📘 মৃত্যুকে স্বরন > 📄 হায়াত ও মউত সৃষ্টির উদ্দেশ্য

📄 হায়াত ও মউত সৃষ্টির উদ্দেশ্য


الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلاً، وَهُوَ الْعَزِيزُ الْغَفُورُ 'যিনি মৃত্যু ও জীবনকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য, কে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক সুন্দর আমল করে? আর তিনি মহাপরাক্রান্ত ও ক্ষমাশীল' (মুল্ক ৬৭/২)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, إِذَا أَحْسَنَ أَحَدُكُمْ إِسْلَامَهُ، فَكُلُّ حَسَنَةٍ يَعْمَلُهَا تُكْتَبُ لَهُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفِ، وَكُلُّ سَيِّئَةٍ يَعْمَلُهَا تُكْتَبُ بِمِثْلِهَا حَتَّى لَقِيَ اللَّهَ - কেউ তার ইসলামকে সুন্দরভাবে পালন করে, তখন তার প্রতিটি সৎকর্ম যা সে করে, তার দশগুণ হ'তে সাতশত গুণ পর্যন্ত ছওয়াব লেখা হয়। আর তার প্রতিটি অসৎকর্ম যা সে করে, তার অনুরূপই (অর্থাৎ একগুণ) লেখা হয়, যে পর্যন্ত না সে আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাৎ করে'।⁴
বস্তুতঃ আল্লাহ্র দাসত্বের মাধ্যমেই কেবল সুন্দরতম আমল করা সম্ভব। কারণ মানুষ তার ভবিষ্যৎ মঙ্গলামঙ্গলের খবর রাখে না। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের মধ্যেই রয়েছে বান্দার চিরন্তন কল্যাণ। পক্ষান্তরে তাঁর অবাধ্যতার মধ্যে রয়েছে বান্দার স্থায়ী অকল্যাণ। যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : كُلُّ أُمَّتِي يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَنْ أَبَى . قَالُوا : وَمَنْ يَأْبَى يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ : مَنْ أَطَاعَنِي دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ أَبَى، رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ ‘আমার সকল উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে, কেবল ঐ ব্যক্তি ব্যতীত, যে অস্বীকার করে। ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, জান্নাতে যেতে কে অস্বীকার করে হে আল্লাহ্র রাসূল? তিনি বললেন, 'যে আমার আনুগত্য করল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে আমার অবাধ্যতা করল, সে ব্যক্তি অস্বীকার করল'।⁵

টিকাঃ
৪. বুখারী হা/৪২; মুসলিম হা/১২৯; মিশকাত হা/৪৪, রাবী আবু হুরায়রা (রাঃ)।
৫. বুখারী হা/৭২৮০; মিশকাত, আলবানী হা/১৪৩; রাবী হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ)।

📘 মৃত্যুকে স্বরন > 📄 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্যঃ আল্লাহর দাসত্বের সুফল

📄 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্যঃ আল্লাহর দাসত্বের সুফল


মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য: আল্লাহ্র দাসত্বের জন্যই তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। যেমন তিনি বলেন, وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ- 'আমি জিন ও ইনসান সৃষ্টি করেছি কেবল এজন্য যে, তারা আমার ইবাদত করবে' (যারিয়াত ৫১/৫৬)।
আল্লাহ্র দাসত্বের সুফল: আল্লাহ্র দাসত্বের অধীনে সকল মানুষ সমানাধিকার ভোগ করে। তাঁর দাসত্ব করলে ও তাঁর বিধান মেনে চললে পৃথিবী শান্তি ও সুখে ভরে যাবে। মানুষ সর্বদা সচ্ছলতার মধ্যে বসবাস করবে। যেমন আল্লাহ বলেন, وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَلَكِنْ كَذَّبُوا فَأَخَذْنَاهُمْ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ ‘যদি জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত ও আল্লাহভীরু হ'ত, তাহ'লে আমরা তাদের উপর আকাশ ও পৃথিবীর বরকতের দুয়ারসমূহ খুলে দিতাম। কিন্তু তারা মিথ্যারোপ করল। অতঃপর তাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ আমরা তাদেরকে পাকড়াও করলাম' (আ'রাফ ৭/৯৬)।

