📄 বিবিধ নেক আমলের ফযীলত
মহান আল্লাহ ৪ জনকে লানত করেছেন
(১) মহানবী সা. বলেছেন,
لَعَنَ اللَّهُ
অর্থ: আল্লাহ্ তায়ালা সে সমস্ত নারীর ওপর অভিশাপ করেছেন, যারা উল্কি আঁকে এবং আঁকতে বলে। তিনি আরো অভিশাপ করেছেন, সে সমস্ত নারীর ওপর, যারা অন্যের চুল নিজের চুলের সাথে যুক্ত করে চুল দীর্ঘ করে এবং যে অন্যের দ্বারা চুল যুক্ত করায়। (বুখারী, মুসলিম)
(২) মহানবী সা. বলেছেন,
لَعَنَ اللَّهُ آكِلَ الرِّبَا ، وَمُوكِلَهُ وَشَاهِدَهُ وَكَاتِبَهُ
অর্থ: মহানবী সা. অভিশাপ করেছেন সুদগ্রহীতা, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং তার সাক্ষীর ওপর। (আবু দাউদ, তিরমিযি)
(৩) মহানবী সা. বলেছেন,
عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : " لَعَنَ اللَّهُ الْمُحَلِّلَ وَالْمُحَلَّلَ لَهُ "
অর্থ: রাসূল সা. অভিশাপ করেছেন, হালালকারীর ওপর এবং যার জন্য হালালাহ করা হয় তার ওপর। অর্থাৎ যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে পুনরায় নেয়ার জন্য অন্যের কাছে এ শর্তে বিবাহ দেয় যে, বিবাহের পর সহবাস করে তালাক দিতে হবে এ শর্তে বিবাহ করে উভয়ের ওপর আল্লাহ্র রাসূল সা. লানত করেছেন।
(৪) মহানবী সা. বলেছেন,
لَعَنَ اللَّهُ السَّارِقَ يَسْرِقُ الْبَيْضَةَ فَتُقْطَعُ يَدُهُ وَيَسْرِقُ الْحَبْلَ فَتُقْطَعُ يَدُهُ
অর্থ: আল্লাহ তায়ালা চোরের ওপর লানত করেছেন। সে ডিম ও রশি চুরি করে, ফলে তার হাত কাটা হয়। (বুখারী, মুসলিম)
(৫) মহানবী সা. বলেছেন,
لُعِنَ خَلْقَ اللَّهِ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْخَمْرِ عَشَرَةً : عَاصِرَهَا وَمُعْتَصِرَهَا وَشَارِبَهَا وَحَامِلَهَا وَالْمَحْمُولَةَ إِلَيْهِ وَسَاقِيَهَا وَبَائِعَهَا وَآكِلَ ثَمَنِهَا
অর্থ: রাসূল সা. মদের সাথে সম্পৃক্ত দশ ব্যক্তির ওপর লানত করেছেন যথা-মদপ্রস্তুতকারীর ওপর, পরিবেশনকারীর ওপর, মদ প্রস্তুতকারকের ওপর, যে রস নিংড়ানোর নির্দেশ দেয় তার ওপর, মদ বিক্রেতার ওপর, তার ক্রেতার ওপর, তার মূল্য ভক্ষণকারীর ওপর, মদ বহনকারীর ওপর, যার জন্য বহন করা হয় তার ওপর। (তিরমিযি)
(৬) মহানবী সা. বলেছেন, لَعَنَ اللَّهُ مَنْ لَعَنَ وَالِدَيْهِ
অর্থ: আল্লাহ্ তায়ালা অভিশাপ করেছেন সে ব্যক্তির ওপর, যে, মাতাপিতার ওপর লানত করে। (নাসাঈ, মুসলিম)
(৭) মহানবী সা. বলেছেন,، لَعَنَ اللَّهُ الرَّجُلَ يَسُبُّ أَبَوَيْهِ
অর্থ: আল্লাহ্ পাক লানত করেছেন সে ব্যক্তির ওপর, যে তার মা-বাবাকে গালি দেয়। (বায়হাকী)
(৮) মহানবী সা. বলেছেন,
إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- لَعَنَ مَنِ اتَّخَذَ الرُّوحَ غَرَضًا
অর্থ: মহানবী সা. অভিশাপ করেছেন সে ব্যক্তির ওপর, যে জীবিত প্রাণীকে তাঁর বা গুলির টার্গেট বানায়।
(৯) মহানবী সা. বলেছেন,
لَعَنَ اللَّهُ الْمُتَشَبِّهِينَ مِنَ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ وَالْمُتَشَبِّهَاتِ مِنَ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ
অর্থ: আল্লাহ্ অভিশাপ করেছেন সে সমস্ত পুরুষের ওপর, যারা নারীদের সাদৃশ্য গ্রহণ করে এবং সে সমস্ত নারীর ওপর, যারা পুরুষের বেশভূষা ধারণ করে।
(১০) মহানবী সা. বলেছেন, لَعَنَ اللَّهُ مَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ اللَّهِ
অর্থ: আল্লাহ তায়ালা অভিশাপ করেছেন সে ব্যক্তির ওপর, যে গাইরুল্লাহ্র নামে জবাই করে।
(১১) মহানবী সা. বলেছেন,
مَنْ أَحْدَثَ حَدَثًا أَوْ آوَى مُحْدِثًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ. لَا يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ صَرْفًا وَلَا عَدْلًا
অর্থ: আল্লাহ্, ফেরেশতা এবং সমস্ত মানুষের অভিশাপ সে ব্যক্তির ওপর, যে দ্বীনের মধ্যে নতুন জিনিসের উদ্ভব ঘটায় বা এমন ব্যক্তিকে আশ্রয় দেয়। আল্লাহ্ কিয়ামতের দিন তার ফরয-নফল কোন ইবাদত কবুল করবেন না।
(১২) মহানবী সা. বলেছেন, أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَعَنَ الْمُصَوِّرَ
অর্থ: নবী সা. অভিশাপ করেছেন ছবি প্রস্তুতকারীর ওপর।
(১৩) মহানবী সা. বলেছেন, لَعَنَ اللَّهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ
অর্থ: সে ব্যক্তি অভিশপ্ত, যে কওমে লূতের ন্যায় কাজ করে।
(১৪) মহানবী সা. বলেছেন, مَنْ أَتَى شَيْئًا مِنَ الْبَهَائِمِ
