📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 রাব্বে কারিম ছাড়া সবকিছু ধ্বংস হবে

📄 রাব্বে কারিম ছাড়া সবকিছু ধ্বংস হবে


আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—
يَقْبِضُ اللَّهُ الْأَرْضَ وَيَطْوِي السَّمَوَاتِ بِيَمِينِهِ ثُمَّ يَقُولُ أَنَا الْمَلِكُ أَيْنَ
مُلُوكُ الْأَرْضِ.
আল্লাহ জমিনকে তার হাতে নেবেন, আকাশগুলো তার ডান হাতে দুমড়িয়ে ফেলবেন, তারপর বলবেন—আমিই বাদশাহ; দুনিয়ার বাদশাহরা কোথায়?
আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন আকাশগুলোকে দুমড়িয়ে ফেলবেন, তারপর সেগুলোকে তার ডান হাতে নিয়ে বলবেন—আমিই বাদশাহ, আজ দুনিয়ার জালিম ও অহংকারীরা কোথায়? তারপর বাম হাত দ্বারা জমিনগুলোকে দুমড়িয়ে বলবেন—আমিই বাদশাহ; আজ দুনিয়ার জালিম ও অহংকারীরা কোথায়?
আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
আল্লাহ তাআলা তার আকাশ ও জমিনগুলো নিজের দু'হাতে ধারণ করবেন, তারপর বলবেন—আমিই আল্লাহ। তারপর নিজের অঙ্গুলগুলোকে সংকুচিত করবেন এবং প্রশ্ন করে বলবেন—আমিই মালিক。
বর্ণনাকারী বলেন—এমনকি আমি মিশরের দিকে দেখলাম—মিশরের নিচুটা কাঁপছে। যার কারণে আমি সঙ্গসাহি বলে ফেললাম—মিশরাটি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে পড়ে যাবে?
এই হাদিসগুলো প্রমাণ করে, আল্লাহ তাআলা তার সমস্ত সৃষ্টিকে ধ্বংস করবেন, যেমন পূর্বে বলা হয়েছে। তারপর আল্লাহ তাআলা বলবেন—
لِمَنِ الْمُلْكُ الْيَوْمَ
আজকের বাদশাহি কার? তারপর নিজের পক্ষ থেকেই জবাব দেবেন—
لِلَّهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ
পরাক্রমশালী এক আল্লাহর। [সূরা গafir, আয়াত: ১৬]

টিকাঃ
[৬৮] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ২০০, হাদিস: ৫২৫৩; সুনান ইবনু মাজাহ, খণ্ড: ১২, পৃষ্ঠা: ৩২১, হাদিস: ৪২৪৬。
[৬৯] সহীহ বুখারী, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ১৯, হাদিস: ৪৪৩৬。
[৭০] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ৩৫৯, হাদিস: ৪২২৫。
[৭১] সহীহ বুখারী, খণ্ড: ১৫, পৃষ্ঠা: ৩৭১, হাদিস: ৭৪৩১。
[৭২] কোনো কোনো ওলামায়ে কিরাম এই আয়াতের পরিপ্রেক্ষিতে কিয়ামতের পর দুনিয়ার মতো শুভ জমিনের অনেক আয়াতও গ্রহণ করেছেন। সেগুলোকে তারা জান্নাতের ভূমি আখ্যা দিয়েছেন। আর বলেছেন—আজকের বাদশাহি কার? তখন আল্লাহই নিজে জবাব দেবেন—পরাক্রমশালী এক আল্লাহর। ইবনু মাসউদ জুহুরী এই বর্ণনার ব্যাখ্যা দেন। ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আল্লাহ তাআলা এক দুনিয়াকে ধ্বংস করে আরেকটি দুনিয়া সৃষ্টি করবেন, যার মাঝে দুনিয়ার মতো সকল কিছু হবে। এর ভিত্তিতেই ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু ও ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বর্ণনাটি সহীহ। আর এখন বিশাল দুনিয়া ও দাজ্জালদের

