📄 কবরের আজাব ও ফিতনা থেকে আশ্রয় চাওয়া
আয়িশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এলেন, তখন আমার কাছে জনৈক ইহুদি নারী উপস্থিত ছিল। মহিলাটি বলছিল, আপনারা তো কবরের ব্যাপারে ফিতনায় আক্রান্ত হবেন। তার কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিউরে উঠে বললেন—
اللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتَنِ الْقُبُورِ
ইহুদিরাই ফিতনায় আক্রান্ত হবে。
আয়িশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, এর কয়েকমিন পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন—‘আমার কাছে ওহি প্রেরণ করা হয়েছে—তোমরা কবরের ব্যাপারে ফিতনায় আক্রান্ত হবে।’
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে দুআ করতেন—
اللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ عَذَابِ النَّارِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি কবরের আযাব থেকে, জাহান্নামের শাস্তি থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং প্রতিশ্রুত দাজ্জালের ফিতনা থেকে。
টিকাঃ
[৫৩] সহীহ বুখারী, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ১৩৯, হাদিস: ৬৩৭৭。
📄 মৃত ব্যক্তি জীবিতদের কথা শুনতে পায়
আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের ব্যাপারে বলেছেন, গতকালই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বদরি কাফিরদের হতাহত হয়ে ধরাশায়ী হওয়ার স্থান দেখিয়ে বলেছেন—‘আগামীকাল অমুক এখানে ধরাশায়ী হবে, অমুক এখানে ধরাশায়ী হবে; ইনশাআল্লাহ। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেনে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সীমানা অঙ্কন করেছিলেন, তা একটুও লঙ্ঘিত হয়নি। উমর বলেন, নিহত কাফিরদেরকে কূপে ফেলে দেওয়া হয়েছে, যাদের একে অন্যের ওপর পড়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কূপের দিকে এগিয়ে গিয়ে বললেন—
‘অমুকের পুত্র অমুক, অমুকের পুত্র অমুক! তোমরা কি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কৃত প্রতিজ্ঞার সত্যতা দেখেছ? আমি তো আমার সাথে কৃত আল্লাহ তাআলার প্রতিজ্ঞার সত্যতাও দেখেছি। উমর রা. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি প্রাণহীন শরীরের সাথে কীভাবে কথা বলছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—আমি যা বলছি তাদের (নিহতদের) চেয়ে তোমরা তা বেশি শুনতে পাও না! তবে তারা আমার কোনো কথার জবাব দিতে পারে না。
টিকাঃ
[৫৪] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ১৬৩, হাদিস: ৯২৩০。
📄 কবরের ভয়াবহতা, ফিতনা এবং আজাব থেকে মুক্ত ব্যক্তি
সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—
رِبَاطُ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ خَيْرٌ مِنْ صِيَامِ شَهْرٍ وَقِيَامِهِ وَإِنْ مَاتَ جَرَى عَلَيْهِ عَمَلُهُ الَّذِي كَانَ يَعْمَلُهُ وَأُجْرِيَ عَلَيْهِ رِزْقُهُ وَأَمِنَ الْفَتَّانَ. একদিন একরাত (মুসলিম রাষ্ট্রে) সীমান্ত পাহারা দেওয়া একমাত্র রোজা রাখা ও নামাজ পড়ার চেয়ে উত্তম। যদি সে এ- অবস্থায় মারা যায়, তাহলে যে কাজ সে করত তার (আনামলনামায়) সেই আমলের সওয়াব জারি থাকবে, তার (কবরে) রিযিক প্রদান করা হবে এবং (জাগতিক) ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে。
