📘 মৃত্যুর কতক্ষণ আগে তওবা গ্রহণযোগ্য > 📄 সর্বপ্রথম হিসাব

📄 সর্বপ্রথম হিসাব


মহানবী (সা.) বলেছেন,
( أَوَّلُ مَا يُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الصَّلَاةُ ) ( ٤٦٧٦ ) صَلُحَتْ صَلَحَ لَهُ سَائِرُ عَمَلِهِ وَإِنْ فَسَدَتْ فَسَدَ سَائِرُ عَمَلِهِ

হযরত আনাস রা. বলেছেন, মহানবী সা. বলেছেন, কিয়ামতের দিন মানুষকে সর্বপ্রথম সালাত বা নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। যদি তার সালাত গ্রহণযোগ্য হয়, তা হলে সমস্ত আমল গ্রহণীয় হবে। আর যদি সালাত গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে সমস্ত আমলই বাতিল হবে। (সিলসিলা সহীহাহ্ হা/১৩৫৮)। সালাত এমন একটি ইবাদত যা আল্লাহ্র কাছে গ্রাহ্য হলে বাকী আমলগুলো গৃহীত হবে। নচেৎ সব আমল বাতিল হবে। কারণ সমস্ত ইবাদতের ভিত্তি ইবাদত হচ্ছে সালাত।
অন্য হাদীসে বর্ণিত আছে,
عن أبي هريرة مرفوعاً : (( الصلاة ثلاثة أثلاث : الطهور ثلث ، والركوع ثلث ، والسجود ثلث ، فمن أداها بحقها ، قبلت منه ، وقبل منه سائر عمله ، ومن ردت عليه صلاته ، رد عليه سائر عمله

হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেছেন, রাসূল সা. বলেছেন সালাতের সওয়াব তিনভাগে বিভক্ত। একভাগ পবিত্রতার মাধ্যমে, দ্বিতীয়ভাগ রুকুর মাধ্যমে এবং তৃতীয়ভাগ সিজদার মাধ্যমে। যে এগুলো পূর্ণ আদায় করবে তার সালাত গৃহীত হবে এবং সমস্ত আমলও গৃহীত হবে। আর যার সালাত গ্রহণ করা হবে না, তার কোন আমলই গ্রহণ করা হবে না'। (সিলসিলা সহীহ হা/২৫৩৭)

📘 মৃত্যুর কতক্ষণ আগে তওবা গ্রহণযোগ্য > 📄 সেদিন মানুষ হজ্জ ছেড়ে দেবে

📄 সেদিন মানুষ হজ্জ ছেড়ে দেবে


হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেছেন, মহানবী সা. বলেছেন, কা'বা ঘরে হজ্জ হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। (সিলসিলা সহীহ হা/ ২৪০০)।

আসবে যেদিন মানুষ কা'বা ঘরে হজ্জ করবে না। তদস্থলে অন্য জায়গায় নেকীর স্থান মনে করবে।

অন্য হাদীসে হযরত আনাস রা. বলেছেন, মহানবী সা. বলেছেন, কিয়ামত সে পর্যন্ত হবে না, যে পর্যন্ত গোটা বছর যাবৎ বৃষ্টি না হচ্ছে, আর বছর যাবৎ বৃষ্টি হবে; কিন্তু কোন শস্য হবে না। (হাদীসটি সহীহ হা/ ২৭৭৩)

হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেছেন, মহানবী সা. বলেছেন, সে মহান সত্তার কসম যার হাতে আমার আত্মা রয়েছে! সে সময় পর্যন্ত কিয়ামত কায়েম হবে না, যে পর্যন্ত পশু মানুষের সাথে কথা না বলছে এবং যে পর্যন্ত চাবুক তার সাথে কথা না বলছে তার জুতার ফিতা কথা না বলছে। আর তার উরু (রান) তাকে জানিয়ে দেবে যে, তার অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী কি কুকর্ম করেছে। (তিরমিযি, হাদীস সহীহ আল মিশকাত হা/ ৫২২৫)।

এ হাদীসের বিবরণ খুব আশ্চর্য মনে হলেও সত্য যে, একদিন হিংস্র প্রাণী মানুষের সাথে কথা বলবে। চাবুক ও পায়ের জুতার ফিতা কথা বলবে এবং উরু তার স্ত্রীর গোপন কথা প্রকাশ করে দেবে।

