📘 মৃত্যুর কতক্ষণ আগে তওবা গ্রহণযোগ্য > 📄 নফল সালাতের ফযীলত (তাহাজ্জুদ, ইশরাক, বিতর)

📄 নফল সালাতের ফযীলত (তাহাজ্জুদ, ইশরাক, বিতর)


নফল সালাতের ফযীলত এবং কেন নফল আদায় করব
মহানবী (সা.) বলেছেন,
إِنَّ أَوَّلَ مَا يُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ عَمَلِهِ صَلَاتُهُ، فَإِنْ صَلُحَتْ فَقَدْ أَفْلَحَ وَأَنْجَحَ، وَإِنْ فَسَدَتْ فَقَدْ خَابَ وَخَسِرَ، فَإِنِ انْتَقَصَ مِنْ فَرِيضَتِهِ شَيْئًا، قَالَ الرَّبُّ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: انْظُرُوا هَلْ لِعَبْدِي مِنْ تَطَوُّعٍ؟ فَيُكَمَّلُ بِهَا مَا انْتَقَصَ مِنَ الْفَرِيضَةِ، ثُمَّ يَكُونُ سَائِرُ عَمَلِهِ مِثْلَ ذَلِكَ

অর্থ: আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ্ বান্দার কাছ থেকে সর্বপ্রথম তার ফরয সালাতের হিসাব নেবেন। যদি ফরয সালাত পরিপূর্ণ ও ঠিক থাকে তাহলে সে সফলকাম হবে ও মুক্তি পাবে। আর যদি ফরয সালাতে কোন ঘাটতি দেখা যায় তখন ফিরিশতাদের বলা হবে, দেখ তো আমার বান্দার কোন নফল সালাত আছে কিনা? তার যদি নফল সালাত থাকে তাহলে তা দিয়ে আমার বান্দার ফরযের এ ঘাটতি পূরণ কর। এরপর অন্যান্য আমলগুলোও যেমন-সিয়াম, যাকাত ইত্যাদি এভাবে গ্রহণ করা হবে। (তিরমিযি হা/৪১)

গোপনে নফল সালাত আদায়ের ফযীলত
মহানবী (সা.) বলেছেন,
অর্থ: সুহাইব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, লোক চক্ষুর অন্তরালে নফল সালাত আদায়ে ২৫ গুণ বেশি ফযীলতপূর্ণ সে নফল সালাতের চেয়ে যা মানুষের চোখের জনসম্মুখে আদায় করা হয়। (ইবনু শাহীন হা/৮৭)

তাহাজ্জুদ সালাতের ফযীলত
মহানবী (সা.) বলেছেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : أَفْضَلُ الصِّيَامِ، بَعْدَ رَمَضَانَ، شَهْرُ اللَّهِ الْمُحَرَّمُ، وَأَفْضَلُ الصَّلاَةِ، بَعْدَ الْفَرِيضَةِ، صَلاَةُ اللَّيْلِ

অর্থ: আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ফরয সালাতের পর সর্বোৎকৃষ্ট সালাত হল রাতের তাহাজ্জুদের সালাত। (মুসলিম হা/২৯১২)

তাহাজ্জুদের জন্য স্বামীকে ডাকার বুদ্ধি
মহানবী (সা.) বলেছেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ : قَالَ رسول الله - صلى الله عليه وسلم - : ( رَحِمَ اللَّهُ رَجُلاً قَامَ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّى وَأَيْقَظَ امْرَأَتَهُ ، فَإِنْ أَبَتْ نَضَحَ فِي وَجْهِهَا الْمَاءَ ، رَحِمَ اللَّهُ امْرَأَةً قَامَتْ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّتْ وَأَيْقَظَتْ زَوْجَهَا ، فَإِنْ أَبَى نَضَحَتْ فِي وَجْهِهِ الْمَاءَ

অর্থ: আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ্ এমন ব্যক্তির প্রতি রহমত প্রদর্শন করুন, যে রাতে উঠে নিজেও সালাত আদায় করে এবং স্ত্রীকে জাগিয়ে সালাত পড়ায় আর সে সালাত আদায়ে না চাইলে তার মুখমন্ডলে পানি ছিটিয়ে দেয়। আল্লাহ্ এমন নারীর প্রতিও রহমত করুন, যে রাতে উঠে নিজেও সালাত আদায় করে এবং স্বামীকে জাগিয়ে দেয়। আর সে উঠতে না চাইলে তার মুখমন্ডলে পানি ছিটিয়ে দেয়। (আবু দাউদ হা/১৩০৮)

বিতর সালাতের ফযীলত
মহানবী (সা.) বলেছেন,
عَنْ خَارِجَةَ بْنِ حُذَافَةَ أَنَّهُ قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏"‏ إِنَّ اللَّهَ أَمَدَّكُمْ بِصَلاَةٍ هِيَ خَيْرٌ لَكُمْ مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ الْوِتْرُ جَعَلَهُ اللَّهُ لَكُمْ فِيمَا بَيْنَ صَلاَةِ الْعِشَاءِ إِلَى أَنْ يَطْلُعَ الْفَجْرُ ‏"‏

অর্থ: খারেজা ইবনু হুযাফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের কাছে বেরিয়ে এসে বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ একটি সালাত দিয়ে তোমাদেরকে সাহায্য করেছেন। এটা তোমাদের জন্য অনেক দামী উটের চেয়েও উত্তম, তা হল, বিতরের সালাত। তোমাদের জন্য এটা ইশা ও ফজরের মধ্যবর্তী সময়ে আদায়ের জন্য নির্ধারণ করেছেন। (তিরমিযী হা/৪৫২)

দেহের সদকা কি
মহানবী (সা.) বলেছেন,
عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : يُصْبِحُ عَلَى كُلِّ سُلَامَى مِنْ ابْنِ آدَمَ صَدَقَةٌ : تَسْلِيمُهُ عَلَى مَنْ لَقِيَهُ صَدَقَةٌ ، وَأَمْرُهُ بِالْمَعْرُوفِ صَدَقَةٌ ، وَنَهْيُهُ عَنِ الْمُنْكَرِ صَدَقَةٌ ، وَإِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ صَدَقَةٌ ، وَنُفْقَةٌ عَلَى أَهْلِهِ صَدَقَةٌ ، وَيُكْفِي عَنْ ذَلِكَ كُلِّهِ رَكْعَتَانِ مِنَ الضُّحَى

অর্থ: আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, তোমাদের শরীরের প্রত্যেকটি অস্থির সংযোগস্থান বাবদ প্রতিদিন সদকাহ দেয়া উচিত। প্রত্যেক সুবহানাল্লাহ্ পাঠ করা একটি সদাকাহ, প্রত্যেক আল হামদুলিল্লাহ্ বলা একটি সদাকাহ, প্রতিটি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ বলা একটি সদাকাহ, সৎকাজের আদেশ নিষেধ করা একটি সদাকাহ, অসৎকাজে নিষেধ করা একটি সদাকাহ, আর পূর্বাহ্ণ দুই রাকআত সালাত এসব কিছুর পরিপূরক থেকে থেকে যাবে। (মুসলিম হা/১৭০৪)

