📄 জান্নাতীদের নমুনা
فِي الْجَنَّةِ مِائَةُ دَرَجَةِ مَا بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَالْفِرْدَوْسُ أَعْلَاهَا دَرَجَةً مِنْهَا تُفَجَّرُ أَنْهَارُ الْجَنَّةِ الْأَرْبَعَةُ وَمِنْ فَوْقِهَا يَكُونُ الْعَرْشِ فَإِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ فَاسْأَلُوهُ الْفِرْدَوْسَ (২) তিনি বলেন, জান্নাতে একশত স্তর রয়েছে। প্রতিটি স্তরের মধ্যকার দূরত্ব আসমান ও যমীনের মধ্যকার দূরত্বের ন্যায়। ফেরদৌস হ'ল সর্বোচ্চ স্তর। সেখান থেকেই প্রবাহিত হয় চারটি ঝর্ণাধারা। আর তার উপরেই রয়েছে আল্লাহ্র আরশ। অতএব যখন তোমরা চাইবে, তখন জান্নাতুল ফেরদৌস চাইবে'। উক্ত চারটি ঝর্ণাধারা হ'ল: নির্মল পানি, দুধ, শারাব ও মধু (মুহাম্মাদ ৪৭/১৫)।
(৩) জান্নাতে মুমিনের জন্য যেসব পুরস্কার রয়েছে, তার কোন তুলনা নেই। হাদীছে কুদসীতে আল্লাহ বলেন, أَعْدَدْتُ لِعِبَادِي الصَّالِحِينَ مَا لَا عَيْنُ رَأَتْ، وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ، وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ. قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ اقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ (فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ) - مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ 'আমি আমার সৎকর্মশীল বান্দাদের জন্য জান্নাতে এমন সুখ-সম্ভার প্রস্তুত করে রেখেছি, যা কোন চোখ কখনো দেখেনি, কান কখনো শুনেনি, মানুষের হৃদয় কখনো কল্পনা করেনি'। রাবী আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, এ বিষয়ে তোমরা চাইলে পাঠ কর, 'কেউ জানেনা তাদের জন্য চক্ষু শীতলকারী কি কি বস্তু লুক্কায়িত রয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ' (সাজদাহ ৩২/১৭)।
জান্নাতীদের নমুনা: (১) বনু ইস্রাঈলের হাবীব নাজ্জারকে যখন তার অবিশ্বাসী কওম হত্যা করে এবং আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান, তখন তিনি সেখানে গিয়ে বলেন, يَالَيْتَ قَوْمِي يَعْلَمُونَ بِمَا غَفَرَ لِي رَبِّي وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُكْرَمِينَ 'হায়! আমার কওম যদি জানতো'! 'একথা যে, আমার প্রতিপালক আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন' (ইয়াসীন ৩৬/২৬-২৭)। (২) ঈমান কবুলকারী জাদুকরদের হুমকি দিয়ে ফেরাউন যখন বলেছিল, فَلَسَوْفَ تَعْلَمُوْنَ لَأُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ مِنْ خلاف - وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ أَجْمَعِينَ 'শীঘ্রই তোমরা তোমাদের পরিণতি জানতে পারবে। আমি অবশ্যই তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলব এবং তোমাদের সবাইকে শূলে চড়াব' (৪৯)। জবাবে জাদুকররা বলেছিল, ضَيْرَ إِنَّا إِلَى رَبِّنَا مُنقَلِبُونَ إِنَّا نَطْمَعُ أَن يَغْفِرَ لَنَا رَبُّنَا خَطَايَانَا أَنْ كُنَّا أَوَّلَ الْمُؤْمِنِينَ 'কোন ক্ষতি নেই। আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তন করব' (৫০)। 