📄 মৃত্যু থেকে বাঁচার উপায় নেই
মৃত্যু থেকে বাঁচার উপায় নেই )لا مناص من الموت : দুনিয়ার পাগলেরা সুদৃঢ় ও সুউচ্চ প্রাসাদসমূহ নির্মাণ করে। অথচ তাকে চলে যেতে হবে সব ছেড়ে মাটির গর্তে। যেখানে তার নীচে-উপরে ও ডাইনে-বামে থাকবে স্রেফ মাটি আর মাটি। যা থেকে সে সারা জীবন গা বাঁচিয়ে চলেছে। আল্লাহ বলেন, أَيْنَمَا تَكُونُوا يُدْرِكْكُمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنْتُمْ فِي - بُرُوْحِ مُّشَيَّدَةٍ 'যেখানেই তোমরা থাক না কেন, মৃত্যু তোমাদের পাকড়াও করবেই। এমনকি যদি তোমরা সুদৃঢ় দুর্গেও অবস্থান কর' (নিসা ৪/৭৮)। كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ثُمَّ إِلَيْنَا تُرْجَعُونَ - তিনি বলেন, 'প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। অতঃপর তোমরা আমাদের নিকটে প্রত্যাবর্তিত হবে' (আনকাবুত ২৯/৫৭)। তিনি আরও বলেন, كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ وَنَبْلُوكُمْ بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً وَإِلَيْنَا تُرْجَعُونَ করবে। আর আমরা তোমাদেরকে মন্দ ও ভাল দ্বারা পরীক্ষা করে থাকি এবং আমাদের কাছেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে' (আম্বিয়া ২১/৩৫)।
প্রাণী মাত্রই মৃত্যুবরণ করবে। জন্ম ও মৃত্যু অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। দু'টির কোনটিরই ক্ষমতা মানুষের হাতে নেই। আল্লাহর হুকুমেই জন্ম হয়। আল্লাহ্ হুকুমেই মৃত্যু হয়। কখন হবে, কোথায় হবে, কিভাবে হবে, তা কারো জানা নেই। জীবনের সুইচ তাঁরই হাতে, যিনি জীবন দান করেছেন। অতঃপর জীবনদাতার সামনে হাযিরা দিয়ে জীবনের পূর্ণ হিসাব পেশ করতে হবে। হিসাব শেষে জান্নাত বা জাহান্নাম নির্ধারিত হবে ও সেখানেই চিরকাল শান্তিতে বসবাস করবে অথবা শাস্তি ভোগ করবে। দুনিয়ার এ চাকচিক্যে আমরা পরকালকে ভুলে যাই। অথচ নির্দিষ্ট আয়ুষ্কাল শেষে আমাদের সেখানে যেতেই হবে। কেউ আমাদের জগত সংসারে ধরে রাখতে পারবে না।
কবি বলেন, أَلَا يَا سَاكِنَ الْقَصْرِ الْمُعَلَّى + سَتُدْفَنُ عَنْ قَرِيبٍ فِي التَّرَابِ قَلِيْلُ عُمْرُنَا فِي دَارِ دُنْيَا + وَمَرْجَعُنَا إِلَى بَيْتِ التَّرَابِ
(১) 'শোন হে সুউচ্চ প্রাসাদের অধিবাসী! + সত্বর তুমি দাফন হবে মাটিতে'। (২) 'ইহকালে আমরা আমাদের জীবনের অল্প সময়ই কাটিয়ে থাকি + আর আমাদের প্রত্যাবর্তন স্থল হ'ল মাটির ঘরে (কবরে)'।
📄 মৃত্যুকাল পূর্ব নির্ধারিত
মৃত্যুকাল পূর্ব নির্ধারিত: وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَنْ تَمُوْتَ إِلَّا بِإِذْنِ اللهِ كِتَابًا مُؤَجَّلاً (১) আল্লাহ বলেন, 'আল্লাহ্ হুকুম ছাড়া কেউ মরতে পারে না। সেজন্য একটা নির্ধারিত সময়কাল রয়েছে...' (আলে ইমরান ৩/১৪৫)। (২) তিনি বলেন, إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا، وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضِ تَمُوْتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيْمٌ خَبِيرٌ - আল্লাহর নিকটেই রয়েছে ক্বিয়ামতের জ্ঞান। আর তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনিই জানেন মায়ের গর্ভাশয়ে কি আছে। কেউ জানে না আগামীকাল সে কি উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন মাটিতে তার মৃত্যু হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও সকল বিষয়ে সম্যক অবহিত' (লোকমান ৩১/৩৪)। (৩) তিনি আরও বলেন, - فَإِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ لاَ يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً وَلاَ يَسْتَقْدِمُونَ