দেহের কয়টি জোড়া
মহানবী (সা.) বলেছেন,
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ – صلى الله عليه وسلم – يَقُولُ : « فِي الْإِنْسَانِ سِتُّونَ وَثَلَاثُمِائَةِ مَفْصِلٍ ، فَعَلَيْهِ أَنْ يَتَصَدَّقَ عَنْ كُلِّ مَفْصِلٍ مِنْهَا صَدَقَةً » . قَالُوا : فَمَنِ الَّذِي يُطِيقُ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ قَالَ : « النُّخَاعَةُ فِي الْمَسْجِدِ يَدْفِنُهَا ، أَوِ الشَّيْءُ يُنَحِّيهِ عَنِ الطَّرِيقِ ، فَإِنْ لَمْ يَقْدِرْ فَرَكْعَتَا الضُّحَى تُجْزِئُ عَنْكَ » . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ

অর্থ: বুরাইদা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, মানুষের দেহে ৩৬০টি গ্রন্থি রয়েছে। কাজেই প্রত্যেক গ্রন্থির জন্য সদাকাহ্ করা ওয়াজিব। উপস্থিত সাহাবীগণ বললেন, এমনটি করা কি কারো পক্ষে সম্ভব? জবাবে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, মসজিদে কোন ময়লা দেখলে তা পুঁতে ফেলা, রাস্তায় কোন আবর্জনা দেখলে তা সরিয়ে ফেলা। এটাও যদি না পার তাহলে দুপুরের পূর্বের দু'রাকআত সালাত তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। (আহমাদ হা/২২৯৯৮)

ইশরাক সালাতের ফযীলত
মহানবী (সা.) বলেছেন,
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى الْغَدَاةَ فِي جَمَاعَةٍ ثُمَّ قَعَدَ يَذْكُرُ اللَّهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَانَتْ لَهُ كَأَجْرِ حَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَامَّةٍ تَامَّةٍ تَامَّةٍ

অর্থ: আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামাআতের সাথে আদায় করার পর ওখানেই বসে আল্লাহ্র যিকির করে যতক্ষণ না সূর্য ওঠে। এরপর সে দু'রাকআত সালাত আদায় করে। তার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ হজ্জ ও ওমরার সওয়াবের সমান নেকী হবে। (তিরমিযী হা/৫৮৬)

📘 মৃত্যুর কতক্ষণ আগে তওবা গ্রহণযোগ্য > 📄 দান-সদকা ও ধার দেওয়ার ফযীলত

📄 দান-সদকা ও ধার দেওয়ার ফযীলত


আয়ের কত অংশ ব্যয় করব
মহানবী (সা.) বলেছেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ « بَيْنَا رَجُلٌ بِفَلاَةٍ مِنَ الأَرْضِ فَسَمِعَ صَوْتًا فِي سَحَابَةٍ اسْقِ حَدِيقَةَ فُلاَنٍ. فَتَنَحَّى ذَلِكَ السَّحَابُ فَأَفْرَغَ مَاءَهُ فِي حَرَّةٍ فَإِذَا شَرْجَةٌ مِنْ تِلْكَ الشِّرَاجِ قَدِ اسْتَوْعَبَتْ ذَلِكَ الْمَاءَ كُلَّهُ فَتَتَبَّعَ الْمَاءَ فَإِذَا رَجُلٌ قَائِمٌ فِي حَدِيقَتِهِ يُحَوِّلُ الْمَاءَ بِمِسْحَاتِهِ فَقَالَ لَهُ يَا عَبْدَ اللَّهِ مَا اسْمُكَ قَالَ فُلاَنٌ. لِلاِسْمِ الَّذِي سَمِعَ فِي السَّحَابَةِ فَقَالَ لَهُ يَا عَبْدَ اللَّهِ لِمَ تَسْأَلُنِي عَنِ اسْمِي فَقَالَ إِنِّي سَمِعْتُ صَوْتًا فِي السَّحَابِ الَّذِي هَذَا مَاؤُهُ يَقُولُ اسْقِ حَدِيقَةَ فُلاَنٍ لِاسْمِكَ فَمَا تَصْنَعُ فِيهَا قَالَ أَمَّا إِذَا قُلْتَ هَذَا فَإِنِّي أَنْظُرُ إِلَى مَا يَخْرُجُ مِنْهَا فَأَتَصَدَّقُ بِثُلُثِهِ وَآكُلُ أَنَا وَعِيَالِي ثُلُثًا وَأَرُدُّ فِيهَا ثُلُثَهُ

অর্থ: আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, একদিন এক লোক পানবিহীন এক প্রান্তর দিয়ে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে সে মেঘ থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেল, অমুক ব্যক্তির বাগানে পানি প্রবাহিত কর। ওটা শুনে মেঘ খণ্ডটি একদিকে এগিয়ে যায় এবং প্রস্তরময় ভূখন্ডে পানি প্রবাহিত করে। আর পানি ছোট ছোট নালাসমূহ থেকে বড় একটি নালার দিকে অগ্রসর হল। এমনকি পানি পুরো বাগানে বেষ্টন করে নেয়। লোকটি সে পানির পিছনে যেতে থাকে। এমন সময় সে দেখতে পেল, এক ব্যক্তি তার বাগানে দাঁড়িয়ে بیلচা দিয়ে এদিক ওদিক পানি ছিটিয়ে দিচ্ছে। সে ঐ ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করে, হে আল্লাহ্র বান্দা! আমার নাম তুমি কেন জানতে চেয়েছ? সে বলে, যে মেঘ থেকে এ প্রবাহিত হয়েছে সে আওয়াজ শুনেছি যে, অমুকের বাগানে পানি প্রবাহিত কর। আপনার নামই তাতে বলা হয়েছিল। আচ্ছা, আপনি এ বাগানে এমন কি আমল করছেন? সে বলে, তুমি যখন জানতে চেয়েছ, তাহলে শুন, এ বাগান থেকে যা কিছু উৎপন্ন হয়, আমি তার এক তৃতীয়াংশ দান করে দেই। আরেক তৃতীয়াংশ আমি ও আমার পরিবার খেয়ে থাকি। আর এক তৃতীয়াংশ পুনরায় এতে লাগিয়ে দেই। (মুসলিম হা/৭৬৬৪)

কোন খরচ উত্তম
মহানবী সা. বলেছেন,
عن أبي هريرة قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم " دينار أنفقته في سبيل الله ودينار أنفقته في رقبة ودينار تصدقت به على مسكين ودينار أنفقته على أهلك أعظمها أجرا الذي أنفقته على أهلك

