📘 মৃত্যুকে স্বরন > 📄 ঈমানপূর্ণ সৎকর্মের উপর মৃত্যুবরণ

📄 ঈমানপূর্ণ সৎকর্মের উপর মৃত্যুবরণ


ইখলাছপূর্ণ সৎকর্মের উপর মৃত্যুবরণ الوفاة على العمل الصالح مع الإخلاص
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, - إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالْخَوَاتِیم ‘শেষ আমলের উপরেই পরিণাম নির্ধারিত হয়’। ৬৬ অতএব শেষ আমল যদি সুন্দর হয়, তবে সেটি হবে দুনিয়া থেকে সুন্দর বিদায়ের (حُسْنُ الْخَائِمَة) লক্ষণ। আল্লাহ্র পথে জিহাদ করা যার সর্বোচ্চ স্তর। এতদ্ব্যতীত আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়া, দ্বীন শেখা ও শেখানো, সমাজকে আল্লাহ্র পথে পরিচালনার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা, সবই নবীদের কাজ। এ পথে নিহত হওয়া বা মৃত্যুবরণ করা, শহীদী মৃত্যুর শামিল। যেমন আল্লাহ বলেন, وَلَئِنْ قُتِلْتُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ مُتُمْ Coat a R لَمَغْفِرَةٌ مِّنَ اللهِ وَرَحْمَةٌ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُوْنَ ‘যদি তোমরা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হও বা মৃত্যুবরণ কর, তবে (মনে রেখ) তারা যা কিছু (দুনিয়ায়) সঞ্চয় করেছে, সবকিছুর চাইতে আল্লাহ্ ক্ষমা ও অনুগ্রহ অবশ্যই উত্তম' (আলে ইমরান ৩/১৫৭)। অর্থাৎ আল্লাহ্ পথে যদি কেউ নিহত হয় বা মৃত্যুবরণ করে, সেটি হবে তার সুন্দর বিদায়ের নিদর্শন। যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, مَنْ قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَهُوَ شَهِيدٌ، وَمَنْ مَاتَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَهُوَ شَهِيدٌ- ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ্র রাস্তায় নিহত হ'ল সে ব্যক্তি শহীদ এবং যে আল্লাহ্র রাস্তায় মৃত্যুবরণ করল সে ব্যক্তি শহীদ’। ৬৭ অনুরূপভাবে আল্লাহর পথে হিজরত করা, দাওয়াতে বের হওয়া, হজ্জ বা ওমরায় গমন করা, আল্লাহ্ পথে কষ্ট ভোগ করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা হ'ল সর্বোত্তম মৃত্যু সমূহের অন্তর্ভুক্ত। এতে আল্লাহর নিকট মহা পুরস্কার রয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ... ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ صَامَ يَوْماً ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةِ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ সন্তুষ্টির জন্য লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে... ও তার উপরেই জীবন শেষ হয়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য একদিন ছিয়াম পালন করে ও তার উপরেই জীবন শেষ হয়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য ছাদাক্বা করে ও তার উপরেই জীবন শেষ হয়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে'। ৬৮ আল্লাহ বলেন, وَمَنْ يَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهِ مُهَاجِرًا إِلَى اللهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ يُدْرِكْهُ الْمَوْتُ فَقَدْ وَقَعَ أَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا - রাসূলের দিকে হিজরত করার উদ্দেশ্যে, অতঃপর মৃত্যু তাকে গ্রাস করে, তার পুরস্কারের দায়িত্ব আল্লাহ্ উপর ন্যস্ত হয়। বস্তুতঃ আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান' (নিসা ৪/১০০)। অর্থাৎ আল্লাহ্র সন্তুষ্টির লক্ষ্যে আল্লাহ্ কাজে বের হয়ে মৃত্যুবরণ করলে, সে ব্যক্তি আল্লাহ্ ক্ষমা ও জান্নাত লাভে ধন্য হবে।

