📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 কবরের আজাব এবং পাপীদের পাপভেদে আজাবের কম-বেশ

📄 কবরের আজাব এবং পাপীদের পাপভেদে আজাবের কম-বেশ


আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি কবরের পাশ দিয়ে গেলেন। অতঃপর বললেন—‘দুজনকে আযাব দেওয়া হচ্ছে; তবে বড় কোনো কারণে নয়! বরং তাদের একজন চোগলখোরি করত এবং অন্যজন পেশাব থেকে বেঁচে থাকত না। সুতরাং তিনি খেজুরের একটি কাঁচা ডাল চেয়ে নিলেন এবং ছিটকে দু ভাগ করলেন। তারপর দুই কবরে দুটি গেড়ে দিলেন। অতঃপর বললেন—যতক্ষণ শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত তাদের আযাবকে হালকা করা হবে।
সামুরা ইবনু জুনদুব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন—রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ফজরের) নামাজ আদায় করার পর আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে জিজ্ঞেস করতেন, তোমাদের কেউ কি রাতে কোনো স্বপ্ন দেখেছ? সামুরা বলেন, যদি কেউ কোনো স্বপ্ন দেখে থাকত, তাহলে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে তা বলত। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাখ্যা বলে দিতেন। সুতরাং একদিন আমরা কোনো একটি বিষয়ে জানতে চাইলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে চাইলেন, তোমাদের কেউ কি আজ রাতে কোনো স্বপ্ন দেখেছ? আমরা বললাম—না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—কিন্তু আমি আজ রাতে স্বপ্নে দেখেছি—দুজন লোক আমার কাছে এসে আমার হাত ধরল। অতঃপর আমাকে একটি পবিত্র ভূমি দিকে নিয়ে গেল। হঠাৎ দেখলাম—একজন লোক বসে আছে, আরেকজন দাঁড়িয়ে আছে, যার হাতে রয়েছে লোহার কাঁটা। দণ্ডায়মান লোকটি উপবিষ্ট লোকের চোয়ালের ভেতর কাঁটাটি ঢুকিয়ে দিয়ে (ফেঁড়ে) পেছন দিক পর্যন্ত নিয়ে যাচ্ছে। তারপর অন্য চোয়ালের সাথেও যখন এমন আচরণ করছে, তখন পূর্বের চোয়াল ভালো হয়ে যাচ্ছে। তারপর পূর্বের চোয়ালের সাথে আবারও এমন করা হচ্ছে।
আমি জিজ্ঞেস করলাম—কী হচ্ছে এগুলো? লোক দুজন বলল—সামনে চলুন! সুতরাং আমরা সামনে চলতে লাগলাম।
একপর্যায়ে আমরা চিত হয়ে শায়িত এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছলাম, যার শিয়রে পাথর হাতে একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। দণ্ডায়মান লোকটি পাথর দিয়ে শায়িত ব্যক্তির মাথায় প্রচণ্ডভাবে আঘাত করছে, যার কারণে মাথা ফেটে চুরমার হয়ে যাচ্ছে এবং পাথরটি গিয়ে দূরে পড়ছে। লোকটি যখন পাথর আনছে যাচ্ছে, ইতিমধ্যে শায়িত ব্যক্তির মাথা পূর্বের মতো ভালো হয়ে যাচ্ছে। দাঁড়ানো লোকটি আবারও তার মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করছে।
আমি জিজ্ঞেস করলাম—ব্যাপার কী? লোক দুটি বলল—সামনে চলুন! সুতরাং আমরা সামনে চলতে লাগলাম।
