📄 হাদীছের দলীল
যামাখশারী (৪৬৭-৫৩৮ হি.) বলেন, فَأُدْخِلُوا نَارًا -এর অন্যতম অর্থ 'কবর আযাব' হ'তে পারে। কেননা কেউ পানিতে ডুবে মরুক, আগুনে পুড়ে মরুক বা হিংস্র প্রাণী তাকে খেয়ে ফেলুক, সাধারণ অবস্থায় কবরবাসী যা পায়, সেও তাই পাবে' (কাশশাফ)।
খ. হাদীছের দলীল )دلائل السنة( :
(১) হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, إِذَا قُبِرَ الْمَيِّتُ أَتَاهُ مَلَكَانِ أَسْوَدَانِ أَزْرَقَانِ يُقَالُ لِأَحَدِهِمَا الْمُنْكَرُ وَالْآخَرُ النَّكِيْرُ. فَيَقُولَانِ : مَا كُنْتَ تَقُوْلُ فِي هَذَا الرَّجُلِ؟ فَيَقُوْلُ : هُوَ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ، أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ. فَيَقُوْلَانِ : قَدْ كُنَّا نَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُوْلُ هَذَا ، ثُمَّ يُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ سَبْعُوْنَ ذِرَاعًا فِي سَبْعِيْنَ، ثُمَّ يُنَوَّرُ لَهُ فِيْهِ، ثُمَّ يُقَالُ لَهُ نَمْ. فَيَقُولُ : أَرْجِعُ إِلَى أَهْلِي فَأُخْبِرُهُمْ. فَيَقُولَانِ تَمْ كَنَوْمَةِ الْعَرُوسِ الَّذِي لَا يُوْقِظُهُ إِلَّا أَحَبُّ أَهْلِهِ إِلَيْهِ حَتَّى يَبْعَثَهُ اللَّهُ مِنْ مَضْجَعَه ذَلِكَ. وَإِنْ كَانَ مُنَافِقًا قَالَ : سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُوْنَ قَوْلاً فَقُلْتُ مِثْلَهُ، لَا أَدْرِي، فَيَقُوْلَانِ : قَدْ كُنَّا نَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُوْلُ ذَلِكَ، فَيُقَالُ لِلْأَرْضِ : الْتَسْمِي عَلَيْهِ، فَتَلْتَئِمُ عَلَيْهِ فَتَخْتَلِفُ أَضْلاعُهُ، فَلَا يَزَالُ فِيهَا مُعَذِّبًا حَتَّى يَبْعَثَهُ اللَّهُ مِنْ مَضْجَعِهِ ذَلِكَ، رَوَاهُ التَّرْمِذِيُّ
'মাইয়েতকে যখন কবরে রাখা হয়, তখন তার কাছে ঘোর কৃষ্ণকায় নীলচক্ষু বিশিষ্ট দু'জন ফেরেশতা আসে। যাদের একজনকে 'মুনকার' ও অন্যজনকে 'নাকীর' বলা হয়। তারা এসে বলে, তুমি এ ব্যক্তি সম্পর্কে দুনিয়াতে কি বলতে? তখন সে যদি নেককার হয়, তাহ'লে বলবে, ইনি হ'লেন আল্লাহ্ বান্দা ও তাঁর রাসূল। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। তখন তারা বলবে, আমরা জানতাম তুমি একথাই বলবে। অতঃপর তার জন্য তার কবরকে দৈর্ঘ্যে-প্রস্থে সত্তর হাত করে প্রশস্ত করা হবে এবং সেটিকে আলোকময় করা হবে। অতঃপর বলা হবে, তুমি ঘুমিয়ে যাও। সে বলবে, আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে যাব এবং তাদেরকে এই সুসংবাদ জানাব। তখন ফেরেশতাদ্বয় বলবে, لَمْ كَنُوْمَةِ الْعُرُوسِ 'তুমি ঘুমিয়ে যাও বাসর রাতের ঘুমের ন্যায়'। যে ঘুম কেউ ভাঙ্গাতে পারে না প্রিয়তম ব্যক্তি ব্যতীত। এভাবেই সে থাকবে, যতদিন না আল্লাহ তাকে তার শয্যাস্থান থেকে উঠান।
আর যদি সে মুনাফিক কপট বিশ্বাসী হয়, তাহ'লে সে বলবে, আমি লোকদেরকে যেরূপ বলতে শুনেছি, সেরূপ বলতাম। আমি (আসলে) জানিনা। তখন ফেরেশতাদ্বয় বলবে, আমরা জানতাম তুমি এরূপ বলবে। তখন মাটিকে বলা হবে, তুমি একে চাপ দাও। তখন মাটি তাকে চাপ দিবে। ফলে তার একপার্শ্ব আরেক পার্শ্বের মধ্যে ঢুকে যাবে। এভাবেই কবরের মধ্যে তার আযাব হ'তে থাকবে, যতদিন না আল্লাহ তাকে তার শয্যাস্থান থেকে উঠান'। ১৯
(২) হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ)-এর বর্ণনায় এসেছে, إِذَا أُدْخِلَ الْمَيِّتُ الْقَبْرَ مَثَلَتْ لَهُ الشَّمْسُ عِنْدَ غُرُوبِهَا . فَيَجْلِسُ يَمْسَحُ عَيْنَيْهِ، وَيَقُوْلُ : - دَعُوْنِي أَصَلِّي 'যখন মাইয়েতকে কবরে প্রবেশ করানো হবে, তখন সে সূর্য অস্ত যেতে দেখবে। তখন সে বসে দুই চোখ মুছে বলবে, 'আমাকে ছাড় আমি (আছরের) ছালাত আদায় করব'। ২০