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 বরজখের জীবন

📄 বরজখের জীবন


কাতাদাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও মুজাহিদকে আল্লাহ তাআলার কালাম—
وَمِنْ وَرَائِهِمْ بَرْزَخٌ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ
তাদের সামনে বারযাখ-পর্দা আছে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত। [সূরা মুমিনুন, আয়াত: ১০০]
সম্পর্কে জিজ্ঞেস করালাম। জবাবে মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, বারযাখ হলো—মৃত্যু ও কিয়ামত মধ্যবর্তী সময়।
ইমাম শাবি'কে বলা হলো, অমুক ব্যক্তি মারা গেছে। জবাবে তিনি বললেন, সে দুনিয়াতেও নেই, আখিরাতেও নেই। বরং সে রয়েছে বারযাখে। আরবি ভাষায় বারযাখ বলা হয়—দুই বস্তুর মাঝের অন্তরায়কে। এই অর্থেই কুরআন কারিমে ইরশাদ হয়েছে—
وَجَعَلَ بَيْنَهُمَا بَرْزَخًا
এবং আল্লাহ তাআলা উভয়ের মাঝে অন্তরায় বানিয়েছেন। [সূরা ফুরকান, আয়াত: ৫৩]
এমনিভাবে বারযাখ শব্দটি মৃত্যু থেকে কিয়ামত পর্যন্ত সময়টির জন্যও ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি মারা যায়, সে বারযাখে প্রবেশ করে। এই অর্থেই কুরআন কারিমে ইরশাদ হয়েছে—
وَمِنْ وَرَائِهِمْ بَرْزَخٌ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ
তাদের সামনে বারযাখ-পর্দা আছে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত। [সূরা মুমিনুন, আয়াত: ১০০]
অর্থাৎ তাদের সামনে, তাদের কাছে কিয়ামত পর্যন্ত বারযাখ রয়েছে।

টিকাঃ
[৭৩] প্রথমত ইমাম কুরতুবি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন—প্রথম মতটিই অধিক প্রনিধানযোগ্য। কেননা, আয়াতের উদ্দেশ্য হলো—হাশরিও পুনরুত্থানের বিভেদক সময় আল্লাহ তাআলার অবস্থানের একত্র প্রকাশ করা। কারণ, যখন প্রতিটি আনা ও তাদের মাঝে দলে দলে প্রবেশকারী মালিহ, অহংকারী এবং তাদের রাজত্ব বিনাশ হয়ে যাবে। তাদের ওপরও প্রতিফল দেওয়া হবে। আর এটি পাঠ—একটি মিথ্যা হিসাব। কাসির এবং মু'তামাদ ইবনু কায়াদ রাহিমাহুল্লাহ এই মত ব্যক্ত করেছেন। আল্লাহ তাআলার কালাম—
إِنَّ اللَّهِ ابْنَ مَلِكِ الْأَرْضِ.
'আমিই বাদশাহ! দুনিয়ার বাদশাহরা কোথায়?'—এর তাফসির।

