📄 মানুষের ইন্তিকাল হলে কিরামান কাতেবীন কোথায় যায়
মানুষ যখন ইন্তিকাল করে, তখন কিরামান কাতেবীন ফেরেশতা আল্লাহর কাছে চলে যান এবং বলেন, আমাদেরকে আকাশে জায়গা দিন। আল্লাহ্ বলেন- আকাশে কোন জায়গা নেই। তখন তারা বলবেন, জমিনে ঘোরফিরি করার সুযোগ দিন। আল্লাহ্ বলবেন, জমিনে কোন জায়গা নেই। প্রত্যেক মানুষের জন্য ৩৬০ জন ফেরেশতা নিয়োজিত রয়েছেন। তখন আল্লাহ্ বলবেন, মানুষের কাছে ফিরে যাও এবং আমার বান্দার তিন ধরনের সাওয়াব কিয়ামত পর্যন্ত লিখতে থাক। কিরামান কাতেবীন তখন মৃত ব্যক্তির কাছে ফিরে এসে আমলনামায় তিন ধরনের সওয়াব লিখতে থাকবেন।
দলিল-মহানবী সা: বলেছেন:
" إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثٍ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ " .
অর্থঃ মানুষের মৃত্যুর পর তিনটি সওয়াব পেতে থাকতে পারে। যথা-
১. সাদকায়ে সওয়াব
২. উপকারী ইলমের সওয়াব
৩. নেক সন্তানের দোয়া।
এ তিন প্রকারের সওয়াব লিখতে থাকবেন এবং নেক বান্দার জন্য কিরামান কাতেবীন ফেরেশতারা তাসবীহ তাহলিল ও তাকবীর পাঠ করতে থাকবেন এবং এর সাওয়াব আমলনামায় লিখতে থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত। (তাফসীরে কবীর)
📄 রূহের ভ্রমণ: সৃষ্টি থেকে বারযাখ
**রূহ দুই প্রকার**
১. রূহে উলূভী বা উর্ধ্ব জগতের আত্মা
২. রূহে সিফলী বা অধঃজগতের আত্মা
মানুষের প্রাণ সাত আসমানের ওপরে থাকে। কখনও নিচে আসে না। মানব দেহে আসল প্রাণ প্রবেশ করে না। এখান থেকে একটি প্রতিচ্ছবি মানব দেহে প্রবেশ করে। মানবদেহে যে প্রতিচ্ছবি প্রবেশ করে তা অধঃজগতের আত্মা বলে।
রূহ হল আত্মার নাম। নফস হল প্রবৃত্তির নাম। রূহের অর্থ আত্মা, জীবাত্মশক্তি। নফসের অর্থ মন, ইচ্ছাশক্তি। (তাফসীরে মাযহারী)
**রূহ কোথায় ছিল**
আলমে আরওয়াহতে বা রূহের জগতে রূহ ছিল। এটি সপ্তম আকাশের ওপরে।
**কখন দুনিয়াতে আসল**
মাতৃগর্ভে ৪ মাস বয়স হলে বা ১২০ দিন হলে রূহ মায়ের গর্ভে আসে। মানবের এ পরিচালনা করার জন্য।
**আজরাইল রূহ নিয়ে কোথায় যায়**
মানুষের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসলে আজরাইল মানুষের কাছে আসেন। এবং রূহ্ নিয়ে যান, যেখানে মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা হবে, সেখানে রূহ্ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা হলে রূহ আবার ঢুকিয়ে দিয়ে আজরাইল চলে যান।
**দেহ কোথায় দাফন হবে**
আরহাম নামক ফেরেশতা যেখানে থেকে মাটি এনে মানুষেত মিশ্রিত করেছেন, সেখানে তাকে দাফন করা হবে। (সূরা হুসাইন, আয়াত: ৩৫)
**কিভাবে আমলনামা লিখা হবে**
মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা হলে রূহমান নামক একজন ফেরেশতা উঠবেন এবং বলবেন, তুমি জীবনে যা করেছ তা লিখ। আমি কিভাবে লিখব? তখন রূহমান ফেরেশতা বলবেন, তোমার জীবনের ভালো ভিত্তি করে রাখা হয়েছে, তা দেখবে এবং লিখবে।