(৩) হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে অন্য বর্ণনায় এসেছে, إِنَّ الْمَيِّتَ يَصِيرُ إِلَى الْقَبْرِ، فَيَجْلِسُ الرَّجُلُ فِي قَبْرِهِ غَيْرَ فَزِعٍ وَلَا مَشْغُوبٍ، ثُمَّ يُقَالُ : فِيْمَ كُنْتَ؟ فَيَقُولُ : كُنْتُ فِي الْإِسْلَامِ فَيُقَالُ : مَا هَذَا الرَّجُلُ؟ فَيَقُولُ : مُحَمَّدٌ رَسُوْلُ اللَّهِ جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ، فَصَدَّقْنَاهُ. فَيُقَالُ لَهُ : هَلْ رَأَيْتَ اللَّهِ؟ فَيَقُوْلُ : مَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ أَنْ يَرَى اللَّهَ، فَيُفْرَجُ لَهُ فُرْجَةً قِبَلَ النَّارِ، فَيَنْظُرُ إِلَيْهَا يُحَطِّمُ بَعْضُهَا بَعْضًا، فَيُقَالُ لَهُ انْظُرْ إِلَى مَا وَقَاكَ اللَّهُ، ثُمَّ يُفْرَجُ لَهُ فُرْجَةً قِبَلَ الْجَنَّةِ، فَيَنْظُرُ إِلَى زَهْرَتِهَا وَمَا فِيهَا، فَيُقَالُ لَهُ: هَذَا مَقْعَدُكَ، عَلَى الْيَقِيْنِ كُنْتَ، وَعَلَيْهِ مِتَ، وَعَلَيْهِ تُبْعَثُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى - وَيَجْلِسُ الرَّجُلُ السُّوْءُ فِي قَبْرِهِ فَزِعًا مَشْعُوبًا ، فَيُقَالُ : فِيْمَ كُنْتَ؟ فَيَقُولُ: لَا أَدْرِي فَيُقَالُ لَهُ : مَا هَذَا الرَّجُلُ؟ فَيَقُولُ : سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُوْنَ قَوْلاً فَقُلْتُهُ، فَيُفْرَجُ لَهُ فُرْجَةً قِبَلَ الْجَنَّةِ، فَيَنْظُرُ إِلَى زَهْرَتِهَا وَمَا فِيهَا، فَيُقَالُ لَهُ انْظُرْ إِلَى مَا صَرَفَ اللهُ عَنْكَ، ثُمَّ يُفْرَجُ لَهُ فُرْجَةً إِلَى النَّارِ، فَيَنْظُرُ إِلَيْهَا يُحَطِّمُ بَعْضُهَا بَعْضًا، فَيُقَالُ لَهُ : هَذَا مَقْعَدُكَ، عَلَى الشَّكُ كُنْتَ، وَعَلَيْهِ مِنَّ وَعَلَيْهِ تُبْعَثُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى، رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ
‘মাইয়েত যখন কবরে নীত হবে, তখন নেককার ব্যক্তিকে উঠিয়ে বসানো হবে ভয়হীন ও শঙ্কাহীন অবস্থায়। অতঃপর তাকে বলা হবে, তুমি কোন দ্বীনের উপর ছিলে? সে বলবে, ইসলাম। অতঃপর বলা হবে, এই ব্যক্তি কে? সে বলবে, মুহাম্মাদ, যিনি আল্লাহ্র রাসূল। যিনি আমাদের নিকটে আল্লাহর পক্ষ হ'তে স্পষ্ট প্রমাণাদি সহ এসেছিলেন। অতঃপর আমরা তাঁকে সত্য বলে জেনেছিলাম। তখন বলা হবে, তুমি কি আল্লাহকে দেখেছ? সে বলবে, কারু পক্ষে দুনিয়াতে আল্লাহকে দেখা সম্ভব নয়। অতঃপর তার জন্য জাহান্নামের দিকের দরজা খুলে দেওয়া হবে। তখন সে সেখানকার ভয়ংকর দৃশ্য দেখবে যে, আগুনের ফুলকি সমূহ একে অপরকে দলিত-মথিত করছে। এসময় তাকে বলা হবে, দেখ কি বস্তু থেকে আল্লাহ তোমাকে রক্ষা করেছেন। অতঃপর তার জন্য জান্নাতের দিকের দরজা খুলে দেওয়া হবে এবং সে জান্নাতের সুখ-সম্ভার দেখতে থাকবে। তখন তাকে বলা হবে এটাই তোমার ঠিকানা। দৃঢ় বিশ্বাসের উপরে তুমি ছিলে। তার উপরেই তুমি মৃত্যুবরণ করেছ এবং তার উপরেই তুমি পুনরুত্থিত হবে যদি মহান আল্লাহ চান।
পক্ষান্তরে মন্দ ব্যক্তিকে কবরে বসানো হবে ভীত ও সন্ত্রস্ত অবস্থায়। অতঃপর তাকে বলা হবে, কোন দ্বীনের উপরে তুমি ছিলে? সে বলবে, আমি জানিনা (لا أذري)। তখন তাকে বলা হবে, এই ব্যক্তি কে? সে বলবে, আমি লোকদের যা বলতে শুনেছি, তাই বলতাম। অতঃপর তার জন্য জান্নাতের দিকের দরজা খুলে দেওয়া হবে এবং সে তার সুখ-সম্ভার দেখতে থাকবে। তখন তাকে বলা হবে, তুমি দেখ কোন বস্তু থেকে আল্লাহ তোমাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। অতঃপর তার জন্য জাহান্নামের দিকের দরজা খুলে দেওয়া হবে। তখন সে সেখানে অগ্নিকুণ্ডের পরস্পরে দলিত-মথিত হওয়ার দৃশ্য দেখবে। তখন তাকে বলা হবে, এটাই তোমার ঠিকানা। সন্দেহের উপরে তুমি ছিলে। তার উপরেই তুমি মৃত্যুবরণ করেছ এবং তার উপরেই তুমি পুনরুত্থিত হবে যদি মহান আল্লাহ চান'। ২১
(৪) হযরত বারা বিন 'আযেব (রাঃ) বলেন,
