📄 মুমিনের আমল অনুপাতে কবরে প্রশস্ততা হবে
বুখারী ও মুসলিম গ্রন্থে বর্ণিত আছে—
أَنَّهُ يُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ سَبْعُونَ ذِرَاعًا
কবরকে সত্তর গজ প্রশস্ত করা হবে。
সুনানুত তিরমিজিতে বর্ণিত আছে—
يُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ سَبْعُونَ ذِرَاعًا فِي سَبْعِينَ
তার জন্য কবরকে সত্তর বর্গগজ প্রশস্ত করা হবে。
বারা ইবনু আবিব্নু রাদিয়াল্লাহু আনহু এর হাদিসে বর্ণিত আছে—
مُدُّ الْبَصَرِ
দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত প্রশস্ত হবে。
আলি ইবনু মাবাদ মুআজ্জাহ বলেন, আমি আয়িশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বললাম, আপনি কি আমাদের কবর সম্পর্কে অবহিত করাবেন না যে, সেখানে আমরা কেমন পরিস্থিতির শিকার হব এবং আমাদের সাথে কী আচরণ করা হবে? আয়িশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন—মুমিন হলে তার কবরকে সত্তর গজ প্রশস্ত করা হবে।
আমি বলব—এটা হবে কবরকে সংকোচন এবং জিজ্ঞাসাবাদ করার পর। আর কাফিরের কবর সর্বদা সংকুচিত থাকবে।
আমরা আল্লাহর কাছে ইহ ও পরকালীন ক্ষমা এবং শান্তি প্রার্থনা করছি।
টিকাঃ
[৫১] সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ১৪, পৃষ্ঠা: ৩১, হাদিস: ৫১১৮。
[৫২] সুনানুত তিরমিজি, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ২০৭, হাদিস: ২৪৯৯。
[৫৩] মুসনাদু তায়ালিসি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৩২৮, হাদিস: ৭৯২。
📄 কবরের আজাব সত্য ও কাফিরের আজাবের বিভিন্নতা
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—
وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا
এবং যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে। [সূরা তোহা, আয়াত: ১২৪]
আবু সাইদ খুদরি এবং আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন—
আয়াতে উল্লেখিত ‘ضَنْكًا’ শব্দ দ্বারা কবরের আযাব উদ্দেশ্য।
কুরআন কারিমে আরও বলা হয়েছে—
গুনাহগারদের জন্য এ আযাব আরও আযাব রয়েছে। [সূরা যুর, আয়াত: ২৭]
সেটা হলো কবরের আযাব। কারণ, আল্লাহ তাআলা এ কথাটি বলেছেন নিয়োগ করার পর-ই:
তাদেরকে ছেড়ে দিন সেদিন পর্যন্ত, যেদিন তাদের ওপর বজ্রাঘাত পতিত হবে। [সূরা যুর, আয়াত: ৪৮]
এই দিনটি পার্থিব দিনগুলোর শেষদিন। যা প্রমাণ করে যে, তারা যেই আযাবে আক্রান্ত হবে সেটি হলো কবরের আযাব। এজন্যই তো আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
কিন্তু তাদের অধিকারসমূহ বিষয়টি জানে না। [সূরা যুর, আয়াত: ৪৭]
কেননা, কবরের আযাবটি গায়েব-অদৃশ্য। তাইতো আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন—
আর কঠিন শাস্তি ফিরাউনদের লোকজনকে চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেলল। কবরে সকাল-সন্ধ্যায় তাদেরকে জাহান্নামের আগুনের সামনে উপস্থিত করা হয়। আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে—সেদিন (ফিরিশতাদেরকে) বলা হবে ফিরাউনদের জনগোষ্ঠীকে কঠিন আযাবে প্রবিষ্ট করো। [সূরা গাফির, আয়াত: ৪৫-৪৬]
এ আয়াতে উল্লেখিত আযাব বলতে জাহান্নামের আযাব নয়, বরং কবরের আযাব উদ্দেশ্য—যা বরযখের জগতে হবে। জাহান্নামের আযাব হবে হিসাব-কিতাবের পর।
আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন—
كَلاَّ سَوْفَ تَعْلَمُونَ
অচিরেই জানতে পারবে। [সূরা তাকাছুর, আয়াত: ৩]
এই আয়াতে মানুষের ওপর অবতীর্ণ কবরের আযাবের কথা বলা হয়েছে।
তারপরের আয়াত—
ثُمَّ كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ
তারপরও আবার শীঘ্রই জানতে পারবে। [সূরা তাকাছুর, আয়াত: ৪]
এই আয়াতে পরকালে হিসাব-কিতাবের পর জাহান্নামের আযাবের কথা বলা হয়েছে। এবং এই কথার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে দুই অবস্থার জন্য。
ইবনু ইবনু আবি খালিদ থেকে বর্ণনা করেছেন—আমরা কবরের আযাব সম্পর্কে সন্দেহ করেছিলাম, তখন সূরা তাকাছুরের এই আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়েছে—
أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ ﴿١﴾ حَتَّى زُرْتُمُ الْمَقَابِرَ ﴿٢﴾ كَلاَّ سَوْفَ تَعْلَمُونَ ﴿٣﴾ ثُمَّ كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ ﴿٤﴾
প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে মোহগ্রস্থ রেখেছে, যতক্ষণ না তোমরা কবরে উপনীত হও। কখনো না (এটা ঠিক নয়), তোমরা দ্রুতই (তা) জানতে পারবে। তারপর কখনো না (তারপরও বলি এটা ঠিক নয়)। আর তা), তোমরা খুব দ্রুতই জানতে পারবে। [সূরা তাকাছুর, আয়াত: ১-৫]
অর্থাৎ অতি শিগগির তোমরা কবরের আযাব জানতে পারবে।
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন—কাফিরদের জন্য তাদের কবরকে সংকুচিত করা হবে, যার কারণে তার উভয় পাঁজরের হাড়গুলো পরস্পরের মাঝে ঢুকে যাবে। এটাই হলো সংকুচিত জীবন (مَعِيْشَةً ضَنْكًا)।
📄 কবরের আজাব এবং পাপীদের পাপভেদে আজাবের কম-বেশ
আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি কবরের পাশ দিয়ে গেলেন। অতঃপর বললেন—‘দুজনকে আযাব দেওয়া হচ্ছে; তবে বড় কোনো কারণে নয়! বরং তাদের একজন চোগলখোরি করত এবং অন্যজন পেশাব থেকে বেঁচে থাকত না। সুতরাং তিনি খেজুরের একটি কাঁচা ডাল চেয়ে নিলেন এবং ছিটকে দু ভাগ করলেন। তারপর দুই কবরে দুটি গেড়ে দিলেন। অতঃপর বললেন—যতক্ষণ শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত তাদের আযাবকে হালকা করা হবে।
সামুরা ইবনু জুনদুব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন—রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ফজরের) নামাজ আদায় করার পর আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে জিজ্ঞেস করতেন, তোমাদের কেউ কি রাতে কোনো স্বপ্ন দেখেছ? সামুরা বলেন, যদি কেউ কোনো স্বপ্ন দেখে থাকত, তাহলে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে তা বলত। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাখ্যা বলে দিতেন। সুতরাং একদিন আমরা কোনো একটি বিষয়ে জানতে চাইলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে চাইলেন, তোমাদের কেউ কি আজ রাতে কোনো স্বপ্ন দেখেছ? আমরা বললাম—না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—কিন্তু আমি আজ রাতে স্বপ্নে দেখেছি—দুজন লোক আমার কাছে এসে আমার হাত ধরল। অতঃপর আমাকে একটি পবিত্র ভূমি দিকে নিয়ে গেল। হঠাৎ দেখলাম—একজন লোক বসে আছে, আরেকজন দাঁড়িয়ে আছে, যার হাতে রয়েছে লোহার কাঁটা। দণ্ডায়মান লোকটি উপবিষ্ট লোকের চোয়ালের ভেতর কাঁটাটি ঢুকিয়ে দিয়ে (ফেঁড়ে) পেছন দিক পর্যন্ত নিয়ে যাচ্ছে। তারপর অন্য চোয়ালের সাথেও যখন এমন আচরণ করছে, তখন পূর্বের চোয়াল ভালো হয়ে যাচ্ছে। তারপর পূর্বের চোয়ালের সাথে আবারও এমন করা হচ্ছে।
