📘 মৃত্যুকে স্বরন > 📄 মুমিন মাইয়েতের সম্মান

📄 মুমিন মাইয়েতের সম্মান


মুমিন মাইয়েতের সম্মান: রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,
الْمَيِّتُ تَحْضُرُهُ الْمَلَائِكَةُ فَإِذَا كَانَ الرَّجُلُ صَالِحًا قَالُوا : أُخْرُجِي حَمِيدَةً أَيَّتُهَا النَّفْسُ الطَّيِّبَةُ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الطَّيِّبِ، أَخْرُجِي وَأَبْشِرِي بِرَوْح وَرَيْحَانٍ وَرَبِّ غَيْرِ غَضْبَانَ، فَلَا تَزَالُ يُقَالُ لَهَا ذَلِكَ حَتَّى تَخْرُجَ، ثُمَّ يُعْرَجُ بِهَا إِلَى السَّمَاءِ، فَيُفْتَحَ لَهَا فَيُقَالُ : مَنْ هَذَا؟ فَيَقُولُونَ : فُلَانٌ. فَيُقَالُ : مَرْحَبًا بِالنَّفْسِ الطَّيِّبَةِ فِي الْجَسَدِ الطَّيِّبِ، ادْخُلِي حَمِيدَةً وَأَبْشِرِي بِرَوْح وَرَيْحَانٍ وَرَبِّ غَيْرِ غَضْبَانَ، فَلَا تَزَالُ يُقَالُ لَهَا ذَلِكَ حَتَّى تَنْتَهِيَ إِلَى السَّمَاءِ
'মৃত্যুর সময় ফেরেশতাগণ উপস্থিত হন। ঐ ব্যক্তি নেককার হ'লে ফেরেশতাগণ বলেন, বের হয়ে আসুন হে পবিত্র আত্মা! যিনি পবিত্র দেহে ছিলেন। বের হয়ে আসুন প্রশংসিত অবস্থায়। আর সুসংবাদ গ্রহণ করুন শান্তি ও সুগন্ধির এবং আপনার প্রতিপালকের ক্রোধহীনতার। এভাবে বলা হ'তে থাকে যতক্ষণ না রূহ বেরিয়ে আসে। অতঃপর রূহকে নিয়ে ফেরেশতারা আকাশে উঠে যান। অতঃপর তার জন্য দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং বলা হয়, কে ইনি? ফেরেশতারা বলেন, ইনি অমুক। তখন বলা হয়, পবিত্র আত্মার প্রতি অভিনন্দন, যা পবিত্র দেহে ছিল। প্রবেশ করুন প্রশংসিত অবস্থায়। আর সুসংবাদ গ্রহণ করুন শান্তি ও সুগন্ধির এবং আপনার প্রতিপালকের ক্রোধহীনতার। এভাবেই তারা বলতে থাকেন যতক্ষণ না সেই আসমানে উপনীত হন, যেখানে আল্লাহ রয়েছেন (অর্থাৎ সপ্তম আসমানে)। ১৪ অন্য বর্ণনায় এসেছে,
إِنَّ الْعَبْدَ الْمُؤْمِنَ إِذَا كَانَ فِي انْقِطَاعِ مِّنَ الدُّنْيَا وَإِقْبَالٍ مِّنَ الْآخِرَةِ نَزَلَ إِلَيْهِ مَلَائِكَةٌ مِّنَ السَّمَاءِ بِيضُ الْوُجُوهِ، كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الشَّمْسُ، مَعَهُمْ كَفَنٌ مِّنْ أَكْفَانِ الْجَنَّةِ، وَحَنُوطٌ مِّنْ حَنُوطِ الْجَنَّةِ، حَتَّى يَجْلِسُوا مِنْهُ مَدَّ الْبَصَرِ، ثُمَّ يَجِيءُ مَلَكُ الْمَوْتِ حَتَّى يَجْلِسَ عِنْدَ رَأْسِهِ فَيَقُولُ : أَيَّتُهَا