অর্থ: আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, একটি দীনার তুমি আল্লাহ্র পথে খরচ করেছ, একটি দীনার গরীবকে সাদাকাহ করেছো এবং একটি দীনার তুমি তোমার পরিবারের প্রতি খরচ করেছ। এগুলোর মধ্যে যেটি তুমি তোমার পরিবারের প্রতি খরচ করেছ-সেটিই হল সওয়াবের দিক দিয়ে অধিক উত্তম। (মুসলিম হা/২৩৫৭)

ব্যয় করব কোথায়
মহানবী সা. বলেছেন,
عن أبي هريرة أن رسول الله ( صلى الله عليه وسلم ) قال : " تصدقوا " . فقال رجل : عندي دينار . قال : " تصدق به على نفسك " . قال : عندي دينار آخر ، قال : " تصدق به على زوجك " قال : عندي دينار آخر ، قال : " تصدق به على ولدك " ، قال : عندي دينار آخر ، قال : " تصدق به على خادمك " قال : عندي دينار آخر ، قال : " أنت أبصر

অর্থ: আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, নবী (সা.) সদাকাহ করার আদেশ করলেন। তখন এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার কাছে একটি দীনার আছে, আমি তা কিসে ব্যয় করব। নবী (সা.) বললেন, এটা তোমার নিজের জন্য ব্যয় কর। লোকটি বললো, আমার কাছে আরেকটি দীনার আছে। নবী (সা.) বললেন, এটা তোমার সন্তানদের জন্য ব্যয় কর। লোকটি বলে, আমার কাছে আরো একটি দীনার আছে। নবী (সা.) বললেন, এটা তোমার পরিবারের জন্য ব্যয় কর। লোকটি বলে, আমার কাছে আরো একটি দীনার আছে। নবী (সা.) বললেন, এটা তুমি তোমার খাদিমকে দান কর। এরপর লোকটি বলে, আমার কাছে আরো একটি আছে। নবী (সা.) বললেন, তুমিই ভাল জান সেটা কোথায় ব্যয় করবে। (আবু দাউদ হা/১৬৯১)

ভাল কথার মূল্য কত
মহানবী (সা.) বলেছেন,
وعن أبي هريرة قال : قال رسول الله : ): «كل سلامي من الناس عليه صدقة، كل يوم تطلع فيه الشمس يعدل بين اثنين صدقة، ويعين الرجل على دابته فيحمل عليها أو يرفع عليها متاعه صدقة، والكلمة الطيبة صدقة، وكل خطوة يخطوها إلى الصلاة صدقة، ويميط الأذى عن الطريق صدقة

অর্থ: আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সূর্য উদিত হয় এমন প্রত্যেক দিনে মানুষের প্রত্যেক অস্থির বদলে একটি সদাকাহ হওয়া উচিত। দু'ব্যক্তির মাঝে ন্যায় বিচার করাও একটি সাদাকাহ। কোন ব্যক্তিকে তার সওয়ারীতে উঠতে সাহায্য করা, তাকে তার সওয়ারীতে উঠিয়ে দেয়া অথবা তার কোন আসবাপত্র সওয়ারীর ওপর উঠিয়ে দেয়া একটি সদাকাহ। কারো সাথে উত্তম কথা বলাও একটি সদাকাহ। সালাতের জন্য প্রত্যেক পদক্ষেপ একটি সদাকাহ এবং রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করাও একটি সদাকাহ। (বুখারী হা/২৭৬৭)

তাসবীহ পাঠে কি সওয়াব
মহানবী (সা.) বলেছেন,
وعن أبي ذر قال : قال رسول الله : «إن بكل تسبيحة صدقة، وكل تكبيرة صدقة، وكل تحميدة صدقة، وكل تهليلة صدقة، وأمر بمعروف صدقة، ونهي عن المنكر صدقة، وفي بضع أحدكم صدقة». قالوا: يا رسول الله، أيأتي أحدنا شهوته ويكون له فيها أجر؟ قال: «أرأيتم لو وضعها في حرام أكان عليه وزر؟ فكذلك إذا وضعها في الحلال كان له أجر

অর্থ: আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক সুবহানাল্লাহ্ বলা একটি সাদাকাহ, প্রত্যেক আল্লাহু আকবার বলা একটি সাদাকাহ, প্রত্যেক আলহামদুলিল্লাহ্ বলা একটি সাদাকাহ, প্রত্যেক লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলা একটি সাদাকাহ, সৎকাজের আদেশ দেয়া একটি সাদাকাহ, অসৎকাজে নিষেধ করা একটি সাদাকাহ, এমনকি নিজের স্ত্রীর সাথে সহবাস করাও একটি সাদাকাহ। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাদের কেউ তার কামপ্রবৃত্তিকে চরিতার্থ করবে আর তাতেও সওয়াব হবে? নবী (সা.) বললেন, আচ্ছা বল তো দেখি, তোমাদের কেউ তা হারামে স্থাপন করতো তাহলে তার জন্য তাতে গুনাহ হত কিনা? এভাবেই সে যখন তাতে হালাল স্থাপন করে তাতেও তার সওয়াব হবে। (মুসলিম হা/২৩৭৬)

সাদাকাহ কাকে বলে
মহানবী (সা.) বলেছেন,
وعن أبي ذر قال : قال رسول الله : «تبسمك في وجه أخيك صدقة، وأمرك بالمعروف صدقة، وإرشادك الرجل في أرض الضلال لك صدقة، وإماطتك الحجر والشوك والعظم عن الطريق صدقة وإفراغك من دلوك في دلو أخيك لك صدقة» رواه الترمذي،

অর্থ: আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমার ভাইয়ের সাথে হাসি মুখে সাক্ষাত করাও একটি সাদাকাহ, কাউকে সৎকাজের আদেশ দেয়া একটি সদাকাহ, অসৎকাজ থেকে নিষেধ করাও একটি সদাকাহ, পথ হারানো জায়গায় কাউকে পথ দেখিয়ে দেয়াও একটি সদাকাহ, কোন অন্ধ ব্যক্তিকে সাহায্য করাও একটি সাদাকাহ, রাস্তা থেকে কাঁটা বা হাঁড় সরানো একটি সদাকাহ, তোমার বালতি থেকে তোমার ভাইয়ের বালতি ভরে দেয়াও একটি সদাকাহ। (তিরমিযী হা/১৯৫৬)

নিজ আত্মীয়-স্বজনকে দান কর
মহানবী (সা.) বলেছেন,
অর্থ: সালমান ইবনু আমির (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, সাধারণ দরিদ্র ব্যক্তিকে সাদাকাহ দিলে কেবল সাদাকাহর সওয়াব পাওয়া যাবে। কিন্তু রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়কে সাদাকাহ করলে সাদাকাহও হবে, আত্মীয়তাও রক্ষা হবে। (তিরমিযী হা/৬৫৮)