خَرَجْنَا مَعَ رَسُوْلِ اللهِ - صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي جَنَازَةِ رَجُلٍ مِّنَ الْأَنْصَارِ فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَبْرِ وَلَمَّا يُلْحَدْ فَجَلَسَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - وَجَلَسْنَا حَوْلَهُ كَأَنَّمَا عَلَى رُءُوسِنَا الطَّيْرُ وَفِي يَدِهِ عُوْدٌ يَنْكُتُ بِهِ فِي الْأَرْضِ فَرَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ اسْتَعِيذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا ... وَقَالَ : وَإِنَّهُ لَيَسْمَعُ حَفْقَ نِعَالِهِمْ إِذَا وَلَّوْا مُدْبِرِينَ - يَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُجْلِسَانِهِ، فَيَقُولَانِ لَهُ مَنْ رَّبُّكَ؟ فَيَقُولُ : رَبِّيَ اللهُ. فَيَقُوْلَانِ لَهُ : مَا دِينَكَ؟ فَيَقُوْلُ دِيْنِيَ الْإِسْلَامُ فَيَقُوْلَانِ : مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيْكُمْ؟ فَيَقُولُ : هُوَ رَسُوْلُ اللَّهِ، فَيَقُوْلَانِ لَهُ مَا يُدْرِيكَ؟ فَيَقُولُ : قَرَأْتُ كِتَابَ اللهِ فَآمَنْتُ بِهِ وَصَدَّقْتُ، فَذَلِكَ قَوْلُهُ : { يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابت } الْآيَةَ . قَالَ : فَيُنَادِي مُنَادٍ مِّنَ السَّمَاءِ : أَنْ صَدَقَ عَبْدِي، فَأَفْرِشُوْهُ مِنَ الْجَنَّةِ، وَالْبِسُوْهُ مِنَ الْجَنَّةِ، وَافْتَحُوْا لَهُ بَابًا إِلَى الْجَنَّةِ، فَيُفْتَحُ، قَالَ : فَيَأْتِيهِ مِنْ رَّوْحِهَا وَطِيبِهَا، وَيُفْسَحُ لَهُ فِيْهَا مَدَّ بَصَرِهِ. وَأَمَّا الْكَافِرُ فَذَكَرَ مَوْتَهُ، قَالَ : وَيُعَادُ رُوحُهُ فِي جَسَدِهِ وَيَأْتِيْهِ مَلَكَانِ فَيُجْلِسَانِهِ فَيَقُولَانِ مَنْ رَّبُّكَ؟ فَيَقُوْلُ : هَاهُ هَاهُ، لَا أَدْرِي فَيَقُوْلَانِ لَهُ مَا دِينُكَ؟ فَيَقُولُ : هَاهُ هَاهُ، لَا أَدْرِي فَيَقُوْلَانِ مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ؟ فَيَقُولُ : هَاهُ هَاهُ، لَا أَدْرِي فَيُنَادِي مُنَادٍ مِّنَ السَّمَاءِ : أَنْ كَذَبَ فَأَفْرِشُوهُ مِنَ النَّارِ، وَأَلْبِسُوهُ مِنَ النَّارِ، وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا إِلَى النَّارِ قَالَ : فَيَأْتِيهِ مِنْ حَرِّهَا وَسَمُومِهَا . قَالَ : وَيُضَيَّقُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ حَتَّى تَخْتَلِفَ فِيهِ أَضْلاعُهُ ثُمَّ يُقَيَّدُ لَهُ أَعْمَى أَصَمُّ مَعَهُ مِرْزَيَّةٌ مِّنْ حَدِيدٍ، لَوْ ضُرِبَ بِهَا جَبَلٌ لَصَارَ تُرَابًا فَيَضْرِبُهُ بِهَا ضَرْبَةً يَسْمَعُهَا مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ إِلَّا الثَّقَلَيْنِ، فَيَصِيْرُ تُرَابًا ثُمَّ يُعَادُ فِيْهِ الرُّوحُ، رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ - 'আমরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সাথে জনৈক আনছার ব্যক্তির জানাযায় উপস্থিত ছিলাম। অতঃপর আমরা কবরস্থানে পৌঁছে গেলাম। তখন 'লাহদ' (পাশখুলি কবর) খোঁড়া হচ্ছিল। এসময় রাসূল (ছাঃ) বসে পড়লেন। আমরাও তাঁর চারপাশে চুপচাপ বসে পড়লাম। যেন আমাদের সকলের মাথায় পাখি বসা ছিল। এসময় তাঁর হাতে একটি কাঠের টুকরা ছিল। যা দিয়ে তিনি মাটিতে খুঁচছিলেন। অতঃপর তিনি মাথা উঁচু করলেন এবং দু'বার বললেন, اِسْتَعِيْذُوا بِاللهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ 'তোমরা কবরের আযাব হ'তে আল্লাহর নিকট পানাহ চাও'।... অতঃপর তিনি বললেন, অবশ্যই এ ব্যক্তি লোকদের জুতার আওয়ায শুনতে পাবে, যখন তারা ফিরে যাবে। অতঃপর দু'জন ফেরেশতা তার নিকটে আসবে। তারা তাকে বসাবে এবং বলবে, مَنْ رَّبُّكَ 'তোমার রব কে?' সে বলবে, ربّى الله 'আমার রব আল্লাহ'। তারা বলবে, مَا دِيْنُكَ 'তোমার দ্বীন কি?' সে বলবে, دينى الإسلام 'আমার দ্বীন ইসলাম'। তারা বলবে, مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيْكُمْ 'এই ব্যক্তি কে যাকে তোমাদের মাঝে পাঠানো হয়েছিল?' সে বলবে, هُوَ رَسُوْلُ الله 'উনি