📄 দ্বিতীয় উপমা
সরকার অতিসত্তর অনুষ্ঠানাদি নিষিদ্ধ করণের আইন বাতিল করবে।
সরকারী সূত্র: আল-ওয়াতান, সরকারের এই অভিপ্রায় জানতে পেরেছে, সংসদের বিগত বৈঠকে প্রথম আলোচনায় সংসদ সদস্যদের সম্মতিক্রমে শরীয়ত বিরোধী পোষাক ও বস্ত্রের মেলা অনুষ্ঠানাদি নিষিদ্ধের যে সিদ্ধান্ত হয় এবং এ আইনের বিরোধিতাকারীর জেল ও জরিমানা সংক্রান্ত বিল সরকার শীঘ্রই ফেরত পাঠাবে বা বাতিল করবে। (আল-ওয়াতান ১০/৫/১৯৯৭ ইং সংখ্যায় প্রকাশিত)
আল্লামা শাইখ আবদুল লতিফ বিন আবদুর রহমান বিন হাসান আল শাইখ (রহঃ) বলেন: নিশ্চয়ই আপনারা দেখতে পেরেছেন, যে এ মহান মূল্যের (কুরআনের) মধ্যে কি পরিমাণ ক্ষতি, এর প্রতি কতটুকু অবহেলা, তার হাকীকত (মূল শিক্ষা) থেকে বিমুখ হওয়া, এর প্রতি কি পরিমান দায়িত্ব অবহেলা সংঘটিত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত শিরকের প্রকাশ ঘটেছে। ইসলামের সাথে যার সম্পর্ক রয়েছে, এবং ইসলাম পন্থী বলে যারা দাবী করে তাদের মধ্যে শিরকের সকল উপায় উপকরণ পাওয়া যাচ্ছে। এর কতগুলো কারণ বিদ্যমান রয়েছে। যেমন:
আল্লাহ তায়ালার নিদের্শাবলীর হাকীকত বা মূলকথা এবং তাওহীদ ও ইসলামের মূলনীতির ব্যাপারে বান্দার প্রতি তাঁর সন্তুষ্টি সম্পর্কে অজ্ঞতা। আর কোন্ জিনিস ইসলাম ও তাওহীদের বিপরীত বা পরিপন্থী, সে সম্পর্কে অথবা কোন্ জিনিস এর পরিপূর্ণতা ও পূর্ণাঙ্গতার বিপরীত। যেমন: জীবনের বিভিন্ন শাখা ও পর্যায়ে আল্লাহর দুশমনদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন সম্পর্কে অজ্ঞতা।
যে সব বিষয় মানুষকে কুফরীর দিকে নিয়ে যায়; ঈমান ও তাওহীদ ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় ইত্যাদি বিষয়গুলোও উক্ত কারণসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর দুশমনদেরকে সাহায্য করা এবং যে কাজে তাদের ধর্মের প্রকাশ ঘটে, তারা যে গোমরাহী শিরক এবং ধ্বংসাত্বক কর্মকান্ডে নিয়োজিত তাতে সাহায্য, সহযোগিতা ও চেষ্টা সাধনা করা। সবচেয়ে বড় গুনাহ চরম গোমরাহী এবং ইসলামের মূলনীতির পরিপন্থী। এমনি ভাবে তাদের উদ্দেশ্যে মনকে প্রশস্ত করা, তাদের আনুগত্য করা তাদের প্রশংসা করা, তাদের বশ্যতা যারা স্বীকার করে নিয়েছে তাদের গুণকীর্তন করা, যারা তাদের আদর্শে একীভূত হয়ে গিয়েছে, তাদের সুনাম গাওয়া, তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ পরিত্যাগ করা, তাদের সাথে আপোষ করা, তাদের সাথে ভ্রাতৃত্ব ও আনুগত্যের চুক্তি করা তাদের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য সাহায্য করা, তাদের সাথে একত্রে বসবাস ও চলাফেরা করা, গোমরাহী ও নিজেদের ঈমান ও তাওহীদ ধ্বংস করারই অন্তর্ভুক্ত।
যে সমস্ত সভা ও পরিষদ আল্লাহর আইন ও রাসুল (সঃ) এর বিধানকে প্রত্যাখ্যান করে, ফেরেঙ্গী, নাসারা, ইহুদীদের আইন ও বাতিল আইন দ্বারা শাসনের নিদের্শ প্রদান করে, ইসলামী বিধান ও ইসলাম পন্থীদের সাথে যারা ঠাট্টা বিদ্রুপ করে, তারা ইসলামের মূলনীতির বিরুদ্ধেই মূলতঃ কাজ করে। আল্লাহর প্রতি যার সামান্যতম 'গাইরত' (মর্যাদা বোধ) রয়েছে, সে এ সব অশ্লীল কর্মকে প্রত্যাখ্যান করে, তাদের সাথে বসবাস করতে ও চলাফেরা করতে আতঙ্কিত হয়ে।
অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহকে বিশ্বাস করে, আখেরাতকে বিশ্বাস করে তার উচিৎ আল্লাহকে ভয় করা, তার কদম স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার পূর্বেই তার ঈমান ও তাওহীদের হেফাজতের জন্য চেষ্টা সাধনা করা, সময় চলে গেলে আফসোস আর অনুতাপ তখন কোনো কাজে আসবে না। (আদ্দুরার আস সুন্নিয়া পৃঃ ৮০)
কবি বলেনঃ খবর জানতে চাই আমি তাদের কাছে, যারা এসেছে তাদের কাছ থেকে। কি দেখেছো তোমরা ঐ কুফরীতে নিমজ্জিত জাতির কাছে? পশ্চাতে ঠেলে দিয়েছে তারা মহান আল্লাহর কিতাবকে, বদলিয়েছে তারা তার স্থানে নাফরমানীর সেই বিধানকে। নির্বোধ মগজে মেনে নিয়েছে তারা দেশের সেই নিষ্ঠুর নেতৃত্ব ও বিধানকে যে হুকুম ও বিধান বিরোধীতা করে, প্রত্যাখ্যান করে মহা প্রভুর বিধানকে। রচনা করেছে তারা সেই কানুন ও বিধান, যার প্রতিপক্ষ থাকে অহি ও কুরআন, কুফরীকে তারা নিয়েছে বদলিয়ে, বিকিয়ে তাদের অমূল্য ঈমান।
কবি আরো বলেন: তাদের বিধান ও নীতিতে বাধা শুধু বলপূর্বক ব্যভিচার পুরুষ ও নারীতে, তাই চেয়ে দেখো কুফরীর সাগরে অশান্তির আগুন জ্বলছে দ্বিগুণ, সংঘর্ষ তাই খোদার বিধানের সাথে শান্তির পরশ নেই তাই মানবের হাতে।
আল্লামা শাইখ ইসহাক বিন আবদুর রহমান বিন হাসান আল-শাইখ (রহঃ) বলেন: তৃতীয় বিষয় হচ্ছে তাদের (কাফেরদের) দেশ সফর করা। এ ব্যাপারে অনেক মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ কাফেরদের দেশে তাদের সাথে স্থায়ীভাবে বসবাস করাকে (শর্ত পূরণ না হলে) যারা অবৈধ মনে করে, তারা সেখানে সফর করাকেও হারাম ঘোষণা করেছেন। তবে তারা তার মতো নয় যে মুশরিকদের মাঝে বসবাস করে, এবং তারা যে গোমরাহী ও কুফরীর মধ্যে থেকে এসব কুফরী কর্ম প্রত্যক্ষ করে এবং কুফরী আইনে শাসন কার্য চালায়, শরীয়াতের বিধানকে প্রত্যাখ্যান করে, আরো অসংখ্য নাফরমানী মূলক কাজে লিপ্ত থাকে।
তুমি কি ক্রদ্ধ হবেনা, আল্লাহর বিধানের তরে যুগ যুগ ধরে যখন মুছে যায় তার আলামতগুলো আল্লাহর যমীনের ওপরে? আহবানের কর্তব্যকে তারা বদলিয়ে দিয়েছে করতালি দিয়ে অহিকে বদলিয়েছে তারা কুফরী আইনকে নিয়ে।
📄 তৃতীয় উপমা
মদ, জ্বিনা-ব্যভিচার ও সমকামিতা ইত্যাদি সংক্রান্ত ব্যাপারে শরীয়তের শাস্তির বিধান কার্যকর করার জন্য নীতি মালা ঘোষণা করা হবে।
আগামী রবিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে শরীয়তের শাস্তির বিধান কার্যকর করার ব্যাপারে প্রস্তাবনা ও নীতিমালা ঘোষিত হবে। উল্লেখিত প্রস্তাবনা সংবিধানের ২৮০ নং ধারায় উপস্থাপিত হবে। সকল শরীয়তী বিধান এর আওতাধীন থাকবে।
আইনের এ বিল যে সব অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে সেগুলো হচ্ছে, মদ্যপান, জ্বিনা-ব্যভিচার ও সমকামিতা। (পত্রিকা : আল ওয়াতান তাং ১/১/১৯৯৯ ইং)