অর্থ: সে ব্যক্তি অভিশপ্ত, যে কোন পশুর সাথে যৌনকর্ম করে।
(১৫) মহানবী সা. বলেছেন,
أَمَا بَلَغَكُمْ أَنِّي لَعَنْتُ مَنْ وَسَمَ الْبَهِيمَةَ فِي وَجْهِهَا أَوْ ضَرَبَهَا فِي وَجْهِهَا
অর্থ: সে ব্যক্তি অভিশপ্ত, যে কোন পশুর চেহারায় ক্ষ্যাংক দেয় বা আঘাত করে। (আবু দাউদ)
(১৬) মহানবী সা. বলেছেন, مَلْعُونٌ مَنْ ضَارَّ مُؤْمِنًا أَوْ مَكَرَ بِهِ،
অর্থ: সে ব্যক্তি অভিশপ্ত, যে কোন মুসলমানকে কষ্ট দেয় বা তার সাথে প্রতারণা করে। (তিরমিযি)
(১৭) মহানবী সা. বলেছেন,
لَعَنَ اللَّهُ زُوَّارَاتِ الْقُبُورِ وَالْمُتَّخِذِينَ عَلَيْهَا الْمَسَاجِدَ وَالسُّرُجَ
অর্থ: রাসূল সা. অভিশাপ করেছেন সে সমস্ত নারীর ওপর, যারা কবরস্থানে যায় এবং যারা সেখানে সিজদা করে বা বাতি জ্বালায়। ( তিরমিযি)
(১৮) মহানবী সা. বলেছেন,
لَيْسَ مِنَّا مَنْ خَبَّبَ امْرَأَةً عَلَى زَوْجِهَا أَوْ عَبْداً عَلَى سَيِّدِهِ
অর্থ: যে কোন নারীকে তার স্বামীর বিরুদ্ধে বা কোন ক্রীতদাসকে তার মনিবের ব্যাপারে ক্ষুব্ধ করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। (আবু দাউদ, নাসাঈ)
(১৯) মহানবী সা. বলেছেন, مَلْعُونٌ مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا
অর্থ: সে ব্যক্তি অভিশপ্ত, যে তার স্ত্রীর গুহ্যদ্বারে সহবাস করে।
(২০) মহানবী সা. বলেছেন,
إِذَا بَاتَتِ الْمَرْأَةُ هَاجِرَةً فِرَاشَ زَوْجِهَا لَعَنَتْهَا الْمَلَائِكَةُ حَتَّى تُصْبِحَ
অর্থ: যে নারী রাগান্বিত হয়ে তার স্বামী থেকে পৃথক পৃথকভাবে রাত অতিবাহিত করে, তার পর্যন্ত ফেরেশতারা তার ওপর অভিসম্পাত করে।
(২১) মহানবী সা. বলেছেন,
مَنْ انْتَسَبَ إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ أَوْ تَوَلَّى غَيْرَ مَوَالِيهِ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ
অর্থ: যে ব্যক্তি নিজের পিতাকে বাদ দিয়ে অন্য কারো সাথে তার বংশকে সম্পৃক্ত করে, তার ওপর আল্লাহ্, ফেরেশতা ও সমস্ত মানুষের লানত। ( ইবনু মাজাহ)
(২২) মহানবী সা. বলেছেন, مَنْ أَشَارَ عَلَى أَخِيهِ بِحَدِيدَةٍ، لَعَنَتْهُ الْمَلَائِكَةُ
অর্থ: যে ব্যক্তি তার মুসলমান ভাইয়ের দিকে লোহা দ্বারা (ধারালো অস্ত্র দ্বারা) ইঙ্গিত করে, তার ওপর ফেরেশতাগণ অভিশাপ করে। ( তিরমিযি)
(২৩) আল্লাহ্ বলেছেন,
إِذَا رَأَيْتُمُ الَّذِينَ يَسُبُّونَ أَصْحَابِي فَقُولُوا لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى شَرِّكُمْ
অর্থ: যারা সাহাবায়ে কিরাম রা. এর সমালোচনা করে, তাদের দেখলে তোমরা বল যে, তোমাদের অপকর্মের ওপর আল্লাহ্র লানত।
(২৪) আল্লাহ্ বলেছেন,
فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ (٢٢) أُولَئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ
অর্থ: ক্ষমতা লাভ করলে সম্ভবতঃ তোমরা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। এদের প্রতি আল্লাহ্ অভিসম্পাত করেন। ( সূরা মুহাম্মদ ২২-২৩)
(২৫) আল্লাহ্ বলেছেন,
إِنَّ الَّذِينَ يُؤْذُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ
অর্থ: যারা আল্লাহ্ ও তার রাসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ্ তাদের প্রতি ইহকাল ও পরকালে অভিসম্পাত করেন। (সূরা আহযাব-৫৭)
(২৬) আল্লাহ্ বলেছেন,
إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى مِنْ بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ أُولَئِكَ يَلْعَنُهُمُ اللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللَّاعِنُونَ
অর্থ: নিশ্চয় যারা গোপন করে, আমি যে সব তথ্য এবং হেদায়াতের কথা নাযিল করেছি মানুষের জন্য কিতাবের মধ্যে বিস্তারিত বর্ণনা করার পরও; সে সমস্ত লোকের প্রতি আল্লাহ্র অভিসম্পাত এবং অন্যান্য অভিসম্পাতকারীদেরও। ( সূরা আল বাকারা- ১৫৩)
(২৭) আল্লাহ্ বলেছেন,
إِنَّ الَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ الْغَافِلَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ لُعِنُوا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ
অর্থ: যারা সতী-সাধ্বী নিরীহ ঈমানদার নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারা ইহকালে ও পরকালে অভিশপ্ত। (সূরা নূর-২৩)
(২৮) আল্লাহ্ বলেছেন,
অর্থ: তিনি অভিশাপ করেছেন সে ব্যক্তির ওপর, যে মুসলমানদের বিপক্ষে কাফিরদেরকে ঠিক পথের সন্ধান দেয়।