আল্লাহ্র রাসূল'। তারা বলবে, وَمَا يُدْرِيكَ 'কিভাবে তুমি এটা জানলে?' সে বলবে, قَرَأْتُ كِتَابَ الله فَآمَنْتُ بِهِ وَصَدَّقْتُ 'আমি আল্লাহ্র কিতাব পড়েছি। অতঃপর তার উপরে বিশ্বাস স্থাপন করেছি ও সেখানে যা আছে তাকে সত্য বলে জেনেছি'। বস্তুতঃ এটাই হ'ল আল্লাহর কালামের বাস্তবতা, যেখানে يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ fofo1 وَيُضِلُّ اللَّهُ الظَّالِمِينَ 'আল্লাহ মুমিনদের দৃঢ় বাক্য দ্বারা মজবুত রাখেন ইহকালীন জীবনে ও পরকালে এবং যালেমদের পথভ্রষ্ট করেন' (ইব্রাহীম ১৪/২৭)। ২২
অতঃপর আকাশ থেকে একজন ঘোষক ঘোষণা দিবেন যে, আমার বান্দা সত্য বলেছে। সুতরাং তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও। তাকে জান্নাতের পোষাক পরিয়ে দাও ও তার দিকে জান্নাতের একটি দরজা খুলে দাও। অতঃপর সেটি খুলে দেওয়া হবে। ফলে তার দিকে জান্নাতের সুবাতাস ও সুগন্ধি আসতে থাকবে। আর ঐ দরজাটি তার দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত প্রসারিত করা হবে'।
অতঃপর রাসূল (ছাঃ) কাফেরের মৃত্যুর অবস্থা বর্ণনা করলেন। তিনি বললেন, অতঃপর তার দেহে তার রূহকে ফিরিয়ে আনা হবে। এরপর তার নিকট দু'জন ফেরেশতা আসবে। তারা তাকে বসাবে ও বলবে, তোমার রব কে? সে বলবে, هَا: هَاهُ، لَا أَدْرِي হায় হায় আমি জানি না। অতঃপর তাকে বলা হবে, তোমার দ্বীন কি? সে বলবে, হায় হায় আমি জানি না। বলা হবে, এই ব্যক্তি কে, যাকে তোমাদের নিকট পাঠানো হয়েছিল? সে বলবে, হায় হায় আমি জানি না। তখন আকাশ থেকে একজন ঘোষক ঘোষণা দিয়ে বলবেন, সে মিথ্যা বলেছে। অতএব তার জন্য জাহান্নামের বিছানা বিছিয়ে দাও। তাকে জাহান্নামের পোষাক পরিয়ে দাও এবং তার জন্য জাহান্নামের দিকের একটি দরজা খুলে দাও। অতঃপর সেখান থেকে প্রচণ্ড গরম হাওয়া তার কবরে প্রবাহিত হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, অতঃপর তার কবরকে তার উপর এমন সংকীর্ণ করা হবে যে, প্রচণ্ড চাপে একদিকের পাঁজর অন্যদিকে প্রবেশ করবে। অতঃপর তার জন্য একজন অন্ধ ও বধির ফেরেশতাকে লোহার বড় হাতুড়ি সহ নিযুক্ত করা হবে, যদি ঐ হাতুড়ি পাহাড়ের উপরে মারা হ'ত, তাহ'লে তা গুঁড়িয়ে মাটি হয়ে যেত। অতঃপর সে তাকে মারতে থাকবে। এসময় তার বিকট চিৎকার জিন ও ইনসান ব্যতীত পূর্ব ও পশ্চিমের সকল প্রাণীজগত শুনতে পাবে। অতঃপর সে মাটি হয়ে যাবে, আবার তাতে রূহ ফিরিয়ে আনা হবে'। ২০
(৫) মাইয়েতের সৎকর্ম ও দুষ্কর্ম : হযরত বারা বিন আযেব (রাঃ) কর্তৃক উপরোক্ত হাদীছে অতিরিক্তভাবে বর্ণিত হয়েছে,
إِنَّ الْعَبْدَ الْمُؤْمِنَ... وَيَأْتِيهِ رَجُلٌ حَسَنُ الْوَجْهِ حَسَنُ الثِّيَابِ طَيِّبُ الرِّيحِ فَيَقُولُ أَبْشِرْ بِالَّذِي يَسُرُّكَ، هَذَا يَوْمُكَ الَّذِي كُنْتَ تُوعَدُ فَيَقُوْلُ لَهُ مَنْ أَنْتَ؟ فَوَجْهُكَ الْوَجْهُ يَجِيءُ بِالْخَيْرِ فَيَقُوْلُ أَنَا عَمَلُكَ الصَّالِحُ، فَيَقُولُ رَبِّ أَقِمِ السَّاعَةَ حَتَّى أَرْجِعَ إِلَى أَهْلِي وَمَالِي - ... وَإِنَّ الْعَبْدَ الْكَافِرَ ... وَيَأْتِيهِ رَجُلٌ قَبِيحُ الْوَجْهِ قَبِيحُ الثَّيَابِ مُنْتِنُ الرِّيحِ فَيَقُولُ أَبْشِرْ بِالَّذِي يَسُوءُكَ هَذَا يَوْمُكَ الَّذِي كُنْتَ تُوعَدُ. فَيَقُولُ مَنْ أَنْتَ فَوَجْهُكَ الْوَجْهُ يَجِيءُ بِالشَّرِّ فَيَقُولُ أَنَا عَمَلُكَ الْخَبِيْثُ فَيَقُولُ رَبِّ لَا تُقِمِ السَّاعَةَ، رَوَاهُ أَحْمَدَ
'নিশ্চয় মুমিন বান্দার নিকট একজন লোক আসবে সুন্দর চেহারার, সুন্দর পোষাকে পরিহিত ও উত্তম সুগন্ধিযুক্ত। সে বলবে, তুমি সুসংবাদ গ্রহণ কর ঐ বিষয়ের, যা তোমাকে খুশী করবে। আজ সেই দিন, যেদিনের প্রতিশ্রুতি তোমাকে দেওয়া হয়েছিল। সে বলবে, তুমি কে? তোমার চেহারাটি এমন যা কেবল কল্যাণ বয়ে আনে। সে বলবে, আমি তোমার সৎকর্ম। তখন মুমিন বলবে, হে আমার প্রতিপালক! তুমি পুনরুত্থান ঘটাও। যাতে আমি আমার পরিবার ও সম্পদের নিকট ফিরে যেতে পারি'।
