📄 ওযুর পানির সাথে গুনাহসমূহ ঝরে যায়
মহানবী (সা.) বলেছেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ " إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُسْلِمُ، أَوِ الْمُؤْمِنُ فَغَسَلَ وَجْهَهُ خَرَجَ مِنْ وَجْهِهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ نَظَرَ إِلَيْهَا بِعَيْنَيْهِ مَعَ الْمَاءِ، أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ، فَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَ مِنْ يَدَيْهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ كَانَتْ بَطَشَتْهَا يَدَاهُ مَعَ الْمَاءِ، أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ، فَإِذَا غَسَلَ رِجْلَيْهِ خَرَجَتْ كُلُّ خَطِيئَةٍ مَشَتْهَا رِجْلَاهُ مَعَ الْمَاءِ أَوْ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ حَتَّى يَخْرُجَ نَقِيًّا مِنَ الذُّنُوبِ
অর্থ: আবু হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোন মুসলিম বান্দা উযুর সময় যখন মুখমন্ডল ধুয়ে ফেলে তখন তার চোখ দিয়ে অর্জিত গুনাহ পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে বের হয়ে যায়। যখন সে দুই হাত ধৌত করে তখন তার দুই হাতের স্পর্শের মাধ্যমে সব গুনাহ পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে বের হয়ে যায়। এরপর যখন সে তা পা দু’খানা ধৌত করে তখন তার দুই পা দিয়ে হাঁটার মাধ্যমে অর্জিত সব গুনাহ পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে ঝরে যায়, এভাবে সে যাবতীয় গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে যায়। (মুসলিম হা/৬০০)
📄 আযান ও ইকামতের ফযীলত
মহানবী (সা.) বলেছেন,
مَنْ أَذَّنَ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ سَنَةً وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ ، وَكُتِبَ لَهُ بِتَأْذِينِهِ فِي كُلِّ يَوْمٍ سِتُّونَ حَسَنَةً وَبِإِقَامَتِهِ ثَلَاثُونَ حَسَنَةً
অর্থ: ইবনু উমার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ১২ বছর আযান দেয় তার জন্য জান্নাত নির্ধারিত হয়ে যায় এবং তার জন্য তার প্রত্যেক আযানের বিনিময়ে ৬০ নেকী এবং এবং প্রত্যেক ইকামতের বিনিময়ে লিখা হয় ৩০ নেকী। (ইবনু মাজাহ হা/৭২৮)
মুয়াজ্জিনের সওয়াব
মহানবী (সা.) বলেছেন,
أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ سَمِعْتُهُ مِنْ فِي رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَقُولُ : « الْمُؤَذِّنُ يُغْفَرُ لَهُ مَدَّ صَوْتِهِ وَيَشْهَدُ لَهُ كُلُّ رَطْبٍ وَيَابِسٍ وَشَاهِدُ الصَّلاَةِ يُكْتَبُ لَهُ خَمْسٌ وَعِشْرُونَ حَسَنَةً وَيُكَفَّرُ عَنْهُ مَا بَيْنَهُمَا »
অর্থ: আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, মুয়াজ্জিনের কন্ঠস্বর যতদূর পর্যন্ত যায় তাকে ততদূর ক্ষমা করে দেয়া হয়। তাজা ও শুষ্ক প্রতিটি জিনিসই কিয়ামতের দিন তার জন্য সাক্ষী হয়ে যাবে। আর কেউ জামাআতে হাজির হলে তার জন্য ২৫ ওয়াক্ত সালাতের সওয়াব লিখা হয় এবং এক সালাত থেকে আরেক সালাতের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। (আবু দাউদ হা/৫১৫)
মুয়াজ্জিনের আযান দেওয়ার সওয়াব
মহানবী (সা.) বলেছেন,
وَلَهُ مِثْلُ أَجْرِ مَنْ صَلَّى مَعَهُ
অর্থ: বারাআ ইবনু আযিব (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, মুয়াজ্জিন ঐ ব্যক্তির সমপরিমাণ সওয়াব পায় যে তার সাথে সালাত আদায় করে। (নাসাঈ হা/৬৪৬)