(২৯) মহানবী (সা.) বলেছেন,
لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الرَّاشِي وَالْمُرْتَشِي وَالرَّائِشَ يَعْنِي الَّذِي يَمْشِي بَيْنَهُمَا
অর্থ: আল্লাহ্ অভিশাপ করেছেন সে ব্যক্তির ওপর, যে ঘুষ দেয়, যে ঘুষ নেয় এবং যে এর মধ্যস্থতা করে।
(৩০) মহানবী (সা.) বলেছেন,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَعَنَ الْمُخَنَّثِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالْمُتَرَجِّلَاتِ مِنَ النِّسَاءِ
অর্থ: মহানবী (সা.) বলেছেন, তিনি অভিশাপ করেছেন সে সকল পুরুষদেরকে, যারা নারীদের মতো হাবভাব ধারণ করে। আর সে সব নারীদেরকে, যারা পুরুষের হাবভাব ধারণ করে। (বুখারী)
(৩১) মহানবী (সা.) বলেছেন,
لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الرَّجُلَ يَلْبَسُ لِبْسَةَ الْمَرْأَةِ وَالْمَرْأَةَ تَلْبَسُ لِبْسَةَ الرَّجُلِ
অর্থ: মহানবী (সা.) সে পুরুষের ওপর অভিশাপ করেছেন যে, মহিলার পোশাক পরিধান করে এবং সে মহিলার ওপর অভিশাপ করেছেন যে, পুরুষের পোশাক পরিধান করে। (সূত্র: আবু দাউদ, মিশকাত হা/৪৪২৯)
(৩২) মহানবী (সা.) বলেছেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ « لَعَنَ اللَّهُ الرَّجُلَ يَلْبَسُ لِبْسَةَ الْمَرْأَةِ وَالْمَرْأَةَ تَلْبَسُ لِبْسَةَ الرَّجُلِ »
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেছেন, মহানবী সা. সে পুরুষের ওপর অভিশাপ করেছেন যে, মহিলার পোশাক পরিধান করে এবং সে মহিলার ওপর অভিশাপ করেছেন যে, পুরুষের পোশাক পরিধান করে। (সূত্র: আবু দাউদ, মিশকাত হা/৪৪২৯)
(৩৩) মহানবী (সা.) বলেছেন,
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ -صلى الله عليه وسلم- لَعَنَ الْمُخَنَّثِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالْمُتَرَجِّلاَتِ مِنَ النِّسَاءِ
অর্থঃ হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন, নবী সা. হিজড়াবেশ ধারণকারী পুরুষের ওপর অভিশাপ করেছেন এবং পুরুষের বেশ ধারণকারী নারীর ওপর অভিশাপ করেছেন। ( বুখারী, মিশকাত হা/ ৪৪২৮)
(৩৪) মহানবী (সা.) বলেছেন,
عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ قَالَ قِيلَ لِعَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا إِنَّ امْرَأَةً تَلْبَسُ النَّعْلَ. فَقَالَتْ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- الرَّجُلَةَ مِنَ النِّسَاءِ
অর্থ: হযরত আবু মুলায়কা রা. বলেছেন, একদিন আয়েশা রা. কে বলা হল- একটি মেয়ে পুরুষের জুতা পরে। তখন আয়েশা রা. বললেন, রাসূল সা. পুরুষের বেশধারী নারীর প্রতি অভিশাপ করেছেন। ( সূত্র: আবু দাউদ, মিশকাত হা/ ৪৪৭০)
(৩৫) আল্লাহ্ বলেছেন,
وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيمًا
অর্থ: যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় মুসলমানকে হত্যা করে তার শাস্তি জাহান্নাম, তাতেই সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ্ তার প্রতি রাগান্বিত হয়েছেন, তাকে অভিশাপ করেছেন, এবং তার জন্য ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন। ( সূরা আন-নিসা-৯৩)
(৩৬) আল্লাহ্ বলেছেন,
فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ (٢٢) أُولَئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَى أَبْصَارَهُمْ
অর্থ: ক্ষমতা লাভ করলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করবে এবং পরস্পর সম্পর্ক ছিন্ন করবে। এদের প্রতিই আল্লাহ্ অভিশাপ করেন, এরপর তাদেরকে বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন করেন। (সূরা মুহাম্মদ ২২-২৩)
(৩৭) আল্লাহ্ বলেছেন,
وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أُولَئِكَ يُعْرَضُونَ عَلَى رَبِّهِمْ وَيَقُولُ الْأَشْهَادُ هَؤُلَاءِ الَّذِينَ كَذَبُوا عَلَى رَبِّهِمْ أَلَا لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الظَّالِمِينَ
অর্থ: আল্লাহ্ অত্যাচারী ব্যক্তির প্রতি অভিশাপ করেছেন। (সূরা হুদ-১৮)
(৩৮) আল্লাহ্ বলেছেন,
فَمَنْ حَاجَّكَ فِيهِ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ فَقُلْ تَعَالَوْا نَدْعُ أَبْنَاءَنَا وَأَبْنَاءَكُمْ وَنِسَاءَنَا وَنِسَاءَكُمْ وَأَنْفُسَنَا وَأَنْفُسَكُمْ ثُمَّ نَبْتَهِلْ فَنَجْعَلْ لَعْنَتَ اللَّهِ عَلَى الْكَاذِبِينَ