'অন্যদিকে অবিশ্বাসী কাফিরের নিকট একজন লোক আসবে কুৎসিত চেহারার, মন্দ পোষাকে ও দুর্গন্ধযুক্ত অবস্থায়। সে বলবে, ঐ বস্তুর সুসংবাদ গ্রহণ কর, যা তোমাকে মন্দ করেছে। আজ তোমার সেই দিন, যার প্রতিশ্রুতি তোমাকে দেওয়া হয়েছিল। তখন কাফের বলবে, তুমি কে? তোমার চেহারাটি এমন যা কেবল মন্দ বয়ে আনে। সে বলবে, আমি তোমার মন্দকর্ম। তখন কাফের বলবে, হে আমার প্রতিপালক! তুমি পুনরুত্থান ঘটিয়ো না' (আহমাদ হা/১৮৫৫৭, সনদ ছহীহ)।
মন্দকর্মের আকৃতি ও তার শাস্তি বর্ণনায় নিম্নের হাদীছটি প্রণিধানযোগ্য।- রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,
مَنْ آتَاهُ اللَّهُ مَالاً فَلَمْ يُؤَدِّ زَكَاتَهُ مُثْلَ لَهُ مَالُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شُجَاعًا أَقْرَعَ لَهُ زَيْبَتَانِ يُطَوَّقُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، ثُمَّ يَأْخُذُ بِلهْزِمَتَيْهِ يَعْنِي شَدْقَيْهِ ثُمَّ يَقُوْلُ أَنَا مَالُكَ، أَنَا كَنْزُكَ ثُمَّ تَلاَ { وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُوْنَ } رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
'যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন, অথচ সে এর যাকাত আদায় করেনি, ক্বিয়ামতের দিন তার সম্পদকে টেকো মাথা বিশিষ্ট বিষধর সাপের আকৃতি দান করে তার গলায় বেড়ী পরানো হবে। সাপটি তার মুখের দুই চোয়াল চেপে ধরে বলবে, আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার সঞ্চিত ধন। অতঃপর তিনি সূরা আলে ইমরান ১৮০ আয়াতটি তেলাওয়াত করেন'। ২৪ যেখানে আল্লাহ বলেন, وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فضله هُوَ خَيْرًا لَّهُمْ بَلْ هُوَ شَرٌّ لَّهُمْ، سَيُطَوَّقُونَ مَا بَخِلُوا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلِلَّهِ مِيرَاتُ اَلسَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ- অনুগ্রহে কিছু দান করেছেন, তাতে যারা কৃপণতা করে, তারা যেন এটাকে তাদের জন্য কল্যাণকর মনে না করে। বরং এটা তাদের জন্য ক্ষতিকর। যেসব মালে তারা কৃপণতা করে, সেগুলিকে ক্বিয়ামতের দিন তাদের গলায় বেড়ী হিসাবে পরানো হবে। আসমান ও যমীনের স্বত্বাধিকারী আল্লাহ। অতএব (গোপনে ও প্রকাশ্যে) তোমরা যা কিছু কর, সবই আল্লাহ খবর রাখেন' (আলে ইমরান ৩/১৮০)।
(৬) হযরত আনাস (রাঃ)-এর বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ وَتَوَلَّى عَنْهُ أَصْحَابُهُ وَإِنَّهُ لَيَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ أَتَاهُ مَلَكَانِ فَيُقْعِدَانِهِ، فَيَقُوْلَانِ : مَا كُنْتَ تَقُوْلُ فِي هَذَا الرَّجُلِ؟ لِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ فَيَقُوْلُ : أَشْهَدُ أَنَّهُ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ فَيُقَالُ لَهُ : انْظُرْ إِلَى مَقْعَدِكَ مِنَ النَّارِ قَدْ أَبْدَلَكَ اللهُ بِهِ مَقْعَدًا مِّنَ الْجَنَّةِ فَيَرَاهُمَا جَمِيعًا - وَأَمَّا الْمُنَافِقُ وَالْكَافِرُ فَيُقَالُ لَهُ : مَا كُنْتَ تَقُوْلُ فِي هَذَا الرَّجُلِ؟ فَيَقُوْلُ : لَا أَدْرِي كُنتُ أَقُولُ مَا يَقُوْلُ النَّاسُ فَيُقَالُ لَا دَرَيْتَ وَلَا تَلَيْتَ وَيُضْرَبُ بِمَطَارِقَ مِنْ حَدِيدٍ ضَرْبَةً فَيَصِيحُ صَيْحَةً يَسْمَعُهَا مَنْ يَلِيهِ غَيْرَ الثَّقَلَيْنِ، مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ - 'বান্দাকে যখন কবরে রাখা হয় এবং তার সঙ্গী-সাথীরা সেখান থেকে ফিরতে থাকে, আর তখনও সে অবশ্যই তাদের জুতার শব্দ শুনতে থাকে; এমতাবস্থায় তার নিকটে দু'জন ফেরেশতা আসে ও তাকে উঠিয়ে বসায়। অতঃপর তাকে বলে, এই ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলতে? অর্থাৎ মুহাম্মাদ (ছাঃ) সম্পর্কে (রাবীর ব্যাখ্যা)। তখন সে ব্যক্তি মুমিন হ'লে বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, ইনি আল্লাহ্র বান্দা ও তাঁর রাসূল। তখন তাকে বলা হয়, তাকিয়ে দেখ জাহান্নামে তোমার স্থান। ঐটার বদলে আল্লাহ তোমার জন্য জান্নাতে স্থান নির্ধারণ করেছেন। ঐ ব্যক্তি তখন দু'টি স্থানই দেখবে।
