📄 পাপ করার কতক্ষণ পর আমলনামায় লিখা হয়
নবী করীম সা. বলেন-
( ۱۰۹۲۶ ) ( مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَعْمَلُ ذَنْبًا إِلَّا وَقَفَهُ الْمَلَكُ ثَلَاثَ سَاعَاتٍ ، فَإِنِ اسْتَغْفَرَ مِنْ ذَنْبِهِ لَمْ يُوقِفْهُ عَلَيْهِ وَلَمْ يُعَذِّبْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ )
অর্থ: আমলনামায় গুনাহ লিখতে ফেরিশতা ৩ ঘন্টা অপেক্ষা করেন। (মুস্তাদরিক, হাকেম ও তারগীব) তিন ঘন্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন এবং নামাযে এসে তাওবা করে কি না তার জন্য অপেক্ষা করেন। তা তিন ওয়াক্ত নামাযের জন্য। আসর থেকে মাগরিব এবং মাগরিব থেকে ইশা পর্যন্ত তিন ঘন্টা করে। অর্থাৎ এক ওয়াক্ত থেকে আরেক ওয়াক্ত পর্যন্ত)।
অন্য হাদীসে নবী করীম সা. বলেছেন-
( إِنَّ صَاحِبَ الشِّمَالِ لَيَرْفَعُ الْقَلَمَ سِتَّ سَاعَاتٍ عَنِ الْعَبْدِ الْمُسْلِمِ الْمُخْطِئِ ؛ فَإِنْ نَدِمَ وَاسْتَغْفَرَ اللَّهَ مِنْهَا أَلْقَاهَا وَإِلَّا كُتِبَتْ وَاحِدَةً ) ( طب ( عن أبي أمامة
অর্থ: “গুনাহগার মুসলমানের জন্য ছয় ঘন্টা গুনাহ লেখা থেকে বিরত থাকেন।” (তাবরানী, মাজমায়ে ফাওয়ায়েদ)
অন্য হাদীসে নবী করীম সা. বলেন-
(ساعات سبع قلمك امسك طبراني)
অর্থ: “কোন মুসলমান পাপ করলে ফেরেশতা ৭ ঘন্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। তার পাপ আমলনামায় লিখা হয় না, কারণ তাকে সুযোগ দেয়া হয়েছে যে, সে নামাযে এসে তাওবা করে কি না? এ সাত ঘন্টা সময় ইশা থেকে ফযর এবং ফযর থেকে যোহর পর্যন্ত। যে ওয়াক্তে পাপ করে পরের ওয়াক্তে নামায পড়ে তাওবা করলে আমলনামায় লিখা হয় না।
লোকটি নামায পড়েছে কিন্তু তাওবা করেনি তখন কি পাপ লিখা হয়
সেলমান ব্যক্তি যে ওয়াক্তে পাপ করবে, পরের ওয়াক্তে নামায পড়ে তাওবা করবে, তাহলে আমলনামায় পাপ লিখা হয় না। যদি তাওবা না করে নামায পড়ে চলে যায়, তখন তারজন্য শুধু আমলনামায় একটি পাপ লিখা হয়।
নবী করীম সা. বলেন-
ان لم يستغفر الله كتب عليه سيئة واحدة
অর্থ: “যদি নামায পড়ে চলে যায়, তাওবা না করে, তার জন্য একটি পাপ লিখা হয়।” (দারেকুতনী হাকায়েফ-৭৭)
📄 সীমা অতিক্রমকারীর গুনাহ
সীমাহিন গুনাহও আল্লাহ মাফ করবেন। আসরফা বলা হয় যে গুনাহকে যে গুনাহ সীমার বাইরে। গুনাহ করতে করতে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সে গুনাহ ছাড়া অন্য কিছুই বুঝে না, এমন গুনাহও আল্লাহ্ ক্ষমা করে দেবেন।
দলিলঃ
( قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ ) ( الزمر : ٥٣)
অর্থ: “ বলুন, হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের ওপর যুলুম করেছে তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সমস্ত গুনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা আয যুমার: ৫৩)
গুনাহের পর তাওবা করলে পুরস্কার আছে। দলীল:
إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا (الفرقان: ۷۰)
অর্থ: “যারা তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে। আল্লাহ্ তাদের পাপগুলোকে পুণ্যের দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন।” অর্থাৎ যতগুলো পাপ আছে, সে পাপ সওয়াবে পরিণত করে দেবেন। এ ধরনের গুনাহগার ব্যক্তির জন্য তাওবা পরে বোনাসের ব্যবস্থা রয়েছে। বোনাস হল যত পাপ ততগুলো সওয়াব পাবে। যদি সে তাওবা করে এবং জীবনে আর গুনাহের কাজ করবে না।
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ ازْدَادُوا كُفْرًا لَمْ يَكُنِ اللَّهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ وَلَا لِيَهْدِيَهُمْ سَبِيلًا [ النساء : ۱۳۷ ]
📄 যদি মানুষ গুনাহ না করত, তা হলে কি হত?
গুনাহ করার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তারা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবে। কখনও গুনাহ করবে। একেবারে গুনাহের কাজ না করলে মানুষ সৃষ্টি করে কি লাভ? ফেরেশতারা ভাল ছিল। তারা সব সময় আল্লাহর প্রশংসা করে থাকে। তারা গুনাহ করে না। তাহলে মানুষ সৃষ্টি করার কারণ কি? মানুষ ভুল কাজ করবে ও মাঝে মাঝে ভুলত্রুটি করবে। এ ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা কামনা। এটা আল্লাহ্রই কামনা।
দলিল-
١٨٧١ وعنه - رضي الله عنه - قال : قال رسول الله - صلى الله عليه وسلم : « وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ لَمْ تُذْنِبُوا ، لَذَهَبَ اللَّهُ تَعَالَى بِكُمْ ، وَلَجَاءَ بِقَوْمٍ يُذْنِبُونَ ، فَيَسْتَغْفِرُونَ اللَّهَ تَعَالَى ، فَيَغْفِرُ لَهُمْ » . رواه مسلم
অর্থ: “যদি তোমরা একেবারে গুনাহ না কর, তাহলে আল্লাহ্ তোমাদের অস্তিত্ব দূর করে দেবেন এবং এমন জাতিকে সৃষ্টি করবেন, যারা গুনাহ করবে। এরপর তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে, আল্লাহ্ তাদেরকে ক্ষমা করবেন। (মুসলিম, কিতাবুত তাওবা, হাদীস নং ২৭৪৯)
📄 কোন ব্যক্তিকে গুনাহগার হিসেবে ধরা হয় না
যে ব্যক্তি অধিকাংশ সময় ইস্তিগফার করে থাকে, যে বরাবর গুনাহ করলে তাকে গুনাহকারী ধরা হয় না।
দলিলঃ
عن مولى لأبي بكر الصديق رضي الله تعالى عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : " ما أصر من استغفر وإن عاد في اليوم سبعين مرة " قال الترمذي ::
অর্থ: “সে ব্যক্তি বরাবর গুনাহকারীদের মধ্যে গণ্য হয় না, যে ব্যক্তি ইস্তিগফার করতে থাকে, যদিও সে দিনের মধ্যে ৭০ বার গুনাহ করুক না কেন? (তিরমিযি, আবু দাউদ)