📄 কবরের ভয়াবহতা, ফিতনা এবং আজাব থেকে মুক্ত ব্যক্তি
সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—
رِبَاطُ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ خَيْرٌ مِنْ صِيَامِ شَهْرٍ وَقِيَامِهِ وَإِنْ مَاتَ جَرَى عَلَيْهِ عَمَلُهُ الَّذِي كَانَ يَعْمَلُهُ وَأُجْرِيَ عَلَيْهِ رِزْقُهُ وَأَمِنَ الْفَتَّانَ. একদিন একরাত (মুসলিম রাষ্ট্রে) সীমান্ত পাহারা দেওয়া একমাত্র রোজা রাখা ও নামাজ পড়ার চেয়ে উত্তম। যদি সে এ- অবস্থায় মারা যায়, তাহলে যে কাজ সে করত তার (আনামলনামায়) সেই আমলের সওয়াব জারি থাকবে, তার (কবরে) রিযিক প্রদান করা হবে এবং (জাগতিক) ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে。
সীমান্ত প্রহরা দেওয়া ও এই সমস্ত নেককাজের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম—যেগুলোর সওয়াব মৃত্যুর পরও জারি থাকে।
নোট: মোটকথা, কবরের আযাব সম্পর্কে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বহু সহিহ হাদিস বর্ণিত আছে, যেগুলোর বিশদীতে কোনো হাদিস নেই এবং সেগুলোকে মুক্তিদ করার মতো কোনো কারণও নেই。
ইতিপূর্বে আলোচিত হাদিস প্রমাণিত হয়েছে—কবরে কাফিররা ফিতনায় আক্রান্ত হবে। তারা ও জিজ্ঞাসাবাদ হবে, লাঞ্ছিত হবে এবং আযাব দেওয়া হবে।
আবু মুআদম আব্দুল হক বলেছেন—যেখানে থাকবে, কবরের আযাবের সাথে সম্পর্কিত নয়, মুনাফিক-কাফিরদের ওপর কাপড় নগ্ন; বরং একজন মুমিনও কবরের আযাবে আক্রান্ত হতে পারেন। প্রত্যেককে নিজ-নিজ আমল অনুপাতে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে, প্রত্যেককেই নিজ-নিজ ভুল ও পদস্থলনদের সমানুপাতে আযাব ভোগ করতে হবে, যদিও সেই হাদিসগুলো বর্ণিত হয়েছে কাফির ও মুনাফিকদের ব্যাপারে।
আবূ উমর ইবনু আব্দুল বার তদীয় গ্রন্থ ‘কিতাবুত-তামহিদ’-এ বলেছেনে, বর্ণিত হাদিসগুলো প্রমাণ করে—কবরে ফিতনা তথা সুওয়াল-জওয়াব কেবল মুমিন ও মুনাফিকদেরকেই আক্রান্ত করবে—যারা পৃথিবীতে দিয়াজের কফিরের ও মুনাফিকদেরকে আক্রান্ত করবে—যারা পৃথিবীতে দিয়াজের কফিরের সে কফিরের জন্য কবরকে জাহান্নামের গর্ত থেকে জাহান্নামের গর্ত থেকে দেখা হবে এবং তাদের কবরকে জাহান্নামের গর্ত থেকে জাহান্নামের গর্ত থেকে দেখা হবে।
টিকাঃ
[৫৬] একদিন একরাত (মুসলিম রাষ্ট্রে) সীমান্ত পাহারা দেওয়া একমাত্র রোজা রাখা ও নামাজ পড়ার চেয়ে উত্তম। যদি সে এ- অবস্থায় মারা যায়, তাহলে যে কাজ সে করত তার (আনামলনামায়) সেই আমলের সওয়াব জারি থাকবে, তার (কবরে) রিযিক প্রদান করা হবে এবং (জাগতিক) ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।
📄 শহিদদের রুহ জান্নাতে যাবে
মাওফুর বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে এই আয়াতটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম—
بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ ۖ وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا ۚ يُرْزَقُونَ
যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের তুমি কখনো মৃত মনে করো না; বরং তারা নিজেদের পালনকর্তার নিকট জীবিত ও জীবিকাপ্রাপ্ত। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৬৯]
অতএব তিনি বললেন—আমরাও এই আয়াতটি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছি, জবাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন—
‘‘শহীদগণের রুহগুলো সবুজ পাখির পেটে থাকবে। তাদের জন্য আরশের সাথে অনেক প্রদীপ ঝুলন্ত থাকবে। তারা জান্নাতে যেখানে ইচ্ছা ঘুরে বেড়াতে পারবে। তারপর সেই প্রদীপের কাছে ফিরে আসবে। হঠাৎ তাদের রব তাদের সামনে আসবেন এবং জিজ্ঞেস করবেন—তোমরা কি কিছু চাও! তারা বলবে—আমরা কী চাইব? আমরা তো জান্নাতে যেখানে ইচ্ছা ঘুরে বেড়াতে পারছি! আল্লাহ তায়ালা তিনবার তাদেরকে এভাবে জিজ্ঞেস করবেন। যখন তারা বুঝতে পারবে যে, তাদেরকে এভাবে জিজ্ঞেস করা হতেই থাকবে, তখন তারা বলবে—হে আমার রব! আমরা চাই যে, আপনি আমাদের প্রাণগুলোকে আমাদের শরীরে ফিরিয়ে দেবেন! যেন আমরা আরেকবার আপনার পথে নিহত হতে পারি। আল্লাহ যখন দেখবেন যে, তাদের আর কোনো প্রয়োজন নেই, তখন জিজ্ঞেস করা বন্ধ করবেন।’’