অতঃপর মুনাফিক ও কাফির তথা কপট বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী ব্যক্তিকে বলা হয়, তুমি এই ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলতে? সে বলে, আমি জানি না। তার সম্পর্কে আমি তাই-ই বলতাম যা লোকেরা বলত। এ সময় তাকে বলা হবে, বেশ। তুমি তোমার বিবেক দিয়েও বুঝনি, কিতাব পড়েও শেখনি। অতঃপর তাকে লোহার হাতুড়ি দিয়ে ভীষণ জোরে পিটানো শুরু হবে। তাতে সে এমন চীৎকার করতে থাকবে যে, জিন ও ইনসান ব্যতীত আশপাশের সবাই তা শুনতে পাবে'। ২৫
(৭) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) রাতে যখন তাহাজ্জুদে দাঁড়াতেন, তখন তাকবীরে তাহরীমার পর নিম্নের দো'আটি পাঠ করতেন-
اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيِّمُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيْهِنَّ، وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيْهِنَّ، وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ مَلِكُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ، وَلَكَ الْحَمْدُ، أَنْتَ الْحَقُّ وَوَعْدُكَ حَقٌّ وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ وَقَوْلُكَ حَقٌّ، وَعَذَابُ الْقَبْرِ حَقٌّ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارُ حَقٌّ، وَالنَّبِيُّونَ حَقٌّ وَمُحَمَّدٌ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ حَقٌّ، اَللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ، فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ - 'হে আল্লাহ! তোমার জন্য যাবতীয় প্রশংসা, তুমি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল এবং এ সবের মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছুর ধারক। তোমারই জন্য সমস্ত প্রশংসা, তুমি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল এবং এ সবের মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছুর জ্যোতি। তোমারই জন্য সমস্ত প্রশংসা, তুমি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল এবং এ সবের মধ্যে যা আছে সবকিছুর বাদশাহ। তোমারই জন্য সমস্ত প্রশংসা, তুমিই সত্য, তোমার ওয়াদা সত্য, তোমার সাক্ষাত লাভ সত্য, তোমার বাণী সত্য, কবর আযাব সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, নবীগণ সত্য, মুহাম্মাদ সত্য এবং ক্বিয়ামত সত্য। হে আল্লাহ! আমি তোমারই নিকট আত্মসমর্পণ করি, তোমারই উপর ভরসা করি ও তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি। আমি তোমার জন্যই ঝগড়া করি এবং তোমার কাছেই ফায়ছালা পেশ করি। অতএব তুমি আমার আগে-পিছের, গোপন ও প্রকাশ্য সকল অপরাধ ক্ষমা কর। তুমি অগ্র ও পশ্চাতের মালিক। তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং তুমি ব্যতীত কোন মা'বুদ নেই'। ২৬
উপরোক্ত হাদীছ সমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কবরে মাইয়েতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনর্জীবিত করা হবে। এই কবর মাটিতে হৌক বা অন্যত্র হৌক। কেননা কবর হ'ল মৃত্যুর পরবর্তী বরযখী জীবন। যা দৃশ্যমান জগতের অন্তরালে থাকে (মির'আত; মুমিনূন ২৩/১০০)।
টিকাঃ
১৯. তিরমিযী হা/১০৭১; মিশকাত হা/১৩০ 'কবরের আযাব' অনুচ্ছেদ।
২০. ইবনু মাজাহ হা/৪২৭২; মিশকাত হা/১৩৮।
২১. ইবনু মাজাহ হা/৪২৬৮; মিশকাত হা/১৩৯ 'কবরের আযাব' অনুচ্ছেদ।
২২. একই রাবী কর্তৃক অন্য বর্ণনায় এসেছে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, نَزَلَتْ فِي عَذَابِ الْقَبْر উক্ত আয়াতটি কবরের আযাব সম্পর্কে নাযিল হয়েছে'। বুখারী হা/১৩৬৯; মুসলিম হা/২৮৭১; মিশকাত হা/১২৫ 'কবরের আযাব' অনুচ্ছেদ।