📘 মৃত্যুর কতক্ষণ আগে তওবা গ্রহণযোগ্য > 📄 কিয়ামতের পূর্বে সব বস্তু কথা বলবে

📄 কিয়ামতের পূর্বে সব বস্তু কথা বলবে


হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেছেন, মহানবী সা. বলেছেন, সে মহান সত্তার কসম যার হাতে আমার আত্মা রয়েছে! সে সময় পর্যন্ত কিয়ামত কায়েম হবে না, যে পর্যন্ত পশু মানুষের সাথে কথা না বলছে এবং যে পর্যন্ত চাবুক তার সাথে কথা না বলছে তার জুতার ফিতা কথা না বলছে। আর তার উরু (রান) তাকে জানিয়ে দেবে যে, তার অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী কি কুকর্ম করেছে। (তিরমিযি, হাদীস সহীহ আল মিশকাত হা/ ৫২২৫)।

এ হাদীসের বিবরণ খুব আশ্চর্য মনে হলেও সত্য যে, একদিন হিংস্র প্রাণী মানুষের সাথে কথা বলবে। চাবুক ও পায়ের জুতার ফিতা কথা বলবে এবং উরু তার স্ত্রীর গোপন কথা প্রকাশ করে দেবে।

📘 মৃত্যুর কতক্ষণ আগে তওবা গ্রহণযোগ্য > 📄 কিয়ামতের আর কতদিন বাকী

📄 কিয়ামতের আর কতদিন বাকী


মহানবী সা. বলেছেন,
عن عبد الله بن عمر قال أقبل علينا رسول الله صلى الله عليه و سلم فقال يا معشر المهاجرين خمس إذا ابتليتم بهن وأعوذ بالله أن تدركوهن لم تظهر الفاحشة في قوم قط . حتى يعلنوا بها إلا فشا فيهم الطاعون والأوجاع التي لم تكن مضت في أسلافهم الذين مضوا ولم ينقصوا المكيال والميزان إلا أخذوا بالسنين وشدة المئونة وجور السلطان عليهم ولم يمنعوا زكاة أموالهم إلا منعوا القطر من السماء ولولا البهائم لم يمطروا ولم ينقضوا عهد الله وعهد رسوله إلا سلط الله عليهم عدوا من غيرهم فأخذوا بعض مافي بأيديهم وما لم تحكم أئمتهم بكتاب الله ويتخيروا مما أنزل الله إلا جعل الله بأسهم بينهم )

অর্থঃ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেছেন, মহানবী সা. আমাদের মুখোমুখি হয়ে বললেন, হে আনসার মুহাজিরের দল! তোমাদেরকে পাঁচটি ব্যাপারে পরীক্ষায় ফেলে কষ্ট দেয়া হবে। আর আমি তোমাদের সে পাঁচটি সমস্যা থেকে আল্লাহ্র কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। যথা-
(১) যখন কোন সম্প্রদায়ের মাঝে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়বে এবং তারা প্রকাশ্যভাবে অশ্লীল কাজে লিপ্ত হবে। তখন মহামারী ও এমন কিছু রোগ ছড়িয়ে পড়বে যা পূর্বে কারো ছিল না।
(২) আর যখন মানুষ ওজনে ও পরিমাণে কম দেবে, তখন মানুষের ওপর দুর্ভিক্ষ, খাদ্যাভাবের সংকট এবং অত্যাচারী শাসকের দুঃশাসন নেমে আসবে।
(৩) আর যখন মানুষ তাদের সম্পদের যাকাত দেবে না তখন আকাশ থেকে বৃষ্টি বন্ধ করে দেয়া হবে, যদি চতুষ্পদ প্রাণী না থাকত, তাহলে কখনও বৃষ্টি দেয়া হতনা।
(৪) আর যখন মানুষ আল্লাহ্ এবং তার রাসূলের সাথে কৃত ওয়াদা অস্বীকার ভঙ্গ করবে, তাদের ওপর বিজাতীয় ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব দান করবে এবং ঐ বিজাতীয় শাসক তাদের থেকে অর্থাৎ সম্পদ লুণ্ঠন করে নিয়ে যাবে।
(৫) আর যখন আলেম ও শাসকগণ আল্লাহ্র কিতাব অনুযায়ী শাসনকার্য পরিচালনা না করে এবং আল্লাহ্র দেয়া বিধানের ওপর নিজ ইচ্ছা প্রয়োগ করবে, তখন আল্লাহ্ তায়ালা মানুষের ওপর দুঃখ-কষ্ট, দুর্দশা, দুরাবস্থা, দারিদ্রতা ও দুর্ভোগ চাপিয়ে দেবেন। (ইবনে মাযাহ হা/৪০১৯)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00