📘 মৃত্যুর কতক্ষণ আগে তওবা গ্রহণযোগ্য > 📄 যাদের কবরে আযাব হবে না

📄 যাদের কবরে আযাব হবে না


মহানবী সা. বলেছেন,
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ يَقْتُلُهُ بَطْنُهُ فَلَنْ يُعَذَّبَ فِي قَبْرِهِ

অর্থঃ মহানবী সা. বলেছেন, যারা পেটের অসুখে মারা যায় তাদের কবরের শাস্তি হবে না। (নাসাঈ হা/ ২০৫২)

অন্য হাদীসে বর্ণিত আছে,
عبد الله بن عمرو بن العاص - رضي الله عنهما - قال : قال رسول الله -صلى الله عليه وسلم- : «ما من مسلم يموت يوم الجمعة ، أو لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ إِلَّا وَقَاهُ اللَّهُ فِتْنَةَ الْقَبْرِ

অর্থঃ হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর রা. বলেছেন, মহানবী সা. বলেছেন, যে কোন মুসলমান জুম'আর দিনে মারা যায় তাহলে আল্লাহ্ তাকে কবরের শাস্তি থেকে রক্ষা করেন। (আহমাদ, মিশকাত হা/ ১৩৬৭)

কবরের শাস্তি চূড়ান্ত যা এ হাদীস দ্বারা প্রমাণ হয়। জুম'আর দিন যদি কোন মুসলমান মারা গেলে তাকে কবরের শাস্তি থেকে রক্ষা করা হয়।