আল্লাহ্ বলেন-
كقوله تعالى: {وَقُضِيَ بَيْنَهُمْ بِالْحَقِّ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ} [الآية/ ٤/٢٥]
অর্থ: “আমি তাদের জন্য দু'জন সঙ্গী বা ভিত্তি ম্যাপ নির্ধারণ করেছি, এরপর তাদের সামনে ও পিছনে তারা পর্যবেক্ষণ করে।” (সূরা হা-মীম সাজদা-২৫) ভিত্তি ঘুরতে থাকবে এবং মৃত ব্যক্তি দেখতে থাকবে। আল্লাহ্ বলেন-
اقرأ كتابك كفى بنفسك اليوم عليك حسيبا
অর্থ: “তোমার কিতাব পড়, তোমার হিসাবের জন্য আজ তুমি নিজেই যথেষ্ট।” (সূরা বনী ইসরাইল- ১৩)
ভিত্তি দেখে দেখে তার মনে পড়বে, কার কি চুরি করেছে এবং কার অন্যায় করেছে। চিত্রসহ সে দেখতে পাবে। আর সে লিখতে থাকবে।
আল্লাহ্ বলেন-
وكل إنسان ألزمناه طائره في عنقه
অর্থ: “সে লিখিত আমলনামা প্রত্যেকের গদানে ঝুলিয়ে রাখা হবে।” (সূরা বনী ইসরাইল)
এরপর রুহমান ফেরেশতা আমলনামা গলায় ঝুলিয়ে দিয়ে চলে যাবেন। এরপর মুনকার ও নাকীর প্রশ্ন করার জন্য আসবেন। পরে তারা চলে যাবে।
**কবর থেকে রূহ কোথায় যায়**
কবর থেকে রূহ আলমে বারযাখে যায়। আল্লাহ্ বলেন-
ومن ورائهم برزخ إلى يوم يبعثون
অর্থ: “কিয়ামত পর্যন্ত রূহ বারযাখে থাকবে।” (সূরা মু'মিনুন-১০০) নেক্কার বান্দার রূহ ইল্লিনে থাকে, আর এটি সপ্তম আকাশের ওপরে অবস্থিত। ইল্লিন হল নেক বান্দার রূহ থাকার স্থান। খারাপ বান্দার রূহ সিজ্জিনে থাকে, আর এটি সপ্তম জমিনের নিচে জাহান্নামের কাছাকাছি স্থানে অবস্থিত। সিজ্জিন হল খারাপ লোকের রূহ থাকার স্থান। রূহ কিয়ামত পর্যন্ত বারযাখে থাকবে।
**বারযাখ থেকে রূহ কোথায় যাবে**
ইসরাফিল আ. দু'টি ফুৎকার দেবেন। শেষ ফুৎকারের সময় রূহ আবার দেহে ঢুকে হাসরের মাঠে উঠবে। হাসরের মাঠে হিসাব নিকাশ শেষ হওয়ার পর জান্নাতীরা জান্নাতে যাবে। তখন দেহ পরিবর্তন করা হবে। জান্নাতের পেটে বরাবর ‘চিরস্থায়ী জীবন' নামক একটি নহর ডুব দেওয়ার পর ৫ জন নবীর বৈশিষ্ট্য প্রত্যেক জান্নাতিকে দেয়া হবে।
১. আদম আ.-এর মত ৬০ হাত লম্বা হবে।
২. ঈসা আ. এর মত ৩৩ বছরের বয়স হবে।
৩. ইউসুফ আ. এর মত সৌন্দর্য দেয়া হবে।
৪. দাউদ আ. এর মত কণ্ঠস্বর দেয়া হবে।
৫. মহানবী সা. এর মত ভাষা আরবী হবে।
📄 আজরাইল রূহ নিয়ে কোথায় যায়
মানুষের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসলে আজরাইল মানুষের কাছে আসেন। এবং রূহ্ নিয়ে যান, যেখানে মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা হবে, সেখানে রূহ্ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা হলে রূহ আবার ঢুকিয়ে দিয়ে আজরাইল চলে যান।
📄 দেহ কোথায় দাফন হবে
আরহাম নামক ফেরেশতা যেখানে থেকে মাটি এনে মানুষেত মিশ্রিত করেছেন, সেখানে তাকে দাফন করা হবে। (সূরা হুসাইন, আয়াত: ৩৫)