📄 রূহ কি?
রূহ বা আত্মা কেমন বস্তু এর উত্তর মানুষের কাছে নেই। তাই মুশরিকদের প্রশ্নের উত্তরে আল্লাহ বলেন, وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الرُّوحِ، قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلًاً আর ওরা তোমাকে প্রশ্ন করছে 'রূহ' সম্পর্কে। তুমি বলে দাও, রূহ আমার প্রতিপালকের একটি আদেশ মাত্র। আর এ বিষয়ে তোমাদের অতি সামান্যই জ্ঞান দেওয়া হয়েছে' (বনু ইস্রাঈল ১৭/৮৫)।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, একবার কুরায়েশ নেতারা ইহুদী পণ্ডিতদের বলল, তোমরা আমাদের এমন কিছু শিখিয়ে দাও, যেটা আমরা এই ব্যক্তিকে প্রশ্ন করব (এবং সে জবাব দিতে পারবে না)। তখন তারা বলল, তোমরা তাকে 'রূহ' সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর। সেমতে তারা জিজ্ঞেস করল। তখন অত্র আয়াত নাযিল হয়' (আহমাদ হা/২৩০৯ সনদ ছহীহ)।
'অতি সামান্যই জ্ঞান' বলতে আল্লাহ্ মহাসৃষ্টির তুলনায় তোমাদের রূহ সম্পর্কিত জ্ঞান যৎসামান্যই। আর তা হ'ল মানুষের চেতনা ও অনুভূতি শক্তি। এটি রূহের বাহ্যিক স্বরূপ মাত্র। যা দেখে বুঝা যায় যে, মানুষটি বেঁচে আছে। প্রকৃত রূহের আকার ও অস্তিত্ব সম্পর্কে মানুষ কিছুই জানেনা। এটি জানার ক্ষমতা বা অধিকার কোনটাই মানুষকে আল্লাহ দেননি। এটি অদৃশ্য বিষয়। আর অদৃশ্যের চাবিকাঠি কেবল আল্লাহ্রই হাতে। যেমন وَعِنْدَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ আর তাঁর নিকটেই রয়েছে অদৃশ্য জ্ঞানের চাবিকাঠি সমূহ। যা তিনি ব্যতীত কেউ জানেনা' (আন'আম ৬/৫৯)। তিনি যখন কিছু করতে চান, তখনই তাঁর নির্দেশমতে তা হয়ে যায় এবং তা দৃশ্যমান কিংবা অনুভূতির জগতে চলে আসে।
মানুষ আজও তার দেহে বাস করা নিজ আত্মার সন্ধান পায়নি। তাকে দেখতে পায়নি, ছুঁতে পারেনি বা ধরতে পারেনি। অথচ এই অদৃশ্য বস্তুটিকে বিশ্বাস না করে উপায় নেই। মানুষ নিজের আত্মাকে না দেখে বিশ্বাস করে। অথচ সে নিজের ও নিজের আত্মার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে বিশ্বাস করে না। জন্মের আগে মানুষের কোন অস্তিত্বই ছিল না (দাহর ৭৬/১)। তিনিই সৃষ্টিকর্তা, রূযীদাতা, জীবন ও মৃত্যুদাতা, রোগ ও আরোগ্যদাতা, তিনিই আমাদের জীবনের পরিচালক ও কর্মবিধায়ক। এ বিশ্বাসটুকু আনার মত স্বল্প জ্ঞানও অনেকের মধ্যে নেই। সে তার আত্মার খবর কি করে জানবে? কিভাবে জানবে তার জীবন ও মৃত্যুর রহস্য? কিভাবে জানবে তার পুনরুত্থানের খবর? অথচ তার প্রতিদিনের ঘুমে ও জাগরণে সর্বদা মৃত্যু ও পুনরুত্থানের খেলা চলছে। তার নিদ্রা যদি চিরনিদ্রায় পরিণত হয়, সেটাকে ফিরিয়ে আনার ক্ষমতা তার নেই (যুমার ৩৯/৪২; ওয়াক্বিয়া‘আহ ৫৬/৮৩-৮৭)। সে কি জানে যে, তার দেহের লোহিত রক্ত কণিকা (Red corpuscle) প্রতি চার মাসে এবং শ্বেত কণিকা (White corpuscle) প্রতি সপ্তাহে মারা যাচ্ছে ও তার পুনর্জন্ম হচ্ছে?