ধার দেয়ার ফযীলত
মহানবী (সা.) বলেছেন,
عن سليمان بن بريدة، عن أبيه قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: " من أنظر معسرًا فله بكل يوم مثله صدقة " . قال: ثم سمعته يقول: "من أنظر معسرًا فله بكل يوم مثله صدقة". قلت: سمعتك -يا رسول الله -تقول: "من أنظر معسرًا فله بكل يوم مثله صدقة". ثم سمعتك تقول: "من أنظر معسرًا؟" قال: "له بكل يوم مثله صدقة قبل أن يحل الدين، فإذا حل الدين فأنظره، فله بكل يوم مثلاه صدقة"

অর্থ: সুলাইমান ইবনু বুরাইদাহ (রা.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, পাওনাদার দেনাদারকে ঋণ পরিশোধের সময় বাড়িয়ে দিলে সে প্রতিদিনের জন্য অনুরূপ একটি সাদাকাহ করার সওয়াব পাবে। বর্ণনাকারী বলেছেন, এরপর আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, পাওনাদার দেনাদারকে ঋণ পরিশোধের সময় বাড়িয়ে দিলে সে প্রতিদিনের জন্য অনুরূপ দুটি সাদাকাহ করার সওয়াব পাবে। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি আপনাকে বলতে শুনেছি, পাওনাদার দেনাদারকে ঋণ পরিশোধের সময় বাড়িয়ে দিলে সে প্রতিদিনের জন্য অনুরূপ একটি সাদাকাহ করার সওয়াব পাবে। এরপর আমি আপনাকে বলতে শুনেছি যে, পাওনাদার দেনাদারকে ঋণ পরিশোধের সময় বাড়িয়ে দিলে সে প্রতিদিনের জন্য অনুরূপ দুটি করে সাদাকাহর সওয়াব দেয়া হবে। তখন তিনি (সা.) তাঁকে বলেন, ঋণগ্রহীতাকে ঋণ পরিশোধের দিন আসার আগে সে প্রতিদিনের জন্য একটি করে সাদাকাহর সওয়াব পাবে। আর ঋণ পরিশোধের দিন এসে যাওয়ার পর সময় বাড়িয়ে দিলে প্রতিদিনের জন্য দুটি করে সাদাকাহর সওয়াব দেয়া হবে। (আহমাদ হা/২২৯৭০)

আয়ের কত অংশ ব্যয় করব
মহানবী (সা.) বলেছেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ « بَيْنَا رَجُلٌ بِفَلاَةٍ مِنَ الأَرْضِ فَسَمِعَ صَوْتًا فِي سَحَابَةٍ اسْقِ حَدِيقَةَ فُلاَنٍ. فَتَنَحَّى ذَلِكَ السَّحَابُ فَأَفْرَغَ مَاءَهُ فِي حَرَّةٍ فَإِذَا شَرْجَةٌ مِنْ تِلْكَ الشِّرَاجِ قَدِ اسْتَوْعَبَتْ ذَلِكَ الْمَاءَ كُلَّهُ فَتَتَبَّعَ الْمَاءَ فَإِذَا رَجُلٌ قَائِمٌ فِي حَدِيقَتِهِ يُحَوِّلُ الْمَاءَ بِمِسْحَاتِهِ فَقَالَ لَهُ يَا عَبْدَ اللَّهِ مَا اسْمُكَ قَالَ فُلاَنٌ. لِلاِسْمِ الَّذِي سَمِعَ فِي السَّحَابَةِ فَقَالَ لَهُ يَا عَبْدَ اللَّهِ لِمَ تَسْأَلُنِي عَنِ اسْمِي فَقَالَ إِنِّي سَمِعْتُ صَوْتًا فِي السَّحَابِ الَّذِي هَذَا مَاؤُهُ يَقُولُ اسْقِ حَدِيقَةَ فُلاَنٍ لِاسْمِكَ فَمَا تَصْنَعُ فِيهَا قَالَ أَمَّا إِذَا قُلْتَ هَذَا فَإِنِّي أَنْظُرُ إِلَى مَا يَخْرُجُ مِنْهَا فَأَتَصَدَّقُ بِثُلُثِهِ وَآكُلُ أَنَا وَعِيَالِي ثُلُثًا وَأَرُدُّ فِيهَا ثُلُثَهُ

অর্থ: আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, একদিন এক লোক পানবিহীন এক প্রান্তর দিয়ে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে সে মেঘ থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেল, অমুক ব্যক্তির বাগানে পানি প্রবাহিত কর। ওটা শুনে মেঘ খণ্ডটি একদিকে এগিয়ে যায় এবং প্রস্তরময় ভূখন্ডে পানি প্রবাহিত করে। আর পানি ছোট ছোট নালাসমূহ থেকে বড় একটি নালার দিকে অগ্রসর হল। এমনকি পানি পুরো বাগানে বেষ্টন করে নেয়। লোকটি সে পানির পিছনে যেতে থাকে। এমন সময় সে দেখতে পেল, এক ব্যক্তি তার বাগানে দাঁড়িয়ে بیلচা দিয়ে এদিক ওদিক পানি ছিটিয়ে দিচ্ছে। সে ঐ ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করে, হে আল্লাহ্র বান্দা! আমার নাম তুমি কেন জানতে চেয়েছ? সে বলে, যে মেঘ থেকে এ প্রবাহিত হয়েছে সে আওয়াজ শুনেছি যে, অমুকের বাগানে পানি প্রবাহিত কর। আপনার নামই তাতে বলা হয়েছিল। আচ্ছা, আপনি এ বাগানে এমন কি আমল করছেন? সে বলে, তুমি যখন জানতে চেয়েছ, তাহলে শুন, এ বাগান থেকে যা কিছু উৎপন্ন হয়, আমি তার এক তৃতীয়াংশ দান করে দেই। আরেক তৃতীয়াংশ আমি ও আমার পরিবার খেয়ে থাকি। আর এক তৃতীয়াংশ পুনরায় এতে লাগিয়ে দেই। (মুসলিম হা/৭৬৬৪)

কোন খরচ উত্তম
মহানবী সা. বলেছেন,
عن أبي هريرة قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم " دينار أنفقته في سبيل الله ودينار أنفقته في رقبة ودينار تصدقت به على مسكين ودينار أنفقته على أهلك أعظمها أجرا الذي أنفقته على أهلك

অর্থ: আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, একটি দীনার তুমি আল্লাহ্র পথে খরচ করেছ, একটি দীনার গরীবকে সাদাকাহ করেছো এবং একটি দীনার তুমি তোমার পরিবারের প্রতি খরচ করেছ। এগুলোর মধ্যে যেটি তুমি তোমার পরিবারের প্রতি খরচ করেছ-সেটিই হল সওয়াবের দিক দিয়ে অধিক উত্তম। (মুসলিম হা/২৩৫৭)