মহানবী (সা.) বলেছেন,
أبي هريرة ( أن رسول الله قال ( الإمام ضامن والمؤذن مؤتمن اللهم أرشد الأئمة واغفر للمؤذنين
অর্থ: আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ইমাম হচ্ছেন যিম্মাদার এবং মুয়াজ্জিন আমানতদার। ‘হে আল্লাহ্! ইমামদের সঠিক পথ প্রদর্শন করুন এবং মুয়াজ্জিনদের ক্ষমা করে দিন। (আবু দাউদ হা/৫১৭)
📄 মসজিদে গমনের ফযিলত
মহানবী (সা.) বলেছেন,
عَنْ أَبِي غَسَّانَةَ أَنَّهُ سَمِعَ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ الْجُهَنِيَّ يُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ – صلى الله عليه وسلم- أَنَّهُ قَالَ : « إِذَا تَطَهَّرَ الرَّجُلُ ، ثُمَّ مَرَّ إِلَى الْمَسْجِدِ يَرْعَى الصَّلاَةَ كَتَبَ لَهُ كَاتِبَاهُ أَوْ كَاتِبُهُ بِكُلِّ خُطْوَةٍ يَخْطُوهَا إِلَى الْمَسْجِدِ عَشْرَ حَسَنَاتٍ ، وَالْقَاعِدُ يَرْعَى الصَّلاَةَ كَالْقَانِتِ وَيُكْتَبُ مِنَ الْمُصَلِّينَ مِنْ حِينِ يَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهِ حَتَّى يَرْجِعَ »
অর্থ: উক্ববাহ ইবনু আমির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন কোন ব্যক্তি পবিত্রতা হাসিল করে সালাতের জন্য মসজিদে আসে, তখন তার জন্য দু'জন কিংবা একজন ফিরিশতা মসজিদের উদ্দেশ্যে প্রতিটি কদমের বিনিময়ে ১০টি করে নেকী লিপিবদ্ধ করেন। (আহমাদ হা/১৭৪৪)
নামায পাপকে দূর করে দেয়
মহানবী (সা.) বলেছেন,
أن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال : الصلوات الخمس والجمعة إلى الجمعة ورمضان إلى رمضان مكفرات لما بينهن إذا اجتنبت الكبائر
অর্থ: আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ৫ ওয়াক্ত সালাত, এক জুমআহ থেকে পরবর্তী জুমআহ এবং এক রমযান থেকে অপর রমযান পর্যন্ত তার মাঝখানে সংঘটিত গুনাহসমূহের কাফফারাহ্ হয়ে যায়। কিন্তু শর্ত হল, কবীরাহ গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে হবে। (মুসলিম হা/৫৭৪)
নামাযের নিয়ম-কানুন আদায় না করার পরিণাম
মহানবী (সা.) বলেছেন,
إِنَّ الرَّجُلَ لَيَنْصَرِفُ وَمَا كُتِبَ لَهُ إِلاَّ عُشْرُ صَلاَتِهِ تُسْعُهَا ثُمُنُهَا سُبْعُهَا سُدُسُهَا خُمُسُهَا رُبُعُهَا ثُلُثُهَا نِصْفُهَا
অর্থ: আমার ইবনু ইয়াসির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, এমন লোকও আছে যারা সালাত আদায় করা সত্ত্বেও সালাতের রুকন ও শর্তগুলো সঠিকভাবে আদায় না করায় এবং সালাতে পরিপূর্ণ একাগ্রতা ও খুশু-খুযু না থাকায় তারা সালাতের পরিপূর্ণ সওয়াব পায় না। বরং তারা ১০ ভাগের ১ ভাগ, ৯ ভাগের ১ ভাগ, ৮ ভাগের ১ ভাগ, ৭ ভাগের ১ ভাগ, ৬ ভাগের ১ ভাগ, ৫ ভাগের ১ ভাগ, ৪ ভাগের ১ ভাগ, ৩ ভাগের ১ ভাগ বা অর্ধাংশ সওয়াব প্রাপ্ত হয়। (আবু দাউদ হা/৭৯৬)
নামাযের কোন কাতার উত্তম
মহানবী (সা.) বলেছেন,
فقال النبي ( صلى الله عليه وسلم خير صفوف الرجال أولها وشرها آخرها ، وخير صفوف النساء آخرها وشرها أولها
অর্থ: আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, পুরুষ লোকদের জন্য উত্তম কাতার হল, প্রথম কাতার আর অনুত্তম কাতার হল, সর্বশেষ কাতার। নারীদের জন্য সর্বোত্তম কাতার হল, শেষ কাতার এবং অনুত্তম কাতার হল, প্রথম কাতার। ( মুসলিম হা/১০১৩)
নামাযের প্রথম কাতারে ক্ষমা
মহানবী (সা.) বলেছেন,
عَنْ عِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ كَانَ يَسْتَغْفِرُ لِلصَّفِّ الأَوَّلِ ثَلاَثًا وَلِلثَّانِي مَرَّةً .