টিকাঃ
[৬১] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৪৭২, হাদিস: ৩২০০।
📄 শহিদের প্রকার, বিধান এবং শাহাদতের অর্থ
জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
الشُّهَدَاءُ سَبْعَةٌ سِوَى الْقَتْلِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ الْمَطْعُونُ شَهِيدٌ وَالْغَرِيقُ شَهِيدٌ وَصَاحِبُ الْهَدْمِ شَهِيدٌ وَصَاحِبُ ذَاتِ الْجَنْبِ شَهِيدٌ وَصَاحِبُ الْحَرْقِ شَهِيدٌ وَالْمَرْأَةُ تَمُوتُ بِجَمْعٍ شَهِيدَةٌ
আল্লাহর রাস্তায় নিহত হওয়া ছাড়াও সাত প্রকারের শাহাদত রয়েছে— মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তি শহীদ, পেটের রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তি শহীদ, পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তি শহীদ, বিধ্বস্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তি শহীদ, হাঁপানি রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তি শহীদ, আগুনে পুড়ে মৃত ব্যক্তি শহীদ এবং গর্ভবতী অবস্থায় মৃত নারী শহীদ。
সাঈদ ইবনু জায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হলো সে শহীদ, যে ব্যক্তি দ্বীনের জন্য নিহত হলো সে শহীদ, যে নিজের জীবন রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হলো সে শহীদ এবং যে ব্যক্তি নিজের পরিবারকে রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হলো সে শহীদ。
সুবাইহাও ইবনু মুকাররিন রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
مَنْ قُتِلَ دُونَ مَظْلَمَتِهِ فَهْوَ شَهِيدٌ যে ব্যক্তি মাযলুম হয়ে নিহত হয় সে শহীদ。
টিকাঃ
[৬২] সুনানুন নাসায়ি, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৩৫৭, হাদিস: ১৮২১ নোট: তবে শোকাত প্রলাপ শহিদের ব্যাখ্যা নিয়ে মতভেদ আছে। কেউ বলেছেন—এই গর্ভবর্তী নারী যার সন্তান গর্ভে পূর্ণ আকৃতি ধারণ করার পর মারা যায়। কেউ বলেছেন—যে নারী গর্ভ ধারণ হওয়ার পর সাত চল্লাকালীন মারা যায়। তাই সে সন্তান প্রসব হওয়ার পর মারা যায় না। পেটে মারা অবস্থাকেই মারা যায়। কেউ বলেছেন—যে নারী পুরুষের স্পর্শ পাওয়ার পূর্বেই মারা যায়। কেউ বলেছেন—যে নারী অন্তর্বর্তী হওয়ার পূর্বেই মারা যায়。
[৬৩] সুনানুত তিরমিযি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩৯৪, হাদিস: ১০০১; সুনানুন নাসায়ি, খণ্ড: ১২, পৃষ্ঠা: ৪৩২, হাদিস: ৪০২৭; সুনানু আবি দাউদ, খণ্ড: ১২, পৃষ্ঠা: ৩৯৮, হাদিস: ৪১৭৯। ইমাম তিরমিজি রাহিমাহুল্লাহ হাদিসটিকে হাসান-সহিহ বলেছেন。
[৬৪] সুনানুন নাসায়ি, খণ্ড: ১২, পৃষ্ঠা: ৪৩১, হাদিস: ৪০২৬ (তবে সুনানিন নাসায়ি-তে এই অর্থেই বলা হয়েছে—খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ৪২৫, হাদিস: ৪০২৭; রাবিয়াজান কিফি, খণ্ড: ৭, পৃষ্ঠা: ২৯, হাদিস: ৪০২০।— অনুবাদক)
📄 মাটির দেহ মাটি খাবে
নোট: শহীদ-এর পারিভাষিক অর্থ হলো, আল্লাহর রাস্তায় নিহত ব্যক্তি। শহীদকে শহীদ বলার কারণ হলো, তার জন্য জানাজার সালাত দেওয়া হয়েছে।
শহীদদের দুটি থাকে
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
وَلَيْسَ مِنَ الْإِنْسَانِ شَيْءٌ إِلَّا يَبْلَى إِلَّا عَظْمًا وَاحِدًا وَهُوَ عَجْبُ الذَّنَبِ وَمِنْهُ يُرَكَّبُ الْخَلْقُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
মানুষের শরীরের প্রতিটি অংশ পুরাতন হয়ে যাবে অর্থাৎ মাটি পেয়ে ফেলবে, কিন্তু একটি অঙ্গ ছাড়া; তা হলো মেরুদণ্ডের নিচের অংশ। এখান থেকেই কিয়ামতের দিন মানুষকে আবার সংগঠিত করা হবে。
টিকাঃ
[৬৫] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ২০০, হাদিস: ৫২৯০; সুনানু ইবনু মাজাহ, খণ্ড: ১২, পৃষ্ঠা: ৩৯৯, হাদিস: ৪২৬১ নোট: হাদিসের আরবেটি অংশ—وَمِنْهُ يُرَكَّبُ الْخَلْقُ হলো—মানুষের শরীরের এই অংশটিই প্রথম সৃষ্টি করা হয়। তারপর আল্লাহ তায়ালা সেটিকে টিকিয়ে রাখবেন, কিয়ামতের দিন আবারও সেখান থেকে মানুষের অবকাঠামো সৃষ্টি করার জন্য。