📄 বিরোধীদের প্রতি আহবান
সার কথা হচ্ছে যারা এ ধরনের কাজ করবে, আমরা তাদেরকে বলবোঃ হারামকে হালাল মনেকরেই কাজ করেছে, কারণ তারা তাদের হারাম কর্মের ব্যাপারে দ্বিধাহীন ছিলো, নিশ্চিন্ত ও প্রশান্ত মনে তারা কাজ করেছে। তারা বাহ্যিক দৃষ্টিতে যে কাজ করেছে, সে কাজের ভিত্তিতেই তাদের বিচার করা হবে। তারা হারামকে হালাল মনে করে কাজ করেনি, তাদের এ কথা বিবেচনার যোগ্য নয়। (ইছতেহলাল) বিষয়টি তাদের বাহ্যিক কর্মের মাধ্যমেই প্রমাণিত হবে। তাদের আমল দ্বারা তা সম্পন্ন হয়েছে। (আকওয়ালুল ফিমা বাদদালা আস সারআ)
আইন প্রণয়ন ও বিধান রচনা সংবিধানে উল্লেখিত কুফরী ধারার কতিপয় নমুনা বর্ণনা করার মাধ্যমে এ বিষয়ই আমরা পেশ করতে চেয়েছিলাম। এর দ্বারা বিধান রচনা ও আইন প্রণয়নকারী সংসদ সদস্যদের স্বরূপ সুস্পষ্ট ভাবে উন্মোচিত হয়েছে। তারা আল্লাহ তায়ালার আইন রচনার নিরঙ্কুশ অধিকারে হস্তক্ষেপ করে নিজেদেরকে তাঁর শরীক, সৃষ্টির রব এবং তাগুত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। নিজেদেরকে আইন দাতা হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। এ ক্ষেত্রে তাদের মধ্য থেকে কে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী আর কে সংস্কারক এর মধ্যে কোনো পার্থক্য বা ব্যবধান নেই। কেননা তাদের প্রত্যেকেই আল্লাহর অধিকারে হস্তক্ষেপ করেছে এবং নিধারিত সীমা লংঘন করেছে। তাওহীদবাদী মুসলমানের উচিৎ তাদেরকে অস্বীকার করা এবং তাদের কাছ থেকে মুক্ত থাকা। যে ব্যক্তিই তাদেরকে আইন ও বিধান রচনা করার স্থানে বসাবে, পদবী দান করবে, বাছাই করবে, প্রার্থী বানাবে, সে আল্লাহর রুবুবিয়্যত এবং উলুহিয়্যাতের ক্ষেত্রে মুশরিক বা শিরককারী হিসেবে বিবেচিত হবে, চাই সে সৎ নিয়তেই এ কাজ করুক, অথবা খারাপ নিয়তেই করুক। আমাদের এ বক্তব্যের যারা বিরোধীতা করবে তাদেরকে আমরা চারটি বিষয়ের প্রতি আহবান জানাবো। কিতাবের (কুরআনের) দিকে, সুন্নাহর (হাদীসের) দিকে, ইজমার (মুসলিম উম্মাহর রায়) দিকে এবং এ সব অস্বীকার করলে আহবান জানাবো মুবাহালার (না হকের ওপর আল্লাহর গজব পতিত হওয়ার কামনা করে আল্লাহর কাছে সম্বিলিত দোয়া) দিকে। মুবাহালা ইসলামে বৈধ। ইসলামের অনেক ইমাম মুবাহেলার আশ্রয় নিয়েছেন। মুবাহালা প্রসংগে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: فَمَنْ حَاجَّكَ فِيهِ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَ كَ مِنَ الْعِلْمِ فَقُلْ تَعَالَوْا نَدْعُ أَبْنَاءَنَا وَابْنَاءَكُمْ وَنِسَاءَنَا وَنِسَاءَكُمْ وَأَنْفُسَنَا وَأَنْفُسَكُمْ من ثُمَّ نَبْتَهِلْ فَنَجْعَل لَّعْنَةَ اللَّهِ عَلَى الكَذِبِينَ إِنَّ هَذَا لَهُوَ الْقَصَصَ الْحَقُّ ، وَمَا مِنْ اللَّهِ إِلَّا اللَّهُ ، وَإِنَّ اللَّهَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِالْمُفْسِدِينَ
"অতঃপর তোমার কাছে জ্ঞান আসার পর যদি কেউ বিবাদ করে তাহলে বলে দাওঃ এসো আমরা আমাদের সন্তানদেরকে ডেকে নেই, এবং তোমরাও তোমাদের সন্তানদেরকে এবং আমরা আমাদের স্ত্রীদেরকে এবং তোমরা তোমাদের স্ত্রীদেরকে ডেকে একত্রে জড়ো করি, অতঃপর চলো আমরা সবাই মিলে দোয়া করি, যেনো মিথ্যাবাদীদের ওপর আল্লাহ তায়ালার অভিশাপ বর্ষিত হয়। নিঃসন্দেহে এটাই হচ্ছে সত্য ঘটনা। এক আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। আর আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন মহা পরাক্রমশালী মহাজ্ঞানী। তারপর তারা যদি এ শর্তে মোকাবিলা করতে রাজী না হয়। তবে প্রমাণিত হবে তারাই বিপর্যয় ও আশান্তি সৃষ্টিকারী। আর বিপর্যয় সৃষ্টি কারীদেরকে আল্লাহ্ ভাল ভাবেই জানেন।" (আলে-ইমরান: ৬১-৬৩)
ইমাম মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব (রহঃ) বলেন : এই সদী কৌশলও এর অন্তর্ভূক্ত, যা আসহাবে সাবতের (দারররে সুন্নাহ) কৌশলের আনুরূপ অথবা তার চেয়ে ও জঘন্য। আমার মতের বিরোধীদেরকে আমি চারটি বিষয়ের যে কোনো একটি বিষয়ের দিকে আহবান জানাবো। সেগুলো হচ্ছে : আল্লাহর কিতাব, সুন্নাতে রাসূল (সাঃ) জ্ঞানীদের ইজমা, (সর্বসম্মত আভিমত। যদি তা আস্বীকার করে তাহলে মুবাহেলার প্রতি আহবান জানাবো। যেমনিভাবে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) ফরায়েজের কিছু বিষয়ে মুবাহেলার প্রতি প্রতিপক্ষকে আহবান জানিয়ে ছিলেন। এমনি ভাবে হযরত সুফইয়ান সাওরী এবং ইমাম আওযায়ী রাফউল ইয়াদাইন (দু’নামাজে দু'হাত ওপরে ওঠানো) ক্ষেত্রে এবং জ্ঞানীগনের আরো অনেকে প্রতিপক্ষকে মুবাহেলার দিকে আহবান জানিয়ে ছিলেন। আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন।
وَصَلَّى اللهُ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَسَلَّم -
এ পুস্তিকায় এবং কতিপয় পৃষ্ঠার মধ্যে আমরা উপরোক্ত কথাগুলোই বর্ণনা করতে চেয়েছিলাম। যে ব্যক্তি উপদেশ গ্রহণ করতে চায়, তারজন্য উপদেশের দ্বার উন্মুক্ত। ঐ ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ তায়ালার করুন, যে ভাল কথা বলে এর ফলে সে লাভবান হয়, আর যে ব্যক্তি খারাপ কথা না বলে চুপ থাকে সে নিরাপদে থাকে।
হে আল্লাহ ইসলাম দ্বারা আমাদেরকে দন্ডায়মান অবস্থায় হেফাজত করুন, ইসলাম দ্বারা আমাদের বসা অবস্থায় হেফাজত করুন, ইসলাম দ্বারা আমাদেরকে রুকু অবস্থায় এবং সেজদারত অবস্থায় হেফাজত করুন। (আদ্দুরাবু আস সুন্নিয়া সুন্নাহ কিতাবুল আকায়িদ ৫৫ পৃঃ)
وَاخِرُ دَعْوَانَا إِنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ العُلَمِينَ -