📘 মৃত্যুর কতক্ষণ আগে তওবা গ্রহণযোগ্য > 📄 সর্বশেষ জান্নাতি ব্যক্তি

📄 সর্বশেষ জান্নাতি ব্যক্তি


ইবনে মাসউদ রা. বলেছেন, মহানবী সা. বলেছেন, সর্বশেষ ব্যক্তি যে, জান্নাতে প্রবেশ করবে, সে জাহান্নাম থেকে বের হওয়ার সময় একবার চলবে, একবার সামনে ঝুঁকে পড়বে, আর একবার আগুনে তাকে ঝলসিযে দেবে। এরপর যখন সে এ অবস্থা জাহান্নামের সীমানা পার হয়ে আসবে, তখন সে জাহান্নামের দিকে তাকিয়ে বলবে, বড়ই কল্যাণময় মহান প্রতিপালক, যিনি আমাকে তা থেকে মুক্তি দান করেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তায়ালা আমাকে এমন কিছু দান করেছেন, যা আগের ও পরের কোন ব্যক্তিকেই দান করেননি। এরপর তার সামনে একটি বৃক্ষ প্রকাশ করা হবে। তখন সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সে গাছটির কাছে পৌঁছিয়ে দাও যাতে আমি এর নীচে ছায়া অর্জন করি এবং তার ঝরণা থেকে পানি পান করি। তখন আল্লাহ্ বলবেন, হে আদম সন্তান! যদি আমি তোমাকে তা প্রদান করি তখন হয়তো তুমি আমার কাছে অন্য কিছু চাইতে থাকবে। সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমি আর কিছু চাইব না। সে আল্লাহ্র সাথে এ অঙ্গীকারও করবে যে, সে তা ব্যতীত অন্য কিছুই চাইবে না। অথচ তার ধৈর্য ও অস্থিরতা দেখে আল্লাহ্ তায়ালা তাকে অসহায় অবস্থায় পেয়ে তার মনের ইচ্ছা পূরণ করবেন। তখন তাকে এ গাছের কাছে পৌঁছিয়ে দেবেন। সে তার ছায়া উপভোগ করবে এবং পানি পান করবে। এরপর আরেক গাছ প্রকাশ পাবে, যা প্রথমটি অপেক্ষা উত্তম। তখন সে বলবে, হে প্রতিপালক! আমাকে সে গাছটির কাছে নিয়ে দাও। যেন আমি সেখানে বসার পানি পান করতে পারি এবং ছায়ার বিশ্রাম করতে পারি। আমি এ ছাড়া অন্য কিছু তোমার কাছে চাইব না। তখন আল্লাহ্ বলবেন, হে আমার আদম সন্তান! তুমি কি আমার সাথে এ ওয়াদা করনি যে, তোমাকে যা কিছু দেয়া হয়েছে তুমি এ ছাড়া আর কিছুই চাইবে না? আল্লাহ্ আরো বলবেন, এমনকি তো থেকে পেট যদি তোমাকে তার কাছে পৌঁছিয়ে দেই তখন তুমি অন্য আর কিছু চেয়ে বসবে। তখন সে মনে করবে। কেননা তিনি ভালবাসে অনন্ত আছেন এখানে যাবার পর সে তাকে এর নিকটবর্তী করে দেবেন। সে তার ছায়ায় উপভোগ করবে এবং পানি পান করবে। এরপর জান্নাতের দরজার কাছে এমন একটি গাছ প্রকাশ করবেন যা প্রথম দুইটি অপেক্ষা উত্তম। তা দেখে সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সে গাছটির কাছে পৌঁছিয়ে দিন, যাতে আমি এর ছায়া পেতে পারি এবং এর ঝরণার পানি পান করতে পারি। এছাড়া আমি আর কিছুই চাইব না। তখন আল্লাহ বলবেন, হে আদম সন্তান! তুমি আমার সাথে এ ওয়াদা করনি যে, তোমাকে যা কিছু দেওয়া হয়েছে তুমি তা ছাড়া আর কিছুই চাইবে না। সে বলবে হ্যাঁ, ওয়াদা তো করেছিলাম, কিন্তু হে আমার প্রতিপালক! আমার এ আশা পূরণ করে দাও। এরপর আমি তোমার কাছে আর কিছুই চাইব না। আল্লাহ্ তাকে অপারগ জানাবেন। কেননা তিনি জানেন এ যা কিছু দেখছে তাতে সে ধৈর্যধারণ করতে পারবে না। তখন তাকে তার কাছে করে দেওয়া হবে। যখন সে গাছটির কাছে যাবে, জান্নাতবাসীদের শব্দ শুনতে পাবে তখন বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দিন। তখন আল্লাহ্ তায়ালা বলবেন, হে আদম সন্তান! আমার কাছে তোমার চাওয়া কখন শেষ হবে? আচ্ছা, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট হবে যে, আমি তোমাকে দুনিয়ার সমপরিমাণ জায়গা এবং এর সাথে অনুরূপ জায়গা ও তোমাকে জান্নাতে প্রদান করি? তখন লোকটি বলবে, হে আমার প্রতিপালক! তুমি গোটা পৃথিবীর প্রতিপালক, তুমি আমার সাথে ঠাট্টা করছ। আল্লাহ্ তাকে স্মরণ করিয়ে বলবেন, তুমি আমার কাছে এটা চাও, ওটা চাও। অবশেষে যখন তার আকাঙ্খা শেষ হয়ে যাবে তখন আল্লাহ্ বলবেন, যাও তোমার চাহিদা মত এটা তোমাকে দিয়েছি এবং এরসাথে আরো দশগুণ প্রদান করেছি। মহানবী সা. বলেছেন, সে জান্নাতে তার ঘরে প্রবেশ করবে এবং হুরগণ থেকে তার দুইজন স্ত্রীও। তখন হুরদ্বয় বলবে সমস্ত প্রশংসা সে আল্লাহ্র জন্য যিনি তোমাকে আমাদের জন্য এবং আমাদেরকে তোমার জন্য জীবিত রেখেছেন। মহানবী সা. বলেছেন, তখন লোকটি বলবে আমাকে যা কিছু দেয়া হয়েছে এ পরিমাণ কাউকে দেয়া হয়নি। ( মুসলিম, মিশকাত হা/ ৫৫৪৪)

📘 মৃত্যুর কতক্ষণ আগে তওবা গ্রহণযোগ্য > 📄 জাহান্নাম থেকে বাচার জন্য চালাকি

📄 জাহান্নাম থেকে বাচার জন্য চালাকি


হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, বনী ইসরাঈলের এক লোক নিজের ওপর অনেক যুলুম করেছিল। মৃত্যুর সময় তার সন্তানদেরকে অসীয়ত করেঃ যখন মৃত্যুবরণ করব তখন তোমরা আমাকে পুড়িয়ে ফেলবে। এরপর পিষে গুড়ো করবে, এরপর তা বাতাসে উড়িয়ে দেবে; আল্লাহ্র কসম! যদি আমার রব আমাকে তাঁর নিয়ন্ত্রণে পেয়ে যান তাহলে এমন যে শাস্তি দেবেন যা আর কাউকে দেননি। এরপর সে যখন মৃত্যুবরণ করে তখন তার জন্য তাই করা হল কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলা ভূ-পৃষ্ঠকে নির্দেশ দেন: তোমার মধ্যে যা যা রয়েছে সব জমা কর। যমীন তা করে দেয়। এরপর সে দাড়ানো অবস্থায় আল্লাহ্ তাকে জিজ্ঞেস করেন: তোমাকে এরূপ করতে কিসে উদ্বুদ্ধ করেছে? সে জবাবে বলেঃ হে আমার রব! তোমার ভয়ে এরূপ করেছি। সুতরাং আল্লাহ্ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দেন। (বুখারী হাদীস নং ৩৪৫৮)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00