অর্থ: আল্লাহ্ মিথ্যাবাদীদের প্রতি অভিশাপ করেছেন। (সূরা আল ইমরান-৬১)
(৩৯) মহানবী সা. বলেছেন,
عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةُ حَرَمٌ مَا بَيْنَ عَائِرٍ إِلَى كَذَا مَنْ أَحْدَثَ فِيهَا حَدَثًا أَوْ آوَى مُحْدِثًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لَا يَقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ وَلَا عَدْلٌ وَقَالَ ذِمَّةُ الْمُسْلِمِينَ وَاحِدَةٌ فَمَنْ أَخْفَرَ مُسْلِمًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لَا يَقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ وَلَا عَدْلٌ وَمَنْ تَوَلَّى قَوْمًا بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهِ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لَا يَقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ وَلَا عَدْلٌ
অর্থ: মহানবী সা. বলেছেন, আইর নামক স্থান থেকে ছাওর নামক স্থান পর্যন্ত হচ্ছে হারাম এলাকা। কেউ যদি এখানে বিদআত করে অথবা বিদআতীকে আশ্রয় দেয় তার ওপর আল্লাহ্র এবং সকল ফেরেশতা ও সকল মানুষের পক্ষ থেকে অভিশাপ। তার নফল এবং ফরয কোন প্রকার ইবাদতই কবুল করা হবে না। (সূত্র: বুখারী, মুসলিম মিশকাত হা/ ২৭২৮)
(৪০) মহানবী (সা.) বলেছেন,
عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ : أَدْخِلُوا عَلَيَّ أَصْحَابِي ، فَدَخَلُوا عَلَيْهِ وَهُوَ مُتَقَنِّعٌ بِبُرْدَةِ مَعَافِرِيٍّ ، فَقَالَ : لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ
অর্থ: হযরত আয়েশা রা. বলেছেন, রাসূল সা. তাঁর জীবনের শেষ সময়ে বলেছিলেন, ইয়াহুদি-খৃষ্টানদের ওপর আল্লাহ্র অভিশাপ। তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদ বানিয়ে নিয়েছিল! (সূত্র: বুখারী, মুসলিম মিশকাত হা/ ৭১২)
(৪১) মহানবী (সা.) বলেছেন,
عَنِ السَّائِبِ بْنِ خَلَّادٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَنْ أَخَافَ أَهْلَ الْمَدِينَةِ ظُلْمًا أَخَافَهُ اللَّهُ وَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لاَ يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ صَرْفًا وَلاَ عَدْلاً
অর্থ: রাসূল সা. বলেছেন, যারা মদীনাবাসীকে ভয় দেখাবে, তাদের ওপর যুলুম করবে, আল্লাহ্ তাকে দেখাবেন, তাদের ওপর আল্লাহ্, ফেরেশতাদের ও সমস্ত মানুষের অভিশাপ রয়েছে। কিয়ামতের দিন তাদের ফরয ও নফল ইবাদত কবুল হবে না। রাসূল সা. বলেছেন, আল্লাহ্ তায়ালা তিন প্রকার লোকের ফরয ও নফল ইবাদত কবুল করেন না। (ক) মাতা-পিতার অবাধ্য সন্তান, (খ) দান করে তিরস্কারকারী, (গ) তাকদীর অস্বীকারকারী।
(৪২) মহানবী (সা.) বলেছেন,
إِنَّ هَذَا الْأَمْرَ فِي قُرَيْشٍ مَا إِذَا اسْتُرْحِمُوا رَحِمُوا، وَإِذَا حَكَمُوا عَدَلُوا، وَإِذَا قَسَمُوا أَقْسَطُوا، فَمَنْ لَمْ يَفْعَلْ ذَلِكَ مِنْهُمْ، فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ، وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لَا يُقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ، وَلَا عَدْلٌ
অর্থ: নবী সা. বলেছেন, কুরাইশরা যতদিন খিলাফত ও হুকুমত তাদের হাতে থাকবে। যখন তাদের কাছে অনুগ্রহ চাওয়া হবে তারা অনুগ্রহ করবে, তারা বিচার করলে ন্যায়ের সাথে করবে এবং বণ্টন করার সময় ইনসাফের সাথে বণ্টন করবে। কুরাইশদের যারা এরূপ করবে না তাদের ওপর আল্লাহ্, ফেরেশতা ও সমস্ত মানবকুলের অভিশাপ। তাদের কোন ফরয ও নফল ইবাদত (তাওবা ও ফিদইয়া) কবুল হবে না।
(৪৩) মহানবী (সা.) বলেছেন,
إِنَّ اللَّهَ اخْتَارَنِي وَاخْتَارَ لِي أَصْحَابِي فَجَعَلَ لِي مِنْهُمْ وُزَرَاءَ وَأَصْهَارًا وَأَنْصَارًا فَمَنْ سَبَّهُمْ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لَا يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ صَرْفًا وَلَا عَدْلًا
অর্থ: রাসূল সা. বলেছেন, আল্লাহ্ আমাকে নির্বাচিত করেছেন এবং আমার জন্য কিছু সাহাবীও বাছাই করেছেন। আমার জন্য তাঁদের মধ্য থেকে উজারা, আরসার ও আসহারও বানিয়েছেন। যে ব্যক্তি তাঁদেরকে আমার সাহাবীগণকে গালি দেবে তার ওপর আল্লাহ্, ফেরেশতাকুল ও সমগ্র মানবকুলের অভিশাপ। কিয়ামতের দিন তার কোন ফরয ও নফল ইবাদত কবুল হবে না।