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 দ্বিতীয় ফুঁৎকার

📄 দ্বিতীয় ফুঁৎকার


وَ أَلْقَتْ مَا فِيْهَا وَ تَخَلَّتْ এবং পৃথিবী তার গর্ভস্থিত সবকিছু বাহিরে নিক্ষেপ করবে ও শূন্যগর্ভ হয়ে যাবে। [সূরা ইনশিকাক, আয়াত: ৪] আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন— يَوْمَ يَنْفُخُ فِي الصُّوۡرِ عِلْمُ الْغَيْبِ وَ الشَّهَادَةِ যেদিন সিঙায় ফুঁৎকার দেওয়া হবে, সেদিন তাঁরই আধিপত্য হবে। তিনি অদৃশ্য বিষয় এবং প্রত্যক্ষ বিষয়ে জ্ঞাত। [সূরা আনআম, আয়াত: ৭৫] আরও ইরশাদ করেছেন— فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّوۡرِ فَلَا أَنْسَابَ بَيْنَهُم يَوْمَئِذٍ وَلَا يَتَسَاءَلُوْنَ অতঃপর যখন সিঙায় ফুঁৎকার দেওয়া হবে, সেদিন তাদের পারস্পরিক আত্মীয়তার বন্ধন থাকবে না এবং একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে না। [সূরা মুমিনুন, আয়াত: ১০১] আরও ইরশাদ হয়েছে— ثُمَّ نُفِخَ فِيهِ أُخْرٰى فَاِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنظُرُوْنَ তারপর যখন দ্বিতীয়বার ফুঁৎকার দেওয়া হবে, তারা দাঁড়িয়ে দেখতে থাকবে। [সূরা জুামার, আয়াত: ৬৮] আরও ইরশাদ হয়েছে— يَوْمَ يُنْفَخُ فِي الصُّورِ فَتَأْتُوْنَ أَفْوَاجًا যেদিন সিঙায় ফুঁক দেওয়া হবে, তখন তোমরা দলে দলে সমাগত হবে। [সূরা নাবা, আয়াত: ১৮] মুফাসসিরি‌নে কিরাম বলেছেন, প্রথম ফুঁৎকারের সাথে সৃষ্টির মৃত্যুর জন্য আঘাত করা হবে—যাব আলোচনা সামনে আসবে। আল্লাহ তাআলা কুরাইশ কাফিরদের ব্যাপারে ইরশাদ করেছেন— مَا يَنْظُرُوْنَ إِلَّا صَيْحَةً وَاحِدَةً تَأْخُذُهُمْ وَ هُمْ يَخْصِمُوْنَ তারা কেবল একটা ভয়াবহ শব্দের অপেক্ষা করছে, যা তাদেরকে আঘাত করবে তাদের পারস্পরিক বাকবিতণ্ডাকালে। [সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৪৯] অর্থাৎ এই উম্মতের শেষাংশ—যারা আবু জাহেল এবং তার সাথিদের ধর্ম মেনে চলে, তারা কেবল একটি শব্দের অপেক্ষায় থাকবে—যা তাদেরকে ধ্বংস করে ফেলবে। আর এটা হবে এমন অবস্থায় যখন তারা বাজারে এবং নিজেদের প্রয়োজনে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত থাকবে। আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন— لَا نَأْتِيْكُمْ إِلَّا بَغْتَةً কিয়ামত তোমাদের ওপর হঠাৎ আপতিত হবে। [সূরা আরাফ, আয়াত: ১৮৭] কত দ্রুত হবে কিয়ামতের আগমন? সে বিষয়ে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন— فَلَا تَسْتَطِيْعُوْنَ تَوْصِيَةً وَّلَا إِلَى أَهْلِهِمْ يَرْجِعُوْنَ সুতরাং তারা অসিয়ত করার এবং পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার সময়টুকুও পাবে না। [সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৫০] অর্থাৎ তারা বাজারঘাট বা অন্য যেখানেই অবস্থান করুক না কেন, পরিবারের কাছে ফিরে অসিয়ত করার সময়টুকুও পাবে না। (কী হবে? জবাবে) ইরশাদ হয়েছে— إِنْ كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةً وَّاحِدَةً فَإِذَا هُمْ خَامِدُوْنَ বস্তুত এ ছিল এক মহানাদ। অতঃপর সঙ্গে সঙ্গে সবাই স্তব্ধ হয়ে যাবে। [সূরা ইয়াসิน, আয়াত: ২৯] (তারপর কী হবে?) ইরশাদ হয়েছে— وَ نُفِخَ فِي الصُّوَرِ فَإِذَا هُم مِّنَ الْأَجْدَاثِ إِلَى رَبِّهِمْ يَنْسِلُوْنَ সিঙায় ফুঁক দেওয়া হবে, তখনই তারা কবর থেকে তাদের পালনকর্তার দিকে ছুটে চলবে। [সূরা ইয়াসิน, আয়াত: ৫১] এই দ্বিতীয় ফুঁৎকারে হবে পুনরুত্থানের ফুঁৎকার। মুজাহিদি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ওই সিঙা হবে (দুনিয়ার জীব-জন্তুর) শিল্পের মতো।
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে— بَيْنَ النَّفْخَتَيْنِ أَرْبَعُوْنَ দুই ফুঁৎকারের মাঝে ব্যবধান হবে চল্লিশ।
ইবনু হাজার আসকালানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন—দুই ফুঁৎকারের মাঝে চল্লিশ বছরের ব্যবধান হবে।

