُمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ فَبِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
অতঃপর আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন আমি যাগুলো দেবো, যা কিছু তোমরা করত। [সূরা ইউনুস, আয়াত: ২৩]
অন্যান্য ইরশাদ হয়েছে—
قُلْ بَلَى وَرَبِّي لَتُبْعَثُنَّ ثُمَّ لَتُنَبَّؤُنَّ بِمَا عَمِلْتُمْ ۚ وَذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ বলুন, অবশ্যই হবে, আমার পালনকর্তার কসম, তোমরা নিশ্চয় পুনরুত্থিত হবে, অতঃপর তোমাদের অবহিত করা হবে যা তোমরা করতে; এটা আল্লাহর পক্ষে অতি সহজ। [সূরা তাগাবুন, আয়াত : ৭]
কুরআন কারিম আরও বলেছে— فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করবে, সে তা দেখতে পারবে। [সূরা যিলযাল, আয়াত : ৮] অর্থাৎ অণু পরিমাণ পাপ সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করা হবে এবং তার বদলা দেওয়া হবে। আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন— ثُمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ তারপর অবশ্য অবশ্যই তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে (ভোগকৃত) নিয়ামত সম্পর্কে। [সূরা তাকাসুর, আয়াত : ৮]
আবু বারজাহ আল-আসলামি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন— لَا تَزُولُ قَدَمَا عَبْدٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى تُسْأَلَ عَنْ عُمُرِهِ فِيمَا أَفْنَاهُ وَعَنْ عِلْمِهِ فِيمَا فَعَلَ وَعَنْ مَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ وَفِيمَ أَنْفَقَهُ وَعَنْ جِسْمِهِ فِيمَ أَبْلَاهُ কিয়ামতের দিন ততক্ষণ পর্যন্ত বান্দার দু পা নড়াচড়া করতে পারবে না, যতক্ষণ জিজ্ঞেস করা না হবে—তার জীবন সম্পর্কে, সে তা কোথায় ব্যয় করেছে; তার ইলম সম্পর্কে, সে তা কোন কাজে লাগিয়েছে; তার অর্থ সম্পর্কে, সে তা কোথা থেকে উপার্জন করেছে এবং কোথায় ব্যয় করেছে এবং তার শরীর সম্পর্কে—সে তা কোথায় নষ্ট করেছে。
সাফওয়ান ইবনু মুআত্তাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, জনৈক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, আপনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নাজওয়া সম্পর্কে কীভাবে বলতে শুনেছেন? ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বললেন, আমি তাকে বলতে শুনেছি— কিয়ামতের দিন মুমিনকে আল্লাহর নিকটবর্তী করা হবে, এমনকি সীমাহীন তাআলাকি তাকে একান্তে নিজের কাছে নিয়ে তার পাপরাশি সম্পর্কে স্বীকৃতিও করাবেন। তারপর তাকে বলবেন—তুমি এগুলোর কথা জানো? স্বীকারোক্তি করলে। তারপর তাকে বলবেন, আমি দুনিয়াতে সে বলবে, হে আমার রব! আমি জানি। আল্লাহ বলবেন, আমি দুনিয়াতে তোমার এই অপরাধগুলো গোপন করে রেখেছিলাম, আর আজকে সেগুলো ক্ষমা করে দিচ্ছি। অতঃপর তার নেককাজের আমলনামা দেওয়া হবে। আর কাফির ও মুনাফিকদেরকে সমস্ত সৃষ্টির সামনে ডেকে বলা হবে—এরাই পৃথিবীতে আল্লাহ তাআলার ওপর মিথ্যাচারণ করেছিল。

টিকাঃ
[১০০] সুনানুত তিরমিযি, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা : ৪৪৬, হাদিস : ২০৪৬。
[১০১] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ১০, পৃষ্ঠা : ৩৪৫, হাদিস : ৪৮৭২。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 আল্লাহ তাআলা বান্দার সাথে দোভাষী ছাড়াই কথা বলবেন

