📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 রুহ কবজ করার সময় চোখও রুহের অনুসরণ করে

📄 রুহ কবজ করার সময় চোখও রুহের অনুসরণ করে


উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আবু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর ইনতিকাল হলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে গিয়ে দেখলেন যে, তার চোখগুলো খোলা রয়েছে। সুতরাং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চোখ দু'টোকে মুছে বললেন—
اِنَّ الرُّوحَ إِذَا قُبِضَ تَبِعَهُ الْبَصَرُ
যখন প্রাণ হরণ করা হয় তখন তার অনুসরণ করে。
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন—
‘তোমরা মানুষকে দেখোনি—যখন মারা যায় তখন তার চোখ খোলা থাকে? সাহাবায়ে কিরাম বলেন—জ্বী। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—চোখ তখন তার প্রাণের অনুসরণ করে。
উপরের দুই হাদিসের একটিতে নফস এবং অপরটিতে রূহ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। যার দ্বারা জানা গেল, রূহ ও নফস একই বস্তুর দুটি নাম।

টিকাঃ
[৭০] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৪৪০, হাদীস: ১৫৬৮。
[৭১] প্রাগুক্ত, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৪২, হাদীস: ৯৮৯。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 কাফন সুন্দর হওয়া উচিত

📄 কাফন সুন্দর হওয়া উচিত


জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
إِذَا كَفَّنَ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ فَلْيُحْسِنْ كَفَنَهُ
তোমাদের কেউ যখন তার ভাইয়ের কাফন দেবে, সে যেন তার জন্য সুন্দর কাফনের ব্যবস্থা করে。
ইবনুল মুবারক রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন—সবচেয়ে উত্তম হলো সেই কাপড়ে কাফন দেওয়া—যেই কাপড়ে সে নামাজ আদায় করত।

টিকাঃ
[৭২] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৩০, হাদীস: ১৫৬৭。
[৭৩] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৩০, হাদীস: ১৫৬৭。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 দ্রুত সময়ে জানাযা ও কাফন-দাফন হওয়া উচিত

📄 দ্রুত সময়ে জানাযা ও কাফন-দাফন হওয়া উচিত


আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
اِذَا وُضِعَتِ الْجَنَازَةُ وَاحْتَمَلَهَا الرِّجَالُ عَلٰى أَعْنَاقِهِمْ ؕ فَاِنْ كَانَتْ صَالِحَةً قَالَتْ قَدِّمُوْنِيْ ؕ وَاِنْ كَانَتْ غَيْرَ صَالِحَةٍ قَالَتْ يٰوَيْلَهَاۤ اَيْنَ يَذْهَبُوْنَ بِهَا يَسْمَعُ صَوْتَهَا كُلُّ شَيْءٍ إِلَّا الْإِنْسَانَ ؕ وَلَوْ سَمِعَهُ لَصُعِقَ ؕ
যখন জানাযা রাখা হয় এবং লোকজন তাকে কাঁধে তুলে নেয়, যদি মৃত ব্যক্তি হয়, তাহলে তখন সে বলে—আমাকে দ্রুত (কবরে) এগিয়ে দাও। আর বদকার হলে বলে—হায়! তারা কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? তখন মানুষ ছাড়া সবাই তার আওয়াজ শুনতে পারে। যদি মানুষই সেই শব্দ শুনতে পায়, তাহলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলবে。
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—‘তোমরা খুব দ্রুত জানাযা দাও। যদি নেককার হয়, তাহলে তো কল্যাণময় তাকে কল্যাণের দিকে দিচ্ছ। আর যদি বদকার হয়, তাহলে অনিষ্টকর! যাকে তোমরা নিজেদের কাঁধে বহন করছ。

টিকাঃ
[৭৪] সহীহ বুখারী, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ৭৮, হাদীস: ১২৬১。
[৭৫] সহীহ বুখারী, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ১২৬, হাদীস: ১২৫১; সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ০২, হাদীস: ১৫৬১。

📘 মৃত্যুর ওপারে অনন্তের পথে > 📄 মৃত ব্যক্তির কোন জিনিস কবরে যায়, কোন জিনিস যায় না

📄 মৃত ব্যক্তির কোন জিনিস কবরে যায়, কোন জিনিস যায় না


আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
يَتْبَعُ الْمَيِّتَ ثَلَاثَةٌ فَيَرْجِعُ اثْنَانِ وَيَبْقٰى وَاحِدٌ يَتْبَعُهُ أَهْلُهُ وَمَالُهُ وَعَمَلُهُ فَيَرْجِعُ أَهْلُهُ وَمَالُهُ وَيَبْقٰى عَمَلُهُ ؕ
তিনটি বস্তু মৃত ব্যক্তির সাথে সাথে যায়। অতঃপর দুটি ফিরে আসে এবং একটি তার সাথে থাকে। সাথে যায় মৃতের পরিবার, তার সম্পদ এবং আমল। অতঃপর তার পরিবার ও সম্পদ ফিরে আসে আর আমল তার সাথে রয়ে যায়।
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
‘মুমিনের মৃত্যুর পর তার যে আমল ও নেককাজগুলো তার সাথে মিলিত হয় সেগুলো হলো—যে ইলম সে অন্যকে শিক্ষা দিয়েছে এবং প্রচার-প্রসার করেছে। যে নেককার সন্তান সে পৃথিবীতে রেখে গেছে, কুরআনের যে ভলিউম সে উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছে, যে মসজিদ নির্মাণ করেছে, মুসাফিরদের জন্য যে সরাইখানা নির্মাণ করেছে, নহর খনন করে সেখানে পানির ব্যবস্থা করেছে এবং সুস্থ থাকা অবস্থায় নিজের সম্পদ থেকে যে অর্থগুলো সাদাকাহ করেছে। মৃত্যুর পর এগুলো মৃত ব্যক্তির (উপকারী) সাথী হবে।’

টিকাঃ
[৭৬] সুনানু ইবনু মাজাহ, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২৮১, হাদীস: ২৩৮。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00