টিকাঃ
[৪৭] সহীহ বুখারী, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ১৩, হাদীস: ৪৪৪০。
[৪৮] ফাতহুল বারী, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ৩৭০। তবে এই অপ্রসিদ্ধ মূল গ্রন্থে মহী যুগে সরাসরি চল্লিশ বছর বলা হয়েছে, কিন্তু আমি পুত্র খুঁজে পাইনি। তাই ফাতহুল বারী থেকে যুক্ত করেছি। — অনুবাদক।
জ্ঞাতব্য: আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে কুরআন কারিমার আয়াত: نُفِخَ فِيْ ذَا النَّافُوْرِ ‘যখন সিঙায় ফুঁক দেওয়া হবে।’ [সূরা মুদদাসসির, আয়াত: ৮] এর তাফসিরে বর্ণিত আছে—الرَّاجِفَةُ—হলো প্রথম ফুঁৎকার, আর الرَّادِفَةُ হলো দ্বিতীয় ফুঁৎকার। আবিরিদত এর অর্থ হলো—এমন সিঙা যাতে ধ্বংস হওয়ার জন্য প্রথমবার ফুঁৎকার দেওয়া হবে। এটাকেই الصَّيْحَةُ - نَفْخَةُ السُّوَرِ ফুঁৎকার বলা হয়। যা সাথ ধ্বংস-আঘাতও থাকবে। কারণ, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—نُفِخَ فِي ذَا النَّافُورِ ‘যখন সিঙায় ফুঁক দেওয়া হবে। [সূরা মুদদাসসির, আয়াত: ৮] তো সিঙায় যখন মৃত্যুর জন্য ফুঁৎকার দেওয়া হবে, তখন ফুঁৎকারের এবং আমাদের সময় ঘটবে, যেন ফুঁৎকারের আওয়াজ জ্বাল এবং বিকট হয়। এরপর মানুষ চল্লিশ বছর অস্ত্রোইয়ে থাকবে। এরপর আল্লাহ তাআলা পানি বর্ষণ করবেন, যা হবে মানুষের বীর্য স্বরূপ, যেমন পূর্বে বলা হয়েছে। তারপর মানুষের কবরগুলোতে সেখান থেকে শরীর গঠিত হবে। এক পর্যায়ে আল্লাহ তাদের পূর্ণ মানব বানাবেন। যেমন এই সমস্ত মানুষের বর্ণনা করতে গিয়ে বর্ণনা করা হয়েছে—যারা জান্নাতের আগুনে পুড়ে যাওয়া হলে। যারা তারা জান্নাতের দরজায় অবহিতা নদীতে গোসল করবে। সুতরাং সে এমন পুনরুত্থানের মধ্যে উৎপাত হবে যা বন্যার পানিতে ভাসমান থাকে। এ ওহেদত হজরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর উপতঞ্চ হাদিসে গাইরুল মুমাজ্জিবী হাদিসে বর্ণিত আছে— إِنَّ فِي الْجَبَلِ مِنَ النَّبَاتِ فِي الْحَيْلِ ‘নبات فِي الْحَيْلِ’—তারা এমন সম্মুখপকে মায় উদাতত হবে—যা বন্যার পানিতে ভাসমান থাকে। যখন শরীরের অবকাঠামো পূর্ণ হয়ে যাবে এবং সিঙায় ফুঁৎকার শেষ হয়ে যাবে, তখন পুনরুত্থানের ফুঁৎকার আরম্ভ হবে, তবে আঘাত ছাড়া। কেননা, এই ফুঁৎকারের উদ্দেশ্য হলো—সিঙার ছিন্ন ভিন্ন কতকলাকে তাদের শরীরে গেঁথে দেওয়া, কতকলোকে শরীর থেকে পৃথক করার জন্য নয়। তো প্রথম ফুঁৎকারের হবে পৃথক করার। এটা হবে সেই বজ্রনিনাদের মতো—যা অতিরিক্ত শক্তিশালী হওয়ার কারণে মৃত্যু সংঘটিত হবে। এবং এটি জান্নাতের দ্বার, কোনো ঘরের সকল সদস্যকে ভয় দেখানোর জন্য উচ্চারণ করে, আর লোকটি মারা যায়। বাকি কিন্তু যখন পুনরুত্থানের জন্য ফুঁৎকার দেওয়া হবে, তখন তার মধ্যে কোনো আঘাত থাকবে না। শুধু স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সকল জীব তার আপন কর্ম অনুযায়ী শেষ অবস্থায় প্রবেশ করবে। এভাবে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে জীবিত করবেন। এগুলো হবে মুজাহিদ মরনে। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন— ثُمَّ نُفِخَ فِيْهِ أُخْرٰى فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنْظُرُوْنَ ‘তারপর যখন দ্বিতীয়বার ফুঁৎকার দেওয়া হবে, তারা দাঁড়িয়ে দেখতে থাকবে।’ [সূরা জুামার, আয়াত: ৬৮]

