📘 মৃত্যুর কতক্ষণ আগে তওবা গ্রহণযোগ্য > 📄 কিরামান কাতেবীন ফেরেশতার আগমন ও আমলনামা লিখন

📄 কিরামান কাতেবীন ফেরেশতার আগমন ও আমলনামা লিখন


নবী করীম সা. বলেছেন-
قَالَ : " رُفِعَ الْقَلَمُ عَنِ : الصَّبِيِّ حَتَّى يَبْلُغَ ، ( ۱۹۳ ) وَرَوَى الْبُخَارِيُّ
অর্থ: “পূর্ণ বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত পাপ লিখা হয় না।” (আহমদ)
পূর্ণ বয়স্ক কখন হয়
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : « رفع القلم ، عن الصبي حتى يبلغ ، والمجنون حتى يفيق ، والنائم حتى يستيقظ
অর্থ: বালেগ না হওয়া পর্যন্ত শিশুদের পাপ লিখা হয় না, পাগল সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত পাপ লিখা হয় না এবং ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত না হওয়া পর্যন্ত পাপ লিখা হয় না। অন্য হাদীসে নবী করীম (সা.) বলেছেন- “স্বপ্নেদোষ না হওয়া পর্যন্ত বালেগ হয়না আর বালেগ না হলে পাপ লিখা হয় না।” (আহমদ)
এ সম্পর্কে অন্য হাদীসে রাসূল সা: বলেন:
عن ابن عباس رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه و سلم قال : رفع القلم عن ثلاثة : عن النائم حتى يستيقظ وعن المعتوه حتى يفيق والصبي حتى يعقل أو يحتلم
(رفع القلم عن ثلاثة : عن النائم حتى يستيقظ ، (وفي رواية : وعن المجنون (وفي لفظ : المعتوه) حتى يعقل أو يفيق) وعن الصبي حتى يكبر(وفي رواية : حتى يحتلم) رواه أبو داود (٤٣٩٨) والسياق له والنسائي (١٠٠ / ٢)
অর্থ: তিন ব্যক্তির পাপ লিখা হয় না। ১। ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত না হওয়া পর্যন্ত। ২। পাগল ব্যক্তি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত। ৩। প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত।

**প্রাপ্তবয়স্ক কখন হয়**
মিশকাতুল মাসাবীহ بلوغ الصغير باب অধ্যায়ে টিকায় লিখা আছে
ছেলের ক্ষেত্রে-
وقت بلوغ الغلام اثنى عشرة بالاحتلام والانزال
অর্থঃ ছেলে বার বছর বয়সে স্বপ্নদোষ বা বীর্যপাতের মাধ্যমে বালেগ হয়।
মেয়ের ক্ষেত্রে-
وقت بلوغ الجارية تسع سنين بالحيض والاحتلام
অর্থ: “মেয়ে ৯ বছর বয়সে ঋতুস্রাব ও স্বপ্নদোষের মাধ্যমে বালেগ হয়।” এতে বুঝাযায়, ছেলে ১২ বছর বয়সে বালেগ হয় এবং মেয়ে ৯ বছর বয়সে বালেগা হয়। আর বালেগ হওয়ার সময় সম্মানিত লেখক ফেরেশতা তখন কিরামান কাতেবীন মানুষের কাছে আগমন করে এবং আমলনামা লিখতে শুরু করেন।

**আমলনামা শুরু হয় কখন**
ছেলের বয়স যখন ১২ বছর এবং মেয়ের বয়স যখন ৯ বছর তখন আমলনামা চালু হয়। (সূত্র: মিশকাত হাসিয়া) এ সময়ে কিরামান কাতেবীন ফেরেশতা এসে মানুষের কাছে বসেন এবং পাপ, পূণ্য লিখতে শুরু করেন।

**মানুষের ইন্তিকাল হলে কিরামান কাতেবীন কোথায় যান**
মানুষ যখন ইন্তিকাল করে, তখন কিরামান কাতেবীন ফেরেশতা আল্লাহর কাছে চলে যান এবং বলেন, আমাদেরকে আকাশে জায়গা দিন। আল্লাহ্ বলেন- আকাশে কোন জায়গা নেই। তখন তারা বলবেন, জমিনে ঘোরফিরি করার সুযোগ দিন। আল্লাহ্ বলবেন, জমিনে কোন জায়গা নেই। প্রত্যেক মানুষের জন্য ৩৬০ জন ফেরেশতা নিয়োজিত রয়েছেন। তখন আল্লাহ্ বলবেন, মানুষের কাছে ফিরে যাও এবং আমার বান্দার তিন ধরনের সাওয়াব কিয়ামত পর্যন্ত লিখতে থাক। কিরামান কাতেবীন তখন মৃত ব্যক্তির কাছে ফিরে এসে আমলনামায় তিন ধরনের সওয়াব লিখতে থাকবেন।
দলিল-মহানবী সা: বলেছেন:
" إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثٍ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ " .
অর্থঃ মানুষের মৃত্যুর পর তিনটি সওয়াব পেতে থাকতে পারে। যথা-
১. সাদকায়ে সওয়াব
২. উপকারী ইলমের সওয়াব
৩. নেক সন্তানের দোয়া।
এ তিন প্রকারের সওয়াব লিখতে থাকবেন এবং নেক বান্দার জন্য কিরামান কাতেবীন ফেরেশতারা তাসবীহ তাহলিল ও তাকবীর পাঠ করতে থাকবেন এবং এর সাওয়াব আমলনামায় লিখতে থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত। (তাফসীরে কবীর)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00