টিকাঃ
৬৬. বুখারী হা/৬৬৬১; মিশকাত হা/৮৩, রাবী সাহল বিন সা'দ সা'এদী আনছারী (রাঃ)।
৬৭. আহমাদ হা/২৮৫, ১০৭৭২; ইবনু মাজাহ হা/২৯১০; মুসলিম হা/১৯১৫; মিশকাত হা/৩৮১১, রাবী আবু হুরায়রা (রাঃ)।
৬৮. আহমাদ হা/২৩৩৭২; ছহীহ আত-তারগীব হা/৯৮৫, রাবী হুযায়ফা (রাঃ)।

📘 মৃত্যুকে স্বরন > 📄 আমল কবুলের পূর্বশর্ত

📄 আমল কবুলের পূর্বশর্ত


রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبَلُ مِنَ الْعَمَلِ إِلاَّ مَا كَانَ لَهُ خَالِصًا - وَابْتَغَى بِهِ وَجْهَهُ ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ঐ আমল কবুল করেন না, যা তার জন্য খালেছ না হয় এবং যা স্রেফ তাঁর চেহারা অন্বেষণের লক্ষ্যে না হয়’।৬৯
এতে প্রমাণিত হয় যে, ইখলাছপূর্ণ নেক আমলের উপর মৃত্যুবরণ করা আখেরাতে মুক্তির লক্ষণ। অতএব সর্বদা নেক আমলের মধ্যেই জীবন অতিবাহিত করা কর্তব্য। কেননা মৃত্যু যেকোন সময় এসে যেতে পারে। আর সর্বদা মৃত্যুকে স্মরণ করা আত্মশুদ্ধিতা অর্জনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম।
আমল কবুলের পূর্বশর্ত: রিয়া ও কপটতাপূর্ণ সৎকর্ম কোন সৎকর্ম নয়। কেননা আমল কবুলের পূর্বশর্ত হ'ল তিনটি: (১) ছহীহ আক্বীদা, যাতে শিরক থাকবে না (২) ছহীহ তরীকা, যেখানে বিদ'আত থাকবে না এবং (৩) ইখলাছে আমল, যেখানে 'রিয়া' থাকবে না।