একসময় আমরা চুল সদৃশ একটি সুরঙ্গের কাছে পৌঁছলাম। যার ওপরের দিক সংকীর্ণ এবং নিচের দিক প্রশস্ত। যার ভেতর থেকে আগুন। আগুন যখন প্রজ্বলিত হতে হতে ওপরের দিকে আসত—তৃণ ভেতরের দিকে এসে আসার উপক্রম হয়ে যেত। অতঃপর যখন নিচের দিকে আগুন আসত—তৃণ ভেতরের দিকে নেমে যেত। সেই সুরঙ্গের মধ্যে উলঙ্গ অনেক নারী-পুরুষ ছিল।
আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম—ঘটনা কী? দাদু দুজন বলল—সামনে চলুন! সুতরাং আমরা সামনের দিকে চললাম।
একপর্যায়ে আমরা একটি রক্তের নদীর কাছে পৌঁছালাম। যার কিনারে পাথর হাতে একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। আর নদীর মাঝখানে রয়েছে আরেকজন মানুষ; সে যখন কিনানার দিকে এগিয়ে এসে নদী থেকে উঠে আসতে চাইত, কিনারে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটি হাতের পাথরটি তার দিকে নিক্ষেপ করত। যার আঘাতে লোকটি আবার নদীর মাঝে ঠিক পূর্বে স্থানে ফিরে যেত। যখনই সে নদী থেকে উঠে আসার চেষ্টা করত, তখনই তাকে পাথর মেরে পূর্বের স্থানে ফিরিয়ে দেওয়া হতো।
আমি জিজ্ঞেস করলাম—ব্যাপার কী? তারা দুজন বলল—সামনে চলুন! সুতরাং আমরা সামনের দিকে চলতে লাগলাম।
একপর্যায়ে আমরা একটি সবুজ বাগানে পৌঁছে গেলাম। সেখানে রয়েছে বিশাল একটি গাছ। গাছের নিচে রয়েছেন একজন বৃদ্ধ এবং অনেকগুলো শিশু। ওদিকে গাছটির কাছেই আরেকজন মানুষের হাতে রয়েছে আগুন, সে তাকে প্রজ্জ্বলিত করছে। আমার সাথে থাকা লোক দুজন আমাকে নিয়ে গাছে উঠল। এবং আমাকে নিয়ে এমন একটি ঘরে প্রবেশ করল। আমি এরচেয়ে সুন্দর ঘর কখনো দেখিনি। সেখানে অনেক বৃদ্ধ, যুবক, নারী এবং শিশু রয়েছে। তারপর আমাকে সেখান থেকে বের করে গাছের আরও ওপরের দিকে নিয়ে গেল। অতপর আমাকে আরও সুন্দর ও উত্তম একটি ঘরে প্রবেশ করালো। সেখানেও রয়েছে অনেক বৃদ্ধ এবং যুবক।
আমি বললাম—তোমরা আমাকে সারারাত ঘোরালে। এবার আমাকে বলো—আমি এগুলো কী দেখলাম?!
তারা দুজন বলল—হ্যাঁ বলেছি! আপনি যার চোয়াল চিরেও দেখেছেন, সে মিথ্যুক, মিথ্যা কথা বলত। এভাবেই তার চোয়াল চিড়তে চিড়তে সেহেরের অংশ পর্যন্ত চিড়ে ফেলা হবে। কিয়ামত পর্যন্ত তার সাথে এমন আচরণ করা হবে।
আপনি যার মাথা বিদীর্ণ করতে দেখেছেন, আল্লাহ তাআলা তাকে কুরআন শিখিয়েছেন। সে রাতে ঘুমিয়েছে, দিনের বেলা আমল করেনি। তার সাথে কিয়ামত পর্যন্ত এমন আচরণ করা হবে।
আপনি যাদেরকে সুরঙ্গ দেখতেছেন, তারা ব্যভিচারী। আর যাকে নদীতে দেখেছেন, সে হলো—সুদখোর।
গাহের নিজের বৃদ্ধ লোকটি হলেন ইবরাহিম আলাইহিস সালাম। তার চারপাশের শিশুগুলো মানুষের সন্তান। আর অগ্নি প্রজ্জ্বলনকারী লোকটি হলেন জাহান্নামের রক্ষণবেক্ষণকারী ফিরিশতা মালেক। প্রথম দলটি সাধারণ মুমিনদের এবং এই দ্বিতীয় দলটি শহিদদের। আর আমি হলাম জিবরাহিল এবং তিনি হলেন মিকাইল। আপনি মাথা উঠান! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—আমি মাথা উঠালাম। দেখলাম—আমার মাথার ওপর মেঘমালার ন্যায়। জিবরাহিল ও মিকাইল বললেন—এটা আপনার ঠিকানা। আমি বললাম—আমাকে ছেড়ে দাও, আমার বাড়িতে যাও। তারা বললেন—আপনার আয়ু এখনো অবশিষ্ট আছে, পূর্ণ হয়নি। যদি আয়ু পূর্ণ করতেন, তাহলে সেখানে প্রবেশ করতে পারতেন।”