'...অতঃপর যখন তাদের সময়কাল এসে যাবে, তখন তারা সেখান থেকে এক মুহূর্ত পিছাতেও পারবেনা, আগাতেও পারবে না' (নাহল ১৬/৬১)।
(৪) স্বীয় কওমের প্রতি নূহ (আঃ)-এর দাওয়াতের বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ বলেন, قَالَ يَا قَوْمِ إِنِّي لَكُمْ نَذِيرٌ مُّبِينٌ - أَنِ اعْبُدُوا اللهَ وَاتَّقُوهُ وَأَطِيعُونِ يَغْفِرْ * لَكُمْ مِنْ ذُنُوبِكُمْ وَيُؤَخِّرْكُمْ إِلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى إِنَّ أَجَلَ اللَّهِ إِذَا جَاءَ لَا يُؤَخِّرُ لَوْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ 'সে বলল, হে আমার কওম! আমি তোমাদের জন্য স্পষ্ট সতর্ককারী' (২)। 'তোমরা আল্লাহ্ ইবাদত কর ও তাঁকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর' (৩)। 'তাহ'লে তিনি তোমাদের পাপ সমূহ ক্ষমা করবেন ও নির্ধারিত সময়কাল পর্যন্ত অবকাশ দিবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহর নির্ধারিত সময়কাল যখন এসে যাবে, তখন আর অবকাশ দেওয়া হবে না, যদি তোমরা তা জানতে' (নূহ ৭১/২-৪)। অর্থাৎ তোমাদেরকে গযবে ধ্বংস না করে তোমাদের স্বাভাবিক মৃত্যুকাল অবধি দুনিয়ায় বেঁচে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে।
এতে প্রমাণিত হয় যে, স্বাভাবিক মৃত্যুকালের আগেও আল্লাহ মানুষকে মারতে পারেন যুদ্ধ-বিগ্রহ, মহামারি ইত্যাদি নানা কারণে এবং সেটাও তার তাক্বদীরে পূর্বেই লিপিবদ্ধ থাকে। এ কারণেই হাদীছে এসেছে, صَدَقَةُ السِّر تُطْفِئُ غَضَبَ الرَّبِّ وَصِلَةُ الرَّحِمِ تَزِيدُ فِي الْعُمُرِ وَفِعْلُ الْمَعْرُوفِ يَقِي مَصَارِعَ السُّوْءِ 'গোপনে ছাদাক্বা আল্লাহ্ ক্রোধকে নিভিয়ে দেয়। আত্মীয়তার সুসম্পর্ক মানুষের আয়ু বৃদ্ধি করে। সৎকর্ম মানুষকে মন্দ পতন থেকে রক্ষা করে'। ১২ অর্থাৎ স্বাভাবিক মৃত্যুকাল অবধি তার আয়ু প্রলম্বিত হয়' (মর্মার্থ: তাফসীর কুরতুবী, ইবনু কাছীর)।
টিকাঃ
১২. বায়হাক্বী শো'আব হা/৩৪৪২; ছহীহুল জামে' হা/ ৩৭৬০, রাবী আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)।
📄 আখেরাত
আখেরাত (الآخرة) : মৃত্যুকে স্মরণ ২০
প্রত্যেক মানুষ এ বিষয়ে একমত যে, তার মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু মৃত্যুর পরবর্তী জীবন সম্পর্কে মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত। যারা নাস্তিক, তারা মনে করেন মৃত্যুই তাদের শেষ পরিণতি। তারা পরকালে বিশ্বাস করেন না। পক্ষান্তরে অধিকাংশ মানুষ যারা পরকালে বিশ্বাস করেন, তারাও দুই ভাগে বিভক্ত। একদল তাদের বানোয়াট ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী স্বর্গ ও নরক সম্পর্কে নানাবিধ কল্পনা করেন। যেমন হিন্দুরা জন্মান্তরবাদ ও বৌদ্ধরা নির্বাণবাদের ভ্রান্ত বিশ্বাস পোষণ করেন। এ যুগের খৃষ্টানরা ধারণা করেন যে, তাদের সকল পাপের প্রায়শ্চিত্তের জন্য যীশুখ্রীষ্ট ক্রুশবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। অতএব খৃষ্টান হ'লে সে বিনা হিসাবে জান্নাত পাবে। যা মুসলমানদের তাওহীদ, রিসালা ও আখেরাত বিশ্বাসের সম্পূর্ণ বিপরীত।