আমি জিজ্ঞেস করলাম—কী হচ্ছে এগুলো? লোক দুজন বলল—সামনে চলুন! সুতরাং আমরা সামনে চলতে লাগলাম।
একপর্যায়ে আমরা চিত হয়ে শায়িত এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছলাম, যার শিয়রে পাথর হাতে একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। দণ্ডায়মান লোকটি পাথর দিয়ে শায়িত ব্যক্তির মাথায় প্রচণ্ডভাবে আঘাত করছে, যার কারণে মাথা ফেটে চুরমার হয়ে যাচ্ছে এবং পাথরটি গিয়ে দূরে পড়ছে। লোকটি যখন পাথর আনছে যাচ্ছে, ইতিমধ্যে শায়িত ব্যক্তির মাথা পূর্বের মতো ভালো হয়ে যাচ্ছে। দাঁড়ানো লোকটি আবারও তার মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করছে।
আমি জিজ্ঞেস করলাম—ব্যাপার কী? লোক দুটি বলল—সামনে চলুন! সুতরাং আমরা সামনে চলতে লাগলাম।
একসময় আমরা চুল সদৃশ একটি সুরঙ্গের কাছে পৌঁছলাম। যার ওপরের দিক সংকীর্ণ এবং নিচের দিক প্রশস্ত। যার ভেতর থেকে আগুন। আগুন যখন প্রজ্বলিত হতে হতে ওপরের দিকে আসত—তৃণ ভেতরের দিকে এসে আসার উপক্রম হয়ে যেত। অতঃপর যখন নিচের দিকে আগুন আসত—তৃণ ভেতরের দিকে নেমে যেত। সেই সুরঙ্গের মধ্যে উলঙ্গ অনেক নারী-পুরুষ ছিল।
আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম—ঘটনা কী? দাদু দুজন বলল—সামনে চলুন! সুতরাং আমরা সামনের দিকে চললাম।
একপর্যায়ে আমরা একটি রক্তের নদীর কাছে পৌঁছালাম। যার কিনারে পাথর হাতে একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। আর নদীর মাঝখানে রয়েছে আরেকজন মানুষ; সে যখন কিনানার দিকে এগিয়ে এসে নদী থেকে উঠে আসতে চাইত, কিনারে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটি হাতের পাথরটি তার দিকে নিক্ষেপ করত। যার আঘাতে লোকটি আবার নদীর মাঝে ঠিক পূর্বে স্থানে ফিরে যেত। যখনই সে নদী থেকে উঠে আসার চেষ্টা করত, তখনই তাকে পাথর মেরে পূর্বের স্থানে ফিরিয়ে দেওয়া হতো।
আমি জিজ্ঞেস করলাম—ব্যাপার কী? তারা দুজন বলল—সামনে চলুন! সুতরাং আমরা সামনের দিকে চলতে লাগলাম।
একপর্যায়ে আমরা একটি সবুজ বাগানে পৌঁছে গেলাম। সেখানে রয়েছে বিশাল একটি গাছ। গাছের নিচে রয়েছেন একজন বৃদ্ধ এবং অনেকগুলো শিশু। ওদিকে গাছটির কাছেই আরেকজন মানুষের হাতে রয়েছে আগুন, সে তাকে প্রজ্জ্বলিত করছে। আমার সাথে থাকা লোক দুজন আমাকে নিয়ে গাছে উঠল। এবং আমাকে নিয়ে এমন একটি ঘরে প্রবেশ করল। আমি এরচেয়ে সুন্দর ঘর কখনো দেখিনি। সেখানে অনেক বৃদ্ধ, যুবক, নারী এবং শিশু রয়েছে। তারপর আমাকে সেখান থেকে বের করে গাছের আরও ওপরের দিকে নিয়ে গেল। অতপর আমাকে আরও সুন্দর ও উত্তম একটি ঘরে প্রবেশ করালো। সেখানেও রয়েছে অনেক বৃদ্ধ এবং যুবক।
আমি বললাম—তোমরা আমাকে সারারাত ঘোরালে। এবার আমাকে বলো—আমি এগুলো কী দেখলাম?!