মহান আল্লাহ ৪ জনকে লানত করেছেন
(১) মহানবী সা. বলেছেন,
لَعَنَ اللَّهُ
অর্থ: আল্লাহ্ তায়ালা সে সমস্ত নারীর ওপর অভিশাপ করেছেন, যারা উল্কি আঁকে এবং আঁকতে বলে। তিনি আরো অভিশাপ করেছেন, সে সমস্ত নারীর ওপর, যারা অন্যের চুল নিজের চুলের সাথে যুক্ত করে চুল দীর্ঘ করে এবং যে অন্যের দ্বারা চুল যুক্ত করায়। (বুখারী, মুসলিম)
(২) মহানবী সা. বলেছেন,
لَعَنَ اللَّهُ آكِلَ الرِّبَا ، وَمُوكِلَهُ وَشَاهِدَهُ وَكَاتِبَهُ
অর্থ: মহানবী সা. অভিশাপ করেছেন সুদগ্রহীতা, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং তার সাক্ষীর ওপর। (আবু দাউদ, তিরমিযি)
(৩) মহানবী সা. বলেছেন,
عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : " لَعَنَ اللَّهُ الْمُحَلِّلَ وَالْمُحَلَّلَ لَهُ "
অর্থ: রাসূল সা. অভিশাপ করেছেন, হালালকারীর ওপর এবং যার জন্য হালালাহ করা হয় তার ওপর। অর্থাৎ যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে পুনরায় নেয়ার জন্য অন্যের কাছে এ শর্তে বিবাহ দেয় যে, বিবাহের পর সহবাস করে তালাক দিতে হবে এ শর্তে বিবাহ করে উভয়ের ওপর আল্লাহ্র রাসূল সা. লানত করেছেন।
(৪) মহানবী সা. বলেছেন,
لَعَنَ اللَّهُ السَّارِقَ يَسْرِقُ الْبَيْضَةَ فَتُقْطَعُ يَدُهُ وَيَسْرِقُ الْحَبْلَ فَتُقْطَعُ يَدُهُ
অর্থ: আল্লাহ তায়ালা চোরের ওপর লানত করেছেন। সে ডিম ও রশি চুরি করে, ফলে তার হাত কাটা হয়। (বুখারী, মুসলিম)
(৫) মহানবী সা. বলেছেন,
لُعِنَ خَلْقَ اللَّهِ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْخَمْرِ عَشَرَةً : عَاصِرَهَا وَمُعْتَصِرَهَا وَشَارِبَهَا وَحَامِلَهَا وَالْمَحْمُولَةَ إِلَيْهِ وَسَاقِيَهَا وَبَائِعَهَا وَآكِلَ ثَمَنِهَا
অর্থ: রাসূল সা. মদের সাথে সম্পৃক্ত দশ ব্যক্তির ওপর লানত করেছেন যথা-মদপ্রস্তুতকারীর ওপর, পরিবেশনকারীর ওপর, মদ প্রস্তুতকারকের ওপর, যে রস নিংড়ানোর নির্দেশ দেয় তার ওপর, মদ বিক্রেতার ওপর, তার ক্রেতার ওপর, তার মূল্য ভক্ষণকারীর ওপর, মদ বহনকারীর ওপর, যার জন্য বহন করা হয় তার ওপর। (তিরমিযি)
(৬) মহানবী সা. বলেছেন, لَعَنَ اللَّهُ مَنْ لَعَنَ وَالِدَيْهِ
অর্থ: আল্লাহ্ তায়ালা অভিশাপ করেছেন সে ব্যক্তির ওপর, যে, মাতাপিতার ওপর লানত করে। (নাসাঈ, মুসলিম)
(৭) মহানবী সা. বলেছেন,، لَعَنَ اللَّهُ الرَّجُلَ يَسُبُّ أَبَوَيْهِ
অর্থ: আল্লাহ্ পাক লানত করেছেন সে ব্যক্তির ওপর, যে তার মা-বাবাকে গালি দেয়। (বায়হাকী)
(৮) মহানবী সা. বলেছেন,
إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- لَعَنَ مَنِ اتَّخَذَ الرُّوحَ غَرَضًا
অর্থ: মহানবী সা. অভিশাপ করেছেন সে ব্যক্তির ওপর, যে জীবিত প্রাণীকে তাঁর বা গুলির টার্গেট বানায়।
(৯) মহানবী সা. বলেছেন,
لَعَنَ اللَّهُ الْمُتَشَبِّهِينَ مِنَ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ وَالْمُتَشَبِّهَاتِ مِنَ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ
অর্থ: আল্লাহ্ অভিশাপ করেছেন সে সমস্ত পুরুষের ওপর, যারা নারীদের সাদৃশ্য গ্রহণ করে এবং সে সমস্ত নারীর ওপর, যারা পুরুষের বেশভূষা ধারণ করে।
(১০) মহানবী সা. বলেছেন, لَعَنَ اللَّهُ مَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ اللَّهِ
অর্থ: আল্লাহ তায়ালা অভিশাপ করেছেন সে ব্যক্তির ওপর, যে গাইরুল্লাহ্র নামে জবাই করে।
(১১) মহানবী সা. বলেছেন,
مَنْ أَحْدَثَ حَدَثًا أَوْ آوَى مُحْدِثًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ. لَا يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ صَرْفًا وَلَا عَدْلًا
অর্থ: আল্লাহ্, ফেরেশতা এবং সমস্ত মানুষের অভিশাপ সে ব্যক্তির ওপর, যে দ্বীনের মধ্যে নতুন জিনিসের উদ্ভব ঘটায় বা এমন ব্যক্তিকে আশ্রয় দেয়। আল্লাহ্ কিয়ামতের দিন তার ফরয-নফল কোন ইবাদত কবুল করবেন না।
(১২) মহানবী সা. বলেছেন, أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَعَنَ الْمُصَوِّرَ
অর্থ: নবী সা. অভিশাপ করেছেন ছবি প্রস্তুতকারীর ওপর।
(১৩) মহানবী সা. বলেছেন, لَعَنَ اللَّهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ
অর্থ: সে ব্যক্তি অভিশপ্ত, যে কওমে লূতের ন্যায় কাজ করে।
(১৪) মহানবী সা. বলেছেন, مَنْ أَتَى شَيْئًا مِنَ الْبَهَائِمِ