النَّفْسُ الطَّيِّبَةُ اخْرُحِي إِلَى مَغْفِرَةٍ مِّنَ اللَّهِ. قَالَ : فَتَخْرُجُ تَسِيلُ كَمَا تَسِيلُ الْقَطْرَةُ مِنَ السَّقَاءِ، فَيَأْخُذُهَا فَإِذَا أَخَذَهَا لَمْ يَدَعُوهَا فِي يَدِهِ طَرْفَةَ عَيْنٍ حَتَّى يَأْخُذُوهَا فَيَجْعَلُوهَا فِي ذَلِكَ الْكَفَنِ، وَفِي ذَلِكَ الْحَنُوطِ، وَيَخْرُجُ مِنْهَا كَأَطْيَبِ نَفْحَةِ مِسْكِ وُجِدَتْ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ، قَالَ : فَيَصْعَدُونَ بِهَا فَلَا يَمُرُّونَ يَعْنِي بِهَا عَلَى مَلَا مِّنَ الْمَلَائِكَةِ إِلَّا قَالُوا : مَا هَذَا الرُّوحُ الطَّيِّبُ؟ يَقُولُونَ : فُلَانُ ابْنُ فُلَانِ بِأَحْسَنِ أَسْمَائِهِ الَّتِي كَانُوا يُسَمُّونَهُ بِهَا فِي الدُّنْيَا، حَتَّى يَنْتَهُوا بِهَا إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا، فَيَسْتَفْتِحُونَ لَهُ فَيُفْتَحُ لَهُمْ فَيُشَيِّعُهُ مِنْ كُلِّ سَمَاءٍ مُقَرَّبُوهَا إِلَى السَّمَاءِ الَّتِي تَلِيهَا، حَتَّى يُنْتَهَى بِهِ إِلَى السَّمَاءِ السَّابِعَةِ فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ اكْتُبُوا كِتَابَ عَبْدِي فِي عِلِّيِّينَ، وَأَعِيدُوهُ إِلَى الْأَرْضِ فَإِنِّي مِنْهَا خَلَقْتُهُمْ، وَفِيهَا أُعِيدُهُمْ، وَمِنْهَا أُخْرِجُهُمْ تَارَةً أُخْرَى، قَالَ : فَتُعَادُ رُوحُهُ فِي جسده فَيَأْتِيهِ مَلَكَانَ فَيُجْلسَانه ....
'মুমিন বান্দার যখন দুনিয়া ত্যাগ ও আখেরাতে গমনের মুহূর্ত আসে, তখন তার নিকটে আসমান থেকে উজ্জ্বল চেহারাবিশিষ্ট একদল ফেরেশতা আসেন, যাদের চেহারাগুলি যেন একেকটি সূর্য। তাদের সাথে জান্নাতের কাফন ও সুগন্ধি থাকে। তাঁরা তার দৃষ্টিসীমার মধ্যে বসেন। অতঃপর মালাকুল মউত এসে তার মাথার নিকটে বসে বলেন, হে পবিত্র আত্মা! বের হয়ে আসুন আল্লাহ্ ক্ষমা ও সন্তুষ্টির দিকে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তখন তার রূহ সহজে বের হয়ে আসে যেমন মশক হ'তে পানি বের হয়ে আসে। অতঃপর মালাকুল মউত তাকে গ্রহণ করেন এবং এক মুহূর্তের জন্যও নিজের হাতে রাখেন না; বরং সাথে সাথে অপেক্ষমান ফেরেশতাগণ তাকে গ্রহণ করেন ও উক্ত কাফন ও সুগন্ধির মধ্যে রাখেন। তখন তা থেকে পৃথিবীর সকল সুগন্ধির চাইতে উত্তম মিশকের সুগন্ধি বের হ'তে থাকে।