২৩. আহমাদ হা/১৮৫৫৭; আবুদাউদ হা/৪৭৫৩; মিশকাত হা/১৩১ 'কবরের আযাব' অনুচ্ছেদ। রাবী বারা বিন 'আযেব (রাঃ)। মিশকাতে হাদীছটির প্রথমাংশ নেই। সেখানে শুরু হয়েছে يَأْتِيه ملكان 'অতঃপর দু'জন ফেরেশতা তার নিকটে আসবে'-অংশ থেকে শেষ পর্যন্ত।
২৪. বুখারী হা/১৪০৩; মিশকাত হা/১৭৭৪ 'যাকাত' অধ্যায়, রাবী আবু হুরায়রা (রাঃ)। টেকো মাথা বিশিষ্ট বলার মাধ্যমে সাপটির প্রচণ্ড বিষধর হওয়া বুঝানো হয়েছে। বিষের প্রভাবে এবং বয়স্ক হওয়ার কারণে যার মাথা টেকো হয়ে গেছে (মিরকাত)।
২৫. বুখারী হা/১৩৭৪; মুসলিম হা/২৮৭০; মিশকাত হা/১২৬ 'কবরের আযাব' অনুচ্ছেদ।
২৬. ছহীহ ইবনু খুযায়মা হা/১১৫১-৫২; আবুদাউদ হা/৭৭২; বুখারী হা/৬৩১৭; মুসলিম হা/১৮০৮; মিশকাত-আলবানী, হা/১২১১ 'রাত্রিতে উঠে তাহাজ্জুদে কি বলবে' অনুচ্ছেদ- ৩২; মির'আত হা/১২১৮।
📄 যুক্তির দলীল
গ. যুক্তির দলীল )حجة العقل : নিদ্রার মধ্যে দুঃস্বপ্নে মানুষ ভয়ে চিৎকার দিয়ে ওঠে বা ভাল স্বপ্নে আনন্দে হেসে ওঠে। পাশে থাকা মানুষ তার কিছুই বুঝতে পারে না। এটা যেমন বাস্তব, তেমনি চিরনিদ্রার জগতে আত্মিক জীবনে এটি অবাস্তব হবে কেন? রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকটে যখন অহি নাযিল হ'ত, তখন সেটি কেবল তিনিই বুঝতেন, পাশে থাকা ছাহাবীরা কি সেটা দেখতে বা শুনতে পেতেন? জীবিত ব্যক্তি যদি জীবিত ব্যক্তির নিকট অদৃশ্য অহি টের না পায়, তাহ'লে মৃত ব্যক্তির উপর অদৃশ্য আযাব অন্যেরা কিভাবে টের পাবে? অহি-কে যেমন অস্বীকার করা যায় না, কবরের শাস্তি বা শান্তিকেও তেমনি অস্বীকার করা যায় না। এমনকি ভরা মজলিসে আগত মানুষের বেশধারী জিব্রীলকেও ছাহাবীগণ চিনতে পারেননি। ২৭ মসজিদে নববীতে জমাকৃত ফিত্রার চাউল চোর মানুষের বেশধারী ইবলীসকে পাহারাদার ছাহাবী আবু হুরায়রা (রাঃ) হাতে-নাতে ধরে ফেলেও চিনতে পারেননি। পরে তিনি তার মুখ থেকে আয়াতুল কুরসীর ফযীলতের ছহীহ হাদীছ শুনে তাকে ছেড়ে দিয়েছিলেন। ২৮
মানুষকে আল্লাহ এই ক্ষমতা দেননি যে, তার এই স্থূল চোখ দিয়ে আগুনের তৈরী জিন ও নূরের তৈরী ফেরেশতাকে দেখতে বা চিনতে পারে। একই কারণে সে কবরে আগত ফেরেশতাকে চিনতে পারবে না। আর সেজন্যই তো তাকে বলা হয়েছে 'মুনকার' ও 'নাকীর'। যার অর্থ, অচেনা ও অপরিচিত। অতএব যুক্তি দিয়ে যুক্তি খণ্ডন নয়, বরং কুরআন ও হাদীছের প্রদত্ত খবরের উপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপনের মধ্যেই রয়েছে মানসিক শান্তি ও আখেরাতে মুক্তি।
টিকাঃ
২৭. মুসলিম হা/৮; নাসাঈ হা/৪৯৯১; মিশকাত হা/২, রাবী ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)।
২৮. বুখারী হা/২৩১১; মিশকাত হা/২১২৩ 'কুরআনের ফযীলত সমূহ' অধ্যায়, রাবী আবু হুরায়রা (রাঃ)।
📄 অস্বীকারকারীদের সন্দেহবাদ সমূহ খণ্ডন
ঘ. অস্বীকারকারীদের সন্দেহবাদ সমূহ খণ্ডন ( رد الشبهات لمنكري عذاب القبر ):
কবর আযাব অস্বীকারকারীগণ নিম্নোক্ত সন্দেহবাদ সমূহ উত্থাপন করে থাকেন। যেমন-
قَالُوا رَبَّنَا أَمَتَنَا اثْنَتَيْنِ وَأَحْيَيْتَنَا اثْنَتَيْنِ فَاعْتَرَفْنَا بِذُنُوبِنَا فَهَلْ إِلَى خُرُوجٍ مِّنْ سَبِيلٍ؟ (১) আল্লাহ বলেছেন, 'কিয়ামতের দিন কাফেররা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদেরকে দু'বার মৃত্যু দিয়েছেন ও দু'বার জীবন দিয়েছেন। এখন আমরা আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি। অতএব আমাদের এখান থেকে বের হবার কোন পথ আছে কি?' (মুমিন/গাফের ৪০/১১)। এখানে দু'টি মৃত্যু বলতে প্রথমে মৃত শুক্রাণুরূপে পিতার ঔরসে অবস্থান। অতঃপর দুনিয়াবী জীবন শেষে মৃত্যুবরণ। আর দু'টি জীবন বলতে প্রথমে দুনিয়াবী জীবন, অতঃপর ক্বিয়ামতের দিন পুনর্জীবন। এক্ষণে কবরে পুনরায় জীবিত করলে তিনবার জীবন ও তিনবার মৃত্যু দান করা হবে। যা কুরআনের বিরোধী।
