📘 মৃত্যুকে স্বরন > 📄 অস্বীকারকারীদের সন্দেহবাদ সমূহ খণ্ডন

📄 অস্বীকারকারীদের সন্দেহবাদ সমূহ খণ্ডন


ঘ. অস্বীকারকারীদের সন্দেহবাদ সমূহ খণ্ডন ( رد الشبهات لمنكري عذاب القبر ):
কবর আযাব অস্বীকারকারীগণ নিম্নোক্ত সন্দেহবাদ সমূহ উত্থাপন করে থাকেন। যেমন-
قَالُوا رَبَّنَا أَمَتَنَا اثْنَتَيْنِ وَأَحْيَيْتَنَا اثْنَتَيْنِ فَاعْتَرَفْنَا بِذُنُوبِنَا فَهَلْ إِلَى خُرُوجٍ مِّنْ سَبِيلٍ؟ (১) আল্লাহ বলেছেন, 'কিয়ামতের দিন কাফেররা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদেরকে দু'বার মৃত্যু দিয়েছেন ও দু'বার জীবন দিয়েছেন। এখন আমরা আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি। অতএব আমাদের এখান থেকে বের হবার কোন পথ আছে কি?' (মুমিন/গাফের ৪০/১১)। এখানে দু'টি মৃত্যু বলতে প্রথমে মৃত শুক্রাণুরূপে পিতার ঔরসে অবস্থান। অতঃপর দুনিয়াবী জীবন শেষে মৃত্যুবরণ। আর দু'টি জীবন বলতে প্রথমে দুনিয়াবী জীবন, অতঃপর ক্বিয়ামতের দিন পুনর্জীবন। এক্ষণে কবরে পুনরায় জীবিত করলে তিনবার জীবন ও তিনবার মৃত্যু দান করা হবে। যা কুরআনের বিরোধী।
জবাব: প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে কবরবাসীকে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্দেশ্যে সামান্য সময়ের জন্য কবরে রূহকে ফিরিয়ে আনা হবে মাত্র। যা দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনের সাথে তুলনীয় নয়। আর 'কবর হ'ল আখেরাতের প্রথম মনযিল'। ২৯ কবর দিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় মাইয়েত যেমন তার স্বজনদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়৩০, তেমনি কবরবাসীর উদ্দেশ্যে সালাম দিলে ফেরেশতারা তাদের রূহে সালাম পৌঁছে দেয় এবং তারাও সালামের জবাব দেয়। ৩১
(২) আল্লাহ বলেছেন, وَمَا أَنْتَ بِمُسْمِعِ مَّنْ فِي الْقُبُورِ ‘বস্তুতঃ তুমি শুনাতে পারো না কোন কবরবাসীকে’ (ফাত্বির ৩৫/২২)। উক্ত আয়াতে আল্লাহ কাফেরকে কবরবাসীর সঙ্গে তুলনা করেছেন। কেননা উভয়ে কুরআনের বাণী শোনেনা। এক্ষণে যদি মৃতদের কবরে জীবিত বা অনুভূতিসম্পন্ন বলা হয়, তাহ'লে জীবিত কাফেরদের সঙ্গে তাদের তুলনা সঠিক হবে না।
জবাব: এখানে 'শোনা' অর্থ জবাব দেওয়া ও দাওয়াত কবুল করা। বদরের যুদ্ধের দিন নিহত ও কুয়ায় নিক্ষিপ্ত কাফের নেতাদের লাশ সমূহের উদ্দেশ্যে রাসূল (ছাঃ) যে ধিক্কারবাণী শুনিয়েছিলেন, তা তারা শুনেছিল। কিন্তু জবাব দিতে পারেনি। ৩২ একই অবস্থা দুনিয়ার জীবিত কাফের-মুনাফিকদের। তারা ইসলামের বাণী শোনে। কিন্তু জবাব দেয় না বা কবুল করে না।
(৩) কবর খুঁড়ে সেখানে আযাবের কোন নমুনা পাওয়া যায় না। কোন অন্ধ-বধির ফেরেশতাকেও লোহার হাতুড়ি দিয়ে পিটাতে দেখা যায় না।
জবাব: রূহের উপর অথবা আত্মাসংশ্লিষ্ট দেহের উপর আযাব হবে। যা পার্থিব দেহের সাথে তুলনীয় নয়। সেখানকার শাস্তি এখান থেকে বুঝা যাবে না। যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, فَلَوْلَا أَنْ لَا تَدَافَنُوا لَدَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُسْمِعَكُمْ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ الَّذِي أَسْمَعُ مِنْهُ 'যদি তোমরা ভয়ে কবর দেওয়া পরিত্যাগ না করতে, তাহ'লে আমি আল্লাহ্র নিকটে দো'আ করতাম যেন তোমাদেরকে কবরের আযাব শুনানো হয়, যা আমি শুনতে পাচ্ছি'। ৩৩ রাসূলকে আল্লাহ শুনিয়েছেন বলেই তিনি শুনতে পেয়েছেন। নইলে মানুষ হিসাবে তাঁর পক্ষেও এগুলি শোনা সম্ভব ছিল না (কাহফ ১৮/১১০)। কবরের বিষয়গুলি অদৃশ্য জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। যার উপরে ঈমান আনা মুত্তাক্বীদের প্রথম গুণ (বাক্বারাহ ২/২-৩)। নইলে দৃশ্যমান বস্তুর উপর বিশ্বাস স্থাপন করার কোন অর্থ হয় না এবং তাকে ঈমানও বলা হয় না।
কবরের আযাবকে অস্বীকারকারী দলগুলি হ'ল : খারেজী, অধিকাংশ মু'তাযিলা ও কিছু সংখ্যক মুরজিয়া। ৩৪ ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহঃ) বলেন, কবরের শাস্তি ও শান্তিকে অস্বীকারকারী ব্যক্তি নিজে পথভ্রষ্ট ও অন্যকে পথভ্রষ্টকারী'। ৩৫ ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, দলীল পাওয়ার পরেও যদি কেউ প্রকাশ্য শরী'আতকে অস্বীকার করে। তার জন্য আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করাও যাবে না'। ৩৬

