📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 নেককার হলেও কবরে কঠোরতা হবে

📄 নেককার হলেও কবরে কঠোরতা হবে


আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন— هَذَا الَّذِي تَحَرَّكَ لَهُ الْعَرْشُ وَفُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَشَهِدَهُ سَبْعُونَ أَلْفًا مِنَ الْمَلَائِكَةِ لَقَدْ ضُمَّ ضَمَّةً ثُمَّ فُرِجَ عَنْهُ. (সাদ ইবনু মুয়াজ) এমন ব্যক্তি—যার মৃত্যুতে আরশ প্রকম্পিত হয়েছে। তার জন্য আকাশের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে এবং সত্তর হাজার ফিরিশতা তার পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছে। তারপরও কবর তাকে জাপটে ধরেছিল, অতঃপর তার জন্য কবরকে প্রশস্ত করে দেওয়া হয়েছে。
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—"নিশ্চয় কবরের রয়েছে প্রচণ্ড চাপ, যদি কেউ চাপ থেকে মুক্তি পেয়ে থাকে, তাহলে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিটি হলেন সাদ ইবনু মুয়াজ।"

টিকাঃ
[৭০] সুনানুন নাসায়ি, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ১৬১, হাদিস : ২০২৬。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 লাহাদ কবর

📄 লাহাদ কবর


সুরত কবর দুই ধরনের হয়ে থাকে। লাহাদ ও শাক্বা। লাহাদ কবর হলো—শঙ্কু জমি হল কবর গভীরভাবে খনন করার পর কবরের পশ্চিম পার্শ্বে গর্ত করে সেখানে লাশ রাখা হয়; এটা সরাসরি নিচের দিকে খনন করার চেয়ে উত্তম। কেননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাহাদ কবরকেই পছন্দ করেছেন。
আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন— اللَّحْدُ لَنَا وَالشَّقُّ لِغَيْرِنَا.

টিকাঃ
[৭১] সুনানু আবু দাউদ, খণ্ড : ০২, পৃষ্ঠা : ৩০৫, হাদিস : ৩২০৪。
[৭২] কবর খনন ও লাশ দাফন-কাফনের সুন্নাত তরিক্কা বিজ্ঞ কোনো আলেমের কাছ হতে সরাসরি দেখে শেখা দরকার।—অনুবাদক

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 দাফন ও দুআর পর কবরের পাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করা

📄 দাফন ও দুআর পর কবরের পাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করা


লাহাদ কবর আমাদের জন্য, আর শাক্ব (সোজা খননকৃত) কবর অন্যদের জন্য।
ইমাম আবু হুরায়রা রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন—মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখার সময় নিচের দুআ পাঠ করাকে মুস্তাহাব মনে করতেন— اللَّهُمَّ أَعِذْهُ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ হে আল্লাহ, তাকে বিতাড়িত শয়তান থেকে মুক্তি দাও!
ইবনু শিমাষা আল-মিশরি রাহিমাহুল্লাহ বলেন—আমরা এমন সময় ইবনুল আসের কাছে উপস্থিত হলাম, যখন তিনি মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন। এই হাদিসের একপর্যায়ে বলা হয়েছে—(ইমাম ইবনুল আস বলেছেন) যখন তোমরা আমাকে দাফন করবে, তখন আমার ওপর আস্তে আস্তে মাটি ফেলবে; এবং আমার কবরের পার্শ্বে এতটুকু সময় দাঁড়িয়ে থাকবে—যতটুকু সময়ের মাঝে উট জবাই করে তার মাংস বণ্টন করা যায়, যেন আমি তোমাদের সৎকর্মপুতঃ অনুভূতি হয়ে দেখতে পাই যে—আমার রবের দূতদেরকে কী দিয়ে ফেরত পাঠালাম!
ইমাম আহুরি রাহিমাহুল্লাহ কিতাবুন-নাসিহা বলেছেন, মৃতকে দাফন ও তার জন্য দুআ করার পর কবরের দিকে মুখ করে মাইয়েতের অবিচলতার জন্য অবস্থান করা মুস্তাহাব। তার জন্য এভাবে দুআ করবে: اللَّهُمَّ هَذَا عَبْدُكَ وَأَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنَّا وَلَا نَعْلَمُ مِنْهُ إِلَّا خَيْرًا وَقَدْ أَجْلَسْتَهُ لِسُؤَالِهِ اللَّهُمَّ فَتَبِّتْهُ بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْآخِرَةِ كَمَا ثَبَّتَهُ بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَياةِ الدُّنْيَا اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ وَلَا تُعَذِّبْهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ. হে আল্লাহ, এটা তোমার বান্দা। তুমি তার ব্যাপারে আমাদের চেয়ে অধিক জানো। আমরা কেবল তার ভালোর দিকেই দেখেছি। তুমি তাকে জিন্নাতবাদের জন্য বসিয়েছ। হে আল্লাহ, তাকে পরকালে দৃঢ় কালিমাশর (ঈমানদার) মাধ্যমে অবিচল রাখো, যেভাবে তাকে ইহকালে দৃঢ় কালিমাশর (ঈমানদার) মাধ্যমে অবিচল রেখেছিলে। হে আল্লাহ, তার প্রতি রহম করো এবং তাকে তার নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মিলিত করো। তার অবর্তমানে আমাদেরকে গোমরাহ করো না এবং তার প্রতিদান থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত করো না।
কাবর ও ইহকালের পর রূহজানের কর্তব্য হলো, তার জন্য সবর করা, উদ্বেগবস্থায় কান্নাকাটি না করা এবং তার মাগফিরাতের জন্য দুআ করা। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন—'যারা গাল চাপড়ায়, কাপড় ছিঁড়ে এবং জাহালতের যুগের মতো চিৎকার করে তারা আমার উম্মাহর অন্তর্ভুক্ত নয়।'
আবু বুরদাহ ইবনু আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন—আবূ মূসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু কঠিন রোগে আক্রান্ত হলেন, এমনকি এ কারণে অজ্ঞান হয়ে গেলেন। তখন তার মাথা তার পরিবারের কোনো এক নারীর কোলে রাখা ছিল। ইতিমধ্যে তার পরিবারের অন্য একজন মহিলা চিৎকার করতে লাগল। তাকে তিনি কোনো কথার উত্তর দিতে পারছিলেন না। জ্ঞান ফিরে আসার পর আবু মূসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন—সেসব বিষয় থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুক্ত, তা থেকে আমিও মুক্ত। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেসব নারীর সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেছেন—যারা চিৎকার করে কাঁদে, মাথা মুণ্ডায় এবং কাপড় ছিঁড়ে ফেলে。
আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযিদ এবং আবূ বুরদাহ ইবনু আবু মূসা বলেছেন—আবূ মূসা অজ্ঞান হলেন। তখন জনৈক মহিলা চিৎকার করে কাঁদতে লাগল। দুজন বসবাসকারী বললেন—তারপর আবু মূসা জ্ঞান ফিরে পেয়ে বললেন—তুমি কি জানো না যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
'আমি ওই ব্যক্তি থেকে মুক্ত—যে মৃতার কারণে মাথা মুণ্ডিয়ে ফেলে, চিৎকার করে কাঁদে এবং (কাপড় বা শরীর) ফাটায়।'