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 পুনরুত্থানের বিবরণ এবং দুনিয়ায় তার আলামত

📄 পুনরুত্থানের বিবরণ এবং দুনিয়ায় তার আলামত


আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন— وَ هُوَ الَّذِي يُرْسِلُ الرِّيٰحَ بُشْرًا بَيْنَ يَدَيْ رَحْمَتِهِ ۖ حَتّٰى إِذَا أَقَلَّتْ سَحَابًا ثِقَالًا سُقْنَاهُ لِبَلَدٍ مَيِّتٍ فَأَنْزَلْنَا بِهِ الْمَاءَ فَأَخْرَجْنَا بِهِ مِن كُلِّ الثَّمَرَاتِ ۚ كَذٰلِكَ نُخْرِجُ الْمَوْتٰى لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنَ তিনিই বৃষ্টির পূর্বে সুসংবাদবাহী বায়ু পাঠান। এমনকি যখন বায়ুরাশি পানিপূর্ণ মেঘমালা বয়ে আসে, তখন আমি এ মেঘমালাকে একটি মৃত শহরের দিকে হাঁকিয়ে দিই। অতঃপর মেঘ থেকে বৃষ্টিধারা বর্ষণ করি। অতঃপর পানি দ্বারা সবরকমের ফল উৎপন্ন করি; এমনিভাবে আমি মৃতদের বের করব, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো। [সূরা আরাফ, আয়াত: ৫৭] আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন— اللَّهُ الَّذِي يُرْسِلُ الرِّيٰحَ فَتُثِيرُ سَحَابًا فَيَبْسُطُهُ فِي السَّمَاءِ كَيْفَ يَشَاءُ وَ يَجْعَلُهُ كِسَفًا فَتَرَى الْوَدْقَ يَخْرُجُ مِنْ خِلَالِهِ ۖ فَإِذَا أَصَابَ بِهِ مَن يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ إِذَا هُمْ يَسْتَبْشِرُوْنَ ۖ وَ إِن كَانُوا مِن قَبْلِ أَن يُنَزَّلَ عَلَيْهِم مِّن قَبْلِهِ لَمُبْلِسِينَ ۖ فَانْظُرْ إِلَى آثَارِ رَحْمَتِ اللَّهِ كَيْفَ يُحْيِي الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ۖ إِنَّ ذٰلِكَ لَمُحْيِي الْمَوْتٰى ۖ وَ هُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ তিনি আল্লাহ! যিনি বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর তা মেঘমালাকে সঞ্চারিত করেন। অতঃপর তিনি মেঘমালাকে যেভাবে ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন এবং তাকে স্তরে স্তরে রাখেন। এরপর ভূমি দেখতে পাও, তার মধ্যে থেকে আরও ইরশাদ হয়েছে— وَّ لَا نَعْصِمُكُمْ إِلَّا كَنَفْسٍ وَّاحِدَةٍ ‘তোমাদের উত্থান হবে একটি প্রাণের মতো (একসাথে সহগুলো)।’ [সূরা লুকমান, আয়াত: ২৮]
নিবিড় ব‍ৃষ্টিধারা। তিনি তার বান্দাদের মধ্যে যাদেরকে ইচ্ছা পৌঁছান, তখন তারা আনন্দিত হয়। তারা প্রথম থেকেই তাদের প্রতি এই বৃষ্টি বর্ষিত হওয়ার পূর্বে নিরাশ ছিল। অতএব, আল্লাহর রহমতের ফল দেখে নাও, কিভাবে তিনি মৃত্তিকতার মৃত‍্যু পর তাকে জীবিত করেন। নিশ্চয় তিনি মৃতদেরকে জীবিত করবেন এবং তিনি সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান। [সূরা রূম, আয়াত: ৪৮-৫০] আরও ইরশাদ হয়েছে— فَأَحْيَيْنَا بِهِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ۚ كَذٰلِكَ النُّشُوْرُ অতঃপর এর মাধ্যমে ওই মৃত্তককে মৃত‍্যু পর সঞ্জীবিত করে দিই। এমনিভাবে হবে পুনরুত্থান। [সূরা ফাতির, আয়াত: ৯]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00