📄 পুনরুত্থানের বিবরণ এবং দুনিয়ায় তার আলামত
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন— وَ هُوَ الَّذِي يُرْسِلُ الرِّيٰحَ بُشْرًا بَيْنَ يَدَيْ رَحْمَتِهِ ۖ حَتّٰى إِذَا أَقَلَّتْ سَحَابًا ثِقَالًا سُقْنَاهُ لِبَلَدٍ مَيِّتٍ فَأَنْزَلْنَا بِهِ الْمَاءَ فَأَخْرَجْنَا بِهِ مِن كُلِّ الثَّمَرَاتِ ۚ كَذٰلِكَ نُخْرِجُ الْمَوْتٰى لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنَ তিনিই বৃষ্টির পূর্বে সুসংবাদবাহী বায়ু পাঠান। এমনকি যখন বায়ুরাশি পানিপূর্ণ মেঘমালা বয়ে আসে, তখন আমি এ মেঘমালাকে একটি মৃত শহরের দিকে হাঁকিয়ে দিই। অতঃপর মেঘ থেকে বৃষ্টিধারা বর্ষণ করি। অতঃপর পানি দ্বারা সবরকমের ফল উৎপন্ন করি; এমনিভাবে আমি মৃতদের বের করব, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো। [সূরা আরাফ, আয়াত: ৫৭] আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন— اللَّهُ الَّذِي يُرْسِلُ الرِّيٰحَ فَتُثِيرُ سَحَابًا فَيَبْسُطُهُ فِي السَّمَاءِ كَيْفَ يَشَاءُ وَ يَجْعَلُهُ كِسَفًا فَتَرَى الْوَدْقَ يَخْرُجُ مِنْ خِلَالِهِ ۖ فَإِذَا أَصَابَ بِهِ مَن يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ إِذَا هُمْ يَسْتَبْشِرُوْنَ ۖ وَ إِن كَانُوا مِن قَبْلِ أَن يُنَزَّلَ عَلَيْهِم مِّن قَبْلِهِ لَمُبْلِسِينَ ۖ فَانْظُرْ إِلَى آثَارِ رَحْمَتِ اللَّهِ كَيْفَ يُحْيِي الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ۖ إِنَّ ذٰلِكَ لَمُحْيِي الْمَوْتٰى ۖ وَ هُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ তিনি আল্লাহ! যিনি বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর তা মেঘমালাকে সঞ্চারিত করেন। অতঃপর তিনি মেঘমালাকে যেভাবে ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন এবং তাকে স্তরে স্তরে রাখেন। এরপর ভূমি দেখতে পাও, তার মধ্যে থেকে আরও ইরশাদ হয়েছে— وَّ لَا نَعْصِمُكُمْ إِلَّا كَنَفْسٍ وَّاحِدَةٍ ‘তোমাদের উত্থান হবে একটি প্রাণের মতো (একসাথে সহগুলো)।’ [সূরা লুকমান, আয়াত: ২৮]
নিবিড় বৃষ্টিধারা। তিনি তার বান্দাদের মধ্যে যাদেরকে ইচ্ছা পৌঁছান, তখন তারা আনন্দিত হয়। তারা প্রথম থেকেই তাদের প্রতি এই বৃষ্টি বর্ষিত হওয়ার পূর্বে নিরাশ ছিল। অতএব, আল্লাহর রহমতের ফল দেখে নাও, কিভাবে তিনি মৃত্তিকতার মৃত্যু পর তাকে জীবিত করেন। নিশ্চয় তিনি মৃতদেরকে জীবিত করবেন এবং তিনি সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান। [সূরা রূম, আয়াত: ৪৮-৫০] আরও ইরশাদ হয়েছে— فَأَحْيَيْنَا بِهِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ۚ كَذٰلِكَ النُّشُوْرُ অতঃপর এর মাধ্যমে ওই মৃত্তককে মৃত্যু পর সঞ্জীবিত করে দিই। এমনিভাবে হবে পুনরুত্থান। [সূরা ফাতির, আয়াত: ৯]
📄 প্রত্যেককে তার পূর্বের অবস্থায় পুনরুত্থিত করা হবে
জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নাবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি— يُبْعَثُ كُلُّ عَبْدٍ عَلٰى مَا مَاتَ عَلَيْهِ প্রতিটি বান্দাকে এমন অবস্থায় পুনরুত্থিত করা হবে—যে অবস্থায় সে মারা গেছে。
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন— ওই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাহে আহত হয়, আর আল্লাহ খুব ভালোবাসেন। জানেন—কে তার পথে আহত হয়েছে, সে ব্যক্তি এমনভাবে কিয়ামতের দিন উঠবে যে, তার শরীরে থাকবে রক্ত এবং মিশকের সুঘ্রাণ。