টিকাঃ
২৯. তিরমিযী হা/২৩০৮; মিশকাত হা/১৩২, রাবী হযরত ওছমান (রাঃ)-এর গোলাম হানী (রাঃ)।
৩০. বুখারী হা/১৩৩৮; মুসলিম হা/২৮৭০; মিশকাত হা/১২৬, রাবী আনাস (রাঃ)।
৩১. ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ'উল ফাতাওয়া ২৪/২৯৭; উছায়মীন, মাজমু' ফাতাওয়া ক্রমিক ৩০৭, ২/২৪৪ পৃ..
৩২. বুখারী হা/১৩৭০; মুসলিম হা/২৮৭৪; মিশকাত হা/৩৯৬৭ 'জিহাদ' অধ্যায় 'বন্দীদের হুকুম' অনুচ্ছেদ, রাবী ক্বাতাদাহ (রাঃ)।
৩৩. মুসলিম হা/২৮৬৮; মিশকাত হা/১২৯ 'কবরের আযাব' অনুচ্ছেদ, রাবী যায়েদ বিন ছাবেত (রাঃ)।
৩৪. নববী, শরহ মুসলিম হা/২৮৬৫-এর আলোচনা।
৩৫. ইবনুল ক্বাইয়িম (৬৯১-৭৫১ হি.), আর-রূহ (বৈরূত: দারুল কুতুবিল ইলমিইয়াহ, তাবি) ৫৭ পৃ..
৩৬. ইবনু তায়মিয়াহ (৬৬১-৭২৮ হি.), মাজমূ'উল ফাতাওয়া ৬/৬১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00