অর্থ: ইরবাদ ইবনু সারিয়াহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রথম কাতারের জন্য তিনবার ক্ষমা প্রার্থনা করতেন, আর দ্বিতীয় কাতারের জন্য একবার। (ইবনু মাজাহ হা/৯৯৬)
ওযু করে মসজিদের দিকে বের হওয়ার সওয়াব
মহানবী (সা.) বলেছেন,
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ : « مَنْ خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ مُتَطَهِّرًا إِلَى صَلاَةٍ مَكْتُوبَةٍ فَأَجْرُهُ كَأَجْرِ الْحَاجِّ الْمُحْرِمِ ، وَمَنْ خَرَجَ إِلَى تَسْبِيحِ الضُّحَى لاَ يَنْصِبُهُ إِلاَّ إِيَّاهُ فَأَجْرُهُ كَأَجْرِ الْمُعْتَمِرِ ، وَصَلاَةٌ عَلَى إِثْرِ صَلاَةٍ لاَ لَغْوَ بَيْنَهُمَا كِتَابٌ فِي عِلِّيِّينَ
অর্থ: আবু উমামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ফরয সালাতের জন্য উযু করে নিজ ঘর থেকে বের হবে, সে একজন ইহরামধারী হাজীর সমান সওয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি চাশতের সালাত আদায় করার জন্য বের হবে, সে একজন উমরাহকারীর সমান সওয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি এক ওয়াক্ত সালাত আদায়ের পর থেকে আরেক ওয়াক্ত সালাত আদায়ের মধ্যবর্তী সময়ে কোন বাজে কথা বা কাজ করবে না, তাকে ইল্লিয়্যুন-এ লিপিবদ্ধ করা হবে অর্থাৎ তার মর্যাদা সুউচ্চ হবে। (আবু দাউদ হা/৫৫৮)
জামাআত না পেলেও সওয়াব পাবে
মহানবী (সা.) বলেছেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ، ثُمَّ رَاحَ فَوَجَدَ النَّاسَ قَدْ صَلَّوْا، أَعْطَاهُ اللَّهُ مِثْلَ أَجْرِ مَنْ صَلاَّهَا وَحَضَرَهَا لاَ يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أَجْرِهِمْ شَيْئًا
অর্থ: আবু হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোন ব্যক্তি উত্তমরূপে উযু করে মসজিদে গিয়ে দেখতে পেল লোকেরা সালাত আদায় করে ফেলেছে। এমতাবস্থায় আল্লাহ্ তা'আলা তাকেও জামাআতে সামিল হয়ে সালাত আদায়কারীদের সমান সওয়াব দান করবেন। অথচ তাদের সওয়াব থেকে কিছুই কমানো হবে না। (আবু দাউদ হা/৫৬৪)
খোলা ময়দানে সালাতের ফযিলত
মহানবী (সা.) বলেছেন,
( الصَّلَاةُ فِي جَمَاعَةٍ تَعْدِلُ خَمْسًا وَعِشْرِينَ صَلَاةً فَإِذَا صَلَّاهَا فِي فَلَاةٍ فَأَتَمَّ رُكُوعَهَا وَسُجُودَهَا بَلَغَتْ خَمْسِينَ صَلَاةً )
অর্থ: আবু সাঈদ আল খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জামাআতের সাথে সালাত আদায়ে ২৫ গুণ সওয়াব রয়েছে। কেউ যখন কোন খোলা মাঠে জামাআতের সাথে পূর্ণরূপে রুকু সাজদাহ সহকারে সালাত আদায় করবে সে ৫০ ওয়াক্ত সালাতের সওয়াব পাবে। (আবু দাউদ হা/৫৬০)
📄 সালাতের বিভিন্ন অংশের ফযীলত (রুকু, সেজদা)
ইকামতের ফযিলত
মহানবী (সা.) বলেছেন,
سَلْمَانُ الْفَارِسِيُّ رَوَاهُ عَبْدُ الرَّزَّاقِ ، وَلَفْظُهُ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : إِذَا كَانَ الرَّجُلُ بِأَرْضِ قِيٍّ ، فَحَانَتِ الصَّلَاةُ فَلْيَتَوَضَّأْ ، فَإِنْ لَمْ يَجِدْ مَاءً فَلْيَتَيَمَّمْ ، فَإِنْ أَقَامَ صَلَّى مَعَهُ مَلَكَانِ ، وَإِنْ أَذَّنَ وَأَقَامَ صَلَّى خَلْفَهُ مِنْ جُنُودِ اللَّهِ مَا لَا يُرَى طَرَفَاهُ
অর্থ: সালমান ফারসী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, যখন কোন ব্যক্তি কোন খোলা ময়দানে থাকে। এরপর সালাতের সময় ঘনিয়ে এলে উযু করে। যদি উযুর পানি না পায় তাহলে তায়াম্মুম করে। যদি সে ইকামত দেয় তাহলে তার সাথে ফিরিশতা সালাত আদায় করে। যদি সে আযান ও ইকামত দেয় তাহলে তার পিছনে আল্লাহ্র সৈনিকেরা সালাত আদায় করে যাদেরকে দেখা যায় না। (আব্দুর রাযযাক হা/১৯৫৫)
সিজদার ফযিলত
মহানবী (সা.) বলেছেন,