টিকাঃ
[৪৪] সহিহ বুখারি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৩৮, হাদিস: ১২৭০; সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৪৭, হাদিস: ৪৩৯。
[৫২] সহীহ বুখারী, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ১৯০, হাদিস: ৬২৭১ **নোট:** উসামায়ে কিরাম বলেছেন, সুরাবির এই হাদিস থেকে কবরের আযাবপ্রসঙ্গে অবস্থা বর্ণনা করা যাবে না। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদিও স্বচক্ষে কথা বলেছিলেন, তবে নবীদের স্বপ্ন ওহি। প্রমাণ কুরআন কারিমের আয়াতে দেখানো হয়ে হয়েছে, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বলেছেন— يُؤْتَىٰ أَبِي أَفْعَلُ مَا تُؤْمَرُ فَسَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ (হে আমার পুত্র, আমি স্বপ্নে দেখলাম—তোমাকে জবাই করছি। তোমার সিদ্ধান্ত কী?) পুত্র বললেন— يَا أَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ (হে আমার পিতা, আপনি নির্দেশ পালন করুন। ইনশাআল্লাহ আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন।) [সূরা সাফফাত, আয়াত: ১০২]

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 কবরের আজাব ও ফিতনা থেকে আশ্রয় চাওয়া

📄 কবরের আজাব ও ফিতনা থেকে আশ্রয় চাওয়া


আয়িশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এলেন, তখন আমার কাছে জনৈক ইহুদি নারী উপস্থিত ছিল। মহিলাটি বলছিল, আপনারা তো কবরের ব্যাপারে ফিতনায় আক্রান্ত হবেন। তার কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিউরে উঠে বললেন—
اللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتَنِ الْقُبُورِ
ইহুদিরাই ফিতনায় আক্রান্ত হবে。
আয়িশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, এর কয়েকমিন পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন—‘আমার কাছে ওহি প্রেরণ করা হয়েছে—তোমরা কবরের ব্যাপারে ফিতনায় আক্রান্ত হবে।’
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে দুআ করতেন—
اللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ عَذَابِ النَّارِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি কবরের আযাব থেকে, জাহান্নামের শাস্তি থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং প্রতিশ্রুত দাজ্জালের ফিতনা থেকে。

টিকাঃ
[৫৩] সহীহ বুখারী, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ১৩৯, হাদিস: ৬৩৭৭。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 মৃত ব্যক্তি জীবিতদের কথা শুনতে পায়

📄 মৃত ব্যক্তি জীবিতদের কথা শুনতে পায়


আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের ব্যাপারে বলেছেন, গতকালই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বদরি কাফিরদের হতাহত হয়ে ধরাশায়ী হওয়ার স্থান দেখিয়ে বলেছেন—‘আগামীকাল অমুক এখানে ধরাশায়ী হবে, অমুক এখানে ধরাশায়ী হবে; ইনশাআল্লাহ। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেনে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সীমানা অঙ্কন করেছিলেন, তা একটুও লঙ্ঘিত হয়নি। উমর বলেন, নিহত কাফিরদেরকে কূপে ফেলে দেওয়া হয়েছে, যাদের একে অন্যের ওপর পড়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কূপের দিকে এগিয়ে গিয়ে বললেন—
‘অমুকের পুত্র অমুক, অমুকের পুত্র অমুক! তোমরা কি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কৃত প্রতিজ্ঞার সত্যতা দেখেছ? আমি তো আমার সাথে কৃত আল্লাহ তাআলার প্রতিজ্ঞার সত্যতাও দেখেছি। উমর রা. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি প্রাণহীন শরীরের সাথে কীভাবে কথা বলছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—আমি যা বলছি তাদের (নিহতদের) চেয়ে তোমরা তা বেশি শুনতে পাও না! তবে তারা আমার কোনো কথার জবাব দিতে পারে না。