ব্যয় করব কোথায়
মহানবী সা. বলেছেন,
عن أبي هريرة أن رسول الله ( صلى الله عليه وسلم ) قال : " تصدقوا " . فقال رجل : عندي دينار . قال : " تصدق به على نفسك " . قال : عندي دينار آخر ، قال : " تصدق به على زوجك " قال : عندي دينار آخر ، قال : " تصدق به على ولدك " ، قال : عندي دينار آخر ، قال : " تصدق به على خادمك " قال : عندي دينار آخر ، قال : " أنت أبصر

অর্থ: আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, নবী (সা.) সদাকাহ করার আদেশ করলেন। তখন এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার কাছে একটি দীনার আছে, আমি তা কিসে ব্যয় করব। নবী (সা.) বললেন, এটা তোমার নিজের জন্য ব্যয় কর। লোকটি বললো, আমার কাছে আরেকটি দীনার আছে। নবী (সা.) বললেন, এটা তোমার সন্তানদের জন্য ব্যয় কর। লোকটি বলে, আমার কাছে আরো একটি দীনার আছে। নবী (সা.) বললেন, এটা তোমার পরিবারের জন্য ব্যয় কর। লোকটি বলে, আমার কাছে আরো একটি দীনার আছে। নবী (সা.) বললেন, এটা তুমি তোমার খাদিমকে দান কর। এরপর লোকটি বলে, আমার কাছে আরো একটি আছে। নবী (সা.) বললেন, তুমিই ভাল জান সেটা কোথায় ব্যয় করবে। (আবু দাউদ হা/১৬৯১)

ভাল কথার মূল্য কত
মহানবী (সা.) বলেছেন,
وعن أبي هريرة قال : قال رسول الله : ): «كل سلامي من الناس عليه صدقة، كل يوم تطلع فيه الشمس يعدل بين اثنين صدقة، ويعين الرجل على دابته فيحمل عليها أو يرفع عليها متاعه صدقة، والكلمة الطيبة صدقة، وكل خطوة يخطوها إلى الصلاة صدقة، ويميط الأذى عن الطريق صدقة

অর্থ: আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সূর্য উদিত হয় এমন প্রত্যেক দিনে মানুষের প্রত্যেক অস্থির বদলে একটি সদাকাহ হওয়া উচিত। দু'ব্যক্তির মাঝে ন্যায় বিচার করাও একটি সাদাকাহ। কোন ব্যক্তিকে তার সওয়ারীতে উঠতে সাহায্য করা, তাকে তার সওয়ারীতে উঠিয়ে দেয়া অথবা তার কোন আসবাপত্র সওয়ারীর ওপর উঠিয়ে দেয়া একটি সদাকাহ। কারো সাথে উত্তম কথা বলাও একটি সদাকাহ। সালাতের জন্য প্রত্যেক পদক্ষেপ একটি সদাকাহ এবং রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করাও একটি সদাকাহ। (বুখারী হা/২৭৬৭)

তাসবীহ পাঠে কি সওয়াব
মহানবী (সা.) বলেছেন,
وعن أبي ذر قال : قال رسول الله : «إن بكل تسبيحة صدقة، وكل تكبيرة صدقة، وكل تحميدة صدقة، وكل تهليلة صدقة، وأمر بمعروف صدقة، ونهي عن المنكر صدقة، وفي بضع أحدكم صدقة». قالوا: يا رسول الله، أيأتي أحدنا شهوته ويكون له فيها أجر؟ قال: «أرأيتم لو وضعها في حرام أكان عليه وزر؟ فكذلك إذا وضعها في الحلال كان له أجر

অর্থ: আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক সুবহানাল্লাহ্ বলা একটি সাদাকাহ, প্রত্যেক আল্লাহু আকবার বলা একটি সাদাকাহ, প্রত্যেক আলহামদুলিল্লাহ্ বলা একটি সাদাকাহ, প্রত্যেক লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলা একটি সাদাকাহ, সৎকাজের আদেশ দেয়া একটি সাদাকাহ, অসৎকাজে নিষেধ করা একটি সাদাকাহ, এমনকি নিজের স্ত্রীর সাথে সহবাস করাও একটি সাদাকাহ। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাদের কেউ তার কামপ্রবৃত্তিকে চরিতার্থ করবে আর তাতেও সওয়াব হবে? নবী (সা.) বললেন, আচ্ছা বল তো দেখি, তোমাদের কেউ তা হারামে স্থাপন করতো তাহলে তার জন্য তাতে গুনাহ হত কিনা? এভাবেই সে যখন তাতে হালাল স্থাপন করে তাতেও তার সওয়াব হবে। (মুসলিম হা/২৩৭৬)

সাদাকাহ কাকে বলে
মহানবী (সা.) বলেছেন,
وعن أبي ذر قال : قال رسول الله : «تبسمك في وجه أخيك صدقة، وأمرك بالمعروف صدقة، وإرشادك الرجل في أرض الضلال لك صدقة، وإماطتك الحجر والشوك والعظم عن الطريق صدقة وإفراغك من دلوك في دلو أخيك لك صدقة» رواه الترمذي،

অর্থ: আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমার ভাইয়ের সাথে হাসি মুখে সাক্ষাত করাও একটি সাদাকাহ, কাউকে সৎকাজের আদেশ দেয়া একটি সদাকাহ, অসৎকাজ থেকে নিষেধ করাও একটি সদাকাহ, পথ হারানো জায়গায় কাউকে পথ দেখিয়ে দেয়াও একটি সদাকাহ, কোন অন্ধ ব্যক্তিকে সাহায্য করাও একটি সাদাকাহ, রাস্তা থেকে কাঁটা বা হাঁড় সরানো একটি সদাকাহ, তোমার বালতি থেকে তোমার ভাইয়ের বালতি ভরে দেয়াও একটি সদাকাহ। (তিরমিযী হা/১৯৫৬)

নিজ আত্মীয়-স্বজনকে দান কর
মহানবী (সা.) বলেছেন,
অর্থ: সালমান ইবনু আমির (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, সাধারণ দরিদ্র ব্যক্তিকে সাদাকাহ দিলে কেবল সাদাকাহর সওয়াব পাওয়া যাবে। কিন্তু রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়কে সাদাকাহ করলে সাদাকাহও হবে, আত্মীয়তাও রক্ষা হবে। (তিরমিযী হা/৬৫৮)

ধার দেয়ার ফযীলত
মহানবী (সা.) বলেছেন,
عن سليمان بن بريدة، عن أبيه قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: " من أنظر معسرًا فله بكل يوم مثله صدقة " . قال: ثم سمعته يقول: "من أنظر معسرًا فله بكل يوم مثله صدقة". قلت: سمعتك -يا رسول الله -تقول: "من أنظر معسرًا فله بكل يوم مثله صدقة". ثم سمعتك تقول: "من أنظر معسرًا؟" قال: "له بكل يوم مثله صدقة قبل أن يحل الدين، فإذا حل الدين فأنظره، فله بكل يوم مثلاه صدقة"