জবাব: প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে কবরবাসীকে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্দেশ্যে সামান্য সময়ের জন্য কবরে রূহকে ফিরিয়ে আনা হবে মাত্র। যা দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনের সাথে তুলনীয় নয়। আর 'কবর হ'ল আখেরাতের প্রথম মনযিল'। ২৯ কবর দিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় মাইয়েত যেমন তার স্বজনদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়৩০, তেমনি কবরবাসীর উদ্দেশ্যে সালাম দিলে ফেরেশতারা তাদের রূহে সালাম পৌঁছে দেয় এবং তারাও সালামের জবাব দেয়। ৩১
(২) আল্লাহ বলেছেন, وَمَا أَنْتَ بِمُسْمِعِ مَّنْ فِي الْقُبُورِ ‘বস্তুতঃ তুমি শুনাতে পারো না কোন কবরবাসীকে’ (ফাত্বির ৩৫/২২)। উক্ত আয়াতে আল্লাহ কাফেরকে কবরবাসীর সঙ্গে তুলনা করেছেন। কেননা উভয়ে কুরআনের বাণী শোনেনা। এক্ষণে যদি মৃতদের কবরে জীবিত বা অনুভূতিসম্পন্ন বলা হয়, তাহ'লে জীবিত কাফেরদের সঙ্গে তাদের তুলনা সঠিক হবে না।
জবাব: এখানে 'শোনা' অর্থ জবাব দেওয়া ও দাওয়াত কবুল করা। বদরের যুদ্ধের দিন নিহত ও কুয়ায় নিক্ষিপ্ত কাফের নেতাদের লাশ সমূহের উদ্দেশ্যে রাসূল (ছাঃ) যে ধিক্কারবাণী শুনিয়েছিলেন, তা তারা শুনেছিল। কিন্তু জবাব দিতে পারেনি। ৩২ একই অবস্থা দুনিয়ার জীবিত কাফের-মুনাফিকদের। তারা ইসলামের বাণী শোনে। কিন্তু জবাব দেয় না বা কবুল করে না।
(৩) কবর খুঁড়ে সেখানে আযাবের কোন নমুনা পাওয়া যায় না। কোন অন্ধ-বধির ফেরেশতাকেও লোহার হাতুড়ি দিয়ে পিটাতে দেখা যায় না।
জবাব: রূহের উপর অথবা আত্মাসংশ্লিষ্ট দেহের উপর আযাব হবে। যা পার্থিব দেহের সাথে তুলনীয় নয়। সেখানকার শাস্তি এখান থেকে বুঝা যাবে না। যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, فَلَوْلَا أَنْ لَا تَدَافَنُوا لَدَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُسْمِعَكُمْ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ الَّذِي أَسْمَعُ مِنْهُ 'যদি তোমরা ভয়ে কবর দেওয়া পরিত্যাগ না করতে, তাহ'লে আমি আল্লাহ্র নিকটে দো'আ করতাম যেন তোমাদেরকে কবরের আযাব শুনানো হয়, যা আমি শুনতে পাচ্ছি'। ৩৩ রাসূলকে আল্লাহ শুনিয়েছেন বলেই তিনি শুনতে পেয়েছেন। নইলে মানুষ হিসাবে তাঁর পক্ষেও এগুলি শোনা সম্ভব ছিল না (কাহফ ১৮/১১০)। কবরের বিষয়গুলি অদৃশ্য জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। যার উপরে ঈমান আনা মুত্তাক্বীদের প্রথম গুণ (বাক্বারাহ ২/২-৩)। নইলে দৃশ্যমান বস্তুর উপর বিশ্বাস স্থাপন করার কোন অর্থ হয় না এবং তাকে ঈমানও বলা হয় না।
কবরের আযাবকে অস্বীকারকারী দলগুলি হ'ল : খারেজী, অধিকাংশ মু'তাযিলা ও কিছু সংখ্যক মুরজিয়া। ৩৪ ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহঃ) বলেন, কবরের শাস্তি ও শান্তিকে অস্বীকারকারী ব্যক্তি নিজে পথভ্রষ্ট ও অন্যকে পথভ্রষ্টকারী'। ৩৫ ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, দলীল পাওয়ার পরেও যদি কেউ প্রকাশ্য শরী'আতকে অস্বীকার করে। তার জন্য আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করাও যাবে না'। ৩৬
টিকাঃ
২৯. তিরমিযী হা/২৩০৮; মিশকাত হা/১৩২, রাবী হযরত ওছমান (রাঃ)-এর গোলাম হানী (রাঃ)।
৩০. বুখারী হা/১৩৩৮; মুসলিম হা/২৮৭০; মিশকাত হা/১২৬, রাবী আনাস (রাঃ)।
৩১. ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ'উল ফাতাওয়া ২৪/২৯৭; উছায়মীন, মাজমু' ফাতাওয়া ক্রমিক ৩০৭, ২/২৪৪ পৃ..
৩২. বুখারী হা/১৩৭০; মুসলিম হা/২৮৭৪; মিশকাত হা/৩৯৬৭ 'জিহাদ' অধ্যায় 'বন্দীদের হুকুম' অনুচ্ছেদ, রাবী ক্বাতাদাহ (রাঃ)।
৩৩. মুসলিম হা/২৮৬৮; মিশকাত হা/১২৯ 'কবরের আযাব' অনুচ্ছেদ, রাবী যায়েদ বিন ছাবেত (রাঃ)।
৩৪. নববী, শরহ মুসলিম হা/২৮৬৫-এর আলোচনা।
৩৫. ইবনুল ক্বাইয়িম (৬৯১-৭৫১ হি.), আর-রূহ (বৈরূত: দারুল কুতুবিল ইলমিইয়াহ, তাবি) ৫৭ পৃ..
৩৬. ইবনু তায়মিয়াহ (৬৬১-৭২৮ হি.), মাজমূ'উল ফাতাওয়া ৬/৬১।