টিকাঃ
[৫৪] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ১৬৩, হাদিস: ৯২৩০。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 কবরের ভয়াবহতা, ফিতনা এবং আজাব থেকে মুক্ত ব্যক্তি

📄 কবরের ভয়াবহতা, ফিতনা এবং আজাব থেকে মুক্ত ব্যক্তি


সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—
رِبَاطُ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ خَيْرٌ مِنْ صِيَامِ شَهْرٍ وَقِيَامِهِ وَإِنْ مَاتَ جَرَى عَلَيْهِ عَمَلُهُ الَّذِي كَانَ يَعْمَلُهُ وَأُجْرِيَ عَلَيْهِ رِزْقُهُ وَأَمِنَ الْفَتَّانَ. একদিন একরাত (মুসলিম রাষ্ট্রে) সীমান্ত পাহারা দেওয়া একমাত্র রোজা রাখা ও নামাজ পড়ার চেয়ে উত্তম। যদি সে এ- অবস্থায় মারা যায়, তাহলে যে কাজ সে করত তার (আনামলনামায়) সেই আমলের সওয়াব জারি থাকবে, তার (কবরে) রিযিক প্রদান করা হবে এবং (জাগতিক) ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে。
সীমান্ত প্রহরা দেওয়া ও এই সমস্ত নেককাজের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম—যেগুলোর সওয়াব মৃত্যুর পরও জারি থাকে।
নোট: মোটকথা, কবরের আযাব সম্পর্কে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বহু সহিহ হাদিস বর্ণিত আছে, যেগুলোর বিশদীতে কোনো হাদিস নেই এবং সেগুলোকে মুক্তিদ করার মতো কোনো কারণও নেই。
ইতিপূর্বে আলোচিত হাদিস প্রমাণিত হয়েছে—কবরে কাফিররা ফিতনায় আক্রান্ত হবে। তারা ও জিজ্ঞাসাবাদ হবে, লাঞ্ছিত হবে এবং আযাব দেওয়া হবে।
আবু মুআদম আব্দুল হক বলেছেন—যেখানে থাকবে, কবরের আযাবের সাথে সম্পর্কিত নয়, মুনাফিক-কাফিরদের ওপর কাপড় নগ্ন; বরং একজন মুমিনও কবরের আযাবে আক্রান্ত হতে পারেন। প্রত্যেককে নিজ-নিজ আমল অনুপাতে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে, প্রত্যেককেই নিজ-নিজ ভুল ও পদস্থলনদের সমানুপাতে আযাব ভোগ করতে হবে, যদিও সেই হাদিসগুলো বর্ণিত হয়েছে কাফির ও মুনাফিকদের ব্যাপারে।
আবূ উমর ইবনু আব্দুল বার তদীয় গ্রন্থ ‘কিতাবুত-তামহিদ’-এ বলেছেনে, বর্ণিত হাদিসগুলো প্রমাণ করে—কবরে ফিতনা তথা সুওয়াল-জওয়াব কেবল মুমিন ও মুনাফিকদেরকেই আক্রান্ত করবে—যারা পৃথিবীতে দিয়াজের কফিরের ও মুনাফিকদেরকে আক্রান্ত করবে—যারা পৃথিবীতে দিয়াজের কফিরের সে কফিরের জন্য কবরকে জাহান্নামের গর্ত থেকে জাহান্নামের গর্ত থেকে দেখা হবে এবং তাদের কবরকে জাহান্নামের গর্ত থেকে জাহান্নামের গর্ত থেকে দেখা হবে।

টিকাঃ
[৫৬] একদিন একরাত (মুসলিম রাষ্ট্রে) সীমান্ত পাহারা দেওয়া একমাত্র রোজা রাখা ও নামাজ পড়ার চেয়ে উত্তম। যদি সে এ- অবস্থায় মারা যায়, তাহলে যে কাজ সে করত তার (আনামলনামায়) সেই আমলের সওয়াব জারি থাকবে, তার (কবরে) রিযিক প্রদান করা হবে এবং (জাগতিক) ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00