الْمُؤْمِنُ إِذَا قَامَ إِلَى صَلَاتِهِ جَمَعَتْ خَطَايَاهُ فَجُعِلَتْ فَوْقَ رَأْسِهِ إِذَا خَرَّ سَاجِداً تَنَاثَرَتْ عَنْهُ يَمِيناً وَشِمَالاً
অর্থ: আনাস ইবনু মালিক ও জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তারা বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুমিন ব্যক্তি যখন সালাতে দাঁড়ায় তখন তার সমস্ত গুনাহ একত্র হয়ে তার মাথার ওপর অবস্থান করে। Giçi সে যখন সাজদাহ করে তখন তার গুনাহগুলো তার ডানে ও বামে ঝরে পড়ে। (ইবনু শাহীন হা/৩৮)
রুকুর ফযিলত
মহানবী (সা.) বলেছেন,
فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ : مَا أَلَوْتُ أَنْ أُخْبِرَنَّ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : " مَنْ رَكَعَ رَكْعَةً، أَوْ سَجَدَ سَجْدَةً، رُفِعَ بِهَا دَرَجَةً وَحُطَّتْ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةٌ
অর্থ: আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি একবার রুকু করে বা একবার সাজদাহ করে এর দ্বারা তার মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। (আহমাদ হা/২১৩০৮)
পায়ে হেঁটে শুক্রবার মসজিদে যাওয়ার ফযিলত
মহানবী (সা.) বলেছেন,
أَوْسُ بْنُ أَوْسٍ الثَّقَفِيُّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَقُولُ : « مَنْ غَسَّلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَاغْتَسَلَ ، ثُمَّ بَكَّرَ وَابْتَكَرَ وَمَشَى وَلَمْ يَرْكَبْ وَدَنَا مِنَ الإِمَامِ فَاسْتَمَعَ وَلَمْ يَلْغُ كَانَ لَهُ بِكُلِّ خُطْوَةٍ عَمَلُ سَنَةٍ أَجْرُ صِيَامِهَا وَقِيَامِهَا
অর্থ: আওস ইবনু আওস আস-সাকাফী (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি জুমআর দিন গোসল করবে এবং স্ত্রীকেও গোসল করাবে, প্রত্যুষে ঘুম থেকে জাগাবে এবং জাগবে, জুমআর জন্য বাহনে চড়ে নয় বরং পায়ে হেঁটে মসজিদে যাবে এবং কোনরূপ অনর্থক কথা না বলে ইমামের কাছে বসে খুতবা শুনবে, তার মসজিদ যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপ সুন্নাত হিসেবে গণ্য হবে এবং প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে সে এক বছর যাবত সিয়াম পালন ও রাতভর সালাত আদায়ের সমান সওয়াব পাবে। ( আবু দাউদ হা/৩৪৫)
শুক্রবার মসজিদে গিয়ে কথা বললে সওয়াব পাবে না
মহানবী (সা.) বলেছেন,
আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিন গোসল করবে, তার স্ত্রীর সুগন্ধি থাকলে তা থেকে ব্যবহার করবে এবং উৎকৃষ্ট পোশাক পরিধান করে মসজিদে এসে লোকদের ঘাড় না টপকিয়ে খুতবার সময় কোন নিরর্থক কথাবার্তা না বলে চুপ থাকবে, তা তার দু' জুমআর মধ্যবর্তী সময়ের যাবতীয় গুনাহর জন্য কাফফারা হবে। আর যে ব্যক্তি নিরর্থক কথা বলবে এবং লোকদের ঘাড় টপকাবে সে জুমআর সওয়াব পাবে না, কেবল যুহরের সালাতের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে। (আবু দাউদ হা/৩৪৭)
মসজিদ গমনে ৫ ভাগে সওয়াব
মহানবী (সা.) বলেছেন,
অর্থ: আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিন নাপাকের গোসলের ন্যায় গোসল করে সর্বপ্রথম জুমআর সালাতের জন্য মসজিদে চলে আসবে, সে যেন একটি উট কুরবানীর সওয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি তার পরে আসবে, সে একটি গাভী কুরবানীর সওয়াব পাবে। এরপর তৃতীয় নম্বরে যে আসবে সে একটি ছাগল কুরবানীর সওয়াব পাবে। এরপর চতুর্থ নম্বরে যে আসবে সে একটি মুরগী কুরবানীর সওয়াব পাবে। এরপর পঞ্চম নম্বরে যে আসবে সে আল্লাহ্র পথে একটি ডিম সদাকাহ্ করার সওয়াব পাবে। এরপর ইমাম যখন খুতবা দেয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়ে আসেন, তখন ফিরিশতারা খুতবা শোনার জন্য উপস্থিত হন। (বুখারী হা/৮৩২)