সীমান্ত প্রহরা দেওয়া ও এই সমস্ত নেককাজের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম—যেগুলোর সওয়াব মৃত্যুর পরও জারি থাকে।
নোট: মোটকথা, কবরের আযাব সম্পর্কে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বহু সহিহ হাদিস বর্ণিত আছে, যেগুলোর বিশদীতে কোনো হাদিস নেই এবং সেগুলোকে মুক্তিদ করার মতো কোনো কারণও নেই。
ইতিপূর্বে আলোচিত হাদিস প্রমাণিত হয়েছে—কবরে কাফিররা ফিতনায় আক্রান্ত হবে। তারা ও জিজ্ঞাসাবাদ হবে, লাঞ্ছিত হবে এবং আযাব দেওয়া হবে।
আবু মুআদম আব্দুল হক বলেছেন—যেখানে থাকবে, কবরের আযাবের সাথে সম্পর্কিত নয়, মুনাফিক-কাফিরদের ওপর কাপড় নগ্ন; বরং একজন মুমিনও কবরের আযাবে আক্রান্ত হতে পারেন। প্রত্যেককে নিজ-নিজ আমল অনুপাতে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে, প্রত্যেককেই নিজ-নিজ ভুল ও পদস্থলনদের সমানুপাতে আযাব ভোগ করতে হবে, যদিও সেই হাদিসগুলো বর্ণিত হয়েছে কাফির ও মুনাফিকদের ব্যাপারে।
আবূ উমর ইবনু আব্দুল বার তদীয় গ্রন্থ ‘কিতাবুত-তামহিদ’-এ বলেছেনে, বর্ণিত হাদিসগুলো প্রমাণ করে—কবরে ফিতনা তথা সুওয়াল-জওয়াব কেবল মুমিন ও মুনাফিকদেরকেই আক্রান্ত করবে—যারা পৃথিবীতে দিয়াজের কফিরের ও মুনাফিকদেরকে আক্রান্ত করবে—যারা পৃথিবীতে দিয়াজের কফিরের সে কফিরের জন্য কবরকে জাহান্নামের গর্ত থেকে জাহান্নামের গর্ত থেকে দেখা হবে এবং তাদের কবরকে জাহান্নামের গর্ত থেকে জাহান্নামের গর্ত থেকে দেখা হবে।
টিকাঃ
[৫৬] একদিন একরাত (মুসলিম রাষ্ট্রে) সীমান্ত পাহারা দেওয়া একমাত্র রোজা রাখা ও নামাজ পড়ার চেয়ে উত্তম। যদি সে এ- অবস্থায় মারা যায়, তাহলে যে কাজ সে করত তার (আনামলনামায়) সেই আমলের সওয়াব জারি থাকবে, তার (কবরে) রিযিক প্রদান করা হবে এবং (জাগতিক) ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।
📄 শহিদদের রুহ জান্নাতে যাবে
মাওফুর বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে এই আয়াতটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম—
بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ ۖ وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا ۚ يُرْزَقُونَ
যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের তুমি কখনো মৃত মনে করো না; বরং তারা নিজেদের পালনকর্তার নিকট জীবিত ও জীবিকাপ্রাপ্ত। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৬৯]
অতএব তিনি বললেন—আমরাও এই আয়াতটি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছি, জবাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন—
‘‘শহীদগণের রুহগুলো সবুজ পাখির পেটে থাকবে। তাদের জন্য আরশের সাথে অনেক প্রদীপ ঝুলন্ত থাকবে। তারা জান্নাতে যেখানে ইচ্ছা ঘুরে বেড়াতে পারবে। তারপর সেই প্রদীপের কাছে ফিরে আসবে। হঠাৎ তাদের রব তাদের সামনে আসবেন এবং জিজ্ঞেস করবেন—তোমরা কি কিছু চাও! তারা বলবে—আমরা কী চাইব? আমরা তো জান্নাতে যেখানে ইচ্ছা ঘুরে বেড়াতে পারছি! আল্লাহ তায়ালা তিনবার তাদেরকে এভাবে জিজ্ঞেস করবেন। যখন তারা বুঝতে পারবে যে, তাদেরকে এভাবে জিজ্ঞেস করা হতেই থাকবে, তখন তারা বলবে—হে আমার রব! আমরা চাই যে, আপনি আমাদের প্রাণগুলোকে আমাদের শরীরে ফিরিয়ে দেবেন! যেন আমরা আরেকবার আপনার পথে নিহত হতে পারি। আল্লাহ যখন দেখবেন যে, তাদের আর কোনো প্রয়োজন নেই, তখন জিজ্ঞেস করা বন্ধ করবেন।’’
টিকাঃ
[৬১] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৪৭২, হাদিস: ৩২০০।