উপরোক্ত পত্রিকার পূর্ণাঙ্গ সংবাদ পাঠ দ্বারা এটাই সুষ্পষ্টভাবে প্রতিয়মান হয় যে, জাতি তাদেরকে (সংসদ সদস্যদেরকে) আইন প্রণয়ন করার সেই নিরঙ্কুশ অধিকার প্রদান করেছে যে, অধিকার একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারো নেই। (অর্থাৎ যে সব অপরাধের শাস্তির বিধান পূর্ব থেকেই ইসলামে নির্ধারিত আছে, সে সব বিধানই কাট ছাট করে নতুন আঙ্গিকে কার্যকর করার ঘোষণা করার কথা বলা হয়েছে।) পাঠক, লক্ষ্য করুন উপরোক্ত খবরের কাগজে কি পরিমান প্রকাশ্য কুফরী, স্পষ্ট শেরেকী কথা বলা হয়েছে। আল্লাহর বিধান ও তাঁর শরীয়তকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য এবং রায় প্রদানের জন্য এ সমস্ত মানুষের কাছে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর ফলে বিধানগুলো এ সব আইন প্রণয়নকারীদের স্বীকৃতি পাওয়ার পর জনগণের তা মানার জন্য বাধ্য করা হবে। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় হচ্ছে এই যে, এসব আইন মানার ভিত্তি এটা নয় যে আইনগুলো আল্লাহ তায়ালার দেয়া এবং এগুলোর আনুগত্য করার জন্য আল্লাহ তায়ালাই নির্দেশ দিয়েছেন। এ বরং এর ভিত্তি হচ্ছে এই যে, জাতির আইন প্রণেতারা এর স্বীকৃতি দিয়েছে এবং এগুলো মানার জন্য মানব রচিত বিধি-বিধান জারী করা হয়েছে। এটা মূলত: আল্লাহর শরীয়তের ওপর আরো একটি শরীয়ত প্রণয়ন করা । আল্লাহর আইনের ওপর আইন প্রণয়ন আল্লাহর সাথে শরীক হিসেবে আইন প্রণয়নের অপরাধের চেয়েও জঘণ্য অপরাধ। কারণ অন্যের বিধানের ওপর বিধান রচনা করার অর্থ হচ্ছে পরবর্তী বিধান রচনাকারী পূর্ববর্তী বিধান রচনাকারীর চেয়ে যোগ্যতার দিকে থেকে উর্ধে। সর্ব শেষ বিধানের দিকে প্রত্যাবর্তন করা এবং তা কার্যে পরিণত করার জন্যই এ অবমূল্যায়নের সৃষ্টি হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ أَوَ لَمْ يَرَوْا أَنَّا نَأْتِي الْأَرْضَ نَنْقُصُهَا مِنْ أَطْرَافِهَا ، وَاللَّهُ يَحْكُمُ لَا مُعَقِبَ لِحُكْمِهِ ، وَهُوَ سَرِيعُ الْحِسَابِ
"তারা কি দেখতে পায়না যে আমি তাদের দেশকে চারদিক থেকে সমানে সংকুচিত করে আনছি। আল্লাহ তায়ালাই নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশকে পশ্চাতে নিক্ষেপকারী কেউ নেই। তিনি দ্রুত হিসাব গ্রহণ করেন।" (রাদঃ৪১)
আল্লাহ তায়ালা আরো ইরশাদ করেনঃ وَلِلَّهِ غَيْبُ السَّمَواتِ وَالْأَرْضِ وَإِلَيْهِ يُرْجَعُ الْأَمْرُ كُلُّهُ فَاعْبُdَهُ وَتَوَكَّلْ عَلَيْهِ . وَمَا رَبُّكَ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ -
"আসমান ও যমীনে যা কিছু লুকিয়ে আছে তার সবই আল্লাহর কর্তৃত্বাধীন। আর সব কিছুই তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তিত হয়। অতএব তুমি তাঁরই বন্দেগী করো এবং তাঁরই উপর ভরসা করো তোমরা যা কিছু করো সে ব্যাপারে তোমার রব উদাসীন বা বে-খবর নন।” (হুদ-১২৩)
ফুরকান নামক ম্যাগাজিন ৮ম বর্ষ, ১৯৯৬ ইং সনের আগষ্ট ১/৭৬ নং সংখ্যায় (মাতাবেক রবিউল আউয়াল ১৪১৭ হিঃ) সংশ্লিষ্ট ক্রোড়পত্রে আইন রচনাকারী পরিষদ, সংসদ এবং সংসদের রক্ষাকারীদের ব্যাপারে এক বিরাট প্রতিবেদন ছাপিয়েছে যার শিরোনাম ছিলো امرهم شوری بينهم