টিকাঃ
৬৯. নাসাঈ হা/৩১৪০; ছহীহাহ হা/৫২, রাবী আবু উমামা বাহেলী (রাঃ)।

📘 মৃত্যুকে স্বরন > 📄 মৃত্যু চিন্তা আধ্যাত্মিকি সৃষ্টি করে ও ঈমান বৃদ্ধি করে

📄 মৃত্যু চিন্তা আধ্যাত্মিকি সৃষ্টি করে ও ঈমান বৃদ্ধি করে


মৃত্যুর চিন্তা আল্লাহভীতি সৃষ্টি করে ও ঈমান বৃদ্ধি করে ذِكْرُ الْمَوْتِ يُنْشِئُ التَّقْوَى وَيَزِيدُ الْإِيْمَانَ
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সম্ভবতঃ কবরপূজার শিরকের কথা ভেবে প্রথমে কবর যিয়ারত নিষিদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু পরে অনুমতি দিয়ে বলেন, نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ فَزُورُوهَا، فَإِنَّهَا تُذَكِّرُ الْمَوْتَ - ‘আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত থেকে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু এখন তোমরা যিয়ারত কর’। 'কেননা এটি তোমাদেরকে মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেবে’। ৭০ তিনি বলেন, مَنِ اتَّبَعَ جَنَازَةَ مُسْلِمٍ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا ، وَكَانَ مَعَهُ حَتَّى يُصَلَّى عَلَيْهَا، وَيُفْرَغَ مِنْ دَفْنِهَا، فَإِنَّهُ يَرْجِعُ مِنَ الْأَجْرِ بِقِيرَاطَيْنِ، كُلُّ قِيرَاطٍ مِّثْلُ أُحُدٍ، وَمَنْ صَلَّى عَلَيْهَا ثُمَّ رَجَعَ قَبْلَ أَنْ تُدْفَنَ فَإِنَّهُ يَرْجِعُ بِقِيرَاطٍ - সাথে ও ছওয়াবের আশায় কোন মুসলিম মাইয়েতের জানাযার অনুসরণ করে এবং ছালাতে অংশগ্রহণ করা পর্যন্ত তার সঙ্গে থাকে ও দাফন কার্য শেষ করে, সে ব্যক্তি দুই ক্বীরাত্ব সমপরিমাণ নেকী নিয়ে ফিরে আসে। এক ক্বীরাত্ব হ'ল ওহোদ পাহাড়ের সমান। আর যে ব্যক্তি জানাযার ছালাত আদায় করে, অতঃপর দাফনের পূর্বে ফিরে আসে, সে ব্যক্তি এক ক্বীরাত্ব পরিমাণ নেকী নিয়ে ফিরে আসে'। ৭১
জানাযায় অংশগ্রহণ করলে নিজের জানাযার কথা স্মরণ হয়। অন্যকে কবরে শোয়ানো দেখে নিজের কবরে শোয়ার কথা মনে পড়ে। অন্যের অসহায় চেহারা দেখে নিজের মৃত্যুকরণ চেহারার কথা মনের মধ্যে উদয় হয়। যাতে মানুষের অহংকার চূর্ণ হয় এবং সে বিনয়ী হয়। অতঃপর সে পরপারে যাত্রার প্রস্তুতি গ্রহণে সচেষ্ট হয়। হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, حَطَّ النَّبِيُّ - صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - خُطُوْطًا فَقَالَ : هَذَا الأَمَلُ وَهَذَا أَجَلُهُ، فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ جَاءَهُ الْخَطُ الْأَقْرَبُ ‘একদিন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কতগুলি দাগ কাটলেন। অতঃপর বললেন, 'এটি মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও এটি তার মৃত্যু। এর মধ্যেই মানুষ চলতে থাকে। এক সময় সে তার মৃত্যুর দাগের নিকটে এসে যায়'। ৭২ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমার কাঁধে হাত রেখে বললেন, كُنْ فِي الدُّنْيَا كَأَنَّكَ غَرِيبٌ أَوْ عَابِرُ - سبیل ‘তুমি দুনিয়াতে বসবাস কর যেন তুমি একজন আগন্তুক বা একজন মুসাফির'। রাবী ইবনু ওমর (রাঃ) বলতেন, إِذَا أَمْسَيْتَ فَلَا تَنْتَظِرِ الصباح وَإِذَا أَصْبَحْتَ فَلَا تَنْتَظِرِ الْمَسَاءَ، وَخُذْ مِنْ صِحْتِكَ لِمَرَضِكَ، وَمِنْ حَيَاتِكَ - لموتك 'যখন তুমি সন্ধ্যা করবে, তখন আর সকালের অপেক্ষা করো না। যখন সকাল করবে, তখন আর সন্ধ্যার অপেক্ষা করো না। তুমি তোমার অসুস্থতার পূর্বে সুস্থতাকে এবং মৃত্যুর পূর্বে জীবনকে কাজে লাগাও'।৭৩

টিকাঃ
৭০. মুসলিম হা/৯৭৭, ৯৭৬; মিশকাত হা/১৭৬২, ১৭৬৩; রাবী বুরাইদা ও আবু হুরায়রা (রাঃ)।
৭১. বুখারী হা/৪৭; মুসলিম হা/৯৪৫; মিশকাত হা/১৬৫১, রাবী আবু হুরায়রা (রাঃ)।
৭২. বুখারী হা/৬৪১৮; মিশকাত হা/৫২৬৯।
৭৩. বুখারী হা/৬৪১৬; মিশকাত হা/১৬০৪।