অর্থ: সে ব্যক্তি অভিশপ্ত, যে কোন পশুর সাথে যৌনকর্ম করে।
(১৫) মহানবী সা. বলেছেন,
أَمَا بَلَغَكُمْ أَنِّي لَعَنْتُ مَنْ وَسَمَ الْبَهِيمَةَ فِي وَجْهِهَا أَوْ ضَرَبَهَا فِي وَجْهِهَا
অর্থ: সে ব্যক্তি অভিশপ্ত, যে কোন পশুর চেহারায় ক্ষ্যাংক দেয় বা আঘাত করে। (আবু দাউদ)
(১৬) মহানবী সা. বলেছেন, مَلْعُونٌ مَنْ ضَارَّ مُؤْمِنًا أَوْ مَكَرَ بِهِ،
অর্থ: সে ব্যক্তি অভিশপ্ত, যে কোন মুসলমানকে কষ্ট দেয় বা তার সাথে প্রতারণা করে। (তিরমিযি)
(১৭) মহানবী সা. বলেছেন,
لَعَنَ اللَّهُ زُوَّارَاتِ الْقُبُورِ وَالْمُتَّخِذِينَ عَلَيْهَا الْمَسَاجِدَ وَالسُّرُجَ
অর্থ: রাসূল সা. অভিশাপ করেছেন সে সমস্ত নারীর ওপর, যারা কবরস্থানে যায় এবং যারা সেখানে সিজদা করে বা বাতি জ্বালায়। ( তিরমিযি)
(১৮) মহানবী সা. বলেছেন,
لَيْسَ مِنَّا مَنْ خَبَّبَ امْرَأَةً عَلَى زَوْجِهَا أَوْ عَبْداً عَلَى سَيِّدِهِ
অর্থ: যে কোন নারীকে তার স্বামীর বিরুদ্ধে বা কোন ক্রীতদাসকে তার মনিবের ব্যাপারে ক্ষুব্ধ করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। (আবু দাউদ, নাসাঈ)
(১৯) মহানবী সা. বলেছেন, مَلْعُونٌ مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا
অর্থ: সে ব্যক্তি অভিশপ্ত, যে তার স্ত্রীর গুহ্যদ্বারে সহবাস করে।
(২০) মহানবী সা. বলেছেন,
إِذَا بَاتَتِ الْمَرْأَةُ هَاجِرَةً فِرَاشَ زَوْجِهَا لَعَنَتْهَا الْمَلَائِكَةُ حَتَّى تُصْبِحَ
অর্থ: যে নারী রাগান্বিত হয়ে তার স্বামী থেকে পৃথক পৃথকভাবে রাত অতিবাহিত করে, তার পর্যন্ত ফেরেশতারা তার ওপর অভিসম্পাত করে।
(২১) মহানবী সা. বলেছেন,
مَنْ انْتَسَبَ إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ أَوْ تَوَلَّى غَيْرَ مَوَالِيهِ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ
অর্থ: যে ব্যক্তি নিজের পিতাকে বাদ দিয়ে অন্য কারো সাথে তার বংশকে সম্পৃক্ত করে, তার ওপর আল্লাহ্, ফেরেশতা ও সমস্ত মানুষের লানত। ( ইবনু মাজাহ)
(২২) মহানবী সা. বলেছেন, مَنْ أَشَارَ عَلَى أَخِيهِ بِحَدِيدَةٍ، لَعَنَتْهُ الْمَلَائِكَةُ
অর্থ: যে ব্যক্তি তার মুসলমান ভাইয়ের দিকে লোহা দ্বারা (ধারালো অস্ত্র দ্বারা) ইঙ্গিত করে, তার ওপর ফেরেশতাগণ অভিশাপ করে। ( তিরমিযি)
(২৩) আল্লাহ্ বলেছেন,
إِذَا رَأَيْتُمُ الَّذِينَ يَسُبُّونَ أَصْحَابِي فَقُولُوا لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى شَرِّكُمْ
অর্থ: যারা সাহাবায়ে কিরাম রা. এর সমালোচনা করে, তাদের দেখলে তোমরা বল যে, তোমাদের অপকর্মের ওপর আল্লাহ্র লানত।
(২৪) আল্লাহ্ বলেছেন,
فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ (٢٢) أُولَئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ
অর্থ: ক্ষমতা লাভ করলে সম্ভবতঃ তোমরা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। এদের প্রতি আল্লাহ্ অভিসম্পাত করেন। ( সূরা মুহাম্মদ ২২-২৩)
(২৫) আল্লাহ্ বলেছেন,
إِنَّ الَّذِينَ يُؤْذُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ
অর্থ: যারা আল্লাহ্ ও তার রাসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ্ তাদের প্রতি ইহকাল ও পরকালে অভিসম্পাত করেন। (সূরা আহযাব-৫৭)
(২৬) আল্লাহ্ বলেছেন,
إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى مِنْ بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ أُولَئِكَ يَلْعَنُهُمُ اللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللَّاعِنُونَ
অর্থ: নিশ্চয় যারা গোপন করে, আমি যে সব তথ্য এবং হেদায়াতের কথা নাযিল করেছি মানুষের জন্য কিতাবের মধ্যে বিস্তারিত বর্ণনা করার পরও; সে সমস্ত লোকের প্রতি আল্লাহ্র অভিসম্পাত এবং অন্যান্য অভিসম্পাতকারীদেরও। ( সূরা আল বাকারা- ১৫৩)
(২৭) আল্লাহ্ বলেছেন,
إِنَّ الَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ الْغَافِلَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ لُعِنُوا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ
অর্থ: যারা সতী-সাধ্বী নিরীহ ঈমানদার নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারা ইহকালে ও পরকালে অভিশপ্ত। (সূরা নূর-২৩)
(২৮) আল্লাহ্ বলেছেন,
অর্থ: তিনি অভিশাপ করেছেন সে ব্যক্তির ওপর, যে মুসলমানদের বিপক্ষে কাফিরদেরকে ঠিক পথের সন্ধান দেয়।