যে বিজ্ঞান নিয়ে আমরা অহংকার করি, সেই বিজ্ঞানের সত্যকে কোন বিজ্ঞানীই অভ্রান্ত বলেননি। বরং তার সবকিছুই অনুমিতি ও ধারণা নির্ভর। ধোঁয়া দেখে যেমন আগুনের ধারণা করা হয়, গ্যাসের বুদ্বুদ দেখে তেমনি তারা গ্যাস কূপ খনন করেন। অতঃপর ভূগর্ভের বহু নীচে গিয়ে কখনও গ্যাস পান, কখনও না পেয়ে নিরাশ হয়ে ফিরে আসেন। সেকারণ বিজ্ঞানীদের সকলেই বলেছেন, Science gives us but a partial knowledge of reality ‘বিজ্ঞান আমাদেরকে কেবল আংশিক সত্যের সন্ধান দেয়’। তারা বলেন, ‘আমরা কতিপয় বাহ্য প্রকাশকে দেখি মাত্র, মূল বস্তুকে দেখি না’। নিঃসন্দেহে সেই মূল সত্তাই হলেন ‘আল্লাহ’। যিনি অদৃশ্যে থেকে সকল সৃষ্টিকে পরিচালনা করেন- إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল বস্তুর উপরে ক্ষমতাশালী’ (বাক্বারাহ ২/২০; হুদ ১১/৪ প্রভৃতি)।
আল্লাহ, মৃত্যু ও পরকালকে অস্বীকারকারী এযুগের অদ্বিতীয় মহাকাশ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং (১৯৪২-২০১৮ খৃ.)-এর ধারণা মতে ‘মানুষের মৃত্যু হ’ল তার মস্তিষ্কের মৃত্যু’। যা একটি কম্পিউটারের মত। যখনই এর উপকরণ সমূহ কাজ করতে ব্যর্থ হয়, তখনই এটি থেমে যায়। কম্পিউটার ভেঙ্গে গেলে যেমন তার স্বর্গ বা পরকাল বলে কিছুই থাকেনা, মানুষের অবস্থাও অনুরূপ। অতএব পরকালের ঘটনাবলী একটি ‘রূপকথার গল্প’ (Fairy story) মাত্র। তিনি ২০১১ সালে বলেছিলেন, আমরা চিন্তার ক্ষেত্রে স্বাধীন। কোন স্রষ্টা নেই। কেউ মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেনি। কেউ আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে না। সম্ভবতঃ নেই কোন জান্নাত, নেই কোন পরকাল। তাই আমাদের মহাবিশ্বের মহান নকশার কদর করতে হবে। আমি এই জীবন পেয়ে কৃতজ্ঞ' (আত-তাহরীক জুন'১৮, ২১/৯ সংখ্যা)।³ হকিং কিন্তু বলেননি, তিনি তার জীবন কিভাবে পেলেন। তার মস্তিষ্কের কম্পিউটার কে সৃষ্টি করল ও কে থামিয়ে দিল বা ভেঙ্গে দিল। তার দেহটি ১৯৬২ সাল থেকে কেন নিশ্চল হয়ে পড়ে রইল? সেসময় ২০ বছর বয়সের তরুণ হকিং-কে তার চিকিৎসকদের বেঁধে দেওয়া দু’বছরের জীবন পেরিয়ে পরবর্তী ৫৬ বছর বাঁচিয়ে রাখল কে? গত ১৪ই মার্চ'১৮ বুধবার মৃত্যুবরণকারী 'এযুগের 'আইনস্টাইন" খ্যাত স্টিফেন হকিং জীবিত থাকতে এসবের কোন উত্তর দিয়ে যাননি। তার ভক্তরাও দিতে পারেননি। পারবেনও না কোনদিন।
দেড় হাযার বছর পূর্বে এর উত্তর পাঠিয়েছেন দৃশ্যমান ও অদৃশ্য জগতের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ। তিনি বলেছেন, بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَإِذَا قَضَى أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ 'তিনি নোভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলকে অনস্তিত্ব হ'তে অস্তিত্বে আনয়নকারী। যখন তিনি কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাকে বলেন, হও! অতঃপর তা হয়ে যায়' (বাক্বারাহ ২/১১৭)। এখন অবিশ্বাসীরা হাযার চেষ্টা করলেও হারানো রূহকে আর ফিরিয়ে আনতে পারবেন না।