وأمرهم شورى بينهم الشورى هي من مرتكزات وقواعد بناء دولة لعدة مرات أخرها في ١٩٨٦، إلا أن الشعب الصحفية الصريحة، والندوات والدراسات الكويت، فمنذ إنشاء الدولة قبل ثلاثمائة عام الكويتي ظل متمسكا بالعمل النيابي إلى أن رجعت الهامة، وإحصائيات حول الانتخابات السابقة. تعاهد الكويتيون على التزام منهج الشورى في الحياة النيابية في عام ۱۹۹۲ بعد تحرير الكويت والأداء العام لبرلمان ٩٢، وذلك لوضع القاريء بناء مجتمعهم، كما في قوله تعالى: (وأمرهم وأصبحت التجربة البرلمانية الكويتية متميزة أمام الصورة الحقيقية للانتخابات القادمة شورى بينهم)، وأصبحت كالعقد فيما بين الحاكم بطرحها وممارستها، ليس على مستوى الخليج وتعطي لأعضائه تصورا مستنيرا حول اداء والمحكوم، كما في برلمان ١٩٣٦، والمجالس البلدية العربي فحسب، بل على مستوى العالم العربي المجلس السابق وتصورات المرشحين الجدد للتعاقبة والمنتخبة منذ عام ١٩٣٠، ثم تجسدت والاسلامي ككل، واليوم وبعد انقضاء لربع وطموحات الناخبين وأهم القضايا المطروحة على هذه الرغبة والقاعدة بدستور ١٩٦٢ وقيام سنوات على مجلس ۱۹۹۲ وقرب الانتخابات الساحة الانتخابية الكويتية لعام ١٩٩٦م، كل مجلس الأمة بدوره التشريعي والرقابي البرلمانية في اكتوبر ١٩٩٦، ونظرا لأهمية المرحلة ذلك من وجهة نظر إسلامية تعي أهمية ذلك وبالرغم من العقبات المتعددة التي واجهت العمل القادمة تصدر مجلة الفرقان بصفة اسبوعية - الحدث وأثاره على المجتمع الكويتي المسلم البرلماني في الكويت والأزمات التي مرت به بحسب ترخيصها - وذلك لتغطية الانتخابات والعالم الإسلامي ككل . متمثلة في تزوير انتخابات ١٩٦٧، وحل للمجلس القادمة متمثلة بأبواب مثيرة من اللقاءات والله الموفق لما يحبه ويرضاه .
একই ম্যাগাজিনের ৭৮তম সংখ্যার ৬৬ পৃষ্টায় "সংসদের প্রতিনিধিত্বশীল জীবন, জাতির (জনগণ) ও শাসকের যৌথ অংশ গ্রহণেরই প্রতিধ্বনি" "শিরোনামে একটি প্রতিবেদন লেখা হয়েছে। সেখানে লেখা আছেঃ ৭/১০/১৯৯৬ ইং তারিখে ভোটাররা জাতীয় পরিষদের প্রতিনিধি বাছাই করে নেয়ার জন্য প্রস্তাবনা তথা ব্যালট বাক্সের দিকে এগিয়ে যাবে। এ দেশ এ নীতি চালু করেছে মূলতঃ সংসদের প্রতিনিধিত্বশীল জীবনের সাথে জনগণের অংশ গ্রহণের মাধ্যমে আগ্রহের প্রতিফলন ঘটানোর জন্য, শুরায়ী (সংসদীয়) মূলনীতিকে নিশ্চিত করার জন্য। দেশটি তার শুরায়ী (পরামর্শ ভিত্তিক সংসদীয়) জীবন তখনই শুরু হয়েছে, যখন তার সূচনা থেকেই ১৭৫২ সনে জনগণ আগ্রহের ও আশা আকাংখার ভিত্তিতে তাদের রাষ্ট্র প্রধান নিবার্চন করেছে। সে লগ্ন থেকে অধ্যাবধি এ জীবন্ত প্রবাহ যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।
এ ব্যবস্থা একদিক থেকে জনসাধারণ ও সংসদ সদস্যদের (জন প্রতিনিধির) মাঝে পরস্পর সহযোগিতার এক অভিনব পদ্ধতি, অন্যদিক থেকে সরকার ও শাসক পরিবারের মধ্যে সেতু বন্ধনের এক অসাধারণ পথ ও পদ্ধতি।
১৯৬১ নং সাংবিধানিক স্মারকের মাধ্যমে জনগণের অংশ গ্রহণের বিষয়টিকে বদ্ধমূল করা হয়েছে। উক্ত সাংবিধানিক স্মারকে বলা হয়েছে, দেশের অখন্ডতা এবং দেশ শাসনের স্থিতিশীলতার দাবী হচ্ছে, গণতান্ত্রিক নীতিতে এমন একটি সংবিধান অন্বেষণ করা, যা মূলতঃ সংসদীয় এবং প্রেসিডেন্সিয়াল উভয় পদ্ধতির মাঝে একটি বিরাট সহানুভুতিশীল পথ রচনা করা।