'আশা করি আমাদের প্রতিপালক আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। কেননা আমরা (ক্বিবতীদের মধ্যে) ঈমান আনয়নকারীদের অগ্রগামী' (শো'আরা ২৬/৪৯-৫১)। ৫৬ সকল ভয় ও দ্বিধা-সংকোচের ঊর্ধ্বে উঠে কেবলমাত্র মৃত্যু পথযাত্রী ব্যক্তির মুখেই এটি বলা শোভা পায়। সেকারণ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) প্রমুখ বিদ্বানগণ বলেন, أَصْبَحُوا سَحَرَةً وَأَمْسَوْا شُهَدَاءَ 'সকালে যারা ছিল জাদুকর, সন্ধ্যায় তারা হ'ল শহীদ' (নবীদের কাহিনী ২/৪৭)। মূলতঃ এটাই হ'ল প্রকৃত মা'রেফাত, যা যেকোন ভয়-ভীতির মুকাবিলায় মুমিনকে অবিচল রাখে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি কামনায়। সুবহা-নাল্লা-হি ওয়া বেহামদিহী।
(৩) অন্যদিকে জাদুকরদের মুকাবিলায় মূসা ও হারূণের বিজয়ের খবর শুনে ফেরাউনের নেককার স্ত্রী ও মূসার পালক মাতা আসিয়া বিনতে মুযাহিম দ্ব্যর্থহীনভাবে আল্লাহ্র উপরে তার ঈমান ঘোষণা করেন। তখন ফেরাউন তাকে মর্মান্তিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করে। এসময় আসিয়া আল্লাহ্ নিকট প্রার্থনা করে বলেন, رَبِّ ابْنِ لِي عِنْدَكَ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ وَنَجِّنِي مِنْ فِرْعَوْنَ وَعَمَلِهِ وَنَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ 'হে আমার প্রতিপালক! আমার জন্য তোমার নিকট জান্নাতে একটি গৃহ নির্মাণ কর এবং আমাকে ফেরাঊন ও তার দুষ্কৃতি থেকে মুক্তি দাও' (তাহরীম ৬৬/১১)।
টিকাঃ
৫৪. তিরমিযী হা/২৫৩১; মিশকাত হা/৫৬১৭ 'জান্নাত ও তার অধিবাসীদের বিবরণ' অনুচ্ছেদ, রাবী উবাদাহ বিন ছামেত (রাঃ)।
৫৫. বুখারী হা/৪৭৭৯; মুসলিম হা/২৮২৫; মিশকাত হা/৫৬১২, রাবী আবু হুরায়রা (রাঃ)।
৫৬. দ্রঃ নবীদের কাহিনী ২/৪৩-৪৪ 'মূসা ও হারুণ' অধ্যায়।
📄 ঈমানপূর্ণ সৎকর্মের উপর মৃত্যুবরণ
ইখলাছপূর্ণ সৎকর্মের উপর মৃত্যুবরণ الوفاة على العمل الصالح مع الإخلاص
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, - إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالْخَوَاتِیم ‘শেষ আমলের উপরেই পরিণাম নির্ধারিত হয়’। ৬৬ অতএব শেষ আমল যদি সুন্দর হয়, তবে সেটি হবে দুনিয়া থেকে সুন্দর বিদায়ের (حُسْنُ الْخَائِمَة) লক্ষণ। আল্লাহ্র পথে জিহাদ করা যার সর্বোচ্চ স্তর। এতদ্ব্যতীত আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়া, দ্বীন শেখা ও শেখানো, সমাজকে আল্লাহ্র পথে পরিচালনার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা, সবই নবীদের কাজ। এ পথে নিহত হওয়া বা মৃত্যুবরণ করা, শহীদী মৃত্যুর শামিল। যেমন আল্লাহ বলেন, وَلَئِنْ قُتِلْتُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ مُتُمْ Coat a R لَمَغْفِرَةٌ مِّنَ اللهِ وَرَحْمَةٌ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُوْنَ ‘যদি তোমরা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হও বা মৃত্যুবরণ কর, তবে (মনে রেখ) তারা যা কিছু (দুনিয়ায়) সঞ্চয় করেছে, সবকিছুর চাইতে আল্লাহ্ ক্ষমা ও অনুগ্রহ অবশ্যই উত্তম' (আলে ইমরান ৩/১৫৭)। অর্থাৎ আল্লাহ্ পথে যদি কেউ নিহত হয় বা মৃত্যুবরণ করে, সেটি হবে তার সুন্দর বিদায়ের নিদর্শন। যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, مَنْ قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَهُوَ شَهِيدٌ، وَمَنْ مَاتَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَهُوَ شَهِيدٌ- ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ্র রাস্তায় নিহত হ'ল সে ব্যক্তি শহীদ এবং যে আল্লাহ্র রাস্তায় মৃত্যুবরণ করল সে ব্যক্তি শহীদ’। ৬৭ অনুরূপভাবে আল্লাহর পথে হিজরত করা, দাওয়াতে বের হওয়া, হজ্জ বা ওমরায় গমন করা, আল্লাহ্ পথে কষ্ট ভোগ করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা হ'ল সর্বোত্তম মৃত্যু সমূহের অন্তর্ভুক্ত। এতে আল্লাহর নিকট মহা পুরস্কার রয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ... ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ صَامَ يَوْماً ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةِ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ সন্তুষ্টির জন্য লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে... ও তার উপরেই জীবন শেষ হয়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য একদিন ছিয়াম পালন করে ও তার উপরেই জীবন শেষ হয়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য ছাদাক্বা করে ও তার উপরেই জীবন শেষ হয়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে'। ৬৮ আল্লাহ বলেন, وَمَنْ يَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهِ مُهَاجِرًا إِلَى اللهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ يُدْرِكْهُ الْمَوْتُ فَقَدْ وَقَعَ أَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا - রাসূলের দিকে হিজরত করার উদ্দেশ্যে, অতঃপর মৃত্যু তাকে গ্রাস করে, তার পুরস্কারের দায়িত্ব আল্লাহ্ উপর ন্যস্ত হয়। বস্তুতঃ আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান' (নিসা ৪/১০০)। অর্থাৎ আল্লাহ্র সন্তুষ্টির লক্ষ্যে আল্লাহ্ কাজে বের হয়ে মৃত্যুবরণ করলে, সে ব্যক্তি আল্লাহ্ ক্ষমা ও জান্নাত লাভে ধন্য হবে।
টিকাঃ
৬৬. বুখারী হা/৬৬৬১; মিশকাত হা/৮৩, রাবী সাহল বিন সা'দ সা'এদী আনছারী (রাঃ)।
৬৭. আহমাদ হা/২৮৫, ১০৭৭২; ইবনু মাজাহ হা/২৯১০; মুসলিম হা/১৯১৫; মিশকাত হা/৩৮১১, রাবী আবু হুরায়রা (রাঃ)।
৬৮. আহমাদ হা/২৩৩৭২; ছহীহ আত-তারগীব হা/৯৮৫, রাবী হুযায়ফা (রাঃ)।
📄 আমল কবুলের পূর্বশর্ত
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبَلُ مِنَ الْعَمَلِ إِلاَّ مَا كَانَ لَهُ خَالِصًا - وَابْتَغَى بِهِ وَجْهَهُ ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ঐ আমল কবুল করেন না, যা তার জন্য খালেছ না হয় এবং যা স্রেফ তাঁর চেহারা অন্বেষণের লক্ষ্যে না হয়’।৬৯
এতে প্রমাণিত হয় যে, ইখলাছপূর্ণ নেক আমলের উপর মৃত্যুবরণ করা আখেরাতে মুক্তির লক্ষণ। অতএব সর্বদা নেক আমলের মধ্যেই জীবন অতিবাহিত করা কর্তব্য। কেননা মৃত্যু যেকোন সময় এসে যেতে পারে। আর সর্বদা মৃত্যুকে স্মরণ করা আত্মশুদ্ধিতা অর্জনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম।
আমল কবুলের পূর্বশর্ত: রিয়া ও কপটতাপূর্ণ সৎকর্ম কোন সৎকর্ম নয়। কেননা আমল কবুলের পূর্বশর্ত হ'ল তিনটি: (১) ছহীহ আক্বীদা, যাতে শিরক থাকবে না (২) ছহীহ তরীকা, যেখানে বিদ'আত থাকবে না এবং (৩) ইখলাছে আমল, যেখানে 'রিয়া' থাকবে না।
টিকাঃ
৬৯. নাসাঈ হা/৩১৪০; ছহীহাহ হা/৫২, রাবী আবু উমামা বাহেলী (রাঃ)।
📄 মৃত্যু চিন্তা আধ্যাত্মিকি সৃষ্টি করে ও ঈমান বৃদ্ধি করে
মৃত্যুর চিন্তা আল্লাহভীতি সৃষ্টি করে ও ঈমান বৃদ্ধি করে ذِكْرُ الْمَوْتِ يُنْشِئُ التَّقْوَى وَيَزِيدُ الْإِيْمَانَ