📄 আল্লাহ তাআলা বান্দার সাথে দোভাষী ছাড়াই কথা বলবেন


ইমাম বুখারি ও হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং পরিশেষে বলেছেন— هَؤُلَاءِ الَّذِينَ كَذَبُوا عَلَى اللَّهِ أَلَا لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الظَّالِمِينَ এরাই সেসব লোক—যারা তাদের পালনকর্তার প্রতি মিথ্যাচারোপ করেছিল, শুনে রাখো, জালিমদের ওপর আল্লাহ তাআলার অভিশাপ রয়েছে। [সূরা হুদ, আয়াত : ১৮]
আবু ইবনু হাতিম রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন— আল্লাহ তাআলা সবার সাথেই কথা বলবেন, তার মাঝে ও আল্লাহর মাঝে কোনো দোভাষী থাকবে না। সে ডান দিকে তাকালেও নিজের প্রেরিত আমলই দেখতে পারবে, বাম দিকে তাকালেও নিজের প্রেরিত আমলই দেখতে পারবে। সামনে তাকালে নিজের সামনে কেবল জাহান্নামই দেখতে পারবে। অতএব, এক টুকরো খেজুর দিয়ে (আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে) হলেও জাহান্নাম থেকে বাঁচো。

টিকাঃ
[১০২] সহিহ বুখারি, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ১২৪, হাদিস : ১৩৪৮。
[১০৩] সহিহ বুখারি, খণ্ড : ১০, পৃষ্ঠা : ১৪৫, হাদিস : ৬০৫৩。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 কিয়ামতের দিন হবে ইনসাফ ও বদলা নেওয়ার দিন

📄 কিয়ামতের দিন হবে ইনসাফ ও বদলা নেওয়ার দিন


আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
لَتُؤَدُّنَّ الْحُقُوقَ إِلَى أَهْلِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُقَادَ لِلشَّاةِ الْجَلْحَاءِ مِنَ الشَّاةِ الْقَرْنَاءِ কিয়ামতের দিন অধিকারীর অধিকার প্রদান করা হবে। এমনকি শিংহীন ছাগলকে শিংযুক্ত ছাগল থেকে বদলা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে。
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন— যদি কারও কাছে তার ভাইয়ের কাছ জুলুম নেওয়া কোনো বস্তু থাকে, তাহলে সে যেন আজকেই তার কাছ থেকে তা শেষ করে নেয়। কেননা, পরে অর্থ-কড়িও নাও থাকতে পারে; সেই ক্ষতিটি আসার পূর্বে—যখন তার ভাইয়ের জন্য তার সওয়াব থেকে জুলুমের বিনিময় দেওয়া হবে; নেকি না থাকলে ভাইয়ের গুনাহ তার ওপর চাপানো হবে。
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন— ‘তোমরা কি জানো প্রকৃত নিস্ব কে?’ সাহাবাগণ বললেন, নিস্ব তো সেই ব্যক্তি যার কাছে অর্থসম্পদ কিছু নেই। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার উম্মতের মধ্যে নিস্ব তো ওই ব্যক্তি—যে কিয়ামতের দিন নামাজ, রোজা, যাকাত নিয়ে হাজির হবে; কিন্তু সে কাউকে গালি দিয়েছে, কারও ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করেছে, কারও সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করেছে, অন্যায়ভাবে কারও রক্ত প্রবাহিত করেছে বা কাউকে প্রহার করেছে। সুতরাং একজনকে নেকি দেবে, আরেকজনকে নেকি দেবে। যদি সবার অধিকার আদায়ের পূর্বেই তার নেকি শেষ হয়ে যায়, তাহলে হকদারদের গুনাহ তার ওপর চাপানো হবে, তারপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে。
আমরা যখন এটা স্বীকার করব, তখন প্রতিটি মুসলিমের ওপর জরুরি হবে, নিজের নফসের হিসাবের প্রতি সজাগ হওয়া। যেমন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন—
حَاسِبُوا أَنْفُسَكُمْ قَبْلَ أَنْ تُحَاسَبُوا وَزِنُوا قَبْلَ أَنْ تُوزَنُوا তোমরা নিজেদের হিসাব নাও হিসাব করার পূর্বে এবং নিজের আমল পরিমাপ করো—তোমাদের আমল পরিমাপ করার পূর্বে।
তো নিজের হিসাব নিজে কীভাবে করতে হবে? পদ্ধতি হলো—মৃত্যুর পূর্বে সমস্ত পাপের থেকে একনিষ্ঠভাবে তাওবা করতে হবে। আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে ফরজকৃত ছুটে যাওয়া বিধানগুলোকে পূর্ণ করতে হবে। মাজলুমদের অধিকারগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ বুঝিয়ে দিতে হবে। যাদেরকে কষ্ট দেওয়া হয়েছে—সেটা মুখ দিয়ে হোক, হাত দিয়ে হোক, হৃদয়ের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হোক—সকলকে সন্তুষ্ট করতে হবে। যেন মৃত্যুর মুহূর্তে তার দায়িত্বে কোনো ফরজ বা জুলুম অবশিষ্ট না থাকে। এমন ব্যক্তি বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
আর যদি মাজলুমের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার পূর্বেই মারা যায়, তাহলে সকল হকদার জমা হবে। তারপর কেউ তার হাত ধরবে, কেউ কপালের চুল ধরবে, কেউ তার গলা ধরবে। একজন বলবে, আমার প্রতি তুই জুলুম করেছিস, আরেকজন বলবে—আমাকে গালি দিয়েছিস। আরেকজন বলবে—আমাকে উপহাস করেছিস। অন্যজন বলবে—পঁচাতে আমার নিন্দা করেছিস। আরেকজন বলবে—আমি তোর প্রতিবেশী ছিলাম, আমার সাথে অসদাচরণ করেছিস। একজন বলবে—আমাকে কাজ দিয়ে প্রতারণা করেছিস। আরেকজন বলবে—আমার কাছে পণ্য বিক্রয় করেছিস দোষ গোপন রেখে। কেউ বলবে—আমাকে অভাবী দেখেছিলে অথচ তুই ধনাঢ্য ছিলি, তারপরও আমার আহরণের ব্যবস্থা করিসনি। অন্যজন বলবে—আমাকে মাজলুম পেয়েছিলি, ওদিকে তুই জুলুমের প্রতিরোধ করার ক্ষমতা রাখিস; কিন্তু তুমি জালিমের সাথে সখ্য করেছিলে, আমার প্রতি কোনোশঙ্কার সহানুভূতি দেখাসনি। (অতএব, এগুলোর ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে)।