টিকাঃ
[৭৩] সুনানু আবু দাউদ, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ৩, হাদিস : ২৭১৬। সুনানু ইবনু মাজাহ, খণ্ড : ৩, পৃষ্ঠা : ২০, হাদিস : ১৫৫৪, মুসতাদরাক হাকিম, খণ্ড : ৪, পৃষ্ঠা : ৬২০, হাদিস : ১০৮৮, ইমাম তিরমিযি রাহিমাহুল্লাহ হাদিসটিকে হাসান গরিব বলেছেন。
[৭৪] সহীহ মুসলিম, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ৩০৪, হাদিস : ১৭১。
[৪৫২] সহীহুল বুখারী, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৪১, হাদিস: ১২১২。
[৪৫৩] সহীহুল বুখারী, হাদিস: ১২৯৬; সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১০৪。
[৪৫৪] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২৭১, হাদিস: ১২৩。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 কবরে প্রশ্ন এবং আজাব থেকে আশ্রয় চাওয়া

📄 কবরে প্রশ্ন এবং আজাব থেকে আশ্রয় চাওয়া


আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ وَتَوَلَّى عَنْهُ أَصْحَابُهُ وَإِنَّهُ لَيَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ أَتَاهُ مَلَكَانِ فَيُقْعِدَانِهِ فَيَقُولَانِ مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ لِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ فَيَقُولُ أَشْهَدُ أَنَّهُ عْبُدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ فَيُقَالُ لَهُ انْظُرْ إِلَى مَقْعَدِكَ مِنَ النَّارِ قَدْ أَبْدَلَكَ اللَّهُ بِهِ مَقْعَدًا مِنَ الْجَنَّةِ فَيَرَاهُمَا جَمِيعًا قَالَ قَتَادَةُ وَذُكِرَ لَنَا أَنَّهُ يُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ أَمَّا الْكَافِرُ أَوْ الْمُنَافِقُ فَيَقُولُ لَا أَدْرِي كُنْتُ أَقُولُ مَا يَقُولُ النَّاسُ فَيُقَالُ لَا دَرَيْتَ وَلَا تَلَيْتَ ثُمَّ يُضْرَبُ بِمِطْرَقَةٍ مِنْ حَدِيدٍ ضَرْبَةً بَيْنَ أُذُنَيْهِ فَيَصِيحُ صَيْحَةً يَسْمَعُهَا مَنْ يَلِيهِ إِلَّا الثَّقَلَيْنِ.
বান্দাকে কবরে রাখার পর যখন তার সঙ্গীরা ফিরে যেতে থাকে, তখনো সে সঙ্গীদের জুতার শব্দ শুনতে পায়, ইতিমধ্যে দুজন ফিরিশতা এসে তাকে বসায়। তারপর সেই দুই ফিরিশতা বান্দাকে বলেন—মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামের এই লোকটির ব্যাপারে তোমার মন্তব্য কী? বান্দা মুমিন হলে জবাব দেয়—আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল। এরপর তাকে বলা হয়—তুমি তোমার জাহান্নামের ঠিকানাটা দেখো! তবে আল্লাহ তোমার সেই ঠিকানাকে জান্নাত দ্বারা পালটে দিয়েছেন। তখন সে জান্নাত ও জাহান্নাম উভয়টিই দেখতে পায়। কাতাদা রাদিয়াল্লাহু বলেন, আমাদের সামনে আলোচনা করা হয়েছে যে, তার জন্য কবরকে প্রশস্ত করে দেওয়া হয়। আর কাফির ও মুনাফিক্ব বললে, জানি না; লোকজন যা বলত আমি তা বলতাম কি না! সুতরাং তাকে বলা হয়—তুমি জানো না, তুমি পড়োওনি। তারপর লোহার খুন্তি দ্বারা তার দুই কানের মাঝে আঘাত করা হবে। যার কারণে সে এত বিকট শব্দে চিৎকার করবে যে, মানুষ ও জিন ছাড়া সবাই তা শুনতে পারবে。

টিকাঃ
[৪৫৫] সহীহুল বুখারী, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৪১, হাদিস: ১২১২。
[৪৫৬] সহীহুল বুখারী, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ১১০, হাদিস: ১২২২。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00