فَلَوْلا إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ - وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ - وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَكِنْ لا تُبْصِرُونَ - فَلَوْلا إِنْ كُنْتُمْ غَيْرَ مَدِينِينَ تَرْجِعُونَهَا إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ 'বেশ তাহ'লে কেন তোমরা ফিরাতে পারো না যখন তোমাদের প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়?' (৮৩) 'আর তখন তোমরা কেবল তাকিয়ে তাকিয়ে দেখ' (৮৪)। 'অথচ আমরা তোমাদের চাইতে তার অধিক নিকটবর্তী থাকি। কিন্তু তোমরা তা দেখতে পাওনা' (৮৫)। 'বেশ যদি তোমরা এগুলি মান্যকারী না হও' (৮৬)। 'তাহ'লে তোমরা রূহটিকে ফিরিয়ে নাও যদি তোমরা (তোমাদের দাবীতে) সত্যবাদী হও' (ওয়াক্বি 'আহ ৫৬/৮৩-৮৭)।
টিকাঃ
৩. আলবার্ট আইনস্টাইন (১৮৭৯-১৯৫৫ খৃ.) স্পষ্টভাবেই বলে গিয়েছেন, Religion without science is blind and Science without religion is lame, 'বিজ্ঞান ব্যতীত ধর্ম অন্ধ এবং ধর্ম ব্যতীত বিজ্ঞান পঙ্গু' (Albert Einstein, Religion and Science, New York Times Magazine, November 9, 1930, pp 1-4.)। এ বিষয়ে আরও পাঠ করুন! 'হকিং-এর পরকাল তত্ত্ব' (আত-তাহরীক, ১৪/৯ সংখ্যা, জুন ২০১১; দিগদর্শন ২/১৬-১৯ পৃ.)।
📄 হায়াত ও মউত সৃষ্টির উদ্দেশ্য
الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلاً، وَهُوَ الْعَزِيزُ الْغَفُورُ 'যিনি মৃত্যু ও জীবনকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য, কে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক সুন্দর আমল করে? আর তিনি মহাপরাক্রান্ত ও ক্ষমাশীল' (মুল্ক ৬৭/২)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, إِذَا أَحْسَنَ أَحَدُكُمْ إِسْلَامَهُ، فَكُلُّ حَسَنَةٍ يَعْمَلُهَا تُكْتَبُ لَهُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفِ، وَكُلُّ سَيِّئَةٍ يَعْمَلُهَا تُكْتَبُ بِمِثْلِهَا حَتَّى لَقِيَ اللَّهَ - কেউ তার ইসলামকে সুন্দরভাবে পালন করে, তখন তার প্রতিটি সৎকর্ম যা সে করে, তার দশগুণ হ'তে সাতশত গুণ পর্যন্ত ছওয়াব লেখা হয়। আর তার প্রতিটি অসৎকর্ম যা সে করে, তার অনুরূপই (অর্থাৎ একগুণ) লেখা হয়, যে পর্যন্ত না সে আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাৎ করে'।⁴
বস্তুতঃ আল্লাহ্র দাসত্বের মাধ্যমেই কেবল সুন্দরতম আমল করা সম্ভব। কারণ মানুষ তার ভবিষ্যৎ মঙ্গলামঙ্গলের খবর রাখে না। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের মধ্যেই রয়েছে বান্দার চিরন্তন কল্যাণ। পক্ষান্তরে তাঁর অবাধ্যতার মধ্যে রয়েছে বান্দার স্থায়ী অকল্যাণ। যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : كُلُّ أُمَّتِي يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَنْ أَبَى . قَالُوا : وَمَنْ يَأْبَى يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ : مَنْ أَطَاعَنِي دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ أَبَى، رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ ‘আমার সকল উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে, কেবল ঐ ব্যক্তি ব্যতীত, যে অস্বীকার করে। ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, জান্নাতে যেতে কে অস্বীকার করে হে আল্লাহ্র রাসূল? তিনি বললেন, 'যে আমার আনুগত্য করল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে আমার অবাধ্যতা করল, সে ব্যক্তি অস্বীকার করল'।⁵
টিকাঃ
৪. বুখারী হা/৪২; মুসলিম হা/১২৯; মিশকাত হা/৪৪, রাবী আবু হুরায়রা (রাঃ)।
