📄 কিয়ামতের মাঠে পুরুষদেরকে ৫ টি প্রশ্ন করা হবে
হাদীসে মহানবী সা. বলেছেন,
عن عبد الله بن مسعود عن النبي ( صلى الله عليه وسلم ) أنه قال : ( لا تزول قدما إبن آدم يوم القيامة حتى يسأل عن خمس خصال : عن شبابه فيما أبلاه ، وعن عمره فيما أفناه ، وعن ماله من أين كسبه ، وفيما أنفقه ، وما عمل فيما علم )
হযরত ইবনে মাসউদ রা. নবী করিম সা. এর কাছে থেকে বর্ণনা করেন তিনি বলেছেন, কিয়ামতের দিন মানুষের পা একবিন্দুও নড়তে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তার কাছে এ পাঁচটি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা না হবে, তা হল-
(১) নিজের জীবনকাল সে কোন কাজে অতিবাহিত করেছে?
(২) যৌবনের শক্তি সামর্থ কোথায় ব্যয় করেছে?
(৩) ধন-সম্পদ কোথা থেকে উপার্জন করেছে?
(৪) কোথায় তা ব্যয় করেছে?
(৫) সে দ্বীনের যতটুকু জ্ঞানার্জন করেছে সে অনুযায়ী কতটুকু আমল করেছে?। (তিরমিযি)
📄 মরুণ একদিন আসবেই
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেছেন, মহানবী সা. বলেছেন, আল্লাহ্ তায়ালা কিয়ামতের দিন ডাক দিয়ে বলবেন, হে আদম! তখন আদম আ.. বলবেন হে আমার প্রতিপালক আমি আপনার দরবারে উপস্থিত হয়েছি। তখন উচু কণ্ঠে চীৎকার করে বলা হবে ‘নিশ্চয় আল্লাহ্ আপনাকে আদেশ করেন যে, আপনি আপনার সন্তানদের মধ্য থেকে জাহান্নামীদের বের করে দিন। আদম আ. বলবেন, হে আমার প্রতিপালক কতজন জাহান্নামী? আল্লাহ্ তায়ালা বলবেন, প্রতি হাজারে ৯৯৯ জন। সে সময় গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভ খসে পড়বে, বাচ্চারা বৃদ্ধ হয়ে যাবে এবং আপনি মানুষকে নেশাগ্রস্ত মনে করবেন অথচ তারা নেশাগ্রস্ত হবে না। কিন্তু আল্লাহ্র ভয়াবহ শাস্তি দেখে এরূপ অবস্থা হবে। এ বক্তব্য মানুষের কাছে খুব কঠিন ও জটিল হল, এমনকি তাদের চেহারা পরিবর্তন হয়ে যায়। তখন নবী করীম সা. বলেছেন, দেখ ইয়াজুজ মাজুজ সম্প্রদায় থেকে হবে ৯৯৯ জন আর তোমাদের মধ্য থেকে হবে একজন। (সূত্রঃ বুখারী, হা/ ৪৭৪১)
📄 প্রতি ৯০ জন মহিলার মধ্যে একজন জান্নাতে যাবে
عن ابن عباس من تسع وتسعين امرأة واحدة في الجنة وبقيتهن في النار.
(কানযুল উম্মাল ১৬/৩৫৫)
হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, ৯৯ জন মহিলার মধ্যে একজন মহিলা জান্নাতে যাবে, অবশিষ্ট মহিলারা জাহান্নামে যাবে। (কানযুল উম্মাল-১৬/৩৫৫)
📄 সর্বপ্রথম হিসাব
মহানবী (সা.) বলেছেন,
( أَوَّلُ مَا يُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الصَّلَاةُ ) ( ٤٦٧٦ ) صَلُحَتْ صَلَحَ لَهُ سَائِرُ عَمَلِهِ وَإِنْ فَسَدَتْ فَسَدَ سَائِرُ عَمَلِهِ
হযরত আনাস রা. বলেছেন, মহানবী সা. বলেছেন, কিয়ামতের দিন মানুষকে সর্বপ্রথম সালাত বা নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। যদি তার সালাত গ্রহণযোগ্য হয়, তা হলে সমস্ত আমল গ্রহণীয় হবে। আর যদি সালাত গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে সমস্ত আমলই বাতিল হবে। (সিলসিলা সহীহাহ্ হা/১৩৫৮)। সালাত এমন একটি ইবাদত যা আল্লাহ্র কাছে গ্রাহ্য হলে বাকী আমলগুলো গৃহীত হবে। নচেৎ সব আমল বাতিল হবে। কারণ সমস্ত ইবাদতের ভিত্তি ইবাদত হচ্ছে সালাত।
অন্য হাদীসে বর্ণিত আছে,
عن أبي هريرة مرفوعاً : (( الصلاة ثلاثة أثلاث : الطهور ثلث ، والركوع ثلث ، والسجود ثلث ، فمن أداها بحقها ، قبلت منه ، وقبل منه سائر عمله ، ومن ردت عليه صلاته ، رد عليه سائر عمله
হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেছেন, রাসূল সা. বলেছেন সালাতের সওয়াব তিনভাগে বিভক্ত। একভাগ পবিত্রতার মাধ্যমে, দ্বিতীয়ভাগ রুকুর মাধ্যমে এবং তৃতীয়ভাগ সিজদার মাধ্যমে। যে এগুলো পূর্ণ আদায় করবে তার সালাত গৃহীত হবে এবং সমস্ত আমলও গৃহীত হবে। আর যার সালাত গ্রহণ করা হবে না, তার কোন আমলই গ্রহণ করা হবে না'। (সিলসিলা সহীহ হা/২৫৩৭)