অর্থ: সুলাইমান ইবনু বুরাইদাহ (রা.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, পাওনাদার দেনাদারকে ঋণ পরিশোধের সময় বাড়িয়ে দিলে সে প্রতিদিনের জন্য অনুরূপ একটি সাদাকাহ করার সওয়াব পাবে। বর্ণনাকারী বলেছেন, এরপর আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, পাওনাদার দেনাদারকে ঋণ পরিশোধের সময় বাড়িয়ে দিলে সে প্রতিদিনের জন্য অনুরূপ দুটি সাদাকাহ করার সওয়াব পাবে। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি আপনাকে বলতে শুনেছি, পাওনাদার দেনাদারকে ঋণ পরিশোধের সময় বাড়িয়ে দিলে সে প্রতিদিনের জন্য অনুরূপ একটি সাদাকাহ করার সওয়াব পাবে। এরপর আমি আপনাকে বলতে শুনেছি যে, পাওনাদার দেনাদারকে ঋণ পরিশোধের সময় বাড়িয়ে দিলে সে প্রতিদিনের জন্য অনুরূপ দুটি করে সাদাকাহর সওয়াব দেয়া হবে। তখন তিনি (সা.) তাঁকে বলেন, ঋণগ্রহীতাকে ঋণ পরিশোধের দিন আসার আগে সে প্রতিদিনের জন্য একটি করে সাদাকাহর সওয়াব পাবে। আর ঋণ পরিশোধের দিন এসে যাওয়ার পর সময় বাড়িয়ে দিলে প্রতিদিনের জন্য দুটি করে সাদাকাহর সওয়াব দেয়া হবে। (আহমাদ হা/২২৯৭০)

📘 মৃত্যুর কতক্ষণ আগে তওবা গ্রহণযোগ্য > 📄 হজ্জ, উমরাহ ও সংশ্লিষ্ট আমলের ফযীলত

📄 হজ্জ, উমরাহ ও সংশ্লিষ্ট আমলের ফযীলত


হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী স্পর্শ করার ফযীলত
মহানবী (সা.) বলেছেন,
عبد الله بن عباس - رضي الله عنهما - قال : قال رسول الله - صلى الله عليه وسلم- في الحَجَر : «والله ليبعثنه الله يوم القيامة له عينان يُبْصِرُ بهما ، ولسان يَنْطِقُ به ، يَشْهَدُ على من اسْتَلَمَهُ بحق». أخرجه الترمذي.

অর্থ: ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ অবশ্যই কিয়ামতের দিন হাজরে আসওয়াদকে উত্থিত করবেন। তার দুটি চোখ থাকবে যা দিয়ে সে কথা বলবে এবং যারা তাকে ন্যায়নিষ্ঠভাবে স্পর্শ করেছে তাদের পক্ষে সাক্ষী দেবে। (তিরমিযী হা/৯৬১)

হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানীর মর্যাদা
মহানবী (সা.) বলেছেন,
إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَقُولُ ‏:‏ ‏"‏ إِنَّ مَسْحَهُمَا كَفَّارَةٌ لِلْخَطَايَا

অর্থ: ইবনু ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী স্পর্শ পাপ সমূহকে সম্পূর্ণ মুছে দেয়। (তিরমিযী হা/৯৫৯)

হাজরে আসওয়াদের আলো
মহানবী (সা.) বলেছেন,
إِنَّ الرُّكْنَ وَالْمَقَامَ يَاقُوتَتَانِ مِنْ يَاقُوتِ الْجَنَّةِ ، طَمَسَ اللَّهُ نُورَهُمَا ، وَلَوْ لَمْ يَطْمِسْ نُورَهُمَا لَأَضَاءَا مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ

অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, হাজরে আসওয়াদ ও মাকামে ইবরাহীম জান্নাতের ইয়াকুত থেকে দুটি ইয়াকুত। এ দুটির আলোকপ্রভা আল্লাহ্ নিষ্প্রভ করে দিয়েছেন। তিনি যদি এ দুটির প্রভা নিষ্প্রভ না করতেন তাহলে তা পূর্ব পশ্চিমের মাঝে যা কিছু আছে সব আলোকিত হত। (তিরমিযী হা/৮৭৮)

হাজরে আসওয়াদ সাদা ছিল
মহানবী (সা.) বলেছেন,
نَزَلَ الْحَجَرُ الأَسْوَدُ مِنَ الْجَنَّةِ وَهُوَ أَشَدُّ بَيَاضًا مِنَ اللَّبَنِ فَسَوَّدَتْهُ خَطَايَا بَنِي آدَمَ )
অর্থ: ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হাজরে আসওয়াদ হল জান্নাতের পাথর। পাথরেরটি দুধের চেয়েও বেশি সাদা ছিল। কিন্তু আদম সন্তানের গুনাহ একে কাল করে দিয়েছে। (তিরমিযী হা/৮৭৭)

যমযমের পানির ফযীলত
মহানবী (সা.) বলেছেন,
فَإِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَاءُ زَمْزَمَ لِمَا شُرِبَ لَهُ

অর্থ: জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যমযমের পানি যে উদ্দেশ্য নিয়ে পান করবে তা পূরণ হবে। (আহমাদ হা/১৪৮৪৯)

যমযমের পানি ওষুध
মহানবী (সা.) বলেছেন,
فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : إِنَّهَا مُبَارَكَةٌ ، وَهِيَ طَعَامُ طُعْمٍ ، وَشِفَاءُ سُقْمٍ. رواه أبو داود الطيالسي بسند الصحيح

অর্থ: আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যমযমের পানি বরকতময়, স্বাদ অন্বেষণকারীর খাদ্য এবং রোগীর ওষুध। (তায়ালিসি হা/৪৫৩)

عن ابن عباس رضي الله عنهما قال : قال رسول الله عليه و سلم " خير ماء على وجه الأرض زمزم فيه طعم من الطعم وشفاء من السقم " .