৫. বুখারী হা/৭২৮০; মিশকাত, আলবানী হা/১৪৩; রাবী হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ)।
📄 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্যঃ আল্লাহর দাসত্বের সুফল
মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য: আল্লাহ্র দাসত্বের জন্যই তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। যেমন তিনি বলেন, وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ- 'আমি জিন ও ইনসান সৃষ্টি করেছি কেবল এজন্য যে, তারা আমার ইবাদত করবে' (যারিয়াত ৫১/৫৬)।
আল্লাহ্র দাসত্বের সুফল: আল্লাহ্র দাসত্বের অধীনে সকল মানুষ সমানাধিকার ভোগ করে। তাঁর দাসত্ব করলে ও তাঁর বিধান মেনে চললে পৃথিবী শান্তি ও সুখে ভরে যাবে। মানুষ সর্বদা সচ্ছলতার মধ্যে বসবাস করবে। যেমন আল্লাহ বলেন, وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَلَكِنْ كَذَّبُوا فَأَخَذْنَاهُمْ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ ‘যদি জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত ও আল্লাহভীরু হ'ত, তাহ'লে আমরা তাদের উপর আকাশ ও পৃথিবীর বরকতের দুয়ারসমূহ খুলে দিতাম। কিন্তু তারা মিথ্যারোপ করল। অতঃপর তাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ আমরা তাদেরকে পাকড়াও করলাম' (আ'রাফ ৭/৯৬)।
📄 আল্লাহর দাসত্ব না করার পরিণতি
আল্লাহ্র দাসত্ব ছাড়লে মানুষ শয়তানের দাসত্ব করবে। যেমন ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন, أَلَمْ أَعْهَدْ إِلَيْكُمْ يَا بَنِي آدَمَ أَنْ لَا تَعْبُدُوا الشَّيْطَانَ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ - 'হে আদম সন্তান! আমি কি (নবীদের মাধ্যমে) তোমাদের নিকট উপদেশ পাঠাইনি যে, তোমরা শয়তানের দাসত্ব করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের জন্য প্রকাশ্য দুশমন' (ইয়াসীন ৩৬/৬০)। আর শয়তান কখনো প্রকাশ্যভাবে নিজের রূপে আসে না। বরং সে মানুষের অন্তরে আল্লাহ্র বিধান সম্পর্কে খটকা ও অবিশ্বাস সৃষ্টির মাধ্যমে আসে। যেমন আল্লাহ বলেন,
أَرَأَيْتَ مَن اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ أَفَأَنْتَ تَكُونُ عَلَيْهِ وَكِيلاً - ‘তুমি কি তাকে দেখেছ, যে তার প্রবৃত্তিকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছে? তুমি কি তার যিম্মাদার হবে? (ফুরক্বান ২৫/৪৩)। সে কখনো মানুষের রূপ ধরে আসে।
وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا شَيَاطِينَ الْإِنْسِ وَالْجِنِّ يوحى بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُورًا، وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ مَا فَعَلُوهُ فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُونَ এভাবে আমরা প্রত্যেক নবীর জন্য মানুষ ও জিনের মধ্য থেকে বহু শয়তানকে শত্রুরূপে নিযুক্ত করেছি। তারা প্রতারণার উদ্দেশ্যে একে অপরকে চাকচিক্যপূর্ণ কথা দ্বারা প্ররোচনা দেয়। যদি তোমার প্রভু চাইতেন, তাহ'লে তারা এটা করতে পারতো না। অতএব তুমি ওদেরকে ও ওদের মিথ্যা অপবাদ সমূহকে ছেড়ে চল' (আন'আম ৬/১১২)। সেকারণ সূরা নাস-এর শেষে বলা হয়েছে,- مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ জিন ও ইনসানের খটকার অনিষ্টকারিতা হ'তে' হে আল্লাহ আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি' (নাস ১১৪/৬)।