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সম্ভবতঃ কবরপূজার শিরকের কথা ভেবে প্রথমে কবর যিয়ারত নিষিদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু পরে অনুমতি দিয়ে বলেন, نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ فَزُورُوهَا، فَإِنَّهَا تُذَكِّرُ الْمَوْتَ - ‘আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত থেকে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু এখন তোমরা যিয়ারত কর’। 'কেননা এটি তোমাদেরকে মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেবে’। ৭০ তিনি বলেন, مَنِ اتَّبَعَ جَنَازَةَ مُسْلِمٍ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا ، وَكَانَ مَعَهُ حَتَّى يُصَلَّى عَلَيْهَا، وَيُفْرَغَ مِنْ دَفْنِهَا، فَإِنَّهُ يَرْجِعُ مِنَ الْأَجْرِ بِقِيرَاطَيْنِ، كُلُّ قِيرَاطٍ مِّثْلُ أُحُدٍ، وَمَنْ صَلَّى عَلَيْهَا ثُمَّ رَجَعَ قَبْلَ أَنْ تُدْفَنَ فَإِنَّهُ يَرْجِعُ بِقِيرَاطٍ - সাথে ও ছওয়াবের আশায় কোন মুসলিম মাইয়েতের জানাযার অনুসরণ করে এবং ছালাতে অংশগ্রহণ করা পর্যন্ত তার সঙ্গে থাকে ও দাফন কার্য শেষ করে, সে ব্যক্তি দুই ক্বীরাত্ব সমপরিমাণ নেকী নিয়ে ফিরে আসে। এক ক্বীরাত্ব হ'ল ওহোদ পাহাড়ের সমান। আর যে ব্যক্তি জানাযার ছালাত আদায় করে, অতঃপর দাফনের পূর্বে ফিরে আসে, সে ব্যক্তি এক ক্বীরাত্ব পরিমাণ নেকী নিয়ে ফিরে আসে'। ৭১
জানাযায় অংশগ্রহণ করলে নিজের জানাযার কথা স্মরণ হয়। অন্যকে কবরে শোয়ানো দেখে নিজের কবরে শোয়ার কথা মনে পড়ে। অন্যের অসহায় চেহারা দেখে নিজের মৃত্যুকরণ চেহারার কথা মনের মধ্যে উদয় হয়। যাতে মানুষের অহংকার চূর্ণ হয় এবং সে বিনয়ী হয়। অতঃপর সে পরপারে যাত্রার প্রস্তুতি গ্রহণে সচেষ্ট হয়। হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, حَطَّ النَّبِيُّ - صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - خُطُوْطًا فَقَالَ : هَذَا الأَمَلُ وَهَذَا أَجَلُهُ، فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ جَاءَهُ الْخَطُ الْأَقْرَبُ ‘একদিন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কতগুলি দাগ কাটলেন। অতঃপর বললেন, 'এটি মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও এটি তার মৃত্যু। এর মধ্যেই মানুষ চলতে থাকে। এক সময় সে তার মৃত্যুর দাগের নিকটে এসে যায়'। ৭২ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমার কাঁধে হাত রেখে বললেন, كُنْ فِي الدُّنْيَا كَأَنَّكَ غَرِيبٌ أَوْ عَابِرُ - سبیل ‘তুমি দুনিয়াতে বসবাস কর যেন তুমি একজন আগন্তুক বা একজন মুসাফির'। রাবী ইবনু ওমর (রাঃ) বলতেন, إِذَا أَمْسَيْتَ فَلَا تَنْتَظِرِ الصباح وَإِذَا أَصْبَحْتَ فَلَا تَنْتَظِرِ الْمَسَاءَ، وَخُذْ مِنْ صِحْتِكَ لِمَرَضِكَ، وَمِنْ حَيَاتِكَ - لموتك 'যখন তুমি সন্ধ্যা করবে, তখন আর সকালের অপেক্ষা করো না। যখন সকাল করবে, তখন আর সন্ধ্যার অপেক্ষা করো না। তুমি তোমার অসুস্থতার পূর্বে সুস্থতাকে এবং মৃত্যুর পূর্বে জীবনকে কাজে লাগাও'।৭৩
টিকাঃ
৭০. মুসলিম হা/৯৭৭, ৯৭৬; মিশকাত হা/১৭৬২, ১৭৬৩; রাবী বুরাইদা ও আবু হুরায়রা (রাঃ)।
৭১. বুখারী হা/৪৭; মুসলিম হা/৯৪৫; মিশকাত হা/১৬৫১, রাবী আবু হুরায়রা (রাঃ)।
৭২. বুখারী হা/৬৪১৮; মিশকাত হা/৫২৬৯।
৭৩. বুখারী হা/৬৪১৬; মিশকাত হা/১৬০৪।