(২৯) মহানবী (সা.) বলেছেন,
لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الرَّاشِي وَالْمُرْتَشِي وَالرَّائِشَ يَعْنِي الَّذِي يَمْشِي بَيْنَهُمَا
অর্থ: আল্লাহ্ অভিশাপ করেছেন সে ব্যক্তির ওপর, যে ঘুষ দেয়, যে ঘুষ নেয় এবং যে এর মধ্যস্থতা করে।
(৩০) মহানবী (সা.) বলেছেন,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَعَنَ الْمُخَنَّثِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالْمُتَرَجِّلَاتِ مِنَ النِّسَاءِ
অর্থ: মহানবী (সা.) বলেছেন, তিনি অভিশাপ করেছেন সে সকল পুরুষদেরকে, যারা নারীদের মতো হাবভাব ধারণ করে। আর সে সব নারীদেরকে, যারা পুরুষের হাবভাব ধারণ করে। (বুখারী)
(৩১) মহানবী (সা.) বলেছেন,
لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الرَّجُلَ يَلْبَسُ لِبْسَةَ الْمَرْأَةِ وَالْمَرْأَةَ تَلْبَسُ لِبْسَةَ الرَّجُلِ
অর্থ: মহানবী (সা.) সে পুরুষের ওপর অভিশাপ করেছেন যে, মহিলার পোশাক পরিধান করে এবং সে মহিলার ওপর অভিশাপ করেছেন যে, পুরুষের পোশাক পরিধান করে। (সূত্র: আবু দাউদ, মিশকাত হা/৪৪২৯)
(৩২) মহানবী (সা.) বলেছেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ « لَعَنَ اللَّهُ الرَّجُلَ يَلْبَسُ لِبْسَةَ الْمَرْأَةِ وَالْمَرْأَةَ تَلْبَسُ لِبْسَةَ الرَّجُلِ »
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেছেন, মহানবী সা. সে পুরুষের ওপর অভিশাপ করেছেন যে, মহিলার পোশাক পরিধান করে এবং সে মহিলার ওপর অভিশাপ করেছেন যে, পুরুষের পোশাক পরিধান করে। (সূত্র: আবু দাউদ, মিশকাত হা/৪৪২৯)
(৩৩) মহানবী (সা.) বলেছেন,
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ -صلى الله عليه وسلم- لَعَنَ الْمُخَنَّثِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالْمُتَرَجِّلاَتِ مِنَ النِّسَاءِ
অর্থঃ হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন, নবী সা. হিজড়াবেশ ধারণকারী পুরুষের ওপর অভিশাপ করেছেন এবং পুরুষের বেশ ধারণকারী নারীর ওপর অভিশাপ করেছেন। ( বুখারী, মিশকাত হা/ ৪৪২৮)
(৩৪) মহানবী (সা.) বলেছেন,
عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ قَالَ قِيلَ لِعَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا إِنَّ امْرَأَةً تَلْبَسُ النَّعْلَ. فَقَالَتْ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- الرَّجُلَةَ مِنَ النِّسَاءِ
অর্থ: হযরত আবু মুলায়কা রা. বলেছেন, একদিন আয়েশা রা. কে বলা হল- একটি মেয়ে পুরুষের জুতা পরে। তখন আয়েশা রা. বললেন, রাসূল সা. পুরুষের বেশধারী নারীর প্রতি অভিশাপ করেছেন। ( সূত্র: আবু দাউদ, মিশকাত হা/ ৪৪৭০)
(৩৫) আল্লাহ্ বলেছেন,
وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيمًا
অর্থ: যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় মুসলমানকে হত্যা করে তার শাস্তি জাহান্নাম, তাতেই সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ্ তার প্রতি রাগান্বিত হয়েছেন, তাকে অভিশাপ করেছেন, এবং তার জন্য ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন। ( সূরা আন-নিসা-৯৩)
(৩৬) আল্লাহ্ বলেছেন,
فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ (٢٢) أُولَئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَى أَبْصَارَهُمْ
অর্থ: ক্ষমতা লাভ করলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করবে এবং পরস্পর সম্পর্ক ছিন্ন করবে। এদের প্রতিই আল্লাহ্ অভিশাপ করেন, এরপর তাদেরকে বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন করেন। (সূরা মুহাম্মদ ২২-২৩)
(৩৭) আল্লাহ্ বলেছেন,
وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أُولَئِكَ يُعْرَضُونَ عَلَى رَبِّهِمْ وَيَقُولُ الْأَشْهَادُ هَؤُلَاءِ الَّذِينَ كَذَبُوا عَلَى رَبِّهِمْ أَلَا لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الظَّالِمِينَ
অর্থ: আল্লাহ্ অত্যাচারী ব্যক্তির প্রতি অভিশাপ করেছেন। (সূরা হুদ-১৮)
(৩৮) আল্লাহ্ বলেছেন,
فَمَنْ حَاجَّكَ فِيهِ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ فَقُلْ تَعَالَوْا نَدْعُ أَبْنَاءَنَا وَأَبْنَاءَكُمْ وَنِسَاءَنَا وَنِسَاءَكُمْ وَأَنْفُسَنَا وَأَنْفُسَكُمْ ثُمَّ نَبْتَهِلْ فَنَجْعَلْ لَعْنَتَ اللَّهِ عَلَى الْكَاذِبِينَ