টিকাঃ
[১০৬] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ১৯, পৃষ্ঠা : ৪৩০, হাদিস : ৪৬৭৯。
[১০৭] সহিহ বুখারি, খণ্ড : ১০, পৃষ্ঠা : ১৪৫, হাদিস : ৬০৫৩。
[১০৮] সহিহ বুখারি, খণ্ড : ১২, পৃষ্ঠা : ৪২২, হাদিস : ৬৪২৪。
[১০৯] তিরমিযি, আলোচ্য হাদিসে বুঝানো হয়েছে, ঐ ব্যক্তির আমলনামায় নামাজ-রোজা সহ আসল থাকার পরও সে কিয়ামতের দিন নিস্ব হয়ে যাবে। কারণ, তার নেকি ওই সকল লোকের দিয়ে দিতে হবে; দুনিয়াতে যাদের হক সে নষ্ট করেছে—সম্পাদক。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 প্রথমে বান্দার যা হিসাব হবে

📄 প্রথমে বান্দার যা হিসাব হবে


আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন— أَوَّلُ مَا يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي الدِّمَاءِ কিয়ামতের দিন মানুষের মাঝে প্রথম হত্যা সম্পর্কে ফায়সালা করা হবে。
(কিয়ামতের দিন) ‘প্রথমত বান্দার নামাজের হিসাব গ্রহণ করা হবে এবং মানুষের পরস্পরের মাঝে প্রথমে হত্যার বিচার হবে।’
আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেছেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—‘কিয়ামতের দিন নিজকে তার হকদারদেরকে খবর নিয়ে আসা হবে, তখন হত্যাকারী কপালের চুল ও মাথার দিক থেকে তাকে রগগুলো থেকে ধরে বের করা হবে। নিহত ব্যক্তি বলবে—হে আমার রব! এই লোকটি আমাকে হত্যা করেছে, এভাবে তাকে আরশের কাছে নিয়ে যাওয়া হবে।’
আর হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন— কিয়ামতের দিন প্রথমত মানুষের আমলগুলোর মাঝে নামাজের হিসাব গ্রহণ করা হবে। আমাদের রব আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে ভালো ভাবে জানা সত্ত্বেও ফিরিশতাদেরকে বলবেন, আমার বান্দার নামাজগুলো দেখো তো পূর্ণ করেছে নাকি অসম্পূর্ণ রেখেছে! যদি পূর্ণ হয়, তাহলে পূর্ণ লিখে দেওয়া হবে। আর যদি অসম্পূর্ণ থাকে, তাহলে ফিরিশতাদেরকে বলবেন—দেখো তো তার কোনো নফল ইবাদত আছে কি না? যদি তার নফল ইবাদত থাকে, তাহলে আল্লাহ তাআলা বলবেন—তার নফল থেকে ফরজগুলোকে পূর্ণ করে দাও। পরে এর ওপর ভিত্তি করেই অন্যান্য আমল গ্রহণ করা হবে。
উলামায়ে কিরাম বলেছেন—নফল ইবাদতের মাধ্যমে ফরজ ইবাদতের অপূর্ণতা পূরণ করে দেওয়া হবে কেবল সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে—যার থেকে অনিচ্ছাকৃত ভুল কোনো ফরজ ছুটে গেছে, অথবা নামাজের রুকু সিজদা সুন্দরভাবে আদায় করতে পারেনি এবং সে তা বুঝতেও পারেনি। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে গোটা নামাজ বা তার কোনো গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছেড়ে দিয়েছে, মনে হওয়ার পর তা আদায় করেনি বরং পরবর্তী সময়ে ফরজের কথা মনে হওয়া সত্ত্বেও নফলও মত হয় না, তাহলে এমন ব্যক্তির ফরজের অপূর্ণতা নফল দিয়ে পূরণ করা হবে না। আল্লাহই ভালো জানেন।