শাসন নীতির একটি সাধারণ চিত্র পেশ করতে গিয়ে দেশের (দেশ বলতে কুয়েতকে বুঝানো হয়েছে) সংবিধানের ব্যাখ্যামূলক স্মারকে বলা হয়েছে : وشاورهم في الامر (ওশাওরহুম ফিল আমর) (কাজ কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করুন) আল্লাহ তায়ালার এ বাণী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বলা হয়েছে وامرهم شوری بينهم (ওয় আমরহum শুরী বাইনাহুম) (তারা পারষ্পরিক পরামর্শ ক্রমে কাজ করে) আল্লাহ তায়ালার এ কথার ভিত্তিতে পরামর্শ ও জ্ঞানের ক্ষেত্রে রাসুল (সঃ) এর সুন্নাত প্রতিষ্ঠা কল্পে, সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে আমাদের ইসলামী ঐতিহ্য অনুসরণের নিমিত্তে শাসন নীতির ভিত্তিকে মজবুত করার মানসে, উন্নয়ন নীতির আহবানে সাড়া দেয়ার অভিপ্রায়ে, আধুনিক মানব চিন্তার উপকার সাধনের জন্য এবং অন্যান্য রাষ্ট্রের সাংবিধানিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর জন্য, তথা এ সব যাবতীয় বিষয়কে অর্থবহ করে তোলার জন্যই দেশের সংবিধান রচনা করা।
সংবিধান রচনা ও সংরক্ষণকারীদের প্রশংসা করতে গিয়ে "ফুরকান" নামক ম্যাগাজিনটি আরো বলেছে যে, তাদের কাজের ভিত্তি হচ্ছে পারষ্পরিক পরামর্শ, সাথে সাথে وامرهم شوری بينهم (ওয় আমরহুম শুরী বাইনাহুম) এ আয়াতটি দ্বারা নিজ কথার পক্ষে প্রমাণ পেশ করেছে।
এর ওপর আমাদের মন্তব্য প্রসংগে বলতে চাই, সংসদ সদস্য তথা জন প্রতিনিধিদের অবস্থার যে বর্ণনা দেয়া হয়েছে তাতে তারা مشرع আইন (মুশাররয়ে আইন) প্রণেতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আইনে তারা যেমন চান, যেভাবে চান, সেভাবে রচনা করতে পারেন, তারা আল্লাহর আইনকে পশ্চাতে ফেলে পদবী লাভ ও অন্যান্য স্বার্থের বিনিময়ে অতি অল্প দামে বিক্রি করে দিয়েছে। তারা বিচার-ফয়সালা চায় সংবিধানের তথাকথিত ৬২নং ধারায়, যা জনগণের আইন বা শাসন নামে খ্যাত। এটা তাদের ভাষায় ডেমোক্রেসীকে বাস্তবায়নের জন্য করা হচ্ছে। ডেমোক্রেসী মূলতঃ গ্রীক শব্দ ডেমোস (অর্থাৎ জনগণ) গ্রামোস (অর্থাৎ শাসন ক্ষমতা বা আইন) থেকে উৎসরিত হয়ে একটি সংক্ষিপ্ত শব্দে "ডেমোক্রেসীতে" রূপ লাভ করেছে। তাই ডেমোক্রেসী এর আক্ষরিক তরজমা হচ্ছে জনগণের আইন, জনগণের ক্ষমতা অথবা জনগণের বিধান। ডেমোক্রেসীতে বিশ্বাসী লোকদের কাছে এটাই হচ্ছে (সব কিছুর উৎস জনগণ) ডেমোক্রেসীর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট। এ কারণেই তারা এর ভুয়সী প্রশংসা করে। শিরক, কুফর এবং বাতিল, (অসত্য) যা দ্বীন ইসলাম ও মিল্লাতে তাওহীদের (একাত্ববাদে বিশ্বাসী জাতির) চরম পরিপন্থী তারও ঠিক একই বৈশিষ্ট্য আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ ، وَمَا أَمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُdُوا إِلَهَا وَاحِدًا : لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحْنَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ -
"তারা তাদের আলেম ও দরবেশ লোকদেরকে আল্লাহকে বাদ দিয়ে নিজেদের রব বানিয়ে নিয়েছে। এভাবে মরিয়মের পুত্র ঈসাকেও (রব বানিয়ে নিয়েছে) অথচ তাদেরকে এক আল্লাহ ছাড়া আর কারো বন্দেগী ও দাসত্ব করার নির্দেশ দেয়া হয়নি। তিনি ছাড়া আর কোনো মা'বুদ নেই। তারা যে সব শিরকী কথা বার্তা বলে। তা থেকে তিনি সমপূর্ণ পবিত্র।" (আত-তাওবাহ ৩১)
আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন:
أَمْ لَهُمْ شُرَكَوْا شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ ، وَلَوْلَا كَلِمَةٌ الْفَصْلِ لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ ، وَإِنَّ الظَّلِمِينَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
"তাদের কি এমন শরীক দেবতা আছে যারা তাদের জন্য সেই দ্বীনকে ঠিক করে দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ তায়ালা দেন নি? যদি ফয়সালার সময় পূর্ব থেকেই নির্ধারিত না থাকতো তাহলে এতদিনে তাদের ব্যাপারে ফয়সালা হয়ে যেতো। নিশ্চয়ই জালেমদের জন্য রয়েছে পিড়াদায়ক শাস্তি।" (আশ-শুরা : ২১)
আয়াতে أَمْ لَهُمْ شُرَكَوْا দ্বারা তাদের কি আছে? এখানে হামযা লওয়া হয়েছে তিরষ্কারের জন্য। একটি মুসলিম দেশের সংবিধানের দু নম্বর ধারায় এসেছে, (আল-ফুরকান নামক ম্যাগাজিনটি ভূয়সী প্রশংসা করেছে), ইসলামী শরীয়ত হচ্ছে বিধান প্রণয়নের প্রধান উৎস। যে ব্যক্তি ভাষা বুঝেন তিনি সুস্পষ্টভাবেই বুঝতে পারছেন যে, তাদের কাছে ইসলামী শরীয়ত ছাড়া আইন প্রণয়নের আরো কতিপয় উৎস রয়েছে। ইসলামী শরীয়ত আইন রচনার প্রধান উৎস ছাড়াও তাদের কাছে আরো আনুষঙ্গিক উৎস রয়েছে। এমতাবস্থায় সংবিধানের ধারাটিতে এ কথা স্বীকার করা হয়নি বা এ কথার স্বাক্ষ্য দেয়া হয়নি যে لا اله الا الله আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। বরং যা স্বাক্ষ্য দেয়া হচ্ছে তা হয়েছে و اشهد ان الله اله من الآلهة الرئيسية وان معه الهة رئيسية وفرعيه اخرى আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে, প্রধান প্রধান ইলাহদের মধ্যে আল্লাহ একজন ইলাহ আরো স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তাঁর সাথে আরো প্রধান ইলাহ ও অন্যান্য বিভাগীয় ইলাহও রয়েছে। এটা মূলতঃ উলুহিয়্যাতের মধ্যে এক ধরণের শিরক এবং এর মধ্যে রুবুবিয়্যাতের শিরকও অন্তর্ভুক্ত।
উক্ত সংবিধানের দ্বিতীয় ধারার ব্যাখ্যা সম্বলিত এক স্মারকের মধ্যে এসেছে" যদি বলা হয় ইসলামী শরীয়তই হচ্ছে আইন প্রণয়নের একমাত্র প্রধান উৎস এ কথা যেন প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে, যেহেতু একথার দাবী হচ্ছে শরীয়ত বিরোধী যে কোনো বিষয়ে অন্য কোনো উৎস থেকে আইন গ্রহণ করা বৈধ নয়, এ নিদের্শক্রমে আইন প্রণেতা যেনো বিরাট সংশয়ে বা দ্বিধা দ্বন্ধে পতিত না হয়।
পাঠক লক্ষ্য করুন, তাদের চরম দ্বিধা দ্বন্ধের বিষয় হচ্ছে জান, মাল ও ইজ্জতের ক্ষেত্রে আইন প্রণয়নের অধিকার একমাত্র আল্লাহর হওয়া। এটা সরাসরি কুফরী ছাড়া আর কিছু নয়। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ فَلَا وَ رَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
"হে মুহাম্মদ (সঃ), তোমার রবের কসম, তারা কিছুতেই ঈমানদার হতে পারে না, যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদপূর্ণ বিষয়গুলোতে তোমাকে বিচারপতি হিসেবে মেনে নিবে। অতঃপর তুমি যাই ফয়সালা দিবে সে সম্পর্কে তারা নিজেদের মনে বিন্দুমাত্র দ্বিধা বোধ করবে না বরং তা হৃষ্ট চিত্তে গ্রহণ করে নিবে।" (আন নিসাঃ ৬৫)