অর্থ: ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যমীনের ওপর সর্বোত্তম পানি হল যমযমের পানি। (তাবারানী কাবীর হা/১১০৩৪)

হজ্জের বাহনের বিনিময়ে হাজীর সওয়াব লাভ
মহানবী (সা.) বলেছেন,
عن ابن عمر قال سمعت النبي صلى الله عليه و سلم يقول : ما يرفع إبل الحاج رجلا و لا يضع يدا إلا كتب الله له بها حسنة أو محا عنه سيئة أو رفعه بها درجة

অর্থ: ইবনু ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি নবী (সা.) কে বলতে শুনেছি, হজ্জে গমনকারী ব্যক্তির উট চলার পথে যখনই পা উত্তোলন করে এবং হাত রাখে এর বিনিময়ে আল্লাহ্ সে হজ্জকারীর জন্য সওয়াব লিখে দেন। অথবা এর দ্বারা তার একটি গুনাহ মুছে দেন অথবা এর দ্বারা তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। (আত-তারগীব হা/১১৩৬)

হজ্জ ও ওমরাকারীর দু'আ কবুল হয়
মহানবী (সা.) বলেছেন,
অর্থ: ইবনু ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, আল্লাহ্র পথের গাজী, হজ্জ এবং ওমরাকারী। এরা আল্লাহ্র দল। তারা দু'আ করলে কবুল হয় এবং তারা কিছু চাইলে তাদেরকে তা দেয়া হয়। (ইবনু মাজাহ হা/২৮৯৩)

হাজীগণের মর্যাদা
মহানবী (সা.) বলেছেন,
قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ، عَلَيْهِ السَّلَامُ : مَنْ خَرَجَ حَاجًّا فَمَاتَ كُتِبَ لَهُ أَجْرُ الْحَاجِّ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ، وَمَنْ خَرَجَ مُعْتَمِرًا فَمَاتَ كُتِبَ لَهُ أَجْرُ الْمُعْتَمِرِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ، وَمَنْ خَرَجَ غَازِيًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَمَاتَ كُتِبَ لَهُ أَجْرُ الْغَازِي إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
অর্থ: আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হল। এরপর মৃত্যুবরণ করেছে। কিয়ামত পর্যন্ত তার জন্য হজ্জের সওয়াব লিখা হবে। আর যে ব্যক্তি ওমরার উদ্দেশ্যে বের হল। এরপর মৃত্যুবরণ করেছে। কিয়ামত পর্যন্ত তার জন্য ওমরার সওয়াব লিখা হবে। আর যে ব্যক্তি জিহাদের উদ্দেশ্যে যোদ্ধা হিসেবে বের হল। এরপর মৃত্যুবরণ করেছে কিয়ামত পর্যন্ত তার জন্য জিহাদের সওয়াব লিখা হবে। (আবু ইয়ালা হা/৬২২৭)

হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী স্পর্শ করার ফযীলত
মহানবী (সা.) বলেছেন,
عبد الله بن عباس - رضي الله عنهما - قال : قال رسول الله - صلى الله عليه وسلم- في الحَجَر : «والله ليبعثنه الله يوم القيامة له عينان يُبْصِرُ بهما ، ولسان يَنْطِقُ به ، يَشْهَدُ على من اسْتَلَمَهُ بحق». أخرجه الترمذي.

অর্থ: ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ অবশ্যই কিয়ামতের দিন হাজরে আসওয়াদকে উত্থিত করবেন। তার দুটি চোখ থাকবে যা দিয়ে সে কথা বলবে এবং যারা তাকে ন্যায়নিষ্ঠভাবে স্পর্শ করেছে তাদের পক্ষে সাক্ষী দেবে। (তিরমিযী হা/৯৬১)

হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানীর মর্যাদা
মহানবী (সা.) বলেছেন,
إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَقُولُ ‏:‏ ‏"‏ إِنَّ مَسْحَهُمَا كَفَّارَةٌ لِلْخَطَايَا

অর্থ: ইবনু ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী স্পর্শ পাপ সমূহকে সম্পূর্ণ মুছে দেয়। (তিরমিযী হা/৯৫৯)

হাজরে আসওয়াদের আলো
মহানবী (সা.) বলেছেন,
إِنَّ الرُّكْنَ وَالْمَقَامَ يَاقُوتَتَانِ مِنْ يَاقُوتِ الْجَنَّةِ ، طَمَسَ اللَّهُ نُورَهُمَا ، وَلَوْ لَمْ يَطْمِسْ نُورَهُمَا لَأَضَاءَا مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ

অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, হাজরে আসওয়াদ ও মাকামে ইবরাহীম জান্নাতের ইয়াকুত থেকে দুটি ইয়াকুত। এ দুটির আলোকপ্রভা আল্লাহ্ নিষ্প্রভ করে দিয়েছেন। তিনি যদি এ দুটির প্রভা নিষ্প্রভ না করতেন তাহলে তা পূর্ব পশ্চিমের মাঝে যা কিছু আছে সব আলোকিত হত। (তিরমিযী হা/৮৭৮)

হাজরে আসওয়াদ সাদা ছিল
মহানবী (সা.) বলেছেন,
نَزَلَ الْحَجَرُ الأَسْوَدُ مِنَ الْجَنَّةِ وَهُوَ أَشَدُّ بَيَاضًا مِنَ اللَّبَنِ فَسَوَّدَتْهُ خَطَايَا بَنِي آدَمَ )
অর্থ: ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হাজরে আসওয়াদ হল জান্নাতের পাথর। পাথরেরটি দুধের চেয়েও বেশি সাদা ছিল। কিন্তু আদম সন্তানের গুনাহ একে কাল করে দিয়েছে। (তিরমিযী হা/৮৭৭)

যমযমের পানির ফযীলত
মহানবী (সা.) বলেছেন,
فَإِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَاءُ زَمْزَمَ لِمَا شُرِبَ لَهُ

অর্থ: জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যমযমের পানি যে উদ্দেশ্য নিয়ে পান করবে তা পূরণ হবে। (আহমাদ হা/১৪৮৪৯)

যমযমের পানি ওষুध
মহানবী (সা.) বলেছেন,
فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : إِنَّهَا مُبَارَكَةٌ ، وَهِيَ طَعَامُ طُعْمٍ ، وَشِفَاءُ سُقْمٍ. رواه أبو داود الطيالسي بسند الصحيح

অর্থ: আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যমযমের পানি বরকতময়, স্বাদ অন্বেষণকারীর খাদ্য এবং রোগীর ওষুध। (তায়ালিসি হা/৪৫৩)

عن ابن عباس رضي الله عنهما قال : قال رسول الله عليه و سلم " خير ماء على وجه الأرض زمزم فيه طعم من الطعم وشفاء من السقم " .