অতএব, আমাদের কর্তব্য হলো—ফরজ আদায়ে যত্নবান হওয়া এবং আল্লাহ তাআলা যেভাবে নির্দেশ করেছেন সেভাবেই আদায় করা। যেমন রুকু সিজদা পূর্ণ করা, কলবকে উপস্থিত রেখে নামাজ আদায় করা। যদি এগুলোর কোনোটিতে উদাসীনতা এসে থেকে, তাহলে নফল দ্বারা তা পূর্ণ করার চেষ্টা করা। এ ব্যাপারে কোনোপ্রকার অবহেলা করবেন না এবং ছেড়েও দেবেন না। যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে ফরজ নামাজ পড়তে পারে না, সে নফল ইবাদতও ভালোভাবে পালন না করার পথ খোঁজে। কী সাংঘাতিক ব্যাপার! বরং মানুষ তো চূড়ান্ত পর্যায়ে অসম্পূর্ণতা ও বিফলতার নফল ইবাদত করে। কারণ, তারা মনে করে নফল তো হালকা, নফল তো গুরুত্বপূর্ণ।
আল্লাহপাক কসম! বরং বর্তমান যুগে দেখা যায়—যেই লোকটি মানুষের অনুসরণীয় বলে খ্যাত, যার ইলমের আলোচনা হয়, সেও এভাবে নফল আদায় করে। বরং সে ফরজ নামাজও আদায় করে মুরগির ঠোকরের মতো। তাহলে নামাজ সম্পর্কে জাহিরিরা কী করবে! যদি এটাই বাস্তবতা হয়, তাহলে এমন নফল দিয়ে ফরজের অসম্পূর্ণতা কীভাবে পূর্ণ হবে? আফসোস! আফসোস!
মনে রাখবেন, যদি এমনই হয় নামাজের অবস্থা, তাহলে সেই নামাজি ব্যক্তিও আল্লাহ তাআলার এই ঘোষণার অন্তর্ভুক্ত হবে। যেখানে আল্লাহ তাআলা বলেছেন—
فَخَلَفَ مِنۢ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَٱتَّبَعُواْ ٱلشَّهَوَٰتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّاۗ
অতঃপর তাদের পরে এলো অপরাধী স্থলাভিষিক্তরা। তারা নামাজ নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসারী হলো। সুতরাং তারা অচিরেই পথভ্রষ্টতা প্রত্যক্ষ করবে। [সুরা মারইয়াম, আয়াত: ৫৯]

টিকাঃ
[১১০] সহিহ মুসলিম, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ৩০, হাদিস : ৩১৭৮。
[১১১] সুনানুন নাসায়ি, খণ্ড : ১২, পৃষ্ঠা : ৩৪২, হাদিস : ৩১২৬。
[১১৩] সুনানুন তিরমিযি, খণ্ড : ১০, পৃষ্ঠা : ২৩১, হাদিস : ২৪৫৫। ইমাম তিরমিযি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, হাদিসটি হাসান গারিব。
[১১৩] সুনানু আবু দাউদ, খণ্ড : ৩, পৃষ্ঠা : ২৮, হাদিস : ৭৬৭; সুনানুন তিরমিযি : হাদিস : ৪১৩; সুনানুন নাসায়ি : হাদিস : ৪৬২。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00