📄 মরুণ একদিন আসবেই
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেছেন, মহানবী সা. বলেছেন, আল্লাহ্ তায়ালা কিয়ামতের দিন ডাক দিয়ে বলবেন, হে আদম! তখন আদম আ.. বলবেন হে আমার প্রতিপালক আমি আপনার দরবারে উপস্থিত হয়েছি। তখন উচু কণ্ঠে চীৎকার করে বলা হবে ‘নিশ্চয় আল্লাহ্ আপনাকে আদেশ করেন যে, আপনি আপনার সন্তানদের মধ্য থেকে জাহান্নামীদের বের করে দিন। আদম আ. বলবেন, হে আমার প্রতিপালক কতজন জাহান্নামী? আল্লাহ্ তায়ালা বলবেন, প্রতি হাজারে ৯৯৯ জন। সে সময় গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভ খসে পড়বে, বাচ্চারা বৃদ্ধ হয়ে যাবে এবং আপনি মানুষকে নেশাগ্রস্ত মনে করবেন অথচ তারা নেশাগ্রস্ত হবে না। কিন্তু আল্লাহ্র ভয়াবহ শাস্তি দেখে এরূপ অবস্থা হবে। এ বক্তব্য মানুষের কাছে খুব কঠিন ও জটিল হল, এমনকি তাদের চেহারা পরিবর্তন হয়ে যায়। তখন নবী করীম সা. বলেছেন, দেখ ইয়াজুজ মাজুজ সম্প্রদায় থেকে হবে ৯৯৯ জন আর তোমাদের মধ্য থেকে হবে একজন। (সূত্রঃ বুখারী, হা/ ৪৭৪১)
📄 প্রতি ৯০ জন মহিলার মধ্যে একজন জান্নাতে যাবে
عن ابن عباس من تسع وتسعين امرأة واحدة في الجنة وبقيتهن في النار.
(কানযুল উম্মাল ১৬/৩৫৫)
হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, ৯৯ জন মহিলার মধ্যে একজন মহিলা জান্নাতে যাবে, অবশিষ্ট মহিলারা জাহান্নামে যাবে। (কানযুল উম্মাল-১৬/৩৫৫)
📄 সর্বপ্রথম হিসাব
মহানবী (সা.) বলেছেন,
( أَوَّلُ مَا يُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الصَّلَاةُ ) ( ٤٦٧٦ ) صَلُحَتْ صَلَحَ لَهُ سَائِرُ عَمَلِهِ وَإِنْ فَسَدَتْ فَسَدَ سَائِرُ عَمَلِهِ
হযরত আনাস রা. বলেছেন, মহানবী সা. বলেছেন, কিয়ামতের দিন মানুষকে সর্বপ্রথম সালাত বা নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। যদি তার সালাত গ্রহণযোগ্য হয়, তা হলে সমস্ত আমল গ্রহণীয় হবে। আর যদি সালাত গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে সমস্ত আমলই বাতিল হবে। (সিলসিলা সহীহাহ্ হা/১৩৫৮)। সালাত এমন একটি ইবাদত যা আল্লাহ্র কাছে গ্রাহ্য হলে বাকী আমলগুলো গৃহীত হবে। নচেৎ সব আমল বাতিল হবে। কারণ সমস্ত ইবাদতের ভিত্তি ইবাদত হচ্ছে সালাত।
অন্য হাদীসে বর্ণিত আছে,
عن أبي هريرة مرفوعاً : (( الصلاة ثلاثة أثلاث : الطهور ثلث ، والركوع ثلث ، والسجود ثلث ، فمن أداها بحقها ، قبلت منه ، وقبل منه سائر عمله ، ومن ردت عليه صلاته ، رد عليه سائر عمله
হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেছেন, রাসূল সা. বলেছেন সালাতের সওয়াব তিনভাগে বিভক্ত। একভাগ পবিত্রতার মাধ্যমে, দ্বিতীয়ভাগ রুকুর মাধ্যমে এবং তৃতীয়ভাগ সিজদার মাধ্যমে। যে এগুলো পূর্ণ আদায় করবে তার সালাত গৃহীত হবে এবং সমস্ত আমলও গৃহীত হবে। আর যার সালাত গ্রহণ করা হবে না, তার কোন আমলই গ্রহণ করা হবে না'। (সিলসিলা সহীহ হা/২৫৩৭)
📄 সেদিন মানুষ হজ্জ ছেড়ে দেবে
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেছেন, মহানবী সা. বলেছেন, কা'বা ঘরে হজ্জ হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। (সিলসিলা সহীহ হা/ ২৪০০)।
আসবে যেদিন মানুষ কা'বা ঘরে হজ্জ করবে না। তদস্থলে অন্য জায়গায় নেকীর স্থান মনে করবে।
অন্য হাদীসে হযরত আনাস রা. বলেছেন, মহানবী সা. বলেছেন, কিয়ামত সে পর্যন্ত হবে না, যে পর্যন্ত গোটা বছর যাবৎ বৃষ্টি না হচ্ছে, আর বছর যাবৎ বৃষ্টি হবে; কিন্তু কোন শস্য হবে না। (হাদীসটি সহীহ হা/ ২৭৭৩)
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেছেন, মহানবী সা. বলেছেন, সে মহান সত্তার কসম যার হাতে আমার আত্মা রয়েছে! সে সময় পর্যন্ত কিয়ামত কায়েম হবে না, যে পর্যন্ত পশু মানুষের সাথে কথা না বলছে এবং যে পর্যন্ত চাবুক তার সাথে কথা না বলছে তার জুতার ফিতা কথা না বলছে। আর তার উরু (রান) তাকে জানিয়ে দেবে যে, তার অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী কি কুকর্ম করেছে। (তিরমিযি, হাদীস সহীহ আল মিশকাত হা/ ৫২২৫)।
এ হাদীসের বিবরণ খুব আশ্চর্য মনে হলেও সত্য যে, একদিন হিংস্র প্রাণী মানুষের সাথে কথা বলবে। চাবুক ও পায়ের জুতার ফিতা কথা বলবে এবং উরু তার স্ত্রীর গোপন কথা প্রকাশ করে দেবে।