মূল তাওরাত-ইঞ্জীল বিলুপ্ত হয়ে গেছে। পরবর্তীতে তাদের আক্বীদায় অনুপ্রবেশ ঘটেছে দ্বিত্ববাদ ও ত্রিত্ববাদের (তওবা ৯/৩০-৩১) ও সেই সাথে বৈরাগ্যবাদের। যার নির্দেশ আল্লাহ তাদের দেননি (হাদীদ ৫৭/২৭)। তাছাড়া নিজেদের কিতাবে আল্লাহর নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তারা শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর উপরে ঈমান আনেনি। বরং সর্বাত্মক বিরোধিতায় লিপ্ত হয়েছিল, যা আজও অব্যাহত রয়েছে। ফলে তারা আল্লাহ্ 'অভিশপ্ত' ও 'পথভ্রষ্ট' হিসাবে অভিহিত হয়েছে (তিরমিযী হা/২৯৫৪; সূরা ফাতিহা ৭ আয়াত)।
দেড় হাযার বছর পূর্বে নুযূলে কুরআনের যুগে আরবের নাস্তিকরা বলত, وَقَالُوا مَا هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا يُهْلِكُنَا إِلَّا الدَّهْرُ وَمَا لَهُمْ بِذَلِكَ مِنْ عِلْمٍ إِنْ هُمْ إِلَّا يَظُنُّونَ 'আর তারা বলে, আমাদের এই পার্থিব জীবন ভিন্ন আর কিছু নেই। আমরা এখানেই মরি ও বাঁচি। কালের আবর্তনই আমাদেরকে ধ্বংস করে। অথচ এ ব্যাপারে তাদের কোনই জ্ঞান নেই। তারা স্রেফ ধারণা ভিত্তিক কথা বলে' (জাছিয়াহ ৪৫/২৪)। তাদের বিষয়ে আল্লাহ্ আরও বলেন, وَإِذَا قِيلَ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ لَا رَيْبَ فِيهَا قُلْتُمْ مَا نَدْرِي مَا السَّاعَةُ إِنْ نَظُنُّ إِلَّا ظَنَّا وَمَا نَحْنُ بِمُسْتَيْقِنِينَ
📄 আখেরাত বিশ্বাসই মানবতার রক্ষাকবচ
শুধুমাত্র মানবিক মূল্যবোধ মানুষের মানবতাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে পারেনা, যতক্ষণ না তার মধ্যে জাহান্নামের ভয় ও জান্নাতের আকাংখা সৃষ্টি হয়। অতএব আখেরাতে বিশ্বাস ব্যতীত মানবতা কখনোই টেকসই হ'তে পারে না। আল্লাহ বলেন, إِلَهُكُمْ إِلَهُ وَاحِدٌ فَالَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ قُلُوبُهُمْ مُنْكَرَةٌ وَهُمْ مُسْتَكْبِرُونَ ،'তোমাদের উপাস্য মাত্র একজন। অতঃপর যারা আখেরাতে বিশ্বাস করে না তাদের অন্তর হয় সত্যবিমুখ এবং তারা হয় অহংকারী' (নাহল ১৬/২২)। তিনি বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَى أَنْفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ إِنْ يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًا فَاللَّهُ أَوْلَى بِهِمَا ফَلَا تَتَّبِعُوا الْهَوَى أَنْ تَعْدِلُوا وَإِنْ تَلْوُوا أَوْ تُعْرِضُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا -
'হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক আল্লাহ্ জন্য সাক্ষ্যদাতা হিসাবে, যদিও সেটি তোমাদের নিজেদের কিংবা তোমাদের পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে যায়। (বাদী-বিবাদী) ধনী হৌক বা গরীব হৌক (সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করো না)। কেননা তোমাদের চাইতে আল্লাহ তাদের অধিক শুভাকাংখী। অতএব ন্যায়বিচারে প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বল অথবা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে জেনে রেখ আল্লাহ তোমাদের সকল কর্ম সম্পর্কে অবহিত' (নিসা ৪/১৩৫)। অতএব গ্রীক দেবী থেমিসের মূর্তি সামনে রেখে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকরা কখনোই সর্বোচ্চ ন্যায়বিচার করতে পারবেন না, যতক্ষণ না তারা আখেরাতে জওয়াবদিহিতায় বিশ্বাসী হবেন।
