📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 শহিদের প্রকার, বিধান এবং শাহাদতের অর্থ

📄 শহিদের প্রকার, বিধান এবং শাহাদতের অর্থ


জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
الشُّهَدَاءُ سَبْعَةٌ سِوَى الْقَتْلِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ الْمَطْعُونُ شَهِيدٌ وَالْغَرِيقُ شَهِيدٌ وَصَاحِبُ الْهَدْمِ شَهِيدٌ وَصَاحِبُ ذَاتِ الْجَنْبِ شَهِيدٌ وَصَاحِبُ الْحَرْقِ شَهِيدٌ وَالْمَرْأَةُ تَمُوتُ بِجَمْعٍ شَهِيدَةٌ
আল্লাহর রাস্তায় নিহত হওয়া ছাড়াও সাত প্রকারের শাহাদত রয়েছে— মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তি শহীদ, পেটের রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তি শহীদ, পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তি শহীদ, বিধ্বস্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তি শহীদ, হাঁপানি রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তি শহীদ, আগুনে পুড়ে মৃত ব্যক্তি শহীদ এবং গর্ভবতী অবস্থায় মৃত নারী শহীদ。
সাঈদ ইবনু জায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হলো সে শহীদ, যে ব্যক্তি দ্বীনের জন্য নিহত হলো সে শহীদ, যে নিজের জীবন রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হলো সে শহীদ এবং যে ব্যক্তি নিজের পরিবারকে রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হলো সে শহীদ。
সুবাইহাও ইবনু মুকাররিন রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
مَنْ قُتِلَ دُونَ مَظْلَمَتِهِ فَهْوَ شَهِيدٌ যে ব্যক্তি মাযলুম হয়ে নিহত হয় সে শহীদ。

টিকাঃ
[৬২] সুনানুন নাসায়ি, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৩৫৭, হাদিস: ১৮২১ নোট: তবে শোকাত প্রলাপ শহিদের ব্যাখ্যা নিয়ে মতভেদ আছে। কেউ বলেছেন—এই গর্ভবর্তী নারী যার সন্তান গর্ভে পূর্ণ আকৃতি ধারণ করার পর মারা যায়। কেউ বলেছেন—যে নারী গর্ভ ধারণ হওয়ার পর সাত চল্লাকালীন মারা যায়। তাই সে সন্তান প্রসব হওয়ার পর মারা যায় না। পেটে মারা অবস্থাকেই মারা যায়। কেউ বলেছেন—যে নারী পুরুষের স্পর্শ পাওয়ার পূর্বেই মারা যায়। কেউ বলেছেন—যে নারী অন্তর্বর্তী হওয়ার পূর্বেই মারা যায়。
[৬৩] সুনানুত তিরমিযি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩৯৪, হাদিস: ১০০১; সুনানুন নাসায়ি, খণ্ড: ১২, পৃষ্ঠা: ৪৩২, হাদিস: ৪০২৭; সুনানু আবি দাউদ, খণ্ড: ১২, পৃষ্ঠা: ৩৯৮, হাদিস: ৪১৭৯। ইমাম তিরমিজি রাহিমাহুল্লাহ হাদিসটিকে হাসান-সহিহ বলেছেন。
[৬৪] সুনানুন নাসায়ি, খণ্ড: ১২, পৃষ্ঠা: ৪৩১, হাদিস: ৪০২৬ (তবে সুনানিন নাসায়ি-তে এই অর্থেই বলা হয়েছে—খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ৪২৫, হাদিস: ৪০২৭; রাবিয়াজান কিফি, খণ্ড: ৭, পৃষ্ঠা: ২৯, হাদিস: ৪০২০।— অনুবাদক)

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 মাটির দেহ মাটি খাবে

📄 মাটির দেহ মাটি খাবে


নোট: শহীদ-এর পারিভাষিক অর্থ হলো, আল্লাহর রাস্তায় নিহত ব্যক্তি। শহীদকে শহীদ বলার কারণ হলো, তার জন্য জানাজার সালাত দেওয়া হয়েছে।
শহীদদের দুটি থাকে
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
وَلَيْسَ مِنَ الْإِنْسَانِ شَيْءٌ إِلَّا يَبْلَى إِلَّا عَظْمًا وَاحِدًا وَهُوَ عَجْبُ الذَّنَبِ وَمِنْهُ يُرَكَّبُ الْخَلْقُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
মানুষের শরীরের প্রতিটি অংশ পুরাতন হয়ে যাবে অর্থাৎ মাটি পেয়ে ফেলবে, কিন্তু একটি অঙ্গ ছাড়া; তা হলো মেরুদণ্ডের নিচের অংশ। এখান থেকেই কিয়ামতের দিন মানুষকে আবার সংগঠিত করা হবে。

টিকাঃ
[৬৫] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ২০০, হাদিস: ৫২৯০; সুনানু ইবনু মাজাহ, খণ্ড: ১২, পৃষ্ঠা: ৩৯৯, হাদিস: ৪২৬১ নোট: হাদিসের আরবেটি অংশ—وَمِنْهُ يُرَكَّبُ الْخَلْقُ হলো—মানুষের শরীরের এই অংশটিই প্রথম সৃষ্টি করা হয়। তারপর আল্লাহ তায়ালা সেটিকে টিকিয়ে রাখবেন, কিয়ামতের দিন আবারও সেখান থেকে মানুষের অবকাঠামো সৃষ্টি করার জন্য。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 নবি ও শহিদদের শরীর মাটি খাবে না

📄 নবি ও শহিদদের শরীর মাটি খাবে না


আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন—
بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ
বরং তারা নিজেদের পালনকর্তার নিকট জীবিত ও জীবিকাপ্রাপ্ত। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৬৯]
এজন্য তাদের গোসল দিতে হয় না এবং তাদের জানাজায় পড়তে হয় না। বিষয়টি প্রমাণিত হয় সহিহ হাদিসসমূহের আলোকে প্রতিষ্ঠিত উভয় ইভাদীয় যুদ্ধের ইতিহাস থেকে। [কিন্তু হানাফি মাযহাব ও সংখ্যাগরিষ্ঠ ইমামদের মতে, শহীদদের জানাযার নামাজ পড়া হবে]
আব্দুস ইবনু আস-সাকাফি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ وَفِيهِ قُبِضَ وَفِيهِ النَّفْخَةُ وَفِيهِ الصَّعْقَةُ فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنَ الصَّلَاةِ فِيهِ فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَيَّ .
দিনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হলো জুমার দিন। এ দিনেই আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ-দিনেই তার মৃত্যু হয়েছে, এ- দিনেই শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেওয়া হবে এবং কিয়ামতের নিকট শব্দটাঁ হবে এ- দিনেই। অতএব, এ-দিন তোমরা বেশি বেশি আমার ওপর দরুদ পড়ো! কেননা, তোমাদের দরুদ আমার কাছে উপস্থাপন করা হয়。
বর্ণনাকারী বলেন, সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কীভাবে আমাদের দরুদ আপনার সামনে উপস্থাপন করা হবে, অথচ আপনি পচে যাবেন? জবাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—
إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَى الْأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الْأَنْبِيَاءِ
আল্লাহ জমিনের ওপর নবিদের শরীর ভক্ষণ করাকে হারাম করে দিয়েছেন。

টিকাঃ
[৬৬] সুনানু আবু দাউদ, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ২০২, হাদিস: ৮৪৩; সুনানু ইবনু মাজাহ, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৩৮৬, হাদিস: ১০৭৫
[৬৭] প্রাগুক্ত। ইবদুল আরারি বলেছেন—হাদিসটি হাসানা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00