অর্থ: আল্লাহ্ মিথ্যাবাদীদের প্রতি অভিশাপ করেছেন। (সূরা আল ইমরান-৬১)
(৩৯) মহানবী সা. বলেছেন,
عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةُ حَرَمٌ مَا بَيْنَ عَائِرٍ إِلَى كَذَا مَنْ أَحْدَثَ فِيهَا حَدَثًا أَوْ آوَى مُحْدِثًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لَا يَقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ وَلَا عَدْلٌ وَقَالَ ذِمَّةُ الْمُسْلِمِينَ وَاحِدَةٌ فَمَنْ أَخْفَرَ مُسْلِمًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لَا يَقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ وَلَا عَدْلٌ وَمَنْ تَوَلَّى قَوْمًا بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهِ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لَا يَقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ وَلَا عَدْلٌ
অর্থ: মহানবী সা. বলেছেন, আইর নামক স্থান থেকে ছাওর নামক স্থান পর্যন্ত হচ্ছে হারাম এলাকা। কেউ যদি এখানে বিদআত করে অথবা বিদআতীকে আশ্রয় দেয় তার ওপর আল্লাহ্র এবং সকল ফেরেশতা ও সকল মানুষের পক্ষ থেকে অভিশাপ। তার নফল এবং ফরয কোন প্রকার ইবাদতই কবুল করা হবে না। (সূত্র: বুখারী, মুসলিম মিশকাত হা/ ২৭২৮)
(৪০) মহানবী (সা.) বলেছেন,
عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ : أَدْخِلُوا عَلَيَّ أَصْحَابِي ، فَدَخَلُوا عَلَيْهِ وَهُوَ مُتَقَنِّعٌ بِبُرْدَةِ مَعَافِرِيٍّ ، فَقَالَ : لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ
অর্থ: হযরত আয়েশা রা. বলেছেন, রাসূল সা. তাঁর জীবনের শেষ সময়ে বলেছিলেন, ইয়াহুদি-খৃষ্টানদের ওপর আল্লাহ্র অভিশাপ। তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদ বানিয়ে নিয়েছিল! (সূত্র: বুখারী, মুসলিম মিশকাত হা/ ৭১২)
(৪১) মহানবী (সা.) বলেছেন,
عَنِ السَّائِبِ بْنِ خَلَّادٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَنْ أَخَافَ أَهْلَ الْمَدِينَةِ ظُلْمًا أَخَافَهُ اللَّهُ وَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لاَ يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ صَرْفًا وَلاَ عَدْلاً
অর্থ: রাসূল সা. বলেছেন, যারা মদীনাবাসীকে ভয় দেখাবে, তাদের ওপর যুলুম করবে, আল্লাহ্ তাকে দেখাবেন, তাদের ওপর আল্লাহ্, ফেরেশতাদের ও সমস্ত মানুষের অভিশাপ রয়েছে। কিয়ামতের দিন তাদের ফরয ও নফল ইবাদত কবুল হবে না। রাসূল সা. বলেছেন, আল্লাহ্ তায়ালা তিন প্রকার লোকের ফরয ও নফল ইবাদত কবুল করেন না। (ক) মাতা-পিতার অবাধ্য সন্তান, (খ) দান করে তিরস্কারকারী, (গ) তাকদীর অস্বীকারকারী।
(৪২) মহানবী (সা.) বলেছেন,
إِنَّ هَذَا الْأَمْرَ فِي قُرَيْشٍ مَا إِذَا اسْتُرْحِمُوا رَحِمُوا، وَإِذَا حَكَمُوا عَدَلُوا، وَإِذَا قَسَمُوا أَقْسَطُوا، فَمَنْ لَمْ يَفْعَلْ ذَلِكَ مِنْهُمْ، فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ، وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لَا يُقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ، وَلَا عَدْلٌ
অর্থ: নবী সা. বলেছেন, কুরাইশরা যতদিন খিলাফত ও হুকুমত তাদের হাতে থাকবে। যখন তাদের কাছে অনুগ্রহ চাওয়া হবে তারা অনুগ্রহ করবে, তারা বিচার করলে ন্যায়ের সাথে করবে এবং বণ্টন করার সময় ইনসাফের সাথে বণ্টন করবে। কুরাইশদের যারা এরূপ করবে না তাদের ওপর আল্লাহ্, ফেরেশতা ও সমস্ত মানবকুলের অভিশাপ। তাদের কোন ফরয ও নফল ইবাদত (তাওবা ও ফিদইয়া) কবুল হবে না।
(৪৩) মহানবী (সা.) বলেছেন,
إِنَّ اللَّهَ اخْتَارَنِي وَاخْتَارَ لِي أَصْحَابِي فَجَعَلَ لِي مِنْهُمْ وُزَرَاءَ وَأَصْهَارًا وَأَنْصَارًا فَمَنْ سَبَّهُمْ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لَا يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ صَرْفًا وَلَا عَدْلًا
অর্থ: রাসূল সা. বলেছেন, আল্লাহ্ আমাকে নির্বাচিত করেছেন এবং আমার জন্য কিছু সাহাবীও বাছাই করেছেন। আমার জন্য তাঁদের মধ্য থেকে উজারা, আরসার ও আসহারও বানিয়েছেন। যে ব্যক্তি তাঁদেরকে আমার সাহাবীগণকে গালি দেবে তার ওপর আল্লাহ্, ফেরেশতাকুল ও সমগ্র মানবকুলের অভিশাপ। কিয়ামতের দিন তার কোন ফরয ও নফল ইবাদত কবুল হবে না।