এ সৃষ্টিজগতের সবকিছুই আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন তাঁর সেরা ও প্রিয় সৃষ্টি মানুষের জন্য (লোকমান ৩১/২০)। অথচ গড়ে মাত্র একশ' বছরের মধ্যেই মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। যার মধ্যে যালেম যুলুম করেও প্রশংসা পাচ্ছে। অন্যদিকে মযলুম অত্যাচারিত হয়েও বদনামগ্রস্ত হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিচ্ছে। তাহ'লে যালেমের যুলুমের শাস্তি এবং মযলূমের যথাযথ পুরস্কার পাবার পথ কি? সেটারই জওয়াব হ'ল আখেরাত বা পরকাল। মৃত্যুর পরেই যার সূচনা হয় এবং শেষ বিচারের দিন যা চূড়ান্ত হয়। অতঃপর যালেম জাহান্নামী হয়ে তার যথাযোগ্য শাস্তি পাবে এবং মযলূম ঈমানদার জান্নাতী হয়ে তার যোগ্য প্রতিদান পেয়ে ধন্য হবে।
আল্লাহ্ হুকুমে যে রূহ মায়ের গর্ভে প্রেরিত হয়। তাঁরই হুকুমে সে রূহ দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আল্লাহ্র কাছে ফিরে যায় এবং ক্বিয়ামতের দিন তা পুনরায় স্ব স্ব দেহে যুক্ত হয়ে আল্লাহ্র সম্মুখে বিচারের জন্য নীত হয়। অতঃপর সে হয় জান্নাতী হবে, নয় জাহান্নামী হবে। কখনোই পাপের কারণে শূকর-বিড়াল বা শৃগাল-কুকুরে তার জন্মান্তর হবে না। যেটা হিন্দুরা বলে থাকেন। কেননা সে আল্লাহ্ সেরা সৃষ্টি (ইসরা ১৭/৭০)। সে কখনোই অন্য সৃষ্টিতে পরিণত হবে না। আবার পুণ্যের কারণে সে কখনোই আল্লাহ্ সত্তায় লীন হয়ে যাবে না। যেটা কথিত মারেফতী ছুফীরা বলে থাকেন। কেননা সৃষ্টি ও সৃষ্টিকর্তা কখনোই এক নয়। সবচেয়ে বড় কথা হ'ল, এইসব মতবাদের পক্ষে আল্লাহ কোন প্রমাণ নাযিল করেননি। এগুলি স্রেফ কল্পনা বিলাস এবং মানুষকে আল্লাহ থেকে ফিরিয়ে নেবার জন্য এক একটি শয়তানী ফাঁদ মাত্র।
টিকাঃ
১৩. যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় (প্রতিষ্ঠা ১৬৩৬ খৃ.)-এর আইন বিভাগের গ্রন্থাগারের প্রবেশমুখে ন্যায়বিচারের উদাহরণ হিসেবে পবিত্র কুরআনের সূরা নিসার ১৩৫ আয়াতটি ইস্পাতের সাইনবোর্ডে খোদাই করে লিপিবদ্ধ রয়েছে (দৈনিক ইনকিলাব ৬ই জানুয়ারী ২০২০ পৃ. ৬)। অথচ পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের সম্মুখে ২০১৬ সালের শেষ দিকে ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসাবে গ্রীক দেবী থেমিসের আদলে গড়া ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। জনগণের ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে সেটি পরে এনেক্স ভবনের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়।
শুধুমাত্র মানবিক মূল্যবোধ মানুষের মানবতাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে পারেনা, যতক্ষণ না তার মধ্যে জাহান্নামের ভয় ও জান্নাতের আকাংখা সৃষ্টি হয়। অতএব আখেরাতে বিশ্বাস ব্যতীত মানবতা কখনোই টেকসই হ'তে পারে না। আল্লাহ বলেন, إِلَهُكُمْ إِلَهُ وَاحِدٌ فَالَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ قُلُوبُهُمْ مُنْكَرَةٌ وَهُمْ مُسْتَكْبِرُونَ ،'তোমাদের উপাস্য মাত্র একজন। অতঃপর যারা আখেরাতে বিশ্বাস করে না তাদের অন্তর হয় সত্যবিমুখ এবং তারা হয় অহংকারী' (নাহল ১৬/২২)। তিনি বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَى أَنْفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ إِنْ يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًا فَاللَّهُ أَوْلَى بِهِمَا ফَلَا تَتَّبِعُوا الْهَوَى أَنْ تَعْدِلُوا وَإِنْ تَلْوُوا أَوْ تُعْرِضُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا -
'হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক আল্লাহ্ জন্য সাক্ষ্যদাতা হিসাবে, যদিও সেটি তোমাদের নিজেদের কিংবা তোমাদের পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে যায়। (বাদী-বিবাদী) ধনী হৌক বা গরীব হৌক (সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করো না)। কেননা তোমাদের চাইতে আল্লাহ তাদের অধিক শুভাকাংখী। অতএব ন্যায়বিচারে প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বল অথবা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে জেনে রেখ আল্লাহ তোমাদের সকল কর্ম সম্পর্কে অবহিত' (নিসা ৪/১৩৫)। অতএব গ্রীক দেবী থেমিসের মূর্তি সামনে রেখে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকরা কখনোই সর্বোচ্চ ন্যায়বিচার করতে পারবেন না, যতক্ষণ না তারা আখেরাতে জওয়াবদিহিতায় বিশ্বাসী হবেন।
এ সৃষ্টিজগতের সবকিছুই আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন তাঁর সেরা ও প্রিয় সৃষ্টি মানুষের জন্য (লোকমান ৩১/২০)। অথচ গড়ে মাত্র একশ' বছরের মধ্যেই মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। যার মধ্যে যালেম যুলুম করেও প্রশংসা পাচ্ছে। অন্যদিকে মযলুম অত্যাচারিত হয়েও বদনামগ্রস্ত হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিচ্ছে। তাহ'লে যালেমের যুলুমের শাস্তি এবং মযলূমের যথাযথ পুরস্কার পাবার পথ কি? সেটারই জওয়াব হ'ল আখেরাত বা পরকাল। মৃত্যুর পরেই যার সূচনা হয় এবং শেষ বিচারের দিন যা চূড়ান্ত হয়। অতঃপর যালেম জাহান্নামী হয়ে তার যথাযোগ্য শাস্তি পাবে এবং মযলূম ঈমানদার জান্নাতী হয়ে তার যোগ্য প্রতিদান পেয়ে ধন্য হবে।
আল্লাহ্ হুকুমে যে রূহ মায়ের গর্ভে প্রেরিত হয়। তাঁরই হুকুমে সে রূহ দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আল্লাহ্র কাছে ফিরে যায় এবং ক্বিয়ামতের দিন তা পুনরায় স্ব স্ব দেহে যুক্ত হয়ে আল্লাহ্র সম্মুখে বিচারের জন্য নীত হয়। অতঃপর সে হয় জান্নাতী হবে, নয় জাহান্নামী হবে। কখনোই পাপের কারণে শূকর-বিড়াল বা শৃগাল-কুকুরে তার জন্মান্তর হবে না। যেটা হিন্দুরা বলে থাকেন। কেননা সে আল্লাহ্ সেরা সৃষ্টি (ইসরা ১৭/৭০)। সে কখনোই অন্য সৃষ্টিতে পরিণত হবে না। আবার পুণ্যের কারণে সে কখনোই আল্লাহ্ সত্তায় লীন হয়ে যাবে না। যেটা কথিত মারেফতী ছুফীরা বলে থাকেন। কেননা সৃষ্টি ও সৃষ্টিকর্তা কখনোই এক নয়। সবচেয়ে বড় কথা হ'ল, এইসব মতবাদের পক্ষে আল্লাহ কোন প্রমাণ নাযিল করেননি। এগুলি স্রেফ কল্পনা বিলাস এবং মানুষকে আল্লাহ থেকে ফিরিয়ে নেবার জন্য এক একটি শয়তানী ফাঁদ মাত্র।
টিকাঃ
১৩. যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় (প্রতিষ্ঠা ১৬৩৬ খৃ.)-এর আইন বিভাগের গ্রন্থাগারের প্রবেশমুখে ন্যায়বিচারের উদাহরণ হিসেবে পবিত্র কুরআনের সূরা নিসার ১৩৫ আয়াতটি ইস্পাতের সাইনবোর্ডে খোদাই করে লিপিবদ্ধ রয়েছে (দৈনিক ইনকিলাব ৬ই জানুয়ারী ২০২০ পৃ. ৬)। অথচ পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের সম্মুখে ২০১৬ সালের শেষ দিকে ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসাবে গ্রীক দেবী থেমিসের আদলে গড়া ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। জনগণের ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে সেটি পরে এনেক্স ভবনের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়।