কুরআন কারিমে ইরশাদ হয়েছে—
ٱلَّذِينَ يَأْكُلُونَ ٱلرِّبَوٰا۟ لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ ٱلَّذِى يَتَخَبَّطُهُ ٱلشَّيْطَٰنُ مِنَ ٱلْمَسِّ ۗ যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতে এমনভাবে দণ্ডায়মান হবে, যেভাবে দণ্ডায়মান হয় ওই ব্যক্তি—যাকে শয়তান আছর করে মোহাবিষ্ট করে দেয়। [সূরা বাকারা, আয়াত: ২৭৫]
সুদখোরগণ বলেছেন—সুদখোর কিয়ামতের দিন সমস্ত হাশরবাসীর সামনে সুদখোরীর শাস্তিস্তরূপ ঘৃণিত পাগল হয়ে পুনরুত্থিত হবে। সুদ ভক্ষণের আলামত হিসেবে আল্লাহ তাআলা এই রূপ দেবেন। কারণ, যে সুদ খেয়ে পেট ভারী করেছে, সুতরাং তারা যখন কবর থেকে বের হবে, পেট বড় ও ভারী হওয়ার কারণে উঠতে উঠতে-পড়তে পড়তে চলতে থাকবে। আল্লাহ তাআলার কাছে গুনাহ থেকে মুক্তি চাই, শান্তি চাই এবং দুনিয়া ও আখিরাতে নিরাপত্তা চাই।
আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন— وَمَن يَغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ ۚ আর যে ব্যক্তি (গনিমতের মাল হতে) খিয়ানত করবে, কিয়ামতের দিবসে খিয়ানতের বস্ত্ত নিয়ে উপস্থিত হবে। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৬১]
টিকাঃ
[৪৯] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ৪৪, হাদীস: ৫১২৬。
[৫০] সহীহ বুখারী, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৩৭২, হাদীস: ২১২০; সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৪৫০, হাদীস: ৪৪৬৯。
📄 কিয়ামতের দিন মানুষ কোথায় অবস্থান করবে?
কুরআন কারিমে ইরশাদ হয়েছে— يَوْمَ تُبَدَّلُ ٱلْأَرْضُ غَيْرَ ٱلْأَرْضِ وَٱلسَّمَٰوَٰتُ ۖ যেদিন পরিবর্তিত করা হবে এ পৃথিবীকে অন্য পৃথিবীতে এবং তদ্রূপ আকাশকেও। [সূরা ইবরাহিম, আয়াত: ৪৮]
আয়িশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উপর্যুক্ত আমলের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলো—সেদিন মানুষ কোথায় অবস্থান করবে? জবাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন— পুলসিরাতের ওপর。
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামতের দিন সমস্ত জমিনকে আল্লাহ তাআলা মুঠোয় ধারণ করবেন এবং আকাশগুলোকে তাঁর ডান হাতে দুমড়িয়ে রাখবেন, তখন মুমিনরা কোথায় অবস্থান করবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাবে বললেন— عَلَى ٱلصِّرَٰطِ হে আয়িশা, পুলসিরাতের ওপর。
ইমাম তিরমিজি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন—হাদিসটি হাসান সহীহ।
এই হাদিসগুলো প্রমাণ করে যে—এই আকাশ ও জমিনসমূহ থাকবে না, এ গুলোকে পরিবর্তন করা হবে, আল্লাহ তাআলা অন্য জমিন সৃষ্টি করবেন, পুলসিরাতে পাড়ি দিয়ে আসার পর মানুষেরা সেখানে অবস্থান করবে। কিন্তু মানুষের মন্তব্য—মৌলিক জমিনকে পরিবর্তন করা হবে না; বরং জমিনের গুণাগুণ পরিবর্তন করা হবে, আকার্বাকা সোজ হয়ে হবে, পাহাড়গুলো সমতল করা হবে এবং জমিনকে প্রলম্বিত করা হবে; তাদের এই মন্তব্য বিশুদ্ধ নয়।
টিকাঃ
[৩৭] সহীহ মুসলিম, খণ্ড : ১০, পৃষ্ঠা : ৩৭১, হাদিস : ৪২৯৯; সুনান ইবনু মাজাহ, খণ্ড : ১২, পৃষ্ঠা : ৩৬৬, হাদিস : ৪২৯৯。
[৩৮] সুনানুত তিরমিজি, খণ্ড : ১১, পৃষ্ঠা : ৩৫, হাদিস : ৩১৯২。