📘 মৃত্যুকে স্বরন > 📄 জ্ঞানী মানুষদের কিছু উক্তি

📄 জ্ঞানী মানুষদের কিছু উক্তি


নেককার ও বদকার প্রত্যেকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে এবং প্রত্যেকেই কবরে যাবে। কিন্তু সেখানে গিয়ে কেউ আগুনের খোরাক হবে এবং কেউ জান্নাতের সুবাতাস পেয়ে ধন্য হবে। কেউ পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অন্ধ-বধির এক ভয়ংকর ফেরেশতার প্রচণ্ড হাতুড়িপেটা খাবে, কেউ জান্নাতের সুগন্ধিতে নব বিবাহিতের ন্যায় সুখনিদ্রায় ঘুমিয়ে যাবে। কেউ সংকীর্ণ কবরে পিষ্ট হবে। কারু জন্য কবর প্রশস্ত ও আলোকিত হবে। আবার কারু জন্য সেটি জাহান্নামের অগ্নিসজ্জা হবে। অতএব বুদ্ধিমান মানুষের সাবধান হওয়া উচিত। জ্ঞানী মানুষদের কিছু উক্তি (بعض أقوال الحكماء) (১) জ্যেষ্ঠ তাবেঈ কায়েস বিন আবু হাযেম (মৃ. ৯৮ হি.) বনু উমাইয়াদের জনৈক খলীফার দরবারে গেলে তিনি বলেন, হে আবু হাযেম! আমাদের কি হ'ল যে আমরা মৃত্যুকে অপসন্দ করছি? জওয়াবে তিনি বলেন, এটা এজন্য যে, আপনারা আপনাদের আখেরাতকে নষ্ট করছেন ও দুনিয়াকে আবাদ করছেন। সেকারণ আপনারা আবাদী স্থান থেকে অনাবাদী স্থানে যেতে চান না'। ৭৪ (২) খ্যাতনামা তাবেঈ হাসান বাছরী (২১-১১০ হি.) বলেন, হে আদম সন্তান! মুমিন ব্যক্তি সর্বদা ভীত অবস্থায় সকাল করে, যদিও সে সৎকর্মশীল হয়। কেননা সে সর্বদা দু'টি ভয়ের মধ্যে থাকে। (ক) বিগত পাপ সমূহের ব্যাপারে। সে জানেনা আল্লাহ সেগুলির বিষয়ে কি করবেন। (খ) মৃত্যুর ভয়, যা এখনো সামনে আছে। সে জানেনা আল্লাহ তখন তাকে কোন পরীক্ষায় ফেলবেন। অতএব আল্লাহ রহম করুন ঐ ব্যক্তির উপরে, যে এগুলি বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে...এবং নিজেকে প্রবৃত্তি পরায়ণতা হ'তে বিরত রাখে'। ৭৫ (৩) তিনি বলতেন, দুনিয়া তিনদিনের জন্য। গতকাল, যে তার আমল নিয়ে চলে গেছে। আগামীকাল, সেটা তুমি না-ও পেতে পার। আজকের দিন, এটি তোমার জন্য। অতএব তুমি এর মধ্যে আমল কর'। ৭৬

টিকাঃ
৭৪. আয়মান আশ-শা'বান, কায়ফা আছবাহতা (রিয়ায : মাকতাবা কাওছার ১৪৩৫/২০১৪), উক্তি সংখ্যা ৯, পৃ. ১২; ইবনু 'আসাকির (৪৯৯-৫৭১ হি.), তারীখু দিমাঞ্চু ২২/৩০ পৃ.। অত্র বইয়ে ৮১টির অধিক উক্তি সংকলিত হয়েছে।
৭৫. ঐ, উক্তি সংখ্যা ১০, পৃ. ১৩; ইবনুল জাওযী (৫১০-৫৯৭ হি.), আদাবুল হাসান বাছরী ১২৩ পৃ.।
৭৬. -في الدُّنْيَا ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ : أَمَّا أَمْسِ فَقَدْ ذَهَبَ بِمَا فِيهِ وَأَمَّا غَدًا فَلَعَلَّكَ لَا تُدْرِكُهُ وَالْيَوْمُ فَاعْمَلْ فِيهِ উক্তি সংখ্যা ৩৯, পৃ. ৩৩; ইবনু আবিদুনিয়া (মৃ. ২৮১ হি.), আয-যুহদ, ক্রমিক ৪৫৮, পৃ. ১৯৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00