রাসূল (ছাঃ) বলেন, অতঃপর তাকে নিয়ে ফেরেশতাগণ উপরে উঠতে থাকেন এবং যখনই তারা কোন ফেরেশতাদলের নিকট পৌঁছেন তারা জিজ্ঞেস করেন, এই পবিত্র রূহ কার? তখন ফেরেশতাগণ দুনিয়াতে তাকে লোকেরা যে সকল উপাধি দ্বারা ভূষিত করত, সে সকলের মধ্যে উত্তমটি দ্বারা ভূষিত করে বলেন, এটি হ'ল অমুকের পুত্র অমুকের রূহ। যতক্ষণ না তারা তাকে নিয়ে প্রথম আসমানে পৌঁছেন। অতঃপর তাদের জন্য আসমানের দরজা খুলে দেওয়া হয়। তখন প্রত্যেক আসমানের সম্মানিত ফেরেশতাগণ তাদের পশ্চাদ্গামী হন উপরের আসমান পর্যন্ত। যতক্ষণ না তারা সপ্তম আসমানে পৌঁছে যান। এসময় আল্লাহ বলেন, আমার বান্দার ঠিকানা 'ইল্লিইয়ীনে' লিখ এবং তাকে যমীনে (তার কবরে) ফিরিয়ে নিয়ে যাও। কেননা আমি তাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি এবং মাটির দিকেই তাদের প্রত্যাবর্তিত করব। অতঃপর তার রূহ তার দেহে (কবরে) ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অতঃপর তার নিকট দুইজন ফেরেশতা আসেন এবং তাকে উঠিয়ে বসান'...।১৫

কবর আযাবের দলীল সমূহ (دلائل إثبات عذاب القبر)
এ বিষয়ে কিতাব ও সুন্নাতে অগণিত দলীল রয়েছে। এ সম্পর্কে বর্ণিত হাদীছ সমূহের আধিক্যের কারণে অনেক মুহাদ্দিছ বিদ্বান একে 'মুতাওয়াতির' পর্যায়ভুক্ত বলেছেন (মির'আত)। যার অর্থ অবিরত ধারায় বর্ণিত হাদীছ, যার বিশুদ্ধতায় কোন সন্দেহ থাকে না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, وَلَيْسَ مِنَ الْإِنْسَانِ شَيْءٌ لا يَبْلَى إِلَّا عَظْمًا وَّاحِدًا، وَهُوَ عَجْبُ الذَّنْبِ، وَمِنْهُ يُرَكَّبُ الْخَلْقُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ 'মৃতের সবকিছু পঁচে-সড়ে যাবে, কেবল তার মেরুদণ্ডের নিম্নের অস্থিমূল )عَجْبُ الذَّنْبِ( ব্যতীত। সেখান থেকেই ক্বিয়ামতের দিন তার অবয়ব গঠিত হবে'। ১৬
আধুনিক বিজ্ঞান মানুষের মাথার চুল, মুখের লালা ও ডিএনএ টেস্ট করে তার পরিচয় ও বংশধারা নির্ধারণ করছে। আল্লাহর জন্য কি এগুলি আরও সহজ নয়? যদিও তাঁর কোন মাধ্যম বা অবলম্বনের প্রয়োজন নেই।

টিকাঃ
১৪. ইবনু মাজাহ হা/৪২৬২; মিশকাত হা/১৬২৭, রাবী আবু হুরায়রা (রাঃ); ছহীহাহ হা/১৩০৯।
১৫. আহমাদ হা/১৮৫৫৭; মিশকাত হা/১৬৩০, রাবী বারা বিন আযেব (রাঃ)। বিস্তারিত দ্রষ্টব্য: 'জানায়েয' অধ্যায়, মিশকাত হা/১৬২৭-৩০।
১৬. বুখারী হা/৪৯৩৫; মুসলিম হা/২৯৫৫; মিশকাত হা/৫৫২১, রাবী আবু হুরায়রা (রাঃ)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00