📘 মৃত্যুকে স্বরন > 📄 আল্লাহর দাসত্ব না করার পরিণতি

📄 আল্লাহর দাসত্ব না করার পরিণতি


আল্লাহ্র দাসত্ব ছাড়লে মানুষ শয়তানের দাসত্ব করবে। যেমন ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন, أَلَمْ أَعْهَدْ إِلَيْكُمْ يَا بَنِي آدَمَ أَنْ لَا تَعْبُدُوا الشَّيْطَانَ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ - 'হে আদম সন্তান! আমি কি (নবীদের মাধ্যমে) তোমাদের নিকট উপদেশ পাঠাইনি যে, তোমরা শয়তানের দাসত্ব করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের জন্য প্রকাশ্য দুশমন' (ইয়াসীন ৩৬/৬০)। আর শয়তান কখনো প্রকাশ্যভাবে নিজের রূপে আসে না। বরং সে মানুষের অন্তরে আল্লাহ্র বিধান সম্পর্কে খটকা ও অবিশ্বাস সৃষ্টির মাধ্যমে আসে। যেমন আল্লাহ বলেন,
أَرَأَيْتَ مَن اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ أَفَأَنْتَ تَكُونُ عَلَيْهِ وَكِيلاً - ‘তুমি কি তাকে দেখেছ, যে তার প্রবৃত্তিকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছে? তুমি কি তার যিম্মাদার হবে? (ফুরক্বান ২৫/৪৩)। সে কখনো মানুষের রূপ ধরে আসে।
وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا شَيَاطِينَ الْإِنْسِ وَالْجِنِّ يوحى بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُورًا، وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ مَا فَعَلُوهُ فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُونَ এভাবে আমরা প্রত্যেক নবীর জন্য মানুষ ও জিনের মধ্য থেকে বহু শয়তানকে শত্রুরূপে নিযুক্ত করেছি। তারা প্রতারণার উদ্দেশ্যে একে অপরকে চাকচিক্যপূর্ণ কথা দ্বারা প্ররোচনা দেয়। যদি তোমার প্রভু চাইতেন, তাহ'লে তারা এটা করতে পারতো না। অতএব তুমি ওদেরকে ও ওদের মিথ্যা অপবাদ সমূহকে ছেড়ে চল' (আন'আম ৬/১১২)। সেকারণ সূরা নাস-এর শেষে বলা হয়েছে,- مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ জিন ও ইনসানের খটকার অনিষ্টকারিতা হ'তে' হে আল্লাহ আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি' (নাস ১১৪/৬)।

📘 মৃত্যুকে স্বরন > 📄 ধ্বংসের নায়কদের চরিত্র

📄 ধ্বংসের নায়কদের চরিত্র


পৃথিবীতে যারা ধ্বংসের নায়ক তাদের অধিকাংশ আল্লাহকে 'রব' হিসাবে স্বীকার করে। কিন্তু তারা তার বিধান মানে না। আল্লাহ যখন ইবলীসকে লা'নত করে জান্নাত থেকে চিরদিনের মত বহিষ্কার করলেন, তখন সে আল্লাহকে 'রব' হিসাবেই সম্বোধন করে প্রার্থনা করেছিল قَالَ رَبِّ فَأَنظِرْنِي إِلَى يَوْمٍ يُبْعَثُونَ - ‘সে বলল, হে আমার প্রভু! আমাকে আপনি কিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ দিন’ (হিজর ১৫/৩৬; ছোয়াদ ৩৮/৭৯)। আল্লাহ তার প্রার্থনা মঞ্জুর করলেন। অতঃপর সে বলল, رَبِّ بِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأُزَيِّنَنَّ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ وَلَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ - إلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِينَ - ‘হে আমার প্রতিপালক! আপনি যেমন আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, আমিও তেমনি তাদের সবাইকে পৃথিবীতে নানারূপ সৌন্দর্যে প্রলুব্ধ করব এবং তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে দেব’। 'তবে তাদের মধ্যে যারা আপনার একনিষ্ঠ বান্দা, তাদের ব্যতীত' (হিজর ১৫/৩৯-৪০; ছোয়াদ ৩৮/৮২-৮৩)।
إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَانٌ إِلَّا مَنِ اتَّبَعَكَ من الْغَاوِينَ ‘নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা নেই। তবে বিপথগামীদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে তারা ব্যতীত’ (হিজর ১৫/৪২)।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِى مِنَ الإِنْسَانِ مَجْرَى الدَّمِ ‘নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের মধ্যে তার রক্ত প্রবাহের ন্যায় বিচরণ করে থাকে’।⁶ আলেম, জাহিল, আবেদ, ধর্মনেতা, সমাজনেতা সকলকে শয়তান একইভাবে ধোঁকা দেয়। রাসূল (ছাঃ) এরশাদ করেন, مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا وَقَدْ وُكِّلَ بِهِ قَرِينُهُ مِنَ الْجِنِّ وَقَرِينُهُ مِنَ الْمَلَائِكَةِ، قَالُوا : وَإِيَّاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ : وَإِيَّايَ، وَلَكِنَّ اللَّهَ أَعَانَنِي عَلَيْهِ فَأَسْلَمَ، فَلَا يَأْمُرُنِي إِلَّا بِخَيْرٍ - ‘তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার সঙ্গে তার একজন জিন সহচর ও একজন ফেরেশতা সহচর নিযুক্ত করা হয়নি’। ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনার সাথেও কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ আমার সাথেও। তবে আল্লাহ তার ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করেছেন। ফলে সে আমার অনুগত হয়ে গেছে। সে আমাকে ভাল ব্যতীত (মন্দ কাজের) আদেশ দেয় না’।⁷ অতএব মানুষ ও জিন দুশমন থেকে সাবধান!

টিকাঃ
৬. বুখারী হা/২০৩৫; মুসলিম হা/২১৭৪; মিশকাত হা/৬৮; রাবী হযরত ছাফিইয়াহ ও আনাস (রাঃ)।
৭. মুসলিম হা/২৮১৪; মিশকাত হা/৬৭; রাবী আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00