অর্থ: ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যমীনের ওপর সর্বোত্তম পানি হল যমযমের পানি। (তাবারানী কাবীর হা/১১০৩৪)

হজ্জের বাহনের বিনিময়ে হাজীর সওয়াব লাভ
মহানবী (সা.) বলেছেন,
عن ابن عمر قال سمعت النبي صلى الله عليه و سلم يقول : ما يرفع إبل الحاج رجلا و لا يضع يدا إلا كتب الله له بها حسنة أو محا عنه سيئة أو رفعه بها درجة

অর্থ: ইবনু ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি নবী (সা.) কে বলতে শুনেছি, হজ্জে গমনকারী ব্যক্তির উট চলার পথে যখনই পা উত্তোলন করে এবং হাত রাখে এর বিনিময়ে আল্লাহ্ সে হজ্জকারীর জন্য সওয়াব লিখে দেন। অথবা এর দ্বারা তার একটি গুনাহ মুছে দেন অথবা এর দ্বারা তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। (আত-তারগীব হা/১১৩৬)

হজ্জ ও ওমরাকারীর দু'আ কবুল হয়
মহানবী (সা.) বলেছেন,
অর্থ: ইবনু ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, আল্লাহ্র পথের গাজী, হজ্জ এবং ওমরাকারী। এরা আল্লাহ্র দল। তারা দু'আ করলে কবুল হয় এবং তারা কিছু চাইলে তাদেরকে তা দেয়া হয়। (ইবনু মাজাহ হা/২৮৯৩)

হাজীগণের মর্যাদা
মহানবী (সা.) বলেছেন,
قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ، عَلَيْهِ السَّلَامُ : مَنْ خَرَجَ حَاجًّا فَمَاتَ كُتِبَ لَهُ أَجْرُ الْحَاجِّ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ، وَمَنْ خَرَجَ مُعْتَمِرًا فَمَاتَ كُتِبَ لَهُ أَجْرُ الْمُعْتَمِرِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ، وَمَنْ خَرَجَ غَازِيًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَمَاتَ كُتِبَ لَهُ أَجْرُ الْغَازِي إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
অর্থ: আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হল। এরপর মৃত্যুবরণ করেছে। কিয়ামত পর্যন্ত তার জন্য হজ্জের সওয়াব লিখা হবে। আর যে ব্যক্তি ওমরার উদ্দেশ্যে বের হল। এরপর মৃত্যুবরণ করেছে। কিয়ামত পর্যন্ত তার জন্য ওমরার সওয়াব লিখা হবে। আর যে ব্যক্তি জিহাদের উদ্দেশ্যে যোদ্ধা হিসেবে বের হল। এরপর মৃত্যুবরণ করেছে কিয়ামত পর্যন্ত তার জন্য জিহাদের সওয়াব লিখা হবে। (আবু ইয়ালা হা/৬২২৭)

📘 মৃত্যুর কতক্ষণ আগে তওবা গ্রহণযোগ্য > 📄 রোযার ফযীলত

📄 রোযার ফযীলত


পরিবার পরিজন বিপদ স্বরূপ
মহানবী (সা.) বলেছেন,
عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مَنْ يَحْفَظُ حَدِيثًا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْفِتْنَةِ قَالَ حُذَيْفَةُ أَنَا سَمِعْتُهُ يَقُولُ فِتْنَةُ الرَّجُلِ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَجَارِهِ تُكَفِّرُهَا الصَّلاَةُ وَالصِّيَامُ وَالصَّدَقَةُ

অর্থ: হুযাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষের জন্য তার পরিবার, ধন-সম্পদ ও প্রতিবেশী হল ফিতনা স্বরূপ। তার কাফফারা হল সালাত, সিয়াম ও সাদাকাহ। (বুখারী হা/১৭৬২)

রোযার ফযীলত
মহানবী (সা.) বলেছেন,
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ الصِّيَامُ وَالْقُرْآنُ يَشْفَعَانِ لِلْعَبْدِ، يَقُولُ الصِّيَامُ ‏:‏ رَبِّ إِنِّي مَنَعْتُهُ الطَّعَامَ وَالشَّهَوَاتِ بِالنَّهَارِ فَشَفِّعْنِي فِيهِ، وَيَقُولُ الْقُرْآنُ ‏:‏ مَنَعْتُهُ النَّوْمَ بِاللَّيْلِ فَشَفِّعْنِي فِيهِ، فَيُشَفَّعَانِ
অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রোযা ও কুরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোযা বলবে, হে রব! আমি তাকে খাদ্য ও যৌন সম্ভোগ থেকে বিরত রেখেছি। অতএব, তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। কুরআন বলবে, আমি তাকে রাতের ঘুম থেকে বিরত রেখেছি সে আমাকে তিলাওয়াত করেছে। অতএব তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এরপর তাদের উভয়ের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। (আহমাদ হা/৬৬২৬)

শাওয়াল মাসের ছয় রোযার ফযীলত
মহানবী (সা.) বলেছেন,
أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ ثَابِتٍ أَبُو أَيُّوبَ الأَنْصَارِيُّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَقُولُ ‏:‏ « مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ فَذَاكَ صِيَامُ الدَّهْرِ

অর্থ: আবু আইয়ুব আল আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমযানের রোযা এবং এর পরপরই শাওয়াল মাসে ছয়টি রোযাও রাখে সে যেন সারা বছরের সিয়াম পালন করেছে। (মুসলিম হা/২৮১৫)

পরিবার পরিজন বিপদ স্বরূপ
মহানবী (সা.) বলেছেন,
عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مَنْ يَحْفَظُ حَدِيثًا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْفِتْنَةِ قَالَ حُذَيْفَةُ أَنَا سَمِعْتُهُ يَقُولُ فِتْنَةُ الرَّجُلِ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَجَارِهِ تُكَفِّرُهَا الصَّلاَةُ وَالصِّيَامُ وَالصَّدَقَةُ

অর্থ: হুযাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষের জন্য তার পরিবার, ধন-সম্পদ ও প্রতিবেশী হল ফিতনা স্বরূপ। তার কাফফারা হল সালাত, সিয়াম ও সাদাকাহ। (বুখারী হা/১৭৬২)

রোযার ফযীলত
মহানবী (সা.) বলেছেন,
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ الصِّيَامُ وَالْقُرْآنُ يَشْفَعَانِ لِلْعَبْدِ، يَقُولُ الصِّيَامُ ‏:‏ رَبِّ إِنِّي مَنَعْتُهُ الطَّعَامَ وَالشَّهَوَاتِ بِالنَّهَارِ فَشَفِّعْنِي فِيهِ، وَيَقُولُ الْقُرْآنُ ‏:‏ مَنَعْتُهُ النَّوْمَ بِاللَّيْلِ فَشَفِّعْنِي فِيهِ، فَيُشَفَّعَانِ
অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রোযা ও কুরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোযা বলবে, হে রব! আমি তাকে খাদ্য ও যৌন সম্ভোগ থেকে বিরত রেখেছি। অতএব, তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। কুরআন বলবে, আমি তাকে রাতের ঘুম থেকে বিরত রেখেছি সে আমাকে তিলাওয়াত করেছে। অতএব তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এরপর তাদের উভয়ের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। (আহমাদ হা/৬৬২৬)

শাওয়াল মাসের ছয় রোযার ফযীলত
মহানবী (সা.) বলেছেন,
أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ ثَابِتٍ أَبُو أَيُّوبَ الأَنْصَارِيُّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَقُولُ ‏:‏ « مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ فَذَاكَ صِيَامُ الدَّهْرِ

অর্থ: আবু আইয়ুব আল আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমযানের রোযা এবং এর পরপরই শাওয়াল মাসে ছয়টি রোযাও রাখে সে যেন সারা বছরের সিয়াম পালন করেছে। (মুসলিম হা/২৮১৫)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00