তারা দুজন বলল—হ্যাঁ বলেছি! আপনি যার চোয়াল চিরেও দেখেছেন, সে মিথ্যুক, মিথ্যা কথা বলত। এভাবেই তার চোয়াল চিড়তে চিড়তে সেহেরের অংশ পর্যন্ত চিড়ে ফেলা হবে। কিয়ামত পর্যন্ত তার সাথে এমন আচরণ করা হবে।
আপনি যার মাথা বিদীর্ণ করতে দেখেছেন, আল্লাহ তাআলা তাকে কুরআন শিখিয়েছেন। সে রাতে ঘুমিয়েছে, দিনের বেলা আমল করেনি। তার সাথে কিয়ামত পর্যন্ত এমন আচরণ করা হবে।
আপনি যাদেরকে সুরঙ্গ দেখতেছেন, তারা ব্যভিচারী। আর যাকে নদীতে দেখেছেন, সে হলো—সুদখোর।
গাহের নিজের বৃদ্ধ লোকটি হলেন ইবরাহিম আলাইহিস সালাম। তার চারপাশের শিশুগুলো মানুষের সন্তান। আর অগ্নি প্রজ্জ্বলনকারী লোকটি হলেন জাহান্নামের রক্ষণবেক্ষণকারী ফিরিশতা মালেক। প্রথম দলটি সাধারণ মুমিনদের এবং এই দ্বিতীয় দলটি শহিদদের। আর আমি হলাম জিবরাহিল এবং তিনি হলেন মিকাইল। আপনি মাথা উঠান! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—আমি মাথা উঠালাম। দেখলাম—আমার মাথার ওপর মেঘমালার ন্যায়। জিবরাহিল ও মিকাইল বললেন—এটা আপনার ঠিকানা। আমি বললাম—আমাকে ছেড়ে দাও, আমার বাড়িতে যাও। তারা বললেন—আপনার আয়ু এখনো অবশিষ্ট আছে, পূর্ণ হয়নি। যদি আয়ু পূর্ণ করতেন, তাহলে সেখানে প্রবেশ করতে পারতেন।”
টিকাঃ
[৪৪] সহিহ বুখারি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৩৮, হাদিস: ১২৭০; সহিহ মুসলিম, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৪৭, হাদিস: ৪৩৯。
[৫২] সহীহ বুখারী, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ১৯০, হাদিস: ৬২৭১ **নোট:** উসামায়ে কিরাম বলেছেন, সুরাবির এই হাদিস থেকে কবরের আযাবপ্রসঙ্গে অবস্থা বর্ণনা করা যাবে না। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদিও স্বচক্ষে কথা বলেছিলেন, তবে নবীদের স্বপ্ন ওহি। প্রমাণ কুরআন কারিমের আয়াতে দেখানো হয়ে হয়েছে, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বলেছেন— يُؤْتَىٰ أَبِي أَفْعَلُ مَا تُؤْمَرُ فَسَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ (হে আমার পুত্র, আমি স্বপ্নে দেখলাম—তোমাকে জবাই করছি। তোমার সিদ্ধান্ত কী?) পুত্র বললেন— يَا أَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ (হে আমার পিতা, আপনি নির্দেশ পালন করুন। ইনশাআল্লাহ আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন।) [সূরা সাফফাত, আয়াত: ১০২]
📄 কবরের আজাব ও ফিতনা থেকে আশ্রয় চাওয়া
আয়িশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এলেন, তখন আমার কাছে জনৈক ইহুদি নারী উপস্থিত ছিল। মহিলাটি বলছিল, আপনারা তো কবরের ব্যাপারে ফিতনায় আক্রান্ত হবেন। তার কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিউরে উঠে বললেন—
اللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتَنِ الْقُبُورِ
ইহুদিরাই ফিতনায় আক্রান্ত হবে。
আয়িশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, এর কয়েকমিন পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন—‘আমার কাছে ওহি প্রেরণ করা হয়েছে—তোমরা কবরের ব্যাপারে ফিতনায় আক্রান্ত হবে।’
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে দুআ করতেন—
اللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ عَذَابِ النَّارِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি কবরের আযাব থেকে, জাহান্নামের শাস্তি থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং প্রতিশ্রুত দাজ্জালের ফিতনা থেকে。
টিকাঃ
[৫৩] সহীহ বুখারী, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ১৩৯, হাদিস: ৬৩৭৭。