উক্ত আয়াতে (সংশয়) শব্দটির দিকে লক্ষ্য করুন। বাক্যের মধ্যে শব্দ প্রয়োগের ধরন হচ্ছে "না" বোধক অর্থের মধ্যে ব্যাপকতা বুঝানো। অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের (সঃ) আইন ও ফায়সালার মধ্যে বড় হোক, ছোট হোক কোনো ধরণের সংশয়ের বিন্দু মাত্র অবকাশ থাকতে পারবে না। থাকলে সেটা হবে ঈমানের সম্পূর্ণ বিপরীত ও পরিপন্থী। যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের (সঃ) কাছে বিচার-ফয়সালা চাওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিধা সংকোচ থাকাটা মূল ঈমান ও ইসলামের পরিপন্থী এবং ঈমান না থাকার শামিল হয়, তাহলে বিধান রচনার অধিকার একমাত্র আল্লাহর জন্য হওয়ার ক্ষেত্রে যদি দ্বিধা সংকোচ থাকে, তাহলে তার ঈমান ও ইসলামের অবস্থা কি হতে পারে? আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: أَمْ لَهُمْ شُرَكَوْا شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ
"তাদের কি এমন শরীক দেবতা আছে যারা তাদের জন্য সেই দ্বীনকে ঠিক করে দিয়েছে, যার অনুমতি আল্লাহ তায়ালা দেন নি?" (আশ-শুরাঃ ২১)
উপরোক্ত আয়াতের شُرَکُوْا শব্দটির দিকে লক্ষ্য করুন। এর দ্বারা বুঝানো হয়েছে তারা আল্লাহ তায়ালার রুবিয়্যাতের সাথে নিজেদেরকে "রব" বানিয়ে নিয়েছে।
একই স্থানে স্মারকে, মধ্যে তারা বলেছে: উল্লেখিত উদ্ধৃতিতে পূর্ণাঙ্গরূপে শরীয়তের বিধি বিধান অবিলম্বে বা বিলম্বে গ্রহণ করতে কোনো বাধা নেই এবং আইন প্রণয়নকারী যদি সকল বিষয়ে প্রয়োজন মনে করে তাহলে তা গ্রহণ করতে পারে। বিষয়টি এখানেই সবচেয়ে বেশী বিপজ্জনক, যদি আমরা তর্কের খাতিরে একথা মেনে নেই যে, তারা শরীয়তের কতিপয় বিধান একদিন না একদিন কায়েম করার ইচ্ছা পোষণ করেছে, তাহলে তাদের দ্বারা বিধান মেনে নেয়ার বিষয়টি আল্লাহর আনুগত্য এবং তাঁর কাছে আত্মসম্পনের দৃষ্টি ভঙ্গি থেকে সম্পন্ন হয়নি বরং তা হয়েছে আইন প্রণয়নকারী তাগুতের ইচ্ছা এবং তার কু-প্রবৃত্তির অনুসরণ ও আনুগত্যের খাতিরে।
সংবিধানের ১৫ নং ধারায় বলা হয়েছে: আইন প্রণয়নের ক্ষমতা ও শক্তির মালিক হচ্ছে সংবিধান অনুযায়ী আমীর (প্রেসিডিন্ট) এবং জাতীয় সংসদ বা পার্লামেন্ট।
৬ নং ধারায় বলা হয়েছে: আমাদের শাসন নীতি সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক। নেতৃত্বের অধিকারী হচ্ছে জাতি। আর জাতি হচ্ছে সব ক্ষমতার উৎস। সংবিধানে বর্ণিত দিক নির্দেশনা মোতাবেক নেতৃত্বের চর্চা সম্পন্ন হবে।
৭৯ নং নম্বর ধারায় বলা হয়েছে: কোনো আইন সংসদের অনুমোদন এবং আমীরের (প্রেসিডেন্টের) সত্যায়ন বা স্বীকৃতি ছাড়া জারি হবে না।
৩২ নং ধারায় বলা হয়েছে: কোনো অপরাধ এবং কোনো শাস্তি আইনগত ভিত্তি ছাড়া ধর্তব্য হবে না। কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট আইনের উল্লেখ সংবিধানে না থাকলে কোনো শাস্তি হবে না।
৭৫ নং ধারায় বলা হয়েছে: আমীর (প্রেসিডেন্ট) তার ক্ষমতা বলে কোনো শাস্তি মার্জনা কিংবা লঘু করতে পারবেন। আর সাধারণ বা ব্যপক ক্ষমা আইন ছাড়া পারবেন না।
১৮০ নং ধারায় বলা হয়েছে এ সংবিধান কর্তৃক গৃহিত সকল আইন, কানুন রীতি-নীতি নির্দেশাবলী ও সিদ্ধান্ত ততক্ষন পর্যন্ত আমলে নেয়া হবে এবং কার্যকর থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত তা সাংবিধানিক নিয়ম-নীতি মোতাবেক পরিবর্তন বা সংশোধন কিংবা বাতিল ঘোষণা না করা হয়। এখানে শর্ত হচ্ছে তা যেনো সংবিধানের কোনো বক্তব্যের পরিপন্থী না হয়।
১০৯ নং ধারায় বলা হয়েছে: সদস্য কর্তৃক উন্থাপিত যে আইনের বিল সংসদ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হবে সংসদ অধিবেশনের একই সেশনে দ্বিতীয় বার (সংসদে) উপস্থাপন করতে পারবেনা।
১১০ নং ধারায় বলা হয়েছে: সংসদ সদস্যের কাছে উদিত যে কোনো মতামত, চিন্তা পরিষদ কিংবা কমিটির কাছে পেশ করার ব্যাপারে তিনি স্বাধীন। কোনো অবস্থাতেই এর জন্য তাকে জবাব দিহি করা বৈধ নয়।
২৯ নং ধারায় বলা হয়েছে: মানব মর্যাদার দিক থেকে সকল মানুষ সমান। জাত অথবা মূল, অথবা ভাষা অথবা ধর্মের দিক থেকে কারো মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
১৮ নং ধারায় বলা হয়েছে: মিরাস (উত্তরাধিকার) একটি অধিকার, ইসলামী শরীয়ত এর ফয়সালা করবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
اَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَبِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ -
"তোমরা কি কিতাবের কিছু অংশ মানো আর কিছু অংশ অস্বীকার করো?"
৯১ নং ধারায় বলা হয়েছে: কোনো সদস্য জাতীয় পরিষদে (সংসদে) তার কার্যভার গ্রহণ করার পূর্বে পরিষদের প্রকাশ্য অধিবেশনে পরিষদের সম্মুখে নিম্মোক্ত শপথ গ্রহণ করবে: আমি মহান আল্লাহ তায়ালার নামে শপথ করছি যে, আমি দেশের জন্য এবং আমীর (প্রেসিডিন্টের) জন্য একনিষ্ঠ থাকবো। আমি সংবিধান এবং রাষ্ট্রীয় আইনকে শ্রদ্ধা করবো। জনগণের স্বাধীনতা, তাদের স্বার্থ ও সম্পদ রক্ষার ব্যাপারে আমি সচেষ্ট থাকবো। আমি আমার যাবতীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য আমানতকারী এবং সত্যতার সাথে পালন করবো।
৬৮ নং ধারায় বলা হয়েছে: আমীর (প্রেসিডিন্টে) প্রতিরক্ষা মূলক যুদ্ধের ঘোষণা প্রদান করবেন। তবে আক্রমনাত্মক যুদ্ধের ক্ষেত্রে তা নিষিদ্ধ।
১৮৫ নং ধারায় বলা হয়েছে: শাস্তিমূলক আইনের একটি হচ্ছে, এ দেশ থেকে দাস হিসেবে কেউ কাউকে বের করলে কিংবা এ দেশে ঢুকাতে চাইলে, বা আচরণে তা প্রমাণিত হলে যে ব্যক্তি কোন মানুষকে দাস হিসেবে ক্রয় করতে অথবা বিক্রির জন্য পেশ করবে, অথবা দাস হিসেবে কোনো ব্যক্তিকে কেউ উপহার দিলে এর শাস্তি হিসেবে অনধিক পাঁচ বছর তাকে জেলে থাকতে হবে এবং অনধিক পাঁচ হাজার রূপী জরিমানা দিতে হবে অথবা দুই শাস্তির যে কোনো একটিকে গ্রহণ করতে পারে।
এ সব ধারা এবং আইন কানুন দ্বারা জেহাদের মতো আরো অনেক নির্দেশাবলী অবৈধ হয়ে যায় এবং আল্লাহ তায়ালা জায়েজ করেছেন এমন কতিপয় বিষয় ও হারাম হয়ে যায়। যেমন: দাস-দাসী হিসেবে কাউকে গ্রহণ করা। এ ছাড়া আরো অনেক বিষয় রয়েছে যা এ ধারা ও আইন দ্বারা হারাম হয়ে যায়। আবার এমন হারাম বিষয় আছে যা এ সব ধারা ও আইন দ্বারা হালাল হয়ে যায়, যেমনঃ সুদ, জ